Ajker Patrika

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ইইউর

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮: ৪৮
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ইইউর

ইউক্রেনে হামলার বর্ষপূর্তির দিনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দশমবারের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থায়ন আরও জটিল হবে এবং দেশটিতে প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি সরবরাহ কমে যাবে বলে জানিয়েছেন ইইউ কর্মকর্তারা।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাসেলসে সুইডিশ ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্সি এই নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের ঘোষণা দেয়। পরে এক টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘ইউক্রেন যাতে যুদ্ধে জিততে পারে সে জন্য সব ইইউ সদস্য দেশ মিলে মস্কোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো এবং সুদূরপ্রসারী এই নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন। ইউক্রেন ও ইউক্রেনের জনগণের সঙ্গে আছে ইইউ। যত দিন লাগে আমরা ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’

এবারের নিষেধাজ্ঞায়ও অপপ্রচারে জড়িত রুশ নাগরিকদের নাম কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যারা ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় জোরপূর্বক নির্বাসনের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে আসছে। একই সঙ্গে যাঁরা ইউক্রেনে সম্মুখযুদ্ধে নিয়োজিত ইরানি ড্রোন তৈরিতে জড়িত রয়েছেন, তাঁদেরও তলিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধে ১২ দফা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে চীন। চীনের এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার ভাষণে তিনি এই ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন।

জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চীনের প্রস্তাব এই ইঙ্গিত দেয় যে তারা শান্তি খুঁজছে। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি, চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করবে না।’

বিবিসি জানিয়েছে, ইউক্রেনে রুশ হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সংকটের রাজনৈতিক মীমাংসাবিষয়ক ১২ দফা নথি প্রকাশ করেছে চীন। সেখানে শান্তি আলোচনা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ১২ দফার কোথাও ইউক্রেন থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহারের দাবি করেনি চীন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের একতরফা নিষেধাজ্ঞারও নিন্দা করেছে দেশটি।

চীনের এই ১২ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রকাশের পর চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তবে চীনের পক্ষ থেকে এখনো এ ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি।

এদিকে গার্ডিয়ান বলছে, জি২০-র সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা ইউক্রেন যুদ্ধকে কীভাবে অভিহিত করা হবে, তা নিয়ে এখনো কোনো মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। অবস্থা এমন হলে ভারতে অনুষ্ঠিত তাদের এবারের বৈঠকও কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হতে পারে বলে প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন।

প্রতিনিধিরা জানান, এবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র এবং শিল্পোন্নত ৭টি দেশের জোট জি৭-এর মিত্ররা বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশে আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানোর বিষয়টি রাখতে চায়। আর রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরা এর বিরোধিতা করে যাচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত