আরিফুজ্জামান তুহিন, ঢাকা
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি—এই তিন মাস তীব্র গরম অনুভূত হয় দেশে। গ্রীষ্মের এ সময়ে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা থাকে গড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদার এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এজন্য দরকার হবে ৭০ হাজার কোটি টাকা, যার পুরোটাই বিদেশি মুদ্রা ডলারে পরিশোধযোগ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এই অর্থ জোগাড় করতে না পারলে গ্রীষ্মকালে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেড করতে হবে। আর এতে গরমে বাড়বে মানুষের ভোগান্তি।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাবদ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। আর গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোবাংলা ২৪ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির অর্থ চেয়ে সরকারকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে বকেয়া পরিশোধে। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সংকট গভীর হবে না। আর বৈদেশিক মুদ্রা জোগাড় করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি ঘাটতি বাড়বে, এতে বাড়বে লোডশেডিং।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সরকারি-বেসরকারি ও দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে পাইকারি বিদ্যুৎ কিনে তা বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের বকেয়া বিল জমেছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আর জ্বালানিতে গ্যাস কেনা বাবদ বাকি পড়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন গ্যাস বিক্রি বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পাবে। বাকি অর্থ বকেয়া পড়েছে এলএনজি আমদানিতে। এসব বকেয়া পরিশোধের জন্য পাওনাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এদিকে দেশের বেসরকারি কেন্দ্রগুলো পিডিবির কাছে পাবে ১২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পিডিবির কাছে পাবে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপও ৪ হাজার কোটি টাকা পাবে। পিডিবির কেনা পাইকারি বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির মাধ্যমে দেশের বড় অংশে বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও রাজশাহী-রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিডিবি নিজেও চট্টগ্রামসহ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, দেশে মোট বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা আরইবির গ্রাহক ৩ কোটি ৬৭ লাখ। চলতি বছর গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এ সময় আরইবির ৮০টি সমিতির বিতরণ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা হবে সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট।
দেশে এ মুহূর্তে শীতাতপ যন্ত্র বা এসির কত লোড আছে বা তাদের পেছনে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে এই লোড ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেই বলে জানিয়েছেন পিডিবির প্রকৌশলীরা। তাঁরা বলছেন, গরম যত বাড়বে, এসির ব্যবহার তত বাড়বে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বিদ্যুতের সংকট। এ কারণে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, এসির তাপমাত্রা ২৫-এর নিচে না নিতে।
আমদানি করা বিদ্যুৎ ও দেশে স্থাপিত বিদ্যুতের ক্ষমতা সব মিলিয়ে ২৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে ১৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কারণ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে পিক-আওয়ারে চালু রাখার জন্য, যেগুলোকে পিকিং বলা হয়। এসব কেন্দ্র একনাগাড়ে চালু রাখা যায় না। দেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল, এদিন ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। এই রেকর্ডও ১ ঘণ্টার উৎপাদনের।
পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, গ্রীষ্মে সব থেকে খারাপ অবস্থা হবে ময়মনসিংহ জোনে। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই দুই সংস্থার আওতায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় তাদের গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ। গ্রীষ্মকালে এই গ্রাহকের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫০০ মেগাওয়াট। এই অঞ্চলে মোট ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ৬৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা ৫৩ মেগাওয়াট, বিকেলের পর এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আসে না, পিক-আওয়ার সন্ধ্যায় এ দুটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। পিক-আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গড়ে বিদ্যুতের প্রয়োজন ময়মনসিংহ জোনে দেড় হাজার মেগাওয়াট, এর বড় অংশ আনতে হয় ময়মনসিংহের বাইরে থেকে। কারণ বাকি পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ছাড়া বাকিগুলো তেলভিত্তিক। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর খরচ অনেক বেশি হওয়ায় এই কেন্দ্রগুলো বেশি সময় চালু রাখাও যায়নি। গত বছরের এপ্রিলে এই জোনে লোডশেড ছিল প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। এবার এই জোনে লোডশেড আরও বাড়তে পারে।
পিডিবির প্রকৌশলীরা উত্তরবঙ্গ নিয়েও এবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, রংপুর জোনে ৯৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্থাপিত কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে আবার দুটি সৌরবিদ্যুতের ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা বিকেলের পর বন্ধ হয়ে যায়। ৭২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, যার কয়লা আসে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে। এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে সারা বছর কোনো না কোনো সংকট লেগে থাকে, হয় কেন্দ্রের মেরামতে বন্ধ থাকে, না হয় কেন্দ্রে কয়লাসংকট। চলতি মার্চ মাসেও কেন্দ্রটির ২৫০ মেগাওয়াট সংস্কারকাজে বন্ধ রয়েছে। ফলে রংপুর জোনের স্থাপিত ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ দিয়ে এই বিভাগের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। সেখানে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়। এতে প্রয়োজনের অর্ধেক বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয় না গ্রীষ্মকালে। গত বছরের অক্টোবরেও রংপুরসহ এই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তীব্র লোডশেড ছিল। এবারও সে আশঙ্কা রয়েছে। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ বড় শহরগুলোতে লোডশেড কম রাখা হবে, তবে গ্রামে বাড়বে লোডশেড।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের সংস্থান না করতে পারলে লোডশেডিং মুক্ত করা যাবে না। বিদেশ থেকে কয়লা ও গ্যাস কিনে এনে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে লোডশেড মুক্ত করা যাবে না, কারণ সে সক্ষমতা আমাদের নেই।’
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি—এই তিন মাস তীব্র গরম অনুভূত হয় দেশে। গ্রীষ্মের এ সময়ে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা থাকে গড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদার এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এজন্য দরকার হবে ৭০ হাজার কোটি টাকা, যার পুরোটাই বিদেশি মুদ্রা ডলারে পরিশোধযোগ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এই অর্থ জোগাড় করতে না পারলে গ্রীষ্মকালে দিনে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেড করতে হবে। আর এতে গরমে বাড়বে মানুষের ভোগান্তি।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বাবদ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে। আর গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোবাংলা ২৪ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানির অর্থ চেয়ে সরকারকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা লাগবে বকেয়া পরিশোধে। এই অর্থ পরিশোধ করতে পারলে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের সংকট গভীর হবে না। আর বৈদেশিক মুদ্রা জোগাড় করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে জ্বালানি ঘাটতি বাড়বে, এতে বাড়বে লোডশেডিং।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সরকারি-বেসরকারি ও দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে পাইকারি বিদ্যুৎ কিনে তা বিতরণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের বকেয়া বিল জমেছে প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আর জ্বালানিতে গ্যাস কেনা বাবদ বাকি পড়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন গ্যাস বিক্রি বাবদ পেট্রোবাংলার কাছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পাবে। বাকি অর্থ বকেয়া পড়েছে এলএনজি আমদানিতে। এসব বকেয়া পরিশোধের জন্য পাওনাদার প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিয়েছে। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এদিকে দেশের বেসরকারি কেন্দ্রগুলো পিডিবির কাছে পাবে ১২ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানার পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পিডিবির কাছে পাবে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপও ৪ হাজার কোটি টাকা পাবে। পিডিবির কেনা পাইকারি বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির মাধ্যমে দেশের বড় অংশে বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও রাজশাহী-রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পিডিবি নিজেও চট্টগ্রামসহ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে।
পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, দেশে মোট বিদ্যুতের গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লাখ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা আরইবির গ্রাহক ৩ কোটি ৬৭ লাখ। চলতি বছর গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এ সময় আরইবির ৮০টি সমিতির বিতরণ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা হবে সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট।
দেশে এ মুহূর্তে শীতাতপ যন্ত্র বা এসির কত লোড আছে বা তাদের পেছনে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে এই লোড ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেই বলে জানিয়েছেন পিডিবির প্রকৌশলীরা। তাঁরা বলছেন, গরম যত বাড়বে, এসির ব্যবহার তত বাড়বে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে বিদ্যুতের সংকট। এ কারণে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, এসির তাপমাত্রা ২৫-এর নিচে না নিতে।
আমদানি করা বিদ্যুৎ ও দেশে স্থাপিত বিদ্যুতের ক্ষমতা সব মিলিয়ে ২৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত থাকলে ১৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। কারণ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে পিক-আওয়ারে চালু রাখার জন্য, যেগুলোকে পিকিং বলা হয়। এসব কেন্দ্র একনাগাড়ে চালু রাখা যায় না। দেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল, এদিন ১৬ হাজার ৪৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। এই রেকর্ডও ১ ঘণ্টার উৎপাদনের।
পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, গ্রীষ্মে সব থেকে খারাপ অবস্থা হবে ময়মনসিংহ জোনে। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই দুই সংস্থার আওতায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় তাদের গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ। গ্রীষ্মকালে এই গ্রাহকের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫০০ মেগাওয়াট। এই অঞ্চলে মোট ৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ৬৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে দুটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা ৫৩ মেগাওয়াট, বিকেলের পর এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আসে না, পিক-আওয়ার সন্ধ্যায় এ দুটি কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। পিক-আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গড়ে বিদ্যুতের প্রয়োজন ময়মনসিংহ জোনে দেড় হাজার মেগাওয়াট, এর বড় অংশ আনতে হয় ময়মনসিংহের বাইরে থেকে। কারণ বাকি পাঁচ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ছাড়া বাকিগুলো তেলভিত্তিক। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর খরচ অনেক বেশি হওয়ায় এই কেন্দ্রগুলো বেশি সময় চালু রাখাও যায়নি। গত বছরের এপ্রিলে এই জোনে লোডশেড ছিল প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। এবার এই জোনে লোডশেড আরও বাড়তে পারে।
পিডিবির প্রকৌশলীরা উত্তরবঙ্গ নিয়েও এবার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলছেন, রংপুর জোনে ৯৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্থাপিত কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে আবার দুটি সৌরবিদ্যুতের ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট, যা বিকেলের পর বন্ধ হয়ে যায়। ৭২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, যার কয়লা আসে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে। এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে সারা বছর কোনো না কোনো সংকট লেগে থাকে, হয় কেন্দ্রের মেরামতে বন্ধ থাকে, না হয় কেন্দ্রে কয়লাসংকট। চলতি মার্চ মাসেও কেন্দ্রটির ২৫০ মেগাওয়াট সংস্কারকাজে বন্ধ রয়েছে। ফলে রংপুর জোনের স্থাপিত ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ দিয়ে এই বিভাগের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। সেখানে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়। এতে প্রয়োজনের অর্ধেক বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয় না গ্রীষ্মকালে। গত বছরের অক্টোবরেও রংপুরসহ এই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তীব্র লোডশেড ছিল। এবারও সে আশঙ্কা রয়েছে। পিডিবির প্রকৌশলীরা বলছেন, এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনাসহ বড় শহরগুলোতে লোডশেড কম রাখা হবে, তবে গ্রামে বাড়বে লোডশেড।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, ‘দেশীয় গ্যাসের সংস্থান না করতে পারলে লোডশেডিং মুক্ত করা যাবে না। বিদেশ থেকে কয়লা ও গ্যাস কিনে এনে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে লোডশেড মুক্ত করা যাবে না, কারণ সে সক্ষমতা আমাদের নেই।’
রোববার রাজধানী ঢাকা থেকে তারাকান্দাগামী ৭৩৫ / ৭৩৬ অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঠিকাদার মেসার্স টিপ টপ ক্যাটারারর্স এর ম্যানেজার টাকার বিনিময়ে খাবার গাড়িতে অবৈধভাবে টিকিটবিহীন যাত্রী ওঠায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারসহ জড়িতদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তী
৮ ঘণ্টা আগেরোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে চীন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমান। আজ রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর নিয়ে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
৮ ঘণ্টা আগেরোববার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশের আকাশে চাদ দেখার বিষয়টি জানিয়েছেন। ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার সারা দেশে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের
৯ ঘণ্টা আগেমোবাইল সিম মবিলিটির হিসেবে গত দুই দিনে প্রায় ৪১ লাখ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
১০ ঘণ্টা আগে