Ajker Patrika

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরের মৃত্যু, পরিবারের দাবি মারধরের শিকার

ঢামেক প্রতিবেদক
Thumbnail image

গাজীপুরে টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) অসুস্থ এক কিশোর চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতরে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে কিশোরের মৃত্যু হয়। গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

ওই কিশোরের নাম—মারুফ আহমেদ (১৬)। কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায়। বর্তমানে খিলক্ষেত দর্জিবাড়ি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত সে। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত মারুফের বাবা মো. রফিক আহমেদ আজকের পত্রিকাকে জানান, মারুফ আগে কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করলেও পরে পড়া বাদ দেয়। সে নিজে এলাকায় দিনমজুরের কাজ করে। তিন ভাই-এক বোনের মধ্যে মারুফ ছিল সবার বড়। 

রফিক আহমেদের অভিযোগ, গত ২৭ জানুয়ারি খিলক্ষেত এলাকায় এক ঝালমুড়িওয়ালার সঙ্গে কয়েকজন ছেলের ঝগড়া হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল মারুফ। তখন খিলক্ষেত থানা-পুলিশ দুই ছেলের সাথে মারুফকেও ধরে নিয়ে যায়। পরদিন ২৮ জানুয়ারি কোর্টে চালান করে দেয়। খবর পেয়ে থানায় গিয়ে জানতে পারেন মারুফের নামে ডাকাতি মামলা হয়েছে। আদালত থেকে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। 

কিশোরের বাবা আরও অভিযোগ করে জানান, গত ৮ থেকে ১০ দিন আগে তিনি মারুফের মা ইয়াসমিন বেগমকে নিয়ে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারুফের সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন মারুফ কান্না করে বলেছেন—‘বাবা আমি জীবনেও আর মারামারি, খারাপ কাজ করব না। তোমরা আমারে এখান থেকে নিয়া যাও। ওরা আমাকে বাথরুম, থালা বাসন ধোয়ায়। না ধুইলে আমারে অনেক মারধর করে।’ 

তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি ফোন করে আমাকে জানায় মারুফ অসুস্থ। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। পরে ঢাকা মেডিকেলে এসে দেখি আমার ছেলে অচেতন অবস্থায় আছে। তার সাথে কোনো কথা বলতে পারি নাই। মারুফের শরীরে, হাতের কনুইয়ে ও পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত দেখেছি। আমার ছেলেরে ওরা মারধর করেছে। মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার চাই।’ 

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সানারুল হক সুরতহাল রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন, ‘ওই কিশোরের ডান চোখে পাশে, ডান ও বাম হাতের কনুইতে ও দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে জখমের ছিল। আগামীকাল মারুফের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’ 

প্রাথমিক তদন্তে এসআই সুরতহালে উল্লেখ করেন, ‘গাজীপুর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) তত্ত্বাবধায়ক মো. দেলোয়ার হোসেনের অপমৃত্যু মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, খিলক্ষেত থানার মামলা—নম্বর ২৯ (১) ২৪, ২৮/১ /২৪। উক্ত বন্দী গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পরে। সাথে সাথে তাকে গাজীপুর আহসানউল্লাহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সারে ৬টার দিকে মারা যায়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত