আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সময়টা ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের এক শীতের রাত। সবাই দৌড়ে পালাচ্ছিল। কেউ জঙ্গলের দিকে, কেউ আশপাশের গ্রামে, কেউ বা সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ে লুকিয়ে পড়ছিল কুয়োর ভেতর। তবে মোহাম্মদ দীনু ছিলেন স্থির। উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াট অঞ্চলের উত্তাওয়ার গ্রামের বাসিন্দা তিনি। রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের সেই ঠান্ডা রাতে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল, গ্রামের সব প্রজননক্ষম বয়স্ক পুরুষকে মাঠে জমায়েত করতে হবে।
সে সময় ভারত দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার ১৭ মাস পার হচ্ছিল। ওই সময়ে দেশের সব নাগরিক স্বাধীনতা কার্যত স্থগিত ছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানো হয়েছিল। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ‘জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি।’
মোহাম্মদ দীনু এবং তাঁর আরও ১৪ জন বন্ধু এই কর্মসূচির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অব্যবস্থাপনা আর অযত্নে ভরা বন্ধ্যাকরণ শিবিরে। দীনুর চোখে এটি ছিল এক ধরনের ‘ত্যাগ’, যা নাকি গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করেছে।
বর্তমানে ফিরে এসে ভাঙাচোরা একটি খাটে বসে ৯০ বছর বয়সী দীনু সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সবাই যখন নিজেদের বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল, গ্রামের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ বুঝেছিলেন, কেউ ধরা না পড়লে আরও বড় বিপদ আসবে। তাই গ্রামের কিছু পুরুষকে একত্র করে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্যাগের মাধ্যমে এই গ্রামকে বাঁচিয়েছি। চারপাশে দেখো, আজ গ্রামের প্রতিটি কোনায় আল্লাহর দেওয়া শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে।’
বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ বলে দাবি করা ভারত আজ থেকে ৫০ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, সেই দিনের বার্ষিকী পালন করছে। আর উত্তাওয়ারে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের শিকার পুরুষদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন একমাত্র মোহাম্মদ দীনু।
১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে উত্তাওয়ারে। ভারত স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছর পর, ১৯৫২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তখন সরকার শুধু নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিল দুই সন্তানের বেশি না নিতে।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে, যখন ভারতের নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা ছিল নারীপ্রতি প্রায় ৬ জন, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা মনে করা হতো। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
পাশ্চাত্যও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। বিশ্বব্যাংক ভারতের জন্য ৬৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির জন্য। যুক্তরাষ্ট্রও দুর্ভিক্ষে কাতর ভারতের জন্য খাদ্য সাহায্য নির্ভর করে রাখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের ওপর।
কিন্তু জরুরি অবস্থার সময়, যখন সব গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার পুরোপুরি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে। সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ছিল বন্ধ্যাকরণের নির্দিষ্ট কোটা পূরণের চাপ। কোটা পূরণ না করলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতো, চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি যারা রাজি হতো না, সেই সব গ্রামের পানি-সেচও বন্ধ করে দেওয়া হতো।
এই বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা যারা করেছিলেন, তাদের ওপরও নেমে এসেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা। সেই হামলার শিকার হয়েছিল উত্তাওয়ার গ্রামও। ওই গ্রামে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। সে সময় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল। যে কারণে তাদের ওপর বিশেষ নজর পড়েছিল এই গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির আওতায়।
দীনুর বাড়ির পাশের গলিতে থাকতেন মোহাম্মদ নূর। তখন তিনি কেবল ১৩ বছরের কিশোর, বাবার কোলে বাড়ির সামনে খাটিয়ায় ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়ায় চড়ে কিছু পুলিশ সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হানা দেয়। তাঁর বাবা দৌড়ে পাশের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান, নূর ভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।
সে দিনের স্মৃতিচারণ করে নূর বলেন, ‘তারা দরজা-জানালা সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা সামনে পেয়েছে সবকিছু ধ্বংস করেছে। আমাদের দুর্ভোগ বাড়াতে, তারা আটা-চালে বালি মিশিয়ে দেয়। পরের চার দিন গ্রামের কোনো ঘরেই রান্না হয়নি।’ পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে স্থানীয় থানায় মারধর করে। তবে তখন তাঁর বয়স ১৫ বছরের কম হওয়ায়, বন্ধ্যাকরণের জন্য তাকে অযোগ্য বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়।
গ্রামবাসীরা ওই রাতকে এখনো ‘ভয়ের রাত’ নামে স্মরণ করে। ওই রাত থেকেই জন্ম নেয় উত্তাওয়ারের স্থানীয় লোককথা, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন গ্রামপ্রধান আব্দুর রহমান। এই বিষয়ে নূরের বন্ধু ৬৩ বছর বয়সী তাজাম্মুল বলেন, ‘গ্রামের বাইরের লোকেরা হয়তো তাঁর নাম ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি।’
তাজাম্মুল জানান, উত্তাওয়ারে অভিযান চালানোর আগে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এসে আব্দুর রহমানকে অনুরোধ করেন কিছু পুরুষকে তাদের হাতে তুলে দিতে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো পরিবারের সদস্যকে এই অবস্থায় দিতে পারব না।’ স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, আব্দুর রহমান তখন সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘আমি আমার এলাকা থেকে একটা কুকুরও দেব না, আর তোমরা মানুষের দাবি করছ! সেটা কখনোই হবে না!’
তবে আব্দুর রহমানের এই দৃঢ় মনোভাবও শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্রামকে বাঁচাতে পারেনি। পুলিশের অভিযান শেষে গ্রাম শোকের আবহে ডুবে গিয়েছিল। এই বিষয়ে নূর বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছিল, বা যাদের পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফেরেনি। উত্তাওয়ার যেন কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল, নিস্তব্ধতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
এরপরের বছরগুলোতে এই ঘটনার পরিণতি আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আশপাশের গ্রামের লোকেরা উত্তাওয়ারের ছেলেদের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতেন না। এমনকি যারা বন্ধ্যাকৃতও হয়নি তাদের সঙ্গেও নয়। কেউ কেউ বিদ্যমান বাগদানও ভেঙে দেয়। কাসিম নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, ‘অনেকেই ওই মানসিক আঘাত থেকে আর কোনো দিনই বেরিয়ে আসতে পারেননি। দুশ্চিন্তা, ভীতি আর সামাজিক কলঙ্কে তারা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন, অনেকের জীবন দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।’
আজকের দিনে ভারতে কোনো জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি নেই। দেশের গড় প্রজনন হার এখন দুইয়ের কিছু বেশি। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, জরুরি অবস্থার সময় যে ভীতি আর দমন-পীড়নের পরিবেশ ছিল, সেটাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে।
ভারতের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ৭৫ বছর বয়সী শিব বিশ্বনাথন মনে করেন, ‘জরুরি অবস্থার মাধ্যমে ভারতে কর্তৃত্ববাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’ ১৯৭৫ সালের ১২ জুন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের নির্বাচন জিততে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছেন। আদালত তাঁকে ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে। মাত্র ১৩ দিন পর ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিশ্বনাথন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদকে স্বাভাবিক করে তোলার যে প্রক্রিয়া, সেটাই জরুরি অবস্থার জন্ম দিয়েছিল, কোনো অনুতাপ ছিল না। আসলে, জরুরি অবস্থাই আজকের ভারতের আরও অনেক “জরুরি অবস্থার” বীজ রোপণ করেছে। এটিই আধুনিক ভারতের কর্তৃত্ববাদী ভিত।’
ইন্দিরা গান্ধীর ভক্তরা তাঁকে কখনো হিন্দু দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করতেন। শব্দের খেলায় তাঁকে ভারতের সঙ্গেও এক করে দেখা হতো—ঠিক যেমন এখন নরেন্দ্র মোদীর সমর্থকেরা তাকে হিন্দু ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে তুলনা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি যখন বাড়তে থাকে, তখন দেশবাসীর বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে যায় বলে মনে করেন সমাজবিদ শিব বিশ্বনাথন। তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।’
বিশ্বনাথনের মতে, ১৯৭৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটলেও, তার পর থেকেই ভারত ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত—প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করে দেশটাকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যদিও বাইরের মুখে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।’
২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। বিরোধী নেতাদের কারাবন্দী করা, সাংবাদিকদের হয়রানি এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ এর জন্য দায়ী।
ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘ফ্রি স্পিচ কালেকটিভের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা গীতা শেঠু বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ের সঙ্গে আজকের ভারতের মিল হলো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আত্মসমর্পণের জায়গাটিতে। তিনি বলেন, ‘তখন আইন করে নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর এখন আইনের অপব্যবহার করে সেটা করা হচ্ছে। তখনকার সেই ভয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ—আজও বিদ্যমান, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলীর মতে, জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যখন কোনো নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষমতাশালী হয়, তখন কীভাবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। তবে জরুরি অবস্থার আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সফল আন্দোলন। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর কংগ্রেস দলকে হারিয়ে দিয়েছিল বিরোধীরা। তাদের নির্বাচনী প্রচারে সরকারের অমানবিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ছিল বড় ইস্যু।
আসিম আলী বলেন, ‘সত্তরের দশকের মতোই, এখন দেখার বিষয় হলো, মোদির পরে ভারতীয় গণতন্ত্র আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।’
১৯৭৬ সালের নভেম্বরে দীনু যখন পুলিশের ভ্যানে বসেছিলেন, তখন তাঁর মনে শুধু তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালিমার কথাই ঘুরছিল। সালিমা তখন বাড়িতে ছিলেন। দীনু বলেন, ‘অনেক পুরুষ, যাদের বিয়ে হয়নি বা সন্তান ছিল না, তারা পুলিশের কাছে অনুরোধ করছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য।’ কিন্তু দীনুর ১৪ জন বন্ধুর কাউকেই ছাড়া হয়নি। দীনু বলেন, ‘নাসবন্দি (বন্ধ্যাকরণ) এমন এক অভিশাপ, যা সেই সময় থেকে উত্তাওয়ার গ্রামের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।’
ধরে নিয়ে যাওয়ার ৮ দিন পর পুলিশ হেফাজতে দীনুকে পাশের শহর পালওয়ালের একটি বন্ধ্যাকরণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর অপারেশন করা হয়। এক মাস পর দীনু যখন অপারেশনের পর বাড়ি ফেরেন, তখন সালিমা তাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম দেন। আজ দীনুর তিন নাতি ও বেশ কয়েকজন পৌত্র-প্রপৌত্র রয়েছে।
দীনু হেসে বলেন, ‘এই গ্রামকে আমরাই বাঁচিয়েছি। না হলে ইন্দিরা তো পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিতেন।’ ২০২৪ সালে সালিমা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান। দীনু এখনো বেঁচে আছেন এবং নিজের দীর্ঘজীবনের জন্য বেশ গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ঠাকুরদার সঙ্গে খেলেছি, এখন আমার প্রপৌত্রদের সঙ্গে খেলছি।’ প্লাস্টিকের কাপ থেকে ঠান্ডা সোডা পান করতে করতে দীনু বলেন, ‘সাত পুরুষ! এমন সৌভাগ্য কয় জনেরই বা হয়?’

সময়টা ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের এক শীতের রাত। সবাই দৌড়ে পালাচ্ছিল। কেউ জঙ্গলের দিকে, কেউ আশপাশের গ্রামে, কেউ বা সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ে লুকিয়ে পড়ছিল কুয়োর ভেতর। তবে মোহাম্মদ দীনু ছিলেন স্থির। উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াট অঞ্চলের উত্তাওয়ার গ্রামের বাসিন্দা তিনি। রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের সেই ঠান্ডা রাতে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল, গ্রামের সব প্রজননক্ষম বয়স্ক পুরুষকে মাঠে জমায়েত করতে হবে।
সে সময় ভারত দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার ১৭ মাস পার হচ্ছিল। ওই সময়ে দেশের সব নাগরিক স্বাধীনতা কার্যত স্থগিত ছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানো হয়েছিল। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ‘জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি।’
মোহাম্মদ দীনু এবং তাঁর আরও ১৪ জন বন্ধু এই কর্মসূচির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অব্যবস্থাপনা আর অযত্নে ভরা বন্ধ্যাকরণ শিবিরে। দীনুর চোখে এটি ছিল এক ধরনের ‘ত্যাগ’, যা নাকি গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করেছে।
বর্তমানে ফিরে এসে ভাঙাচোরা একটি খাটে বসে ৯০ বছর বয়সী দীনু সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সবাই যখন নিজেদের বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল, গ্রামের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ বুঝেছিলেন, কেউ ধরা না পড়লে আরও বড় বিপদ আসবে। তাই গ্রামের কিছু পুরুষকে একত্র করে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্যাগের মাধ্যমে এই গ্রামকে বাঁচিয়েছি। চারপাশে দেখো, আজ গ্রামের প্রতিটি কোনায় আল্লাহর দেওয়া শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে।’
বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ বলে দাবি করা ভারত আজ থেকে ৫০ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, সেই দিনের বার্ষিকী পালন করছে। আর উত্তাওয়ারে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের শিকার পুরুষদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন একমাত্র মোহাম্মদ দীনু।
১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে উত্তাওয়ারে। ভারত স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছর পর, ১৯৫২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তখন সরকার শুধু নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিল দুই সন্তানের বেশি না নিতে।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে, যখন ভারতের নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা ছিল নারীপ্রতি প্রায় ৬ জন, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা মনে করা হতো। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
পাশ্চাত্যও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। বিশ্বব্যাংক ভারতের জন্য ৬৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির জন্য। যুক্তরাষ্ট্রও দুর্ভিক্ষে কাতর ভারতের জন্য খাদ্য সাহায্য নির্ভর করে রাখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের ওপর।
কিন্তু জরুরি অবস্থার সময়, যখন সব গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার পুরোপুরি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে। সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ছিল বন্ধ্যাকরণের নির্দিষ্ট কোটা পূরণের চাপ। কোটা পূরণ না করলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতো, চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি যারা রাজি হতো না, সেই সব গ্রামের পানি-সেচও বন্ধ করে দেওয়া হতো।
এই বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা যারা করেছিলেন, তাদের ওপরও নেমে এসেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা। সেই হামলার শিকার হয়েছিল উত্তাওয়ার গ্রামও। ওই গ্রামে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। সে সময় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল। যে কারণে তাদের ওপর বিশেষ নজর পড়েছিল এই গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির আওতায়।
দীনুর বাড়ির পাশের গলিতে থাকতেন মোহাম্মদ নূর। তখন তিনি কেবল ১৩ বছরের কিশোর, বাবার কোলে বাড়ির সামনে খাটিয়ায় ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়ায় চড়ে কিছু পুলিশ সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হানা দেয়। তাঁর বাবা দৌড়ে পাশের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান, নূর ভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।
সে দিনের স্মৃতিচারণ করে নূর বলেন, ‘তারা দরজা-জানালা সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা সামনে পেয়েছে সবকিছু ধ্বংস করেছে। আমাদের দুর্ভোগ বাড়াতে, তারা আটা-চালে বালি মিশিয়ে দেয়। পরের চার দিন গ্রামের কোনো ঘরেই রান্না হয়নি।’ পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে স্থানীয় থানায় মারধর করে। তবে তখন তাঁর বয়স ১৫ বছরের কম হওয়ায়, বন্ধ্যাকরণের জন্য তাকে অযোগ্য বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়।
গ্রামবাসীরা ওই রাতকে এখনো ‘ভয়ের রাত’ নামে স্মরণ করে। ওই রাত থেকেই জন্ম নেয় উত্তাওয়ারের স্থানীয় লোককথা, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন গ্রামপ্রধান আব্দুর রহমান। এই বিষয়ে নূরের বন্ধু ৬৩ বছর বয়সী তাজাম্মুল বলেন, ‘গ্রামের বাইরের লোকেরা হয়তো তাঁর নাম ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি।’
তাজাম্মুল জানান, উত্তাওয়ারে অভিযান চালানোর আগে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এসে আব্দুর রহমানকে অনুরোধ করেন কিছু পুরুষকে তাদের হাতে তুলে দিতে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো পরিবারের সদস্যকে এই অবস্থায় দিতে পারব না।’ স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, আব্দুর রহমান তখন সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘আমি আমার এলাকা থেকে একটা কুকুরও দেব না, আর তোমরা মানুষের দাবি করছ! সেটা কখনোই হবে না!’
তবে আব্দুর রহমানের এই দৃঢ় মনোভাবও শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্রামকে বাঁচাতে পারেনি। পুলিশের অভিযান শেষে গ্রাম শোকের আবহে ডুবে গিয়েছিল। এই বিষয়ে নূর বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছিল, বা যাদের পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফেরেনি। উত্তাওয়ার যেন কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল, নিস্তব্ধতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
এরপরের বছরগুলোতে এই ঘটনার পরিণতি আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আশপাশের গ্রামের লোকেরা উত্তাওয়ারের ছেলেদের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতেন না। এমনকি যারা বন্ধ্যাকৃতও হয়নি তাদের সঙ্গেও নয়। কেউ কেউ বিদ্যমান বাগদানও ভেঙে দেয়। কাসিম নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, ‘অনেকেই ওই মানসিক আঘাত থেকে আর কোনো দিনই বেরিয়ে আসতে পারেননি। দুশ্চিন্তা, ভীতি আর সামাজিক কলঙ্কে তারা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন, অনেকের জীবন দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।’
আজকের দিনে ভারতে কোনো জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি নেই। দেশের গড় প্রজনন হার এখন দুইয়ের কিছু বেশি। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, জরুরি অবস্থার সময় যে ভীতি আর দমন-পীড়নের পরিবেশ ছিল, সেটাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে।
ভারতের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ৭৫ বছর বয়সী শিব বিশ্বনাথন মনে করেন, ‘জরুরি অবস্থার মাধ্যমে ভারতে কর্তৃত্ববাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’ ১৯৭৫ সালের ১২ জুন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের নির্বাচন জিততে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছেন। আদালত তাঁকে ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে। মাত্র ১৩ দিন পর ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিশ্বনাথন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদকে স্বাভাবিক করে তোলার যে প্রক্রিয়া, সেটাই জরুরি অবস্থার জন্ম দিয়েছিল, কোনো অনুতাপ ছিল না। আসলে, জরুরি অবস্থাই আজকের ভারতের আরও অনেক “জরুরি অবস্থার” বীজ রোপণ করেছে। এটিই আধুনিক ভারতের কর্তৃত্ববাদী ভিত।’
ইন্দিরা গান্ধীর ভক্তরা তাঁকে কখনো হিন্দু দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করতেন। শব্দের খেলায় তাঁকে ভারতের সঙ্গেও এক করে দেখা হতো—ঠিক যেমন এখন নরেন্দ্র মোদীর সমর্থকেরা তাকে হিন্দু ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে তুলনা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি যখন বাড়তে থাকে, তখন দেশবাসীর বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে যায় বলে মনে করেন সমাজবিদ শিব বিশ্বনাথন। তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।’
বিশ্বনাথনের মতে, ১৯৭৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটলেও, তার পর থেকেই ভারত ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত—প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করে দেশটাকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যদিও বাইরের মুখে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।’
২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। বিরোধী নেতাদের কারাবন্দী করা, সাংবাদিকদের হয়রানি এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ এর জন্য দায়ী।
ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘ফ্রি স্পিচ কালেকটিভের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা গীতা শেঠু বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ের সঙ্গে আজকের ভারতের মিল হলো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আত্মসমর্পণের জায়গাটিতে। তিনি বলেন, ‘তখন আইন করে নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর এখন আইনের অপব্যবহার করে সেটা করা হচ্ছে। তখনকার সেই ভয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ—আজও বিদ্যমান, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলীর মতে, জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যখন কোনো নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষমতাশালী হয়, তখন কীভাবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। তবে জরুরি অবস্থার আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সফল আন্দোলন। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর কংগ্রেস দলকে হারিয়ে দিয়েছিল বিরোধীরা। তাদের নির্বাচনী প্রচারে সরকারের অমানবিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ছিল বড় ইস্যু।
আসিম আলী বলেন, ‘সত্তরের দশকের মতোই, এখন দেখার বিষয় হলো, মোদির পরে ভারতীয় গণতন্ত্র আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।’
১৯৭৬ সালের নভেম্বরে দীনু যখন পুলিশের ভ্যানে বসেছিলেন, তখন তাঁর মনে শুধু তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালিমার কথাই ঘুরছিল। সালিমা তখন বাড়িতে ছিলেন। দীনু বলেন, ‘অনেক পুরুষ, যাদের বিয়ে হয়নি বা সন্তান ছিল না, তারা পুলিশের কাছে অনুরোধ করছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য।’ কিন্তু দীনুর ১৪ জন বন্ধুর কাউকেই ছাড়া হয়নি। দীনু বলেন, ‘নাসবন্দি (বন্ধ্যাকরণ) এমন এক অভিশাপ, যা সেই সময় থেকে উত্তাওয়ার গ্রামের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।’
ধরে নিয়ে যাওয়ার ৮ দিন পর পুলিশ হেফাজতে দীনুকে পাশের শহর পালওয়ালের একটি বন্ধ্যাকরণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর অপারেশন করা হয়। এক মাস পর দীনু যখন অপারেশনের পর বাড়ি ফেরেন, তখন সালিমা তাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম দেন। আজ দীনুর তিন নাতি ও বেশ কয়েকজন পৌত্র-প্রপৌত্র রয়েছে।
দীনু হেসে বলেন, ‘এই গ্রামকে আমরাই বাঁচিয়েছি। না হলে ইন্দিরা তো পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিতেন।’ ২০২৪ সালে সালিমা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান। দীনু এখনো বেঁচে আছেন এবং নিজের দীর্ঘজীবনের জন্য বেশ গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ঠাকুরদার সঙ্গে খেলেছি, এখন আমার প্রপৌত্রদের সঙ্গে খেলছি।’ প্লাস্টিকের কাপ থেকে ঠান্ডা সোডা পান করতে করতে দীনু বলেন, ‘সাত পুরুষ! এমন সৌভাগ্য কয় জনেরই বা হয়?’
আজকের পত্রিকা ডেস্ক

সময়টা ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের এক শীতের রাত। সবাই দৌড়ে পালাচ্ছিল। কেউ জঙ্গলের দিকে, কেউ আশপাশের গ্রামে, কেউ বা সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ে লুকিয়ে পড়ছিল কুয়োর ভেতর। তবে মোহাম্মদ দীনু ছিলেন স্থির। উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াট অঞ্চলের উত্তাওয়ার গ্রামের বাসিন্দা তিনি। রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের সেই ঠান্ডা রাতে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল, গ্রামের সব প্রজননক্ষম বয়স্ক পুরুষকে মাঠে জমায়েত করতে হবে।
সে সময় ভারত দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার ১৭ মাস পার হচ্ছিল। ওই সময়ে দেশের সব নাগরিক স্বাধীনতা কার্যত স্থগিত ছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানো হয়েছিল। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ‘জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি।’
মোহাম্মদ দীনু এবং তাঁর আরও ১৪ জন বন্ধু এই কর্মসূচির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অব্যবস্থাপনা আর অযত্নে ভরা বন্ধ্যাকরণ শিবিরে। দীনুর চোখে এটি ছিল এক ধরনের ‘ত্যাগ’, যা নাকি গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করেছে।
বর্তমানে ফিরে এসে ভাঙাচোরা একটি খাটে বসে ৯০ বছর বয়সী দীনু সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সবাই যখন নিজেদের বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল, গ্রামের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ বুঝেছিলেন, কেউ ধরা না পড়লে আরও বড় বিপদ আসবে। তাই গ্রামের কিছু পুরুষকে একত্র করে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্যাগের মাধ্যমে এই গ্রামকে বাঁচিয়েছি। চারপাশে দেখো, আজ গ্রামের প্রতিটি কোনায় আল্লাহর দেওয়া শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে।’
বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ বলে দাবি করা ভারত আজ থেকে ৫০ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, সেই দিনের বার্ষিকী পালন করছে। আর উত্তাওয়ারে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের শিকার পুরুষদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন একমাত্র মোহাম্মদ দীনু।
১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে উত্তাওয়ারে। ভারত স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছর পর, ১৯৫২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তখন সরকার শুধু নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিল দুই সন্তানের বেশি না নিতে।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে, যখন ভারতের নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা ছিল নারীপ্রতি প্রায় ৬ জন, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা মনে করা হতো। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
পাশ্চাত্যও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। বিশ্বব্যাংক ভারতের জন্য ৬৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির জন্য। যুক্তরাষ্ট্রও দুর্ভিক্ষে কাতর ভারতের জন্য খাদ্য সাহায্য নির্ভর করে রাখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের ওপর।
কিন্তু জরুরি অবস্থার সময়, যখন সব গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার পুরোপুরি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে। সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ছিল বন্ধ্যাকরণের নির্দিষ্ট কোটা পূরণের চাপ। কোটা পূরণ না করলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতো, চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি যারা রাজি হতো না, সেই সব গ্রামের পানি-সেচও বন্ধ করে দেওয়া হতো।
এই বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা যারা করেছিলেন, তাদের ওপরও নেমে এসেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা। সেই হামলার শিকার হয়েছিল উত্তাওয়ার গ্রামও। ওই গ্রামে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। সে সময় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল। যে কারণে তাদের ওপর বিশেষ নজর পড়েছিল এই গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির আওতায়।
দীনুর বাড়ির পাশের গলিতে থাকতেন মোহাম্মদ নূর। তখন তিনি কেবল ১৩ বছরের কিশোর, বাবার কোলে বাড়ির সামনে খাটিয়ায় ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়ায় চড়ে কিছু পুলিশ সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হানা দেয়। তাঁর বাবা দৌড়ে পাশের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান, নূর ভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।
সে দিনের স্মৃতিচারণ করে নূর বলেন, ‘তারা দরজা-জানালা সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা সামনে পেয়েছে সবকিছু ধ্বংস করেছে। আমাদের দুর্ভোগ বাড়াতে, তারা আটা-চালে বালি মিশিয়ে দেয়। পরের চার দিন গ্রামের কোনো ঘরেই রান্না হয়নি।’ পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে স্থানীয় থানায় মারধর করে। তবে তখন তাঁর বয়স ১৫ বছরের কম হওয়ায়, বন্ধ্যাকরণের জন্য তাকে অযোগ্য বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়।
গ্রামবাসীরা ওই রাতকে এখনো ‘ভয়ের রাত’ নামে স্মরণ করে। ওই রাত থেকেই জন্ম নেয় উত্তাওয়ারের স্থানীয় লোককথা, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন গ্রামপ্রধান আব্দুর রহমান। এই বিষয়ে নূরের বন্ধু ৬৩ বছর বয়সী তাজাম্মুল বলেন, ‘গ্রামের বাইরের লোকেরা হয়তো তাঁর নাম ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি।’
তাজাম্মুল জানান, উত্তাওয়ারে অভিযান চালানোর আগে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এসে আব্দুর রহমানকে অনুরোধ করেন কিছু পুরুষকে তাদের হাতে তুলে দিতে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো পরিবারের সদস্যকে এই অবস্থায় দিতে পারব না।’ স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, আব্দুর রহমান তখন সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘আমি আমার এলাকা থেকে একটা কুকুরও দেব না, আর তোমরা মানুষের দাবি করছ! সেটা কখনোই হবে না!’
তবে আব্দুর রহমানের এই দৃঢ় মনোভাবও শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্রামকে বাঁচাতে পারেনি। পুলিশের অভিযান শেষে গ্রাম শোকের আবহে ডুবে গিয়েছিল। এই বিষয়ে নূর বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছিল, বা যাদের পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফেরেনি। উত্তাওয়ার যেন কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল, নিস্তব্ধতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
এরপরের বছরগুলোতে এই ঘটনার পরিণতি আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আশপাশের গ্রামের লোকেরা উত্তাওয়ারের ছেলেদের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতেন না। এমনকি যারা বন্ধ্যাকৃতও হয়নি তাদের সঙ্গেও নয়। কেউ কেউ বিদ্যমান বাগদানও ভেঙে দেয়। কাসিম নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, ‘অনেকেই ওই মানসিক আঘাত থেকে আর কোনো দিনই বেরিয়ে আসতে পারেননি। দুশ্চিন্তা, ভীতি আর সামাজিক কলঙ্কে তারা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন, অনেকের জীবন দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।’
আজকের দিনে ভারতে কোনো জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি নেই। দেশের গড় প্রজনন হার এখন দুইয়ের কিছু বেশি। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, জরুরি অবস্থার সময় যে ভীতি আর দমন-পীড়নের পরিবেশ ছিল, সেটাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে।
ভারতের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ৭৫ বছর বয়সী শিব বিশ্বনাথন মনে করেন, ‘জরুরি অবস্থার মাধ্যমে ভারতে কর্তৃত্ববাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’ ১৯৭৫ সালের ১২ জুন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের নির্বাচন জিততে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছেন। আদালত তাঁকে ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে। মাত্র ১৩ দিন পর ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিশ্বনাথন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদকে স্বাভাবিক করে তোলার যে প্রক্রিয়া, সেটাই জরুরি অবস্থার জন্ম দিয়েছিল, কোনো অনুতাপ ছিল না। আসলে, জরুরি অবস্থাই আজকের ভারতের আরও অনেক “জরুরি অবস্থার” বীজ রোপণ করেছে। এটিই আধুনিক ভারতের কর্তৃত্ববাদী ভিত।’
ইন্দিরা গান্ধীর ভক্তরা তাঁকে কখনো হিন্দু দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করতেন। শব্দের খেলায় তাঁকে ভারতের সঙ্গেও এক করে দেখা হতো—ঠিক যেমন এখন নরেন্দ্র মোদীর সমর্থকেরা তাকে হিন্দু ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে তুলনা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি যখন বাড়তে থাকে, তখন দেশবাসীর বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে যায় বলে মনে করেন সমাজবিদ শিব বিশ্বনাথন। তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।’
বিশ্বনাথনের মতে, ১৯৭৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটলেও, তার পর থেকেই ভারত ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত—প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করে দেশটাকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যদিও বাইরের মুখে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।’
২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। বিরোধী নেতাদের কারাবন্দী করা, সাংবাদিকদের হয়রানি এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ এর জন্য দায়ী।
ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘ফ্রি স্পিচ কালেকটিভের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা গীতা শেঠু বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ের সঙ্গে আজকের ভারতের মিল হলো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আত্মসমর্পণের জায়গাটিতে। তিনি বলেন, ‘তখন আইন করে নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর এখন আইনের অপব্যবহার করে সেটা করা হচ্ছে। তখনকার সেই ভয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ—আজও বিদ্যমান, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলীর মতে, জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যখন কোনো নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষমতাশালী হয়, তখন কীভাবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। তবে জরুরি অবস্থার আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সফল আন্দোলন। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর কংগ্রেস দলকে হারিয়ে দিয়েছিল বিরোধীরা। তাদের নির্বাচনী প্রচারে সরকারের অমানবিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ছিল বড় ইস্যু।
আসিম আলী বলেন, ‘সত্তরের দশকের মতোই, এখন দেখার বিষয় হলো, মোদির পরে ভারতীয় গণতন্ত্র আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।’
১৯৭৬ সালের নভেম্বরে দীনু যখন পুলিশের ভ্যানে বসেছিলেন, তখন তাঁর মনে শুধু তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালিমার কথাই ঘুরছিল। সালিমা তখন বাড়িতে ছিলেন। দীনু বলেন, ‘অনেক পুরুষ, যাদের বিয়ে হয়নি বা সন্তান ছিল না, তারা পুলিশের কাছে অনুরোধ করছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য।’ কিন্তু দীনুর ১৪ জন বন্ধুর কাউকেই ছাড়া হয়নি। দীনু বলেন, ‘নাসবন্দি (বন্ধ্যাকরণ) এমন এক অভিশাপ, যা সেই সময় থেকে উত্তাওয়ার গ্রামের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।’
ধরে নিয়ে যাওয়ার ৮ দিন পর পুলিশ হেফাজতে দীনুকে পাশের শহর পালওয়ালের একটি বন্ধ্যাকরণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর অপারেশন করা হয়। এক মাস পর দীনু যখন অপারেশনের পর বাড়ি ফেরেন, তখন সালিমা তাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম দেন। আজ দীনুর তিন নাতি ও বেশ কয়েকজন পৌত্র-প্রপৌত্র রয়েছে।
দীনু হেসে বলেন, ‘এই গ্রামকে আমরাই বাঁচিয়েছি। না হলে ইন্দিরা তো পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিতেন।’ ২০২৪ সালে সালিমা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান। দীনু এখনো বেঁচে আছেন এবং নিজের দীর্ঘজীবনের জন্য বেশ গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ঠাকুরদার সঙ্গে খেলেছি, এখন আমার প্রপৌত্রদের সঙ্গে খেলছি।’ প্লাস্টিকের কাপ থেকে ঠান্ডা সোডা পান করতে করতে দীনু বলেন, ‘সাত পুরুষ! এমন সৌভাগ্য কয় জনেরই বা হয়?’

সময়টা ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের এক শীতের রাত। সবাই দৌড়ে পালাচ্ছিল। কেউ জঙ্গলের দিকে, কেউ আশপাশের গ্রামে, কেউ বা সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ে লুকিয়ে পড়ছিল কুয়োর ভেতর। তবে মোহাম্মদ দীনু ছিলেন স্থির। উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মেওয়াট অঞ্চলের উত্তাওয়ার গ্রামের বাসিন্দা তিনি। রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রাম। ১৯৭৬ সালের নভেম্বরের সেই ঠান্ডা রাতে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল, গ্রামের সব প্রজননক্ষম বয়স্ক পুরুষকে মাঠে জমায়েত করতে হবে।
সে সময় ভারত দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জাতীয় জরুরি অবস্থার ১৭ মাস পার হচ্ছিল। ওই সময়ে দেশের সব নাগরিক স্বাধীনতা কার্যত স্থগিত ছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানো হয়েছিল। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহযোগিতায় শুরু হয়েছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ‘জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি।’
মোহাম্মদ দীনু এবং তাঁর আরও ১৪ জন বন্ধু এই কর্মসূচির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অব্যবস্থাপনা আর অযত্নে ভরা বন্ধ্যাকরণ শিবিরে। দীনুর চোখে এটি ছিল এক ধরনের ‘ত্যাগ’, যা নাকি গ্রামের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করেছে।
বর্তমানে ফিরে এসে ভাঙাচোরা একটি খাটে বসে ৯০ বছর বয়সী দীনু সেই দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সবাই যখন নিজেদের বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল, গ্রামের কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ বুঝেছিলেন, কেউ ধরা না পড়লে আরও বড় বিপদ আসবে। তাই গ্রামের কিছু পুরুষকে একত্র করে হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্যাগের মাধ্যমে এই গ্রামকে বাঁচিয়েছি। চারপাশে দেখো, আজ গ্রামের প্রতিটি কোনায় আল্লাহর দেওয়া শিশুরা দৌড়ে বেড়াচ্ছে।’
বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’ বলে দাবি করা ভারত আজ থেকে ৫০ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন যে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, সেই দিনের বার্ষিকী পালন করছে। আর উত্তাওয়ারে জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণের শিকার পুরুষদের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন একমাত্র মোহাম্মদ দীনু।
১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে উত্তাওয়ারে। ভারত স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছর পর, ১৯৫২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে। তখন সরকার শুধু নিরুৎসাহিত করতে চেয়েছিল দুই সন্তানের বেশি না নিতে।
কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে, যখন ভারতের নারীদের গড় সন্তানসংখ্যা ছিল নারীপ্রতি প্রায় ৬ জন, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য বোঝা মনে করা হতো। কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
পাশ্চাত্যও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। বিশ্বব্যাংক ভারতের জন্য ৬৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির জন্য। যুক্তরাষ্ট্রও দুর্ভিক্ষে কাতর ভারতের জন্য খাদ্য সাহায্য নির্ভর করে রাখে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের ওপর।
কিন্তু জরুরি অবস্থার সময়, যখন সব গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল, তখন ইন্দিরা গান্ধীর সরকার পুরোপুরি লাগামছাড়া হয়ে পড়ে। সরকার ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ছিল বন্ধ্যাকরণের নির্দিষ্ট কোটা পূরণের চাপ। কোটা পূরণ না করলে বেতন বন্ধ করে দেওয়া হতো, চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হতো। এমনকি যারা রাজি হতো না, সেই সব গ্রামের পানি-সেচও বন্ধ করে দেওয়া হতো।
এই বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা যারা করেছিলেন, তাদের ওপরও নেমে এসেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা। সেই হামলার শিকার হয়েছিল উত্তাওয়ার গ্রামও। ওই গ্রামে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ থাকতেন। সে সময় ভারতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি হার অন্যদের তুলনায় বেশি ছিল। যে কারণে তাদের ওপর বিশেষ নজর পড়েছিল এই গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির আওতায়।
দীনুর বাড়ির পাশের গলিতে থাকতেন মোহাম্মদ নূর। তখন তিনি কেবল ১৩ বছরের কিশোর, বাবার কোলে বাড়ির সামনে খাটিয়ায় ঘুমাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়ায় চড়ে কিছু পুলিশ সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে হানা দেয়। তাঁর বাবা দৌড়ে পাশের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যান, নূর ভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে।
সে দিনের স্মৃতিচারণ করে নূর বলেন, ‘তারা দরজা-জানালা সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেয়, যা সামনে পেয়েছে সবকিছু ধ্বংস করেছে। আমাদের দুর্ভোগ বাড়াতে, তারা আটা-চালে বালি মিশিয়ে দেয়। পরের চার দিন গ্রামের কোনো ঘরেই রান্না হয়নি।’ পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে স্থানীয় থানায় মারধর করে। তবে তখন তাঁর বয়স ১৫ বছরের কম হওয়ায়, বন্ধ্যাকরণের জন্য তাকে অযোগ্য বিবেচনা করে ছেড়ে দেয়।
গ্রামবাসীরা ওই রাতকে এখনো ‘ভয়ের রাত’ নামে স্মরণ করে। ওই রাত থেকেই জন্ম নেয় উত্তাওয়ারের স্থানীয় লোককথা, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র তৎকালীন গ্রামপ্রধান আব্দুর রহমান। এই বিষয়ে নূরের বন্ধু ৬৩ বছর বয়সী তাজাম্মুল বলেন, ‘গ্রামের বাইরের লোকেরা হয়তো তাঁর নাম ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি।’
তাজাম্মুল জানান, উত্তাওয়ারে অভিযান চালানোর আগে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা এসে আব্দুর রহমানকে অনুরোধ করেন কিছু পুরুষকে তাদের হাতে তুলে দিতে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছিলেন, আমি কোনো পরিবারের সদস্যকে এই অবস্থায় দিতে পারব না।’ স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, আব্দুর রহমান তখন সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘আমি আমার এলাকা থেকে একটা কুকুরও দেব না, আর তোমরা মানুষের দাবি করছ! সেটা কখনোই হবে না!’
তবে আব্দুর রহমানের এই দৃঢ় মনোভাবও শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্রামকে বাঁচাতে পারেনি। পুলিশের অভিযান শেষে গ্রাম শোকের আবহে ডুবে গিয়েছিল। এই বিষয়ে নূর বলেন, ‘যারা পালিয়ে গিয়েছিল, বা যাদের পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফেরেনি। উত্তাওয়ার যেন কবরস্থানে পরিণত হয়েছিল, নিস্তব্ধতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।’
এরপরের বছরগুলোতে এই ঘটনার পরিণতি আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আশপাশের গ্রামের লোকেরা উত্তাওয়ারের ছেলেদের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হতেন না। এমনকি যারা বন্ধ্যাকৃতও হয়নি তাদের সঙ্গেও নয়। কেউ কেউ বিদ্যমান বাগদানও ভেঙে দেয়। কাসিম নামে স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, ‘অনেকেই ওই মানসিক আঘাত থেকে আর কোনো দিনই বেরিয়ে আসতে পারেননি। দুশ্চিন্তা, ভীতি আর সামাজিক কলঙ্কে তারা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়েন, অনেকের জীবন দ্রুতই শেষ হয়ে যায়।’
আজকের দিনে ভারতে কোনো জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি নেই। দেশের গড় প্রজনন হার এখন দুইয়ের কিছু বেশি। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, জরুরি অবস্থার সময় যে ভীতি আর দমন-পীড়নের পরিবেশ ছিল, সেটাই নতুন রূপে ফিরে এসেছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে।
ভারতের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ৭৫ বছর বয়সী শিব বিশ্বনাথন মনে করেন, ‘জরুরি অবস্থার মাধ্যমে ভারতে কর্তৃত্ববাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।’ ১৯৭৫ সালের ১২ জুন, এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয় যে, ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের নির্বাচন জিততে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার করেছেন। আদালত তাঁকে ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে। মাত্র ১৩ দিন পর ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
বিশ্বনাথন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদকে স্বাভাবিক করে তোলার যে প্রক্রিয়া, সেটাই জরুরি অবস্থার জন্ম দিয়েছিল, কোনো অনুতাপ ছিল না। আসলে, জরুরি অবস্থাই আজকের ভারতের আরও অনেক “জরুরি অবস্থার” বীজ রোপণ করেছে। এটিই আধুনিক ভারতের কর্তৃত্ববাদী ভিত।’
ইন্দিরা গান্ধীর ভক্তরা তাঁকে কখনো হিন্দু দেবী দুর্গার সঙ্গে তুলনা করতেন। শব্দের খেলায় তাঁকে ভারতের সঙ্গেও এক করে দেখা হতো—ঠিক যেমন এখন নরেন্দ্র মোদীর সমর্থকেরা তাকে হিন্দু ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে তুলনা করেন। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি যখন বাড়তে থাকে, তখন দেশবাসীর বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে যায় বলে মনে করেন সমাজবিদ শিব বিশ্বনাথন। তিনি বলেন, ‘ইমার্জেন্সির মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ শাসনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।’
বিশ্বনাথনের মতে, ১৯৭৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থার অবসান ঘটলেও, তার পর থেকেই ভারত ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ববাদের দিকে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত—প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করে দেশটাকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, যদিও বাইরের মুখে সবাই গণতন্ত্রের কথা বলেছেন।’
২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে ভারতের গণতন্ত্রের অবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। বিরোধী নেতাদের কারাবন্দী করা, সাংবাদিকদের হয়রানি এবং বাক্স্বাধীনতার ওপর নানা বিধিনিষেধ এর জন্য দায়ী।
ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংগঠন ‘ফ্রি স্পিচ কালেকটিভের’ সহপ্রতিষ্ঠাতা গীতা শেঠু বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ের সঙ্গে আজকের ভারতের মিল হলো মূলধারার সংবাদমাধ্যমের আত্মসমর্পণের জায়গাটিতে। তিনি বলেন, ‘তখন আইন করে নাগরিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, আর এখন আইনের অপব্যবহার করে সেটা করা হচ্ছে। তখনকার সেই ভয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ—আজও বিদ্যমান, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিম আলীর মতে, জরুরি অবস্থার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—যখন কোনো নেতৃত্ব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষমতাশালী হয়, তখন কীভাবে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। তবে জরুরি অবস্থার আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সফল আন্দোলন। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর কংগ্রেস দলকে হারিয়ে দিয়েছিল বিরোধীরা। তাদের নির্বাচনী প্রচারে সরকারের অমানবিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে গণ-বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি ছিল বড় ইস্যু।
আসিম আলী বলেন, ‘সত্তরের দশকের মতোই, এখন দেখার বিষয় হলো, মোদির পরে ভারতীয় গণতন্ত্র আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।’
১৯৭৬ সালের নভেম্বরে দীনু যখন পুলিশের ভ্যানে বসেছিলেন, তখন তাঁর মনে শুধু তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সালিমার কথাই ঘুরছিল। সালিমা তখন বাড়িতে ছিলেন। দীনু বলেন, ‘অনেক পুরুষ, যাদের বিয়ে হয়নি বা সন্তান ছিল না, তারা পুলিশের কাছে অনুরোধ করছিলেন ছেড়ে দেওয়ার জন্য।’ কিন্তু দীনুর ১৪ জন বন্ধুর কাউকেই ছাড়া হয়নি। দীনু বলেন, ‘নাসবন্দি (বন্ধ্যাকরণ) এমন এক অভিশাপ, যা সেই সময় থেকে উত্তাওয়ার গ্রামের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।’
ধরে নিয়ে যাওয়ার ৮ দিন পর পুলিশ হেফাজতে দীনুকে পাশের শহর পালওয়ালের একটি বন্ধ্যাকরণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর অপারেশন করা হয়। এক মাস পর দীনু যখন অপারেশনের পর বাড়ি ফেরেন, তখন সালিমা তাদের একমাত্র সন্তানের জন্ম দেন। আজ দীনুর তিন নাতি ও বেশ কয়েকজন পৌত্র-প্রপৌত্র রয়েছে।
দীনু হেসে বলেন, ‘এই গ্রামকে আমরাই বাঁচিয়েছি। না হলে ইন্দিরা তো পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিতেন।’ ২০২৪ সালে সালিমা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান। দীনু এখনো বেঁচে আছেন এবং নিজের দীর্ঘজীবনের জন্য বেশ গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ঠাকুরদার সঙ্গে খেলেছি, এখন আমার প্রপৌত্রদের সঙ্গে খেলছি।’ প্লাস্টিকের কাপ থেকে ঠান্ডা সোডা পান করতে করতে দীনু বলেন, ‘সাত পুরুষ! এমন সৌভাগ্য কয় জনেরই বা হয়?’

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা।
৬ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে।
১৬ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তিশালী ঘাঁটি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্র।
জম্মুর জিউয়েল এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর হাতে জমির নথি তুলে দেওয়ার সময় কেঁদে ফেলেন। তিনি জম্মুতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখার শপথ নেন।
আরফাজের উদ্দেশে কুলদীপ বলেন, ‘যদি আমাকে ভিক্ষাও করতে হয়, তবুও আমি তোমার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করব। হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির এই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব চিরকাল থাকবে। তুমি একজন ভালো মানুষ। তোমার সন্তানেরা সুখে থাকুক।’
সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর বাড়িটি প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রের যোগসূত্র নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। আরফাজের তাঁর প্রতিবেদনে উপ-পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্পর্কের সূত্রে আবিষ্কার করেছিলে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুতে একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁসের পর সামনে আসে।
যদিও জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবি, আরফাজের বাড়িটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, আরফাজের মাদক সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নেই।
সাংবাদিকের ভেঙে ফেলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষের কাছে তাঁবুর অস্থায়ী বাসস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কুলদীপ শর্মা সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তার বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে বসে আছে। সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে গৃহহীন করা হচ্ছে।’

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মার মেয়ে তন্বী শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বাবার এই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত। রাতারাতি কাউকে কীভাবে গৃহহীন করা যায়? তিনি (আরফাজ) আমার ভাইয়ের মতো। শুধু আমি নই, আমার পরিবার এবং এলাকার সবাই তাঁর পাশে আছে।’ তন্বী শর্মা আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরি করার রাজনৈতিক প্রচার সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।’
এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরফাজের বাবা গোলাম কাদিরও। কুলদীপ শর্মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাঁদের পরিবারকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমার কাছে মূল্যবান। আর কী চাইতে পারি! এই কাজগুলোতেই বোঝা যায়, জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখনো আছে।’
গোলাম কাদির অভিযোগ করেন, জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (জেডিএ) বেছে বেছে তাঁদের একতলা বাড়িটি টার্গেট করেছে। এই বাড়ি প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক ‘মরলা’ জমিতে বানানো হয়েছিল। এটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। যদিও জেডিএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাদির কান্নাভেজা চোখে বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে সে আমাদের জন্য একটা ভালো জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু আমি সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়েছি, বৃহত্তর জনস্বার্থে যদি জীবনও দিতে হয়, তবুও যেন সে দ্বিধা না করে।’
সাংবাদিক রেশমি শর্মা, যিনি প্রথম এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনে করেন, তিনি জানান, কুলদীপ শর্মা আরফাজের ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘নিউজ সেতার ইন্ডিয়া’-এর একজন নিয়মিত দর্শক ও ফলোয়ার। তিনি আরফাজের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েই জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তিশালী ঘাঁটি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্র।
জম্মুর জিউয়েল এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর হাতে জমির নথি তুলে দেওয়ার সময় কেঁদে ফেলেন। তিনি জম্মুতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখার শপথ নেন।
আরফাজের উদ্দেশে কুলদীপ বলেন, ‘যদি আমাকে ভিক্ষাও করতে হয়, তবুও আমি তোমার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করব। হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির এই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব চিরকাল থাকবে। তুমি একজন ভালো মানুষ। তোমার সন্তানেরা সুখে থাকুক।’
সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর বাড়িটি প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রের যোগসূত্র নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। আরফাজের তাঁর প্রতিবেদনে উপ-পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্পর্কের সূত্রে আবিষ্কার করেছিলে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুতে একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁসের পর সামনে আসে।
যদিও জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবি, আরফাজের বাড়িটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, আরফাজের মাদক সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নেই।
সাংবাদিকের ভেঙে ফেলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষের কাছে তাঁবুর অস্থায়ী বাসস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কুলদীপ শর্মা সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তার বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে বসে আছে। সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে গৃহহীন করা হচ্ছে।’

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মার মেয়ে তন্বী শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বাবার এই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত। রাতারাতি কাউকে কীভাবে গৃহহীন করা যায়? তিনি (আরফাজ) আমার ভাইয়ের মতো। শুধু আমি নই, আমার পরিবার এবং এলাকার সবাই তাঁর পাশে আছে।’ তন্বী শর্মা আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরি করার রাজনৈতিক প্রচার সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।’
এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরফাজের বাবা গোলাম কাদিরও। কুলদীপ শর্মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাঁদের পরিবারকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমার কাছে মূল্যবান। আর কী চাইতে পারি! এই কাজগুলোতেই বোঝা যায়, জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখনো আছে।’
গোলাম কাদির অভিযোগ করেন, জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (জেডিএ) বেছে বেছে তাঁদের একতলা বাড়িটি টার্গেট করেছে। এই বাড়ি প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক ‘মরলা’ জমিতে বানানো হয়েছিল। এটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। যদিও জেডিএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাদির কান্নাভেজা চোখে বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে সে আমাদের জন্য একটা ভালো জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু আমি সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়েছি, বৃহত্তর জনস্বার্থে যদি জীবনও দিতে হয়, তবুও যেন সে দ্বিধা না করে।’
সাংবাদিক রেশমি শর্মা, যিনি প্রথম এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনে করেন, তিনি জানান, কুলদীপ শর্মা আরফাজের ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘নিউজ সেতার ইন্ডিয়া’-এর একজন নিয়মিত দর্শক ও ফলোয়ার। তিনি আরফাজের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েই জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
২৫ জুন ২০২৫
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা।
৬ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে।
১৬ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
এয়ারবাসের ‘এ ৩২০’ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বেশির ভাগ বিমানই পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন ও বাতিল হতে পারে। তবে বিমানবন্দরে সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।
এয়ারবাস জানায়, গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো যাওয়ার পথে জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তের পর তারা এ সমস্যাটি শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওই ফ্লাইটে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে বিমানটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করে।
কোম্পানিটির সর্বাধিক বিক্রিত মডেল এ৩২০ ছাড়াও এ৩১৮, এ৩১৯ এবং এ৩২১ মডেলেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ১০০ এয়ারবাস বিমানে অপেক্ষাকৃত সহজ একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। এই আপডেটটি হতে সাধারণত তিন ঘণ্টার মতো সময় নেয়।
তবে অবশিষ্ট ৯০০ বিমান অপেক্ষাকৃত পুরোনো সংস্করণের হওয়ায় সেগুলো পুনরায় আকাশে ওড়াতে অনবোর্ড কম্পিউটার বদলাতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব বিমান যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ কাজ সম্পন্ন করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রতিস্থাপনযোগ্য কম্পিউটার কত দ্রুত পাওয়া যায় তার ওপর।
এ পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।
বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিনকে উদ্ধৃত করে বিবিসি নিউজ জানায়, পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক। যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনের পৃথক পদ্ধতির ওপর।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে বিঘ্ন তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিছুটা বিঘ্ন দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। অন্যদিকে হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনো ফ্লাইট বাতিলের অভিজ্ঞতা পায়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখেনি।
এয়ারলাইন্সভেদেও বিঘ্নের মাত্রাতে পার্থক্য দেখা গেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এ সমস্যায় তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, তারা ইতিমধ্যে আপডেট কার্যক্রম শুরু করেছে।
ভ্রমণ সাংবাদিক সাইমন ক্যালডার বলেন, অন্য যেকোনো এয়ারলাইনের চেয়ে এয়ার ফ্রান্স বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে তাদের প্যারিস হাব থেকে আসা-যাওয়ার নির্ধারিত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে ইজিজেট জানায়, তারা কিছুটা বিঘ্নের আশঙ্কা করছে। তবে সফটওয়্যার আপডেট শুরু করেছে এবং অনেক বিমানেই ইতিমধ্যে আপডেট সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইনটি।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম থ্যাংকসগিভিং–এর সময়টাতে এই সফটওয়্যার সমস্যাটি সামনে আসে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের ৩৪০টি বিমান এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে জানিয়েছে তারা। এয়ারলাইনটি আরও জানায়, আপডেটগুলোর বড় অংশই শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের কার্যক্রমে সমস্যাটির প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন জেটস্টার নিশ্চিত করেছে, তাদের বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ সমস্যার আওতায় পড়েছে। এ সমস্যায় তারা ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অধিকাংশ বিমানে সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হলেও পুরো সপ্তাহান্তজুড়ে ভ্রমণে বিঘ্ন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পলিসি ডিরেক্টর টিম জনসন জানান, এয়ারবাসের নোটিশের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগামী কয়েক দিনে কিছু বিঘ্ন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা থাকার কারণে বিমান পরিবহন এখনো সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থাগুলোর একটি।’
ব্যাপক হারে ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাকে খুবই বিরল একটি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন টিম জনসন।
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর প্রভাব সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত হয়েছে এবং দ্রুতই সমাধান করা হচ্ছে। এটি আশাব্যঞ্জক। বিষয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চ নিরাপত্তা মানকে তুলে ধরে।’
এ৩২০ বিমানে যে সমস্যাটি শনাক্ত হয়েছে, তা বিমানের উচ্চতা নির্ণয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কম্পিউটিং সফটওয়্যারকে ঘিরে। অনেক উচ্চতায় সূর্য থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ মাঝে মাঝে সফটওয়্যারের তথ্য বিকৃত করে দিতে পারে বলে শনাক্ত করেছে এয়ারবাস।
এ কারণেই গত অক্টোবরের ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যায়। যদিও নির্মাতাপক্ষ দাবি করেছে, এটাই এ ধরনের একমাত্র ঘটনা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এক জরুরি নির্দেশনায় বলেছে, যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি বিমানে সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। বিমানগুলোকে যাত্রীবিহীন অবস্থায়, যাকে ‘ফেরি ফ্লাইট’ বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এ৩২০ মডেলের বিমানগুলো ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ প্রযুক্তির। অর্থাৎ ককপিটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিমানের যে অংশগুলো উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি যান্ত্রিক সংযোগ নেই। পাইলটের নির্দেশনা কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো কাজ সম্পন্ন করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
এয়ারবাসের ‘এ ৩২০’ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বেশির ভাগ বিমানই পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন ও বাতিল হতে পারে। তবে বিমানবন্দরে সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।
এয়ারবাস জানায়, গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো যাওয়ার পথে জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তের পর তারা এ সমস্যাটি শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওই ফ্লাইটে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে বিমানটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করে।
কোম্পানিটির সর্বাধিক বিক্রিত মডেল এ৩২০ ছাড়াও এ৩১৮, এ৩১৯ এবং এ৩২১ মডেলেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ১০০ এয়ারবাস বিমানে অপেক্ষাকৃত সহজ একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। এই আপডেটটি হতে সাধারণত তিন ঘণ্টার মতো সময় নেয়।
তবে অবশিষ্ট ৯০০ বিমান অপেক্ষাকৃত পুরোনো সংস্করণের হওয়ায় সেগুলো পুনরায় আকাশে ওড়াতে অনবোর্ড কম্পিউটার বদলাতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব বিমান যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ কাজ সম্পন্ন করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রতিস্থাপনযোগ্য কম্পিউটার কত দ্রুত পাওয়া যায় তার ওপর।
এ পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।
বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিনকে উদ্ধৃত করে বিবিসি নিউজ জানায়, পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক। যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনের পৃথক পদ্ধতির ওপর।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে বিঘ্ন তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিছুটা বিঘ্ন দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। অন্যদিকে হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনো ফ্লাইট বাতিলের অভিজ্ঞতা পায়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখেনি।
এয়ারলাইন্সভেদেও বিঘ্নের মাত্রাতে পার্থক্য দেখা গেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এ সমস্যায় তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, তারা ইতিমধ্যে আপডেট কার্যক্রম শুরু করেছে।
ভ্রমণ সাংবাদিক সাইমন ক্যালডার বলেন, অন্য যেকোনো এয়ারলাইনের চেয়ে এয়ার ফ্রান্স বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে তাদের প্যারিস হাব থেকে আসা-যাওয়ার নির্ধারিত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে ইজিজেট জানায়, তারা কিছুটা বিঘ্নের আশঙ্কা করছে। তবে সফটওয়্যার আপডেট শুরু করেছে এবং অনেক বিমানেই ইতিমধ্যে আপডেট সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইনটি।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম থ্যাংকসগিভিং–এর সময়টাতে এই সফটওয়্যার সমস্যাটি সামনে আসে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের ৩৪০টি বিমান এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে জানিয়েছে তারা। এয়ারলাইনটি আরও জানায়, আপডেটগুলোর বড় অংশই শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের কার্যক্রমে সমস্যাটির প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করছে তারা।
অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন জেটস্টার নিশ্চিত করেছে, তাদের বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ সমস্যার আওতায় পড়েছে। এ সমস্যায় তারা ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অধিকাংশ বিমানে সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হলেও পুরো সপ্তাহান্তজুড়ে ভ্রমণে বিঘ্ন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পলিসি ডিরেক্টর টিম জনসন জানান, এয়ারবাসের নোটিশের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগামী কয়েক দিনে কিছু বিঘ্ন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা থাকার কারণে বিমান পরিবহন এখনো সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থাগুলোর একটি।’
ব্যাপক হারে ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাকে খুবই বিরল একটি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন টিম জনসন।
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর প্রভাব সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত হয়েছে এবং দ্রুতই সমাধান করা হচ্ছে। এটি আশাব্যঞ্জক। বিষয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চ নিরাপত্তা মানকে তুলে ধরে।’
এ৩২০ বিমানে যে সমস্যাটি শনাক্ত হয়েছে, তা বিমানের উচ্চতা নির্ণয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কম্পিউটিং সফটওয়্যারকে ঘিরে। অনেক উচ্চতায় সূর্য থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ মাঝে মাঝে সফটওয়্যারের তথ্য বিকৃত করে দিতে পারে বলে শনাক্ত করেছে এয়ারবাস।
এ কারণেই গত অক্টোবরের ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যায়। যদিও নির্মাতাপক্ষ দাবি করেছে, এটাই এ ধরনের একমাত্র ঘটনা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এক জরুরি নির্দেশনায় বলেছে, যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি বিমানে সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। বিমানগুলোকে যাত্রীবিহীন অবস্থায়, যাকে ‘ফেরি ফ্লাইট’ বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
এ৩২০ মডেলের বিমানগুলো ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ প্রযুক্তির। অর্থাৎ ককপিটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিমানের যে অংশগুলো উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি যান্ত্রিক সংযোগ নেই। পাইলটের নির্দেশনা কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো কাজ সম্পন্ন করে।

১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
২৫ জুন ২০২৫
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা।
৬ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে।
১৬ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা। তাঁর দিকেই এখন ভারতের আর্থিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি) নজর।
ইডি-এর সাম্প্রতিক তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একটি অবৈধ অনলাইন জুয়ার চক্রের কালো টাকা এক রাইড শেয়ার বাইক চালকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই বিয়েতে খরচ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী ওই বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে অবিশ্বাস্য অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। ইডি-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই অ্যাকাউন্টে ৩৩১ দশমিক ৩৬ কোটি রুপির বেশি জমা করা হয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিপুল অর্থের মধ্যে থেকে ১ কোটি রুপির বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে ওই বিলাসবহুল বিয়ের পেছনে। অথচ ওই বাইক চালকের সঙ্গে বর বা কনে—কোনো পক্ষেরই কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।
ইডি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টটি ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এটিতে বিভিন্ন অজ্ঞাত উৎস থেকে টাকা ডিপোজিট বা জমা করা হতো এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবার অন্যান্য সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই লেনদেনের একটি সূত্র অবৈধ জুয়ার চক্র ‘1 xBet’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইডি এখন এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের উৎস ও গন্তব্যগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে অর্থের আসল উৎস গোপন করার এবং সরকারি নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। এক বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে কয়েক শ কোটি রুপির লেনদেন দেখে কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত।
ইডির একজন জ্যেষ্ঠ সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক অপরাধে এই ধরনের ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর ব্যবহার ভারতে ক্রমেই বাড়ছে। বহু মানুষ এটিকে নিরীহ ভেবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু যখন এই অ্যাকাউন্টগুলো অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই সাধারণ মানুষটিকেও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
ভারতে এই ধরনের বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্যান্য আয়োজন এখন ঘন ঘনই দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, কীভাবে মিউল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে উচ্চবিত্তের উদ্যাপন এবং অন্যান্য ব্যয়বহুল ইভেন্টে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এতে বিপদে পড়ছে সাধারণ মানুষই।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা। তাঁর দিকেই এখন ভারতের আর্থিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি) নজর।
ইডি-এর সাম্প্রতিক তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একটি অবৈধ অনলাইন জুয়ার চক্রের কালো টাকা এক রাইড শেয়ার বাইক চালকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই বিয়েতে খরচ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী ওই বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে অবিশ্বাস্য অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। ইডি-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই অ্যাকাউন্টে ৩৩১ দশমিক ৩৬ কোটি রুপির বেশি জমা করা হয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিপুল অর্থের মধ্যে থেকে ১ কোটি রুপির বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে ওই বিলাসবহুল বিয়ের পেছনে। অথচ ওই বাইক চালকের সঙ্গে বর বা কনে—কোনো পক্ষেরই কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।
ইডি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টটি ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এটিতে বিভিন্ন অজ্ঞাত উৎস থেকে টাকা ডিপোজিট বা জমা করা হতো এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবার অন্যান্য সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই লেনদেনের একটি সূত্র অবৈধ জুয়ার চক্র ‘1 xBet’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইডি এখন এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের উৎস ও গন্তব্যগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে অর্থের আসল উৎস গোপন করার এবং সরকারি নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। এক বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে কয়েক শ কোটি রুপির লেনদেন দেখে কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত।
ইডির একজন জ্যেষ্ঠ সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক অপরাধে এই ধরনের ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর ব্যবহার ভারতে ক্রমেই বাড়ছে। বহু মানুষ এটিকে নিরীহ ভেবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু যখন এই অ্যাকাউন্টগুলো অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই সাধারণ মানুষটিকেও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
ভারতে এই ধরনের বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্যান্য আয়োজন এখন ঘন ঘনই দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, কীভাবে মিউল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে উচ্চবিত্তের উদ্যাপন এবং অন্যান্য ব্যয়বহুল ইভেন্টে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এতে বিপদে পড়ছে সাধারণ মানুষই।

১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
২৫ জুন ২০২৫
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে।
১৬ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির চার্চ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৮৮ বছর বয়সী সিস্টার বের্নাডেট, ৮৬ বছর বয়সী রেজিনা ও ৮২ বছর বয়সী রিটা—তিনজনই একসময় গোল্ডেনস্টাইন ক্যাসেলের পাশের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কয়েক মাস আগেই তাঁরা সীমাবদ্ধতা ভেঙে নিজেদের ক্যাথলিক কেয়ার হোম থেকে বেরিয়ে হঠাৎ করেই পুরোনো কনভেন্টে ফিরে যান। একসময় তাঁরা সেখানেই বসবাস করতেন।
এই ঘটনার পর বিশ্ব গণমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা ব্যাপক সমর্থনও পান। তাঁদের সাবেক শিক্ষার্থীরা খাবার-দাবার, পোশাক, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন সহায়তা করেন। এমনকি কনভেন্টের তৃতীয় তলায় ওঠার জন্য একটি চেয়ারলিফটও বসিয়ে দেন।
তবে নানদের ধর্মীয় পর্যবেক্ষক রাইখার্সবার্গ অ্যাবির প্রোভোস্ট মার্কুস গ্রাসল শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, এই তিন প্রবীণ নারী ওই পুরোনো পাথুরে ভবনে নিরাপদে বাস করতে পারবেন না। তাঁর অভিযোগ—তাঁরা নাকি আনুগত্যের শপথ ভেঙেছেন; যদিও সন্ন্যাসিনীরা তা অস্বীকার করেছেন।
অবশেষে শুক্রবার চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রাসলের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আপাতত সন্ন্যাসিনীরা কনভেন্টে থাকতে পারবেন। তবে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। বাইরের কোনো অতিথিও কনভেন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং চলমান আইনি বিরোধও সমাধান করতে হবে। সন্ন্যাসিনীদের স্বাস্থ্য অবনতি হলে তাঁদের এলসবেথেন নার্সিং হোমে নিবন্ধিত করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে।
তবে রাতেই সন্ন্যাসিনীরা বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো আলোচনাই নাকি তাঁদের সঙ্গে করা হয়নি। চার্চের প্রস্তাবকে তাঁরা একতরফা ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে, ‘যত দিন নতুন নির্দেশ না আসে’ ধরনের বাক্যাংশকে তাঁরা ‘আইনগতভাবে মূল্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—চার্চের প্রস্তাবটি একপ্রকার বিধিনিষেধমূলক চুক্তি, যা তাঁদের আইনি সহায়তা নেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে চায়।
তাঁরা মত দিয়েছেন—চার্চ কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই সমাধান চায়, তবে সন্ন্যাসিনীদের দাবি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথাযথ আলোচনায় বসতে হবে।

অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির চার্চ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৮৮ বছর বয়সী সিস্টার বের্নাডেট, ৮৬ বছর বয়সী রেজিনা ও ৮২ বছর বয়সী রিটা—তিনজনই একসময় গোল্ডেনস্টাইন ক্যাসেলের পাশের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কয়েক মাস আগেই তাঁরা সীমাবদ্ধতা ভেঙে নিজেদের ক্যাথলিক কেয়ার হোম থেকে বেরিয়ে হঠাৎ করেই পুরোনো কনভেন্টে ফিরে যান। একসময় তাঁরা সেখানেই বসবাস করতেন।
এই ঘটনার পর বিশ্ব গণমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা ব্যাপক সমর্থনও পান। তাঁদের সাবেক শিক্ষার্থীরা খাবার-দাবার, পোশাক, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন সহায়তা করেন। এমনকি কনভেন্টের তৃতীয় তলায় ওঠার জন্য একটি চেয়ারলিফটও বসিয়ে দেন।
তবে নানদের ধর্মীয় পর্যবেক্ষক রাইখার্সবার্গ অ্যাবির প্রোভোস্ট মার্কুস গ্রাসল শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, এই তিন প্রবীণ নারী ওই পুরোনো পাথুরে ভবনে নিরাপদে বাস করতে পারবেন না। তাঁর অভিযোগ—তাঁরা নাকি আনুগত্যের শপথ ভেঙেছেন; যদিও সন্ন্যাসিনীরা তা অস্বীকার করেছেন।
অবশেষে শুক্রবার চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রাসলের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আপাতত সন্ন্যাসিনীরা কনভেন্টে থাকতে পারবেন। তবে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। বাইরের কোনো অতিথিও কনভেন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং চলমান আইনি বিরোধও সমাধান করতে হবে। সন্ন্যাসিনীদের স্বাস্থ্য অবনতি হলে তাঁদের এলসবেথেন নার্সিং হোমে নিবন্ধিত করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে।
তবে রাতেই সন্ন্যাসিনীরা বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো আলোচনাই নাকি তাঁদের সঙ্গে করা হয়নি। চার্চের প্রস্তাবকে তাঁরা একতরফা ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে, ‘যত দিন নতুন নির্দেশ না আসে’ ধরনের বাক্যাংশকে তাঁরা ‘আইনগতভাবে মূল্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—চার্চের প্রস্তাবটি একপ্রকার বিধিনিষেধমূলক চুক্তি, যা তাঁদের আইনি সহায়তা নেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে চায়।
তাঁরা মত দিয়েছেন—চার্চ কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই সমাধান চায়, তবে সন্ন্যাসিনীদের দাবি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথাযথ আলোচনায় বসতে হবে।

১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলা জরুরি অবস্থার সময়, ভারতে ৮০ লাখের বেশি পুরুষকে জোরপূর্বক ভ্যাসেক্টমি বা বন্ধ্যাকরণের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু ১৯৭৬ সালেই এই সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। অব্যবস্থাপনার কারণে অন্তত ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
২৫ জুন ২০২৫
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা।
৬ ঘণ্টা আগে