অনলাইন ডেস্ক
বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি নতুন প্রশাসন ওয়াশিংটনে ক্ষমতায় বসেছে। এই প্রশাসন সরকারি আমলাতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে কর্পোরেট দক্ষতা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বাজেটে ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যয় সঙ্কোচনের পথে হাঁটছে।
বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের নেতৃত্বে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে চলমান এই বিতর্কিত ব্যয়সংকোচন কর্মসূচিকে আপাতত দৃষ্টি নতুন ও উদ্ভাবনীয় কৌশল বলে মনে পারে। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসে ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল ৩০ বছর আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের অধীনে। এটি ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের তথাকথিত ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ উদ্যোগ। তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল এই উদ্যোগ।
মাস্কের দাবি ও বাস্তবতা
সম্প্রতি ইলন মাস্ক নিজেকে ক্লিনটন প্রশাসনের এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বলে প্রচারের চেষ্টা করছেন। তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স–এ লিখেছেন, ‘What@DOGE is doing is similar to Clinton/Gore Dem policies of the 1990 s, ’ অর্থাৎ, ‘ডিওজি যা করছে, তা ১৯৯০–এর দশকের ক্লিনটন/গোর ডেমোক্র্যাটিক নীতির মতোই।’ এখানে ‘DOGE’ বলতে তিনি Department of Government Efficiency বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ–এর কথা বোঝাতে চেয়েছেন। এই দপ্তর সরকারি ব্যয় সংকোচনের দায়িত্বে রয়েছে।
কিন্তু ক্লিনটন যুগের ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ প্রকল্প ছিল বর্তমানের মাস্ক পরিচালিত তাড়াহুড়ার ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচির সম্পূর্ণ বিপরীত—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লিনটনের উদ্যোগটি দ্বিদলীয় কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল। তারা কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয়তাগুলো চিহ্নিত করেছিল এবং সরকারি কর্মচারীদের নিজ নিজ কাজ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করেছিল।
ফেডারেল কর্মীবাহিনী উন্নত করার চেষ্টা করে ‘পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিস’। এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্স স্টিয়ার বলেন, ‘আমরা কী পরিবর্তন করা উচিত এবং কীভাবে করা উচিত তা বুঝতে প্রচুর গবেষণা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সরকারি চাকরির সংকট
মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বরখাস্ত করেছে এবং করছে। তারা একটি ‘বিলম্বিত পদত্যাগ’ (deferred resignation) প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর জন্য কংগ্রেসে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তদুপরি, অনেক সংস্থার বাজেট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে আদালত মাঝে মাঝে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু তাতে ইলন মাস্কের ডিওজিই একটুও দমেনি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক দাবি করছেন, তিনি সরকারি ব্যয় কমিয়ে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ সাশ্রয় করবেন।
কিন্তু যারা ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বলছেন, ক্লিনটনের ওই উদ্যোগ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে—বিশেষ করে সরকারি কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা উচিত।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মতামত
১৯৯০–এর দশকে রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট প্রকল্প পরিচালনা করা এলেইন কামার্ক বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করিনি।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তাঁদের (মাস্ক ও ট্রাম্প প্রশাসনের) একমাত্র উদ্দেশ্য খরচ কমানো, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল—কাজের গুণগত মান বাড়ানো এবং ব্যয় কমানো, দুটোই একসঙ্গে করা।’
কামার্ক বলেন, তাঁদের প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করেছিলেন, যারা মূলত বিদ্যমান সরকারি সংস্থাগুলো থেকেই নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁরা সরকারি সেবা আরও কার্যকর করতে এবং গ্রাহক সেবার মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন এক প্রযুক্তির প্রতি সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহিত করা হয়েছিল, সেটি হলো ‘ইন্টারনেট’। আজকের অনেক সরকারি ওয়েবসাইট ও ই–ট্যাক্স ফাইলিং সিস্টেম ওই সময়েই চালু হয়।
তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর জনপ্রিয় টক শো ‘ডেভিড লেটারম্যান’–এ একটি সরকারি অ্যাশট্রে (ছাইদানী) হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রতীকীভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, তাঁরা ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস’ করতে চান।
তাঁরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘হ্যামার অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছিলেন। যারা প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে ভালো আইডিয়া দিতেন তাঁদের পুরস্কৃত করা হতো।
অধ্যাপক ডন কেটল বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীদের সহযোগী হিসেবে দেখেছিলাম, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের প্রতিপক্ষ মনে করে।’
উপেক্ষিত কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
ক্লিনটন প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত স্বেচ্ছা অবসর প্যাকেজ চালু করেছিল এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪ লাখের বেশি সরকারি পদ বিলুপ্ত করে। তবে এটি স্বেচ্ছা অবসর ও স্বাভাবিক কর্মী প্রবাহের মাধ্যমে করা হয়েছিল।
কেটল বলেন, এই কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় কমাতে ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ পরে ঠিকাদারদের মাধ্যমে এই কাজ করাতে হয়েছিল, যা আরও ব্যয়বহুল ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমার আশঙ্কা, এবারও একই ঘটনা ঘটবে।’
কনজারভেটিভ ক্যাটো ইনস্টিটিউট–এর গবেষক ক্রিস এডওয়ার্ডস বলেন, ক্লিনটন প্রশাসনের প্রকল্প ‘মোটামুটি সফল’ ছিল। কারণ এটি কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পে কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।
কংগ্রেস যদি নিজ ভূমিকায় সক্রিয় না হয়, তাহলে মাস্কের প্রচেষ্টাও স্থায়ী হবে না বলে মনে করেন এডওয়ার্ডস।
সংগঠিত বনাম বিশৃঙ্খল পরিবর্তন
কামার্ক বলেন, ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ কর্মসূচি ১৪৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাজেটের তুলনায় অতি সামান্য।
তিনি মাস্কের দ্রুত ও বিশৃঙ্খল পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে সরকারি পরিবর্তন কর্মসূচিটি পরিচালনা করেছিলাম, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কিন্তু আমার মনে হয় না, মাস্ক এ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত।’
‘ফেডারেল সরকারের ব্যর্থতা বেসরকারি খাতের ব্যর্থতার মতো নয়। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি, ’ বলেন কামার্ক। ‘যদি তাঁরা এই বিশৃঙ্খল পদ্ধতিতে চলতে থাকেন, তাহলে এটাই তাঁদের পতনের কারণ হবে।’ শঙ্কা প্রকাশ করেন কামার্ক।
তথ্যসূত্র: এপি
বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি নতুন প্রশাসন ওয়াশিংটনে ক্ষমতায় বসেছে। এই প্রশাসন সরকারি আমলাতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে কর্পোরেট দক্ষতা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তারা লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বাজেটে ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যয় সঙ্কোচনের পথে হাঁটছে।
বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের নেতৃত্বে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে চলমান এই বিতর্কিত ব্যয়সংকোচন কর্মসূচিকে আপাতত দৃষ্টি নতুন ও উদ্ভাবনীয় কৌশল বলে মনে পারে। কিন্তু আধুনিক ইতিহাসে ফেডারেল সরকার পুনর্গঠনের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল ৩০ বছর আগে ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের অধীনে। এটি ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের তথাকথিত ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ উদ্যোগ। তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল এই উদ্যোগ।
মাস্কের দাবি ও বাস্তবতা
সম্প্রতি ইলন মাস্ক নিজেকে ক্লিনটন প্রশাসনের এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা বলে প্রচারের চেষ্টা করছেন। তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স–এ লিখেছেন, ‘What@DOGE is doing is similar to Clinton/Gore Dem policies of the 1990 s, ’ অর্থাৎ, ‘ডিওজি যা করছে, তা ১৯৯০–এর দশকের ক্লিনটন/গোর ডেমোক্র্যাটিক নীতির মতোই।’ এখানে ‘DOGE’ বলতে তিনি Department of Government Efficiency বা সরকারি দক্ষতা বিভাগ–এর কথা বোঝাতে চেয়েছেন। এই দপ্তর সরকারি ব্যয় সংকোচনের দায়িত্বে রয়েছে।
কিন্তু ক্লিনটন যুগের ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ প্রকল্প ছিল বর্তমানের মাস্ক পরিচালিত তাড়াহুড়ার ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচির সম্পূর্ণ বিপরীত—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্লিনটনের উদ্যোগটি দ্বিদলীয় কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল। তারা কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয়তাগুলো চিহ্নিত করেছিল এবং সরকারি কর্মচারীদের নিজ নিজ কাজ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করেছিল।
ফেডারেল কর্মীবাহিনী উন্নত করার চেষ্টা করে ‘পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিস’। এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্স স্টিয়ার বলেন, ‘আমরা কী পরিবর্তন করা উচিত এবং কীভাবে করা উচিত তা বুঝতে প্রচুর গবেষণা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।’
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সরকারি চাকরির সংকট
মাস্কের নেতৃত্বাধীন এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ট্রাম্প প্রশাসন হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বরখাস্ত করেছে এবং করছে। তারা একটি ‘বিলম্বিত পদত্যাগ’ (deferred resignation) প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর জন্য কংগ্রেসে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তদুপরি, অনেক সংস্থার বাজেট কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে আদালত মাঝে মাঝে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু তাতে ইলন মাস্কের ডিওজিই একটুও দমেনি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক দাবি করছেন, তিনি সরকারি ব্যয় কমিয়ে ‘ট্রিলিয়ন ডলার’ সাশ্রয় করবেন।
কিন্তু যারা ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরা বলছেন, ক্লিনটনের ওই উদ্যোগ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু আছে—বিশেষ করে সরকারি কাঠামো পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা উচিত।
সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মতামত
১৯৯০–এর দশকে রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট প্রকল্প পরিচালনা করা এলেইন কামার্ক বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করিনি।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তাঁদের (মাস্ক ও ট্রাম্প প্রশাসনের) একমাত্র উদ্দেশ্য খরচ কমানো, কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ছিল—কাজের গুণগত মান বাড়ানো এবং ব্যয় কমানো, দুটোই একসঙ্গে করা।’
কামার্ক বলেন, তাঁদের প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কর্মী কাজ করেছিলেন, যারা মূলত বিদ্যমান সরকারি সংস্থাগুলো থেকেই নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁরা সরকারি সেবা আরও কার্যকর করতে এবং গ্রাহক সেবার মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন এক প্রযুক্তির প্রতি সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহিত করা হয়েছিল, সেটি হলো ‘ইন্টারনেট’। আজকের অনেক সরকারি ওয়েবসাইট ও ই–ট্যাক্স ফাইলিং সিস্টেম ওই সময়েই চালু হয়।
তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর জনপ্রিয় টক শো ‘ডেভিড লেটারম্যান’–এ একটি সরকারি অ্যাশট্রে (ছাইদানী) হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রতীকীভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, তাঁরা ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস’ করতে চান।
তাঁরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘হ্যামার অ্যাওয়ার্ড’ চালু করেছিলেন। যারা প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে ভালো আইডিয়া দিতেন তাঁদের পুরস্কৃত করা হতো।
অধ্যাপক ডন কেটল বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীদের সহযোগী হিসেবে দেখেছিলাম, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের প্রতিপক্ষ মনে করে।’
উপেক্ষিত কংগ্রেস ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
ক্লিনটন প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত স্বেচ্ছা অবসর প্যাকেজ চালু করেছিল এবং ১৯৯৩ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৪ লাখের বেশি সরকারি পদ বিলুপ্ত করে। তবে এটি স্বেচ্ছা অবসর ও স্বাভাবিক কর্মী প্রবাহের মাধ্যমে করা হয়েছিল।
কেটল বলেন, এই কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ব্যয় কমাতে ব্যর্থ হয়েছিল, কারণ পরে ঠিকাদারদের মাধ্যমে এই কাজ করাতে হয়েছিল, যা আরও ব্যয়বহুল ছিল।
তিনি বলেন, ‘আমার আশঙ্কা, এবারও একই ঘটনা ঘটবে।’
কনজারভেটিভ ক্যাটো ইনস্টিটিউট–এর গবেষক ক্রিস এডওয়ার্ডস বলেন, ক্লিনটন প্রশাসনের প্রকল্প ‘মোটামুটি সফল’ ছিল। কারণ এটি কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পে কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।
কংগ্রেস যদি নিজ ভূমিকায় সক্রিয় না হয়, তাহলে মাস্কের প্রচেষ্টাও স্থায়ী হবে না বলে মনে করেন এডওয়ার্ডস।
সংগঠিত বনাম বিশৃঙ্খল পরিবর্তন
কামার্ক বলেন, ‘রিইনভেন্টিং গভর্নমেন্ট’ কর্মসূচি ১৪৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাজেটের তুলনায় অতি সামান্য।
তিনি মাস্কের দ্রুত ও বিশৃঙ্খল পদ্ধতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে সরকারি পরিবর্তন কর্মসূচিটি পরিচালনা করেছিলাম, যাতে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কিন্তু আমার মনে হয় না, মাস্ক এ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত।’
‘ফেডারেল সরকারের ব্যর্থতা বেসরকারি খাতের ব্যর্থতার মতো নয়। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি, ’ বলেন কামার্ক। ‘যদি তাঁরা এই বিশৃঙ্খল পদ্ধতিতে চলতে থাকেন, তাহলে এটাই তাঁদের পতনের কারণ হবে।’ শঙ্কা প্রকাশ করেন কামার্ক।
তথ্যসূত্র: এপি
ভারতের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রির পরিকল্পনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন টেক মোগল ইলন মাস্ক। রাজধানী নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে শোরুম স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে টেসলা। পাশাপাশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও জোরদার করছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মাস্কের
৪ ঘণ্টা আগেবাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি এবং উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপে রয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এসব দেশের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার সক্ষমতাকে সীমিত করছে।
১০ ঘণ্টা আগেবাংলাদেশের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বেইজিং সফর শুরু করেছেন। এই দলে রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিকেরা রয়েছেন। এই দলটি গতকাল সোমবার ১০ দিনের সফরে চীন গেছে। প্রতিনিধি দলের এক নেতা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন, তাঁরা চীন সরকার ও ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদ
৩ দিন আগেসি চিন পিং কেন এই সিম্পোজিয়াম আয়োজন করেছিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে উল্লিখিত বিষয়টিকে আমলে নেওয়া যেতে পারে। বৈঠকের প্রতিবেদনে বলা হয়ে, সি চীনের অর্থনীতির জন্য বেসরকারি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং এর কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। সির শাসনামলে কীভাবে টেক উদ্যোক্তাদের পরিচালনা করা যায়...
৫ দিন আগে