Ajker Patrika

যুদ্ধবিরতির পরপরই বিধ্বস্ত গাজায় পৌঁছল জরুরি সহায়তা

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ১৭: ২৫
যুদ্ধবিরতির পরপরই বিধ্বস্ত গাজায় পৌঁছল জরুরি সহায়তা

ঢাকা: টানা ১১ দিনের ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তার প্রথম কনভয় পৌঁছেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি মানবিক সহায়তার প্রথম কনভয় অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে পৌঁছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য কেরেম শালন বর্ডার ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল। এরপরই জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাসহ বেশ কয়েকটি সহায়তা সংস্থার দেওয়া জরুরি ওষুধ, খাবার ও জ্বালানি নিয়ে গাজায় প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি ট্রাক।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আবারও নিজ আবাসস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে তাঁদের বেশির ভাগেরই বাড়ি-ঘর ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, বিধ্বস্ত এসব বাড়ি-ঘর পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনডব্লিউআরএ) বলেছে, তাদের অগ্রাধিকার হলো গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষদের শনাক্ত করে তাঁদের সাহায্য করা। তাঁরা ত্রাণ হিসেবে অবিলম্বে ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সাহায্য চেয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানকার প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী এবং প্রায় এক হাজার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

দুই সপ্তাহের কিছু কম সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় যে পরিমাণ বাড়ি-স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে সেগুলোর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন রেডক্রসের এক কর্মকর্তা।

সামিরা আবদুল্লাহ নাসির নামের গাজার এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমরা আমাদের বাড়িতে ফিরেছি কিন্তু আমাদের সেখানে বসার জায়গাটুকুও নেই। আমাদের পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। শোয়ার জন্য খাট নেই। আমাদের আসলে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। আমরা আমাদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপে ফিরেছি।

বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা। তবে তাঁদের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও ফের যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।

ইসরায়েলের হামলায় ৬৫ শিশু ও ৩৯ নারীসহ ২৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯০০–এর বেশি। অপরদিকে হামাসের রকেট হামলায় নিহত হয়েছে দুই শিশুসহ ১২ ইসরায়েলি।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাঁদের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১৬০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

গত ১০ মে এই সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকও ডাকে জাতিসংঘ। শুরু থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে মিসর, কাতার ও জাতিসংঘ। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না।

বিশেষ দূত পাঠানোর পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানালে আশা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার গাজা পরিস্থিতি নিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে আলোচনা করেন বাইডেন। পরে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আশা প্রকাশ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত