Ajker Patrika

জাতিসংঘের অধীনে ১৫ বছরের গুমের তদন্ত চান মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ২১: ৩৬
Thumbnail image

দুই মাস নয়, গত ১৫ বছরে দেশে সংঘটিত গুম–খুনের ঘটনায় জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের উদ্যোগ নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবসের সংহতি সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। 

গুমবিরোধী জাতিসংঘ সনদে সই করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আরও ভালো লাগছে যে এই প্রথম বাংলাদেশে এই স্বৈরাচারের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করবার জন্য জাতিসংঘ থেকে একটি দল এসেছে। কিন্তু এদের যে টার্মস অব রেফারেন্স: গত দুই মাসে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে সেটা তারা তদন্ত করবে। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা জাতিসংঘের যে মানবাধিকার কমিশন আছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। গত ১৫ বছর ধরে যতগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, হত্যা হয়েছে, গুম হয়েছে প্রত্যেকটির তদন্তের ব্যবস্থা করুন।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত জোরের সঙ্গে, দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে অত্যাচার-নিপীড়ন-হত্যাকাণ্ড, গুম ঘটনা হয়েছে প্রত্যেকটির তদন্ত এই জাতিসংঘের কমিটি দিয়ে করতে হবে এবং তার ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে।’

গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, একটা কমিশন গঠন করেছেন। এটা একটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু একই সঙ্গে আজকে আমি আহ্বান জানাতে চাই এই সরকারকে যে আপনারা প্রত্যেকটি গুম ব্যক্তির পরিবারের জন্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এই পরিবারগুলোর পাশে এসে দাঁড়ানো।’ 

পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে জানিয়ে ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সন্তুষ্টির কোনো কারণ নাই। এখনো অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এখনো দেশে–বিদেশে ষড়যন্ত্রের অভাব নেই। অপেক্ষা করে আছে, কখন সুযোগ পাবে। সেই সুযোগে তারা এই স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর আঘাত করবে। তাই আজকে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।’ 

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে গুম হওয়ার ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ছবি: আজকের পত্রিকাঅন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য চাই। আমরা চাই এই সরকার দ্রুত গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে, সংস্কারের ব্যবস্থা করবে।’ 

সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন এই সরকারের সঙ্গে যেটা আমাদের আন্দোলনের ফসল, তাদের আমরা সহযোগিতা করি। এই সহযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা সফলভাবে সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচন করতে সক্ষম হয়।’ 

বিএনপির আয়োজনে এই সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। সভায় গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তারা। এ সময় শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে সভামঞ্চ। 

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গুম প্রকল্পের নেতা শেখ হাসিনা। সব সত্য উদ্‌ঘাটন করে সহযোগীদের বিচার করতে হবে।’ 

সভায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে ‘আয়নাঘরের প্রধান খলনায়ক’ আখ্যা দেন গুমের শিকার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরের প্রধান খলনায়ক ছিল বেনজীর ও জিয়াউল আহসান। একজন চাকরিচ্যুত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে। জিয়াউল আহসানকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না? যারা ফ্যাসিবাদকে রক্ষা করার জন্য, হাসিনাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করেছিল, তারা এখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় আসীন। আমি বলতে চাই, সরিষার মধ্যে ভূত রেখে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত