অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকা গাজার বাসিন্দা জাকারিয়া। গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মরদেহ দেখেছে বলে ধারণা তার। ১১ বছর বয়সী এই শিশুর স্কুলে অন্য শিশুদের সঙ্গে পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার কথা, সে সময় জাকারিয়া গাজার আল-আকসা হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। যুদ্ধে আহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স যখন দেইর আল-বালাহ শহরের এই হাসপাতালে এসে থামে, তখন জাকারিয়া ভিড় সরিয়ে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভেতরে নিয়ে যায়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন স্কুলবন্ধুকে হারিয়েছে জাকারিয়া। হাসপাতালে কাটানো সময়টিতে হাজারো ভয়ংকর দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছে সে। জাকারিয়া বলে, একবার একটি ইসরায়েলি হামলার পর তার চোখের সামনে আগুনে পুড়ে একটি ছেলে মারা গেছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলে, ‘আমি অন্তত ৫ হাজার মরদেহ দেখেছি। নিজ চোখে দেখেছি।’
গাজা: হাও টু সারভাইভ অ্যা ওয়ার জোন তথ্যচিত্র তৈরি করতে গিয়ে বিবিসি যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন এই জাকারিয়া। প্রায় নয় মাস ধরে গাজাবাসী যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করছে তা নিয়ে কাজ করছিল বিবিসির কর্মীরা।
এই তথ্যচিত্রের সহ-পরিচালক জেমি রবার্টস বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন তৈরির অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। আমি ও আমার সহকর্মী ইউসুফ হাম্মাশ লন্ডন থেকে সহ-পরিচালনার মাধ্যমে এই তথ্যচিত্রে কাজ করেছি।
ভিডিওচিত্র ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহের কাজ করেন গাজার বাসিন্দা চিত্রগ্রাহক আমজাদ আল ফাইউমি ও ইব্রাহিম আবু ঈশাইবা। নিয়মিতভাবে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ, ইন্টারনেট কল ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে এই তথ্যচিত্রের কাজ করা হয়।
রবার্টস বলেন, ‘আমি ও ইউসুফ এই তথ্যচিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যাতে দেখানো যায় গাজার সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রতিদিনের জীবনে এই ভয়াবহ যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে চিত্রগ্রহণ শেষ করেছি, যেদিন থেকে বর্তমান যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।’
আমরা তিনজন শিশু এবং সদ্য মা হওয়া তরুণীর কথা এই তথ্যচিত্রে তুলে এনেছি, যারা এই যুদ্ধের নিরপরাধ শিকার।
হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে বন্দী করার জবাবে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।
জেমি রবার্টস বলেন, “আমরা মূলত গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে কাজ করেছি, যা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। ”
তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই অঞ্চলে শতাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা সেখানে সক্রিয় হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যে হামলা করেছিল।
রবার্টস বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম, শিশুরা কীভাবে খাবার সংগ্রহ করে, কোথায় ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে কীভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখে।’
জাকারিয়ার পর ১৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহর কাছে এই যুদ্ধক্ষেত্রে তার জীবন নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে এই তথ্যচিত্রের বর্ণনাকারী। আবদুল্লাহ যুদ্ধের আগে গাজার ব্রিটিশ স্কুলে পড়ত। ইংরেজিতে চমৎকার কথা বলতে পারে সে। শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছে সে।
আরেকটি শিশু বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে সময় কাটাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে রান্নার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ১০ বছর বয়সী রেনাদ তার বড় বোনের সাহায্যে টিকটকে এই অনুষ্ঠানটি করে থাকে। যুদ্ধের কারণে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তারা সংগ্রহ করতে না পারলেও বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে। টিকটকে তাদের অনুসরণকারী এক মিলিয়নেরও বেশি।
রবার্টস বলেন, ‘আমরা ২৪ বছর বয়সী রানার কথা তুলে এনেছি তথ্যচিত্রে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মা হয়েছেন তিনি। সদ্যোজাত কন্যাসন্তান ও দুই ছেলেকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বর্তমানে হাসপাতালের কাছে বসবাস করছেন রানা। এ পর্যন্ত তিনবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিনি।
তথ্যচিত্রে বিবিসি আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিনরাত লড়াই তুলে ধরেছে। আহতদের বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছেন তাঁরা। সেখানেই জাকারিয়াকে পেয়েছিলেন বিবিসির কর্মীরা।
রবার্টস বলেন, ‘হাসপাতালের সবাই এই ছেলেটিকে চেনে। যদিও সে এখনো শিশু এবং কোনো প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নয়, তবু সে সব সময় আশপাশে ঘুরে বেড়ায়, কাউকে সাহায্য করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, যাতে বিনিময়ে কিছু খাবার বা অর্থ পেতে পারে। কখনো সে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য সরঞ্জাম বহন করে, আবার কখনো আহত বা মৃতদের বহন করতে সাহায্য করে।’
জাকারিয়া বলে, ‘যখন হাসপাতাল কিছুটা ফাঁকা থাকে, তখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে সে। তার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও সে। তবে পরিবারের সঙ্গে থাকে না, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত খাবার বা পানি নেই। তাই হাসপাতালেই থাকে, যেখানে সম্ভব সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। এক রাতে সিটি স্ক্যান রুমে, আরেক রাতে সাংবাদিকদের তাঁবুতে বা অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে।’
অনেক রাত তাকে না খেয়েই ঘুমাতে হয়েছে বলে জানায় ১১ বছর বয়সী শিশুটি।
হাসপাতালের কর্মীরা যতই চেষ্টা করুক, তারা তাকে আহতদের চিকিৎসার বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে পারে না। তারা দেখেন, জাকারিয়া কীভাবে রোগীদের যত্ন নিচ্ছে। তারা তাকে একজন রোগীকে ইনট্রাভেনাস (আইভি) ড্রিপ দেওয়া শেখান। তার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে, হাসপাতালের কর্মীরা তার জন্য ছোট আকারের একটি নীল চিকিৎসাকর্মীর পোশাক তৈরি করে দেন।
জাকারিয়া প্যারামেডিকদের খুব পছন্দ করে এবং নিজেকে তাদের দলের একজন হিসেবে দেখতে চায়। প্যারামেডিক সাঈদকে বেশ পছন্দ করে জাকারিয়া। সে বলে, জাকারিয়াকে একজন শিশু হিসেবে আচরণ করলে সে কষ্ট পায়।
সহপরিচালক রবার্টস বলেন, সাঈদ চেষ্টা করেন যাতে ছেলেটি তার শৈশবের কিছু অংশ উপভোগ করতে পারে এবং ডকুমেন্টারিতে তাদের সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর সময়টিও ধারণ করেছি।
প্যারামেডিক সাঈদ চিন্তা করেন, জাকারিয়া এত মৃত্যুর ও ধ্বংসের সাক্ষী হয়ে গেছে যে সে হয়তো আর কখনোই তার বয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারবে না।
জাকারিয়া নিজেও পরবর্তী সময়ের দিকে তাকিয়ে। সে বলে, ‘আমি প্যারামেডিক হতে চাই। কিন্তু আগে আমাকে এখান থেকে বের হতে হবে।’
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকা গাজার বাসিন্দা জাকারিয়া। গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মরদেহ দেখেছে বলে ধারণা তার। ১১ বছর বয়সী এই শিশুর স্কুলে অন্য শিশুদের সঙ্গে পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার কথা, সে সময় জাকারিয়া গাজার আল-আকসা হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। যুদ্ধে আহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স যখন দেইর আল-বালাহ শহরের এই হাসপাতালে এসে থামে, তখন জাকারিয়া ভিড় সরিয়ে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভেতরে নিয়ে যায়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেশ কয়েকজন স্কুলবন্ধুকে হারিয়েছে জাকারিয়া। হাসপাতালে কাটানো সময়টিতে হাজারো ভয়ংকর দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছে সে। জাকারিয়া বলে, একবার একটি ইসরায়েলি হামলার পর তার চোখের সামনে আগুনে পুড়ে একটি ছেলে মারা গেছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলে, ‘আমি অন্তত ৫ হাজার মরদেহ দেখেছি। নিজ চোখে দেখেছি।’
গাজা: হাও টু সারভাইভ অ্যা ওয়ার জোন তথ্যচিত্র তৈরি করতে গিয়ে বিবিসি যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন এই জাকারিয়া। প্রায় নয় মাস ধরে গাজাবাসী যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে বেঁচে থাকার লড়াই করছে তা নিয়ে কাজ করছিল বিবিসির কর্মীরা।
এই তথ্যচিত্রের সহ-পরিচালক জেমি রবার্টস বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন তৈরির অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। আমি ও আমার সহকর্মী ইউসুফ হাম্মাশ লন্ডন থেকে সহ-পরিচালনার মাধ্যমে এই তথ্যচিত্রে কাজ করেছি।
ভিডিওচিত্র ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহের কাজ করেন গাজার বাসিন্দা চিত্রগ্রাহক আমজাদ আল ফাইউমি ও ইব্রাহিম আবু ঈশাইবা। নিয়মিতভাবে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ, ইন্টারনেট কল ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে এই তথ্যচিত্রের কাজ করা হয়।
রবার্টস বলেন, ‘আমি ও ইউসুফ এই তথ্যচিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যাতে দেখানো যায় গাজার সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রতিদিনের জীবনে এই ভয়াবহ যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে। আমরা কয়েক সপ্তাহ আগে চিত্রগ্রহণ শেষ করেছি, যেদিন থেকে বর্তমান যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।’
আমরা তিনজন শিশু এবং সদ্য মা হওয়া তরুণীর কথা এই তথ্যচিত্রে তুলে এনেছি, যারা এই যুদ্ধের নিরপরাধ শিকার।
হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে বন্দী করার জবাবে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।
জেমি রবার্টস বলেন, “আমরা মূলত গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে কাজ করেছি, যা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ফিলিস্তিনিদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে যেতে বলা হয়েছিল। ”
তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে এই অঞ্চলে শতাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা সেখানে সক্রিয় হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্যে হামলা করেছিল।
রবার্টস বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছিলাম, শিশুরা কীভাবে খাবার সংগ্রহ করে, কোথায় ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে কীভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখে।’
জাকারিয়ার পর ১৩ বছর বয়সী আবদুল্লাহর কাছে এই যুদ্ধক্ষেত্রে তার জীবন নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। সে এই তথ্যচিত্রের বর্ণনাকারী। আবদুল্লাহ যুদ্ধের আগে গাজার ব্রিটিশ স্কুলে পড়ত। ইংরেজিতে চমৎকার কথা বলতে পারে সে। শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছে সে।
আরেকটি শিশু বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে সময় কাটাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে রান্নার একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। ১০ বছর বয়সী রেনাদ তার বড় বোনের সাহায্যে টিকটকে এই অনুষ্ঠানটি করে থাকে। যুদ্ধের কারণে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তারা সংগ্রহ করতে না পারলেও বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করে। টিকটকে তাদের অনুসরণকারী এক মিলিয়নেরও বেশি।
রবার্টস বলেন, ‘আমরা ২৪ বছর বয়সী রানার কথা তুলে এনেছি তথ্যচিত্রে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মা হয়েছেন তিনি। সদ্যোজাত কন্যাসন্তান ও দুই ছেলেকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বর্তমানে হাসপাতালের কাছে বসবাস করছেন রানা। এ পর্যন্ত তিনবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তিনি।
তথ্যচিত্রে বিবিসি আল-আকসা হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিনরাত লড়াই তুলে ধরেছে। আহতদের বাঁচিয়ে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করছেন তাঁরা। সেখানেই জাকারিয়াকে পেয়েছিলেন বিবিসির কর্মীরা।
রবার্টস বলেন, ‘হাসপাতালের সবাই এই ছেলেটিকে চেনে। যদিও সে এখনো শিশু এবং কোনো প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নয়, তবু সে সব সময় আশপাশে ঘুরে বেড়ায়, কাউকে সাহায্য করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, যাতে বিনিময়ে কিছু খাবার বা অর্থ পেতে পারে। কখনো সে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য সরঞ্জাম বহন করে, আবার কখনো আহত বা মৃতদের বহন করতে সাহায্য করে।’
জাকারিয়া বলে, ‘যখন হাসপাতাল কিছুটা ফাঁকা থাকে, তখন অ্যাম্বুলেন্স থেকে রক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে সে। তার স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও সে। তবে পরিবারের সঙ্গে থাকে না, কারণ সেখানে পর্যাপ্ত খাবার বা পানি নেই। তাই হাসপাতালেই থাকে, যেখানে সম্ভব সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। এক রাতে সিটি স্ক্যান রুমে, আরেক রাতে সাংবাদিকদের তাঁবুতে বা অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে।’
অনেক রাত তাকে না খেয়েই ঘুমাতে হয়েছে বলে জানায় ১১ বছর বয়সী শিশুটি।
হাসপাতালের কর্মীরা যতই চেষ্টা করুক, তারা তাকে আহতদের চিকিৎসার বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে রাখতে পারে না। তারা দেখেন, জাকারিয়া কীভাবে রোগীদের যত্ন নিচ্ছে। তারা তাকে একজন রোগীকে ইনট্রাভেনাস (আইভি) ড্রিপ দেওয়া শেখান। তার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে, হাসপাতালের কর্মীরা তার জন্য ছোট আকারের একটি নীল চিকিৎসাকর্মীর পোশাক তৈরি করে দেন।
জাকারিয়া প্যারামেডিকদের খুব পছন্দ করে এবং নিজেকে তাদের দলের একজন হিসেবে দেখতে চায়। প্যারামেডিক সাঈদকে বেশ পছন্দ করে জাকারিয়া। সে বলে, জাকারিয়াকে একজন শিশু হিসেবে আচরণ করলে সে কষ্ট পায়।
সহপরিচালক রবার্টস বলেন, সাঈদ চেষ্টা করেন যাতে ছেলেটি তার শৈশবের কিছু অংশ উপভোগ করতে পারে এবং ডকুমেন্টারিতে তাদের সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর সময়টিও ধারণ করেছি।
প্যারামেডিক সাঈদ চিন্তা করেন, জাকারিয়া এত মৃত্যুর ও ধ্বংসের সাক্ষী হয়ে গেছে যে সে হয়তো আর কখনোই তার বয়সী অন্য শিশুদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারবে না।
জাকারিয়া নিজেও পরবর্তী সময়ের দিকে তাকিয়ে। সে বলে, ‘আমি প্যারামেডিক হতে চাই। কিন্তু আগে আমাকে এখান থেকে বের হতে হবে।’
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হতে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি হোয়াইট হাউসে তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধানের সফর। তাই আনুষ্ঠানিকতার পর্বও ছিল যথারীতি।
৩০ মিনিট আগেতাইওয়ানের বার্ষিক সামরিক মহড়া হান কুয়াংয়ের পরিধি বাড়ানোর খবরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উ কিয়ান বলেন, ‘এটি পরিস্থিতি, জনমত ও শক্তির তুলনায় একটি ভুল হিসাব। এমনভাবে সামনে এগোনো অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছি, ঝাঁটার সাহায্যে জোয়ারের মুখে দাঁড়ানো..
৩৪ মিনিট আগেযুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী, আজ শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। এই সাক্ষাতে একটি খনিজ সম্পদ বিষয়ক চুক্তিতে স্বাক্ষর হতে পারে। এ অবস্থায় দুই নেতার আলোচনার ফলাফল কী হয় জানতে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে...
১ ঘণ্টা আগেক্যাফেটির নাম ‘টবিস এস্টেট’। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত এই ক্যাফেটি এবার বিশ্বসেরার মর্যাদা অর্জন করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটির শাখা রয়েছে। তালিকাটির শীর্ষ দশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে এবং সিঙ্গাপুরের ক্যাফেও রয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে