Ajker Patrika

‘নারীর সাফল্য অনেক পুরুষকে শঙ্কিত করে, এই শঙ্কাই সহিংসতা বাড়িয়ে দিচ্ছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উপলক্ষে ১৬ দিনের কর্মসূচিতে এমজেএফ আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা
‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উপলক্ষে ১৬ দিনের কর্মসূচিতে এমজেএফ আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঘরে ও বাইরে সর্বত্র নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। নারীরা কোথাও নিরাপদ বোধ করছেন না। নারীর সাফল্য অনেক পুরুষকে শঙ্কিত করে, এই শঙ্কা সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উপলক্ষে ১৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নারীরা এখন কোথাও আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নিরাপত্তা অনুভব করছেন না। পরিবারের মধ্যেও অনেক সময় তাঁরা নিরাপত্তা বোধ করছেন না, এসব বলে কোনো লাভ হচ্ছে না। এই হতাশা দূর করতে হলে কেবল আইন বা নীতিমালা নয়, সামাজিক শক্তিকেও তৃণমূল থেকে সক্রিয় করতে হবে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে মেয়েদের নিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলো কেন আলাদা ‘‘নারী শাখা’’ রাখবে? নারীরা তো মূলধারার রাজনীতিতেই সমানভাবে কাজ করতে পারবে—এটি স্বীকার করার মানসিকতা এখনো তৈরি হয়নি। তরুণ-তরুণী উভয়ের মাঝেই একটি পশ্চাৎপদতার ন্যারেটিভ তৈরি হচ্ছে। এটি ভেঙে নতুন সচেতনতা, সমতা ও সম্মানের ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে হবে।’

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। তিনি জানান, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবরে সহিংসতায় নারীমৃত্যুর ঘটনা ৫০৩টি এবং শিশুদের ওপর ৯০৫টি যৌন সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ৭৮ শতাংশের বেশি নারী ডিজিটাল সহিংসতার শিকার, বিশেষত ফেসবুকে। শাহীন আনাম আবেদন জানান, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতাকে জরুরি ও জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা দরকার।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগের ভূতপূর্ব পরিচালক সেলিম জাহান বলেন, নারীর সাফল্য অনেক পুরুষকে শঙ্কিত করে। আর এ শঙ্কাই সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। নারীর অর্জন যেন সহিংসতার কারণ না হয়, এটা সমাজকে নিশ্চিত করতে হবে। নারী-পুরুষ সমতার কথা উঠলেই এখনো অনেকে আঁতকে ওঠেন। এমনকি কর্মঘণ্টা কমানোর মতো যুক্তি তুলে নারীর সামনে অদৃশ্য বাধা তৈরি করা হয়। নারীর অধিকার ও সমতার পথ রুদ্ধ হলে সমাজ কখনো উন্নত হতে পারে না।

সংলাপে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ; বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি; ইউএন উইমেন, বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং; কানাডিয়ান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ডেভেলপমেন্ট-জেন্ডার ইকুয়ালিটি) স্টেফানি সেন্ট-লরেন্ট ব্রাসার্ড, সুইডেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান ইভা স্মেডবার্গ, ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...