পল্লব শাহরিয়ার

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব। ২০২৫ সালে এসে এই পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব আর ডিজিটাল জগৎ এখন শুধু প্রযুক্তির খেলা নয়, আমাদের অভ্যাস, স্বপ্ন, কাজ, সম্পর্ক—সবকিছুর ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
এই নতুন সময়ে আমরা একদিকে সুবিধা আর স্বাধীনতা পাচ্ছি, অন্যদিকে শিখছি নতুন নিয়ম, নতুন দায়িত্ব। মানুষ যখন ভবিষ্যতের কথা ভাবে, তখন অনেকেই ভেবে নেয়, এসব যেন খুব দূরের গল্প। কিন্তু সত্য হলো, ভবিষ্যৎ এখন আমাদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তার ছায়া আমরা প্রতিদিন দেখছি, অনুভব করছি। আর সেই আলোছায়া মিলেই তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল জীবনের নতুন ছবি।
অফিস যেন ঘরেই
প্রথাগত অফিস ব্যবস্থা অনেকটাই বদলে গেছে। করোনা মহামারির সময় অফিসে না গিয়েও কাজের ধারা শুরু হয়েছিল, মেটাভার্স তাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে গেছে। কর্মীরা এখন শারীরিকভাবে অফিসে না গিয়েও, তাঁদের ডিজিটাল অবয়ব বা প্রতিরূপ (অ্যাভাটার) ব্যবহার করে ভার্চুয়াল কর্মক্ষেত্রে যোগদান করছেন। এই ভার্চুয়াল অফিসগুলোতে বাস্তব অফিসের মতোই সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, সভা করা এবং দলগতভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না এবং কাজের দক্ষতাও বেড়েছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন ভার্চুয়াল সভা আয়োজনকে সাধারণ অভ্যাসে পরিণত করেছে।
পড়াশোনায় নতুন মজা
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আর শুধু বই বা ফ্ল্যাট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে শেখে না। ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষগুলো বাস্তব পরিবেশের মতো করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) পরিবেশে বিষয়বস্তু শিখতে পারছে। যেমন, জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা মানবদেহের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বাস্তবে দেখার মতো করে পরীক্ষা করতে পারছে অথবা ইতিহাসের শিক্ষার্থীরা প্রাচীন রোমে ভ্রমণ করে সেখানকার জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারছে। এ ধরনের নিমগ্ন (ইমারসিভ) অভিজ্ঞতা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এ ছাড়া, বিপজ্জনক কাজ বা জটিল যন্ত্রাংশ পরিচালনার প্রশিক্ষণে মেটাভার্স ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে বাস্তব ঝুঁকি ছাড়াই প্রশিক্ষণ সম্ভব।
ভার্চুয়াল বাজারের ভিড়
আগে অনলাইন কেনাকাটা ছিল ছবি ও লেখা দিয়ে সীমাবদ্ধ। এখন ক্রেতা ভার্চুয়াল দোকানে হেঁটে ঘুরে দেখছেন, পণ্য হাতে নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এতে বিশেষ করে পোশাক, আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জার জিনিস বিক্রি করার ধরন বদলেছে। এসএমই বা মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ভার্চুয়াল দোকান খুলছেন। এতে শুরুর খরচ কমতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তি চালু রাখার, ডিজিটাল প্রদর্শনী সাজানোর ও গ্রাহক সেবা দেওয়ার সময় ও দক্ষতা দরকার। ডেলিভারি ও পণ্য ফেরত নীতি—এসবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভার্চুয়ালি দেখা ভালো হলেও বাস্তবে পণ্য কেমন এবং অপছন্দের পণ্য পছন্দ না হলে তা ফেরত নেওয়ার নিয়ম ভালো না হলে ভোক্তা ক্ষুব্ধ হবে। বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাচ্ছে কাস্টমার রিভিউ, বিস্তারিত ভিডিও, লাইভ প্রদর্শনী। একই সঙ্গে প্রতারণা রোধে অধিকতর পরিচয় যাচাই, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা আর গ্রাহক অধিকার সংরক্ষণে আইন-নীতিও জোরদার করা হচ্ছে।
বাড়িতে প্রযুক্তির ছোঁয়া
ঘরগুলোয় এখন আলো, তাপমাত্রা, সুরক্ষা ব্যবস্থা—সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। রান্নাঘরের যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেসিপি পরিচালনা হয়। এতে জীবন সহজ হয়েছে, বিশেষ করে ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য সুবিধা অনেক। বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত মানুষেরা এখন এসব সুবিধার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে।
তথ্য নিয়ে সতর্কতা
ডিজিটাল-নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালে বহু তথ্য ফাঁস ও সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশের ক্ষতি হয়েছে। সে জন্য আইনপ্রণেতা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারী—এই তিন অংশের দায়িত্ব বেড়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ থাকার জন্য নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দ্বিস্তরের শনাক্তকরণ এবং অনলাইন লেনদেনের সতর্কতা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই তথ্য সংরক্ষণ ও অবহিতকরণ নীতিমালা দিতে হয়। সরকারি পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, তথ্য অধিকার আইন ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিজিটাল লেনদেন
নগদ কমে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে। এতে লেনদেন দ্রুত ও সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ। গ্রামের বাজার থেকে করপোরেট, বিনিময়—সবকিছুই ডিজিটাল। ফলে অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ছে এবং অনেক মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় চলে এসেছে। তবে প্রতারণা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, আর্থিক অধিকার রক্ষা—এসব চ্যালেঞ্জ থেকে রেহাই পেতে নয়; লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখা, নাগরিকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবাঞ্ছিত ট্রানজেকশন থামাতে তৎপর নজরদারি করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার নীতিও সময়োপযোগী করা জরুরি।
চিকিৎসায় প্রযুক্তির হাতে-গড়া পরিবর্তন
দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও ভার্চুয়াল পরীক্ষালয়—এসব এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোগীর বসার জায়গা থেকে চিকিৎসক রোগের লক্ষণ দেখে পরামর্শ দিচ্ছেন; প্রচুর রোগীর নিয়মিত ডেটা নেটে জমা রেখে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তিকে চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করে রোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করে দিচ্ছে, তেমনি এটি আমাদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তির মধ্যেই আমাদের বসবাস। এটা যেমন একদিকে ভালো, তেমনি অন্যদিকে এ বিষয়ে সতর্কতাও জরুরি। আমাদের বুঝে বাছাই করতে হবে কোনটা আমাদের জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ।

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব। ২০২৫ সালে এসে এই পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভার্চুয়াল মহাবিশ্ব আর ডিজিটাল জগৎ এখন শুধু প্রযুক্তির খেলা নয়, আমাদের অভ্যাস, স্বপ্ন, কাজ, সম্পর্ক—সবকিছুর ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
এই নতুন সময়ে আমরা একদিকে সুবিধা আর স্বাধীনতা পাচ্ছি, অন্যদিকে শিখছি নতুন নিয়ম, নতুন দায়িত্ব। মানুষ যখন ভবিষ্যতের কথা ভাবে, তখন অনেকেই ভেবে নেয়, এসব যেন খুব দূরের গল্প। কিন্তু সত্য হলো, ভবিষ্যৎ এখন আমাদের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। তার ছায়া আমরা প্রতিদিন দেখছি, অনুভব করছি। আর সেই আলোছায়া মিলেই তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের ভার্চুয়াল ও ডিজিটাল জীবনের নতুন ছবি।
অফিস যেন ঘরেই
প্রথাগত অফিস ব্যবস্থা অনেকটাই বদলে গেছে। করোনা মহামারির সময় অফিসে না গিয়েও কাজের ধারা শুরু হয়েছিল, মেটাভার্স তাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে গেছে। কর্মীরা এখন শারীরিকভাবে অফিসে না গিয়েও, তাঁদের ডিজিটাল অবয়ব বা প্রতিরূপ (অ্যাভাটার) ব্যবহার করে ভার্চুয়াল কর্মক্ষেত্রে যোগদান করছেন। এই ভার্চুয়াল অফিসগুলোতে বাস্তব অফিসের মতোই সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, সভা করা এবং দলগতভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না এবং কাজের দক্ষতাও বেড়েছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখন ভার্চুয়াল সভা আয়োজনকে সাধারণ অভ্যাসে পরিণত করেছে।
পড়াশোনায় নতুন মজা
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার্থীরা এখন আর শুধু বই বা ফ্ল্যাট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে শেখে না। ভার্চুয়াল শ্রেণিকক্ষগুলো বাস্তব পরিবেশের মতো করে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) পরিবেশে বিষয়বস্তু শিখতে পারছে। যেমন, জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা মানবদেহের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো বাস্তবে দেখার মতো করে পরীক্ষা করতে পারছে অথবা ইতিহাসের শিক্ষার্থীরা প্রাচীন রোমে ভ্রমণ করে সেখানকার জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করতে পারছে। এ ধরনের নিমগ্ন (ইমারসিভ) অভিজ্ঞতা শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এ ছাড়া, বিপজ্জনক কাজ বা জটিল যন্ত্রাংশ পরিচালনার প্রশিক্ষণে মেটাভার্স ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে বাস্তব ঝুঁকি ছাড়াই প্রশিক্ষণ সম্ভব।
ভার্চুয়াল বাজারের ভিড়
আগে অনলাইন কেনাকাটা ছিল ছবি ও লেখা দিয়ে সীমাবদ্ধ। এখন ক্রেতা ভার্চুয়াল দোকানে হেঁটে ঘুরে দেখছেন, পণ্য হাতে নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। এতে বিশেষ করে পোশাক, আসবাবপত্র ও গৃহসজ্জার জিনিস বিক্রি করার ধরন বদলেছে। এসএমই বা মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও নিজেদের ভার্চুয়াল দোকান খুলছেন। এতে শুরুর খরচ কমতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তি চালু রাখার, ডিজিটাল প্রদর্শনী সাজানোর ও গ্রাহক সেবা দেওয়ার সময় ও দক্ষতা দরকার। ডেলিভারি ও পণ্য ফেরত নীতি—এসবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভার্চুয়ালি দেখা ভালো হলেও বাস্তবে পণ্য কেমন এবং অপছন্দের পণ্য পছন্দ না হলে তা ফেরত নেওয়ার নিয়ম ভালো না হলে ভোক্তা ক্ষুব্ধ হবে। বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাচ্ছে কাস্টমার রিভিউ, বিস্তারিত ভিডিও, লাইভ প্রদর্শনী। একই সঙ্গে প্রতারণা রোধে অধিকতর পরিচয় যাচাই, নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা আর গ্রাহক অধিকার সংরক্ষণে আইন-নীতিও জোরদার করা হচ্ছে।
বাড়িতে প্রযুক্তির ছোঁয়া
ঘরগুলোয় এখন আলো, তাপমাত্রা, সুরক্ষা ব্যবস্থা—সবই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। রান্নাঘরের যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেসিপি পরিচালনা হয়। এতে জীবন সহজ হয়েছে, বিশেষ করে ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য সুবিধা অনেক। বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত মানুষেরা এখন এসব সুবিধার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে।
তথ্য নিয়ে সতর্কতা
ডিজিটাল-নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালে বহু তথ্য ফাঁস ও সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশের ক্ষতি হয়েছে। সে জন্য আইনপ্রণেতা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারী—এই তিন অংশের দায়িত্ব বেড়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নিরাপদ থাকার জন্য নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, দ্বিস্তরের শনাক্তকরণ এবং অনলাইন লেনদেনের সতর্কতা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই তথ্য সংরক্ষণ ও অবহিতকরণ নীতিমালা দিতে হয়। সরকারি পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, তথ্য অধিকার আইন ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডিজিটাল লেনদেন
নগদ কমে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে। এতে লেনদেন দ্রুত ও সহজ এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ। গ্রামের বাজার থেকে করপোরেট, বিনিময়—সবকিছুই ডিজিটাল। ফলে অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ছে এবং অনেক মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় চলে এসেছে। তবে প্রতারণা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, আর্থিক অধিকার রক্ষা—এসব চ্যালেঞ্জ থেকে রেহাই পেতে নয়; লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখা, নাগরিকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, অবাঞ্ছিত ট্রানজেকশন থামাতে তৎপর নজরদারি করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার নীতিও সময়োপযোগী করা জরুরি।
চিকিৎসায় প্রযুক্তির হাতে-গড়া পরিবর্তন
দূরবর্তী চিকিৎসা পরামর্শ, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও ভার্চুয়াল পরীক্ষালয়—এসব এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোগীর বসার জায়গা থেকে চিকিৎসক রোগের লক্ষণ দেখে পরামর্শ দিচ্ছেন; প্রচুর রোগীর নিয়মিত ডেটা নেটে জমা রেখে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তিকে চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করে রোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবন সহজ করে দিচ্ছে, তেমনি এটি আমাদের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তির মধ্যেই আমাদের বসবাস। এটা যেমন একদিকে ভালো, তেমনি অন্যদিকে এ বিষয়ে সতর্কতাও জরুরি। আমাদের বুঝে বাছাই করতে হবে কোনটা আমাদের জন্য ভালো আর কোনটা খারাপ।

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
৭ ঘণ্টা আগে
যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট।
২ দিন আগে
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
২ দিন আগে
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক,
৩ দিন আগেবাসস, ঢাকা

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য), প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) ও বেআইনি মানহানিকর তথ্য ছাড়া দেশের কোনো পত্রিকার সংবাদ, অনলাইন নিবন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণে কখনো কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করা হয়নি।
গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন-কেন্দ্রিক চরিত্র হননের বাইরে দেশের কোনো পত্রিকার নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, রিলস, অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল, অভ্যন্তরীণ কোনো সমালোচকের রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট সরাতে সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
উল্লেখ্য, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন-কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য দিয়ে কারও চরিত্র হননের চেষ্টা-সংক্রান্ত তথ্য অপসারণের অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে যায়।
বর্তমান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সিআরআই বা এ-জাতীয় কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। বিটিআরসি বা এনটিএমসিসহ বাংলাদেশের কোনো এজেন্সি বা সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না, সে জন্য যেকোনো অনুরোধ সোশ্যাল মিডিয়া ও টেক প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হয়।
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি অনুরোধ যায়। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের জুন-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কালে পাঠানো ছয় মাসের মোট সংখ্যা ৮৬৭-এর তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম।
তার আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর ’২৪, এই ৬ মাসে, বাংলাদেশ রিকোয়েস্ট করেছে মাত্র ১৫৩টি, যা আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ অনুরোধ সংখ্যার সাড়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এবং আওয়ামী আমলের সর্বনিম্ন রিকোয়েস্ট জুন-ডিসেম্বর ২০২৩ সময়ের ৫৯১টির অর্ধেকেরও কম।
অর্থাৎ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার এত কমসংখ্যক রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য নয়। এখানে আরও উল্লেখ্য যে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট মতে ৬৫ শতাংশ অনুরোধ হচ্ছে ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে, অর্থাৎ এসব বিষয় বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।
সোর্স: https://transparencyreport.google.com/government-removals/government-requests/BD
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়কালে বাংলাদেশ ভেতর ও বাহির থেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিতহারে মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া থেকে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিসইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন শুরু হয়। সরকারকে এসবের বিরুদ্ধে বেশকিছু রিপোর্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুগলকে দিতে হয়েছে।
পাশাপাশি এ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিটি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ খুনের বিচার শুরু হলে আওয়ামী লীগ সাইবার স্পেসে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিসইনফো ক্যাম্পেইনসহ সন্ত্রাসের আহ্বান শুরু করে।
দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয়, জাতিগত এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে ও অফলাইনে সুরক্ষা দান সরকারের দৈনিক দায়িত্বের অংশ। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাইবার স্পেস দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম এলিমেন্ট হয়ে উঠেছে, তাই বিশ্বের সব দেশের মতোই বাংলাদেশ সরকারকে এখানে রেগুলেশনের নিমিত্তে কিছু রিপোর্ট করতে হয়। পাশাপাশি সরকার অনলাইন জুয়া এবং গ্যাম্বলিং-সংক্রান্ত কিছু টেক-ডাউন রিকোয়েস্টও করেছে।
যেহেতু গুগলের স্বচ্ছতা রিপোর্টে মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং ক্যারেক্টার এসাসিনেশন-বিষয়ক আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই, এসব রিপোর্ট সরকারের সমালোচনা ক্যাটাগরিতে দেখানো হয়েছে। তথাপি এই সংখ্যা আওয়ামী সরকারের তুলনায় সংখ্যায় পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
অত্যন্ত হতাশার বিষয় এই যে বাংলা ও ইংরেজিতে এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পূর্বে সরকারের ব্যাখ্যা কিংবা বক্তব্য চাওয়া হয়নি। প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে এ রকম চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের হীনম্মন্য প্রবণতা, সমাজের স্থিতিশীলতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যাহীন খণ্ডিত সংবাদ প্রকাশ, কোনোভাবেই দায়িত্বশীল মিডিয়ার ভূমিকা হতে পারে না।
উল্লেখযোগ্য যে জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, শতাধিক বড়ো আন্দোলন হয়েছে, বেশকিছু মব হয়েছে, মাজার ভাঙ্গাসহ সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ‘মব লিঞ্চিং’ বা গণপিটুনিতে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি। বছরের শুরুতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল, যার সাথে সরকারের একটি স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও সম্পর্কিত ছিল।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিশোধের প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সোশ্যাল হারমনি রক্ষায় সরকার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারি দায়িত্বশীল রিপোর্ট করেছে।
সরকার অত্যন্ত গর্বের সাথে নাগরিকদের জানাতে চায় যে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশিত সূচকে দেশের বাক্স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অসামান্য অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের বাক্স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ফ্রিডম হাউসের ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একক দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ হয়েছে, যা সাত বছরে সর্বোচ্চ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে দমনমূলক সরকার অপসারিত হওয়ায় এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ এবং সাইবার সুরক্ষায় ইতিবাচক সংস্কার নেওয়ার ফলে এই উন্নতি হয়েছে।

গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য), প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) ও বেআইনি মানহানিকর তথ্য ছাড়া দেশের কোনো পত্রিকার সংবাদ, অনলাইন নিবন্ধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, ভিডিও, রিলস বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কনটেন্ট অপসারণে কখনো কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করা হয়নি।
গুগলকে কনটেন্ট সরাতে অনুরোধের বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন-কেন্দ্রিক চরিত্র হননের বাইরে দেশের কোনো পত্রিকার নিউজ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও কনটেন্ট, রিলস, অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেল, অভ্যন্তরীণ কোনো সমালোচকের রাজনৈতিক সমালোচনামূলক কোনো কনটেন্ট সরাতে সরকার কোনো প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেনি।
উল্লেখ্য, মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং মিসইনফরমেশন-কেন্দ্রিক বেআইনি মানহানিকর তথ্য দিয়ে কারও চরিত্র হননের চেষ্টা-সংক্রান্ত তথ্য অপসারণের অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিতে যায়।
বর্তমান সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের সিআরআই বা এ-জাতীয় কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। বিটিআরসি বা এনটিএমসিসহ বাংলাদেশের কোনো এজেন্সি বা সংস্থা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা রাখে না, সে জন্য যেকোনো অনুরোধ সোশ্যাল মিডিয়া ও টেক প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হয়।
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি অনুরোধ যায়। এটা আওয়ামী লীগ সরকারের জুন-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কালে পাঠানো ছয় মাসের মোট সংখ্যা ৮৬৭-এর তিন ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম।
তার আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর ’২৪, এই ৬ মাসে, বাংলাদেশ রিকোয়েস্ট করেছে মাত্র ১৫৩টি, যা আওয়ামী আমলের সর্বোচ্চ অনুরোধ সংখ্যার সাড়ে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এবং আওয়ামী আমলের সর্বনিম্ন রিকোয়েস্ট জুন-ডিসেম্বর ২০২৩ সময়ের ৫৯১টির অর্ধেকেরও কম।
অর্থাৎ স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার এত কমসংখ্যক রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য নয়। এখানে আরও উল্লেখ্য যে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট মতে ৬৫ শতাংশ অনুরোধ হচ্ছে ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে, অর্থাৎ এসব বিষয় বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।
সোর্স: https://transparencyreport.google.com/government-removals/government-requests/BD
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়কালে বাংলাদেশ ভেতর ও বাহির থেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিতহারে মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের শিকার হয়। প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া থেকে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিসইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন শুরু হয়। সরকারকে এসবের বিরুদ্ধে বেশকিছু রিপোর্ট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুগলকে দিতে হয়েছে।
পাশাপাশি এ সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিটি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ খুনের বিচার শুরু হলে আওয়ামী লীগ সাইবার স্পেসে ক্রমাগত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিসইনফো ক্যাম্পেইনসহ সন্ত্রাসের আহ্বান শুরু করে।
দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখা, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মীয়, জাতিগত এবং নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে ও অফলাইনে সুরক্ষা দান সরকারের দৈনিক দায়িত্বের অংশ। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া এবং সাইবার স্পেস দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম এলিমেন্ট হয়ে উঠেছে, তাই বিশ্বের সব দেশের মতোই বাংলাদেশ সরকারকে এখানে রেগুলেশনের নিমিত্তে কিছু রিপোর্ট করতে হয়। পাশাপাশি সরকার অনলাইন জুয়া এবং গ্যাম্বলিং-সংক্রান্ত কিছু টেক-ডাউন রিকোয়েস্টও করেছে।
যেহেতু গুগলের স্বচ্ছতা রিপোর্টে মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা এবং ক্যারেক্টার এসাসিনেশন-বিষয়ক আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই, এসব রিপোর্ট সরকারের সমালোচনা ক্যাটাগরিতে দেখানো হয়েছে। তথাপি এই সংখ্যা আওয়ামী সরকারের তুলনায় সংখ্যায় পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও কম।
অত্যন্ত হতাশার বিষয় এই যে বাংলা ও ইংরেজিতে এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পূর্বে সরকারের ব্যাখ্যা কিংবা বক্তব্য চাওয়া হয়নি। প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে এ রকম চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের হীনম্মন্য প্রবণতা, সমাজের স্থিতিশীলতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যাহীন খণ্ডিত সংবাদ প্রকাশ, কোনোভাবেই দায়িত্বশীল মিডিয়ার ভূমিকা হতে পারে না।
উল্লেখযোগ্য যে জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, শতাধিক বড়ো আন্দোলন হয়েছে, বেশকিছু মব হয়েছে, মাজার ভাঙ্গাসহ সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ‘মব লিঞ্চিং’ বা গণপিটুনিতে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে কয়েকটি। বছরের শুরুতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছিল, যার সাথে সরকারের একটি স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও সম্পর্কিত ছিল।
২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনেও ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং প্রতিশোধের প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে সোশ্যাল হারমনি রক্ষায় সরকার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারি দায়িত্বশীল রিপোর্ট করেছে।
সরকার অত্যন্ত গর্বের সাথে নাগরিকদের জানাতে চায় যে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশিত সূচকে দেশের বাক্স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অসামান্য অগ্রগতি লক্ষ করা গেছে। বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের বাক্স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট সূচকের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ফ্রিডম হাউসের ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একক দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির স্কোর গত বছরের ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫ হয়েছে, যা সাত বছরে সর্বোচ্চ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থী নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে দমনমূলক সরকার অপসারিত হওয়ায় এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ এবং সাইবার সুরক্ষায় ইতিবাচক সংস্কার নেওয়ার ফলে এই উন্নতি হয়েছে।

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।
৪ দিন আগে
যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট।
২ দিন আগে
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
২ দিন আগে
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক,
৩ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে আছে ১০ লাখ।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেমিনারে হ্যান্ডসেটের ব্যবসায় কারসাজির চাঞ্চল্যকর এই তথ্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট আছে।
আইএমইআই হলো ১৫ সংখ্যার একটি অনন্য কোড, যা প্রতিটি মোবাইল ফোনকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ফোন চুরি হলে ট্র্যাক করতে, বৈধতা যাচাই করতে এবং নেটওয়ার্ক নিবন্ধনের কাজে লাগে।
আমিনুল হক বলেন, আইএমইআই ক্লোন (নকল) করে অবৈধ ফোনগুলো দেশের বাজারে ছাড়া হয়। ২০১৮ সালে যখন এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালুর কথা ভাবা হয়েছিল, তখনই এটা চালু করা গেলে পরিস্থিতি এখন এতটা জটিল হয়ে উঠত না। মোবাইল ব্যবহার করে আর্থিক অপরাধ অনেক ক্ষেত্রে ক্লোন হ্যান্ডসেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ করা উচিত।
রাজধানীর রাওয়া কমপ্লেক্সে ‘বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে এনইআইআরের গুরুত্ব’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআরএনবি সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান।
বিটিআরসির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কয়েক মাস আগের হিসাব অনুযায়ী দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে আইফোন সচলের সংখ্যা ১৯ লাখ ৭৬ হাজার। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ফোনই বিটিআরসির ‘নক অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডেটাবেইজ’ (এনএআইডি) সিস্টেমে দেশের বৈধ আমদানিকারক থেকে বা বৈধ পথে আসা হিসেবে নিবন্ধিত নয়, মানে অবৈধ।
সাম্প্রতিক হিসাবে এটি ২১ লাখের কাছাকাছি হতে পারে বলে জানান আল আমিন দেওয়ান। তিনি বলেন, দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার। এরমধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজারই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিটিআরসি।
তবে বর্তমানে দেশে বৈধ-অবৈধের পার্থক্যের অনুপাত আগের মতোই।
১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালু হলে এসব ফোন বন্ধ হবে না বলে আশ্বস্ত করেন বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যে ফোনগুলো নেটওয়ার্কে ব্যবহার হবে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং সচল থাকবে।
এনইআইআর চালু হলে দেশে মোবাইল ফোনের দাম যেন না বাড়ে সে বিষয়ে বিটিআরসি সতর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে কোন স্মার্টফোনের বাজারদর কত, তা দেখে রাখা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ হ্যান্ডসেটের দাম বাড়াতে না পারে।
সেমিনারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেটগুলো আখাউড়া, বটুলি, বেনাপোল ও দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে নেওয়া হচ্ছে। আর ভারতের চুরি হওয়া ফোন বাংলাদেশে আসে। এছাড়াও পুরোনো ফোনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেকেন্ডহ্যান্ড ফোনের বাজার বেড়েছে। এতে করে হারানো সেট উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফার্স্ট সেক্রেটারি মু. রইচ উদ্দিন খান জানান, সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে আগে প্রতিবার বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় একটি নতুন ফোন শুল্ক ছাড়াই আনা যেত। বর্তমানে এই নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। বছরে একবার বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় একটি নতুন ফোন শুল্ক ছাড়াই আনা যাচ্ছে।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওনার্স অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ জানান, আইফোন ও মটোরোলার মতো দু-একটি ব্র্যান্ড ছাড়া প্রায় সব মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে কারখানা রয়েছে। যদি চাহিদা বাড়ে, তাহলে হয়তো আইফোনও বাংলাদেশে কারখানা করতে বাধ্য হবে। তখন দেশের বাজারে আইফোনের দামও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে আরও ছিলেন—মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু, স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম, সিনেসিস আইটির সিএসও (চিফ সলিউশন্স অফিসার) আমিনুল বারী সৌরভ, নগদের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে আছে ১০ লাখ।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সেমিনারে হ্যান্ডসেটের ব্যবসায় কারসাজির চাঞ্চল্যকর এই তথ্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট আছে।
আইএমইআই হলো ১৫ সংখ্যার একটি অনন্য কোড, যা প্রতিটি মোবাইল ফোনকে শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ফোন চুরি হলে ট্র্যাক করতে, বৈধতা যাচাই করতে এবং নেটওয়ার্ক নিবন্ধনের কাজে লাগে।
আমিনুল হক বলেন, আইএমইআই ক্লোন (নকল) করে অবৈধ ফোনগুলো দেশের বাজারে ছাড়া হয়। ২০১৮ সালে যখন এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালুর কথা ভাবা হয়েছিল, তখনই এটা চালু করা গেলে পরিস্থিতি এখন এতটা জটিল হয়ে উঠত না। মোবাইল ব্যবহার করে আর্থিক অপরাধ অনেক ক্ষেত্রে ক্লোন হ্যান্ডসেটের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপত্তার স্বার্থে এই ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ করা উচিত।
রাজধানীর রাওয়া কমপ্লেক্সে ‘বৈধ ও নিরাপদ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে এনইআইআরের গুরুত্ব’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআরএনবি সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন দেওয়ান।
বিটিআরসির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, কয়েক মাস আগের হিসাব অনুযায়ী দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে আইফোন সচলের সংখ্যা ১৯ লাখ ৭৬ হাজার। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ফোনই বিটিআরসির ‘নক অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডেটাবেইজ’ (এনএআইডি) সিস্টেমে দেশের বৈধ আমদানিকারক থেকে বা বৈধ পথে আসা হিসেবে নিবন্ধিত নয়, মানে অবৈধ।
সাম্প্রতিক হিসাবে এটি ২১ লাখের কাছাকাছি হতে পারে বলে জানান আল আমিন দেওয়ান। তিনি বলেন, দেশের চার মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্কে স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার। এরমধ্যে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৬ হাজারই অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিটিআরসি।
তবে বর্তমানে দেশে বৈধ-অবৈধের পার্থক্যের অনুপাত আগের মতোই।
১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালু হলে এসব ফোন বন্ধ হবে না বলে আশ্বস্ত করেন বিটিআরসির কমিশনার মাহমুদ হোসাইন। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত যে ফোনগুলো নেটওয়ার্কে ব্যবহার হবে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং সচল থাকবে।
এনইআইআর চালু হলে দেশে মোবাইল ফোনের দাম যেন না বাড়ে সে বিষয়ে বিটিআরসি সতর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাজারে কোন স্মার্টফোনের বাজারদর কত, তা দেখে রাখা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ হ্যান্ডসেটের দাম বাড়াতে না পারে।
সেমিনারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত ডিআইজি জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল সেটগুলো আখাউড়া, বটুলি, বেনাপোল ও দর্শনা সীমান্ত হয়ে ভারতে নেওয়া হচ্ছে। আর ভারতের চুরি হওয়া ফোন বাংলাদেশে আসে। এছাড়াও পুরোনো ফোনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেকেন্ডহ্যান্ড ফোনের বাজার বেড়েছে। এতে করে হারানো সেট উদ্ধার কঠিন হয়ে পড়ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফার্স্ট সেক্রেটারি মু. রইচ উদ্দিন খান জানান, সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে আগে প্রতিবার বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় একটি নতুন ফোন শুল্ক ছাড়াই আনা যেত। বর্তমানে এই নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। বছরে একবার বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় একটি নতুন ফোন শুল্ক ছাড়াই আনা যাচ্ছে।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওনার্স অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ জানান, আইফোন ও মটোরোলার মতো দু-একটি ব্র্যান্ড ছাড়া প্রায় সব মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে কারখানা রয়েছে। যদি চাহিদা বাড়ে, তাহলে হয়তো আইফোনও বাংলাদেশে কারখানা করতে বাধ্য হবে। তখন দেশের বাজারে আইফোনের দামও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে আরও ছিলেন—মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু, স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম, সিনেসিস আইটির সিএসও (চিফ সলিউশন্স অফিসার) আমিনুল বারী সৌরভ, নগদের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহিদুল ইসলাম সজল প্রমুখ।

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।
৪ দিন আগে
গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
৭ ঘণ্টা আগে
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
২ দিন আগে
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক,
৩ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

দেশে প্রথমবার ৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলাম আগামী বছরের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আজ বৃহস্পতিবার বিটিআরসি এ-সংক্রান্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নিলাম নির্দেশনা জারি করেছে।
তরঙ্গ ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরগুলো টেলিকম সেবা দিয়ে থাকে। গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের জন্য নিলামের মাধ্যমে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৩১ মার্চ। ওই দিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সব মোবাইল অপারেটরের অংশগ্রহণে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক অকশনের (নিলাম) মাধ্যমে বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। বিটিআরসি আজ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অকশন নির্দেশনা জারি করেছে। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাণিজ্যিকভাবে অপারেটরদের মধ্যে অকশন আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশের ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বেজ প্রাইস ধরে রাষ্ট্রের অন্তত ১১ হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।’
বিশেষ সহকারী আরও লেখেন, ‘দুর্বৃত্তদের সব ষড়যন্ত্র পেছনে ফেলে এই অকশন আয়োজন করতে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একযোগে কাজ করেছে। আমি সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ফয়েজ আহমদ মনে করেন, ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক পরিষেবার মান ভালো করতে এবং শহর ও গ্রামে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখবে।’

দেশে প্রথমবার ৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলাম আগামী বছরের ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আজ বৃহস্পতিবার বিটিআরসি এ-সংক্রান্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নিলাম নির্দেশনা জারি করেছে।
তরঙ্গ ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটরগুলো টেলিকম সেবা দিয়ে থাকে। গ্রাহকসেবার মান উন্নত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের জন্য নিলামের মাধ্যমে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৩১ মার্চ। ওই দিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সব মোবাইল অপারেটরের অংশগ্রহণে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্জ ও ২ দশমিক ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক অকশনের (নিলাম) মাধ্যমে বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। বিটিআরসি আজ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অকশন নির্দেশনা জারি করেছে। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাণিজ্যিকভাবে অপারেটরদের মধ্যে অকশন আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশের ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। বেজ প্রাইস ধরে রাষ্ট্রের অন্তত ১১ হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।’
বিশেষ সহকারী আরও লেখেন, ‘দুর্বৃত্তদের সব ষড়যন্ত্র পেছনে ফেলে এই অকশন আয়োজন করতে বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একযোগে কাজ করেছে। আমি সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ফয়েজ আহমদ মনে করেন, ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্ক পরিষেবার মান ভালো করতে এবং শহর ও গ্রামে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে ভূমিকা রাখবে।’

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।
৪ দিন আগে
গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
৭ ঘণ্টা আগে
যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট।
২ দিন আগে
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক,
৩ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
আজ বুধবার বিকেলের দিকে ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তা আলমাস কবির মৌখিক ও লিখিতভাবে কড়াইল বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তবে সরকার এই প্রস্তাব আমলে নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কড়াইল বস্তির জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
ফয়েজ আহমদ জানান, কড়াইল বস্তির প্রায় ৪৩ একর জায়গা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের হলেও এটি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। অতীতে এই জায়গাটির মালিকানা ছিল টিঅ্যান্ডটির (বর্তমান বিটিসিএল)। আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কখনোই এই জায়গা বুঝে পায়নি এবং দখলের চেষ্টাও করেনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কড়াইল বস্তিতে অবকাঠামো নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও সফটওয়্যার শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে যে সফটওয়্যার পার্কটি ছিল, সেটির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে অস্থায়ীভাবে সরানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার গণপূর্ত এবং রাজউককে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে, যাতে ঢাকার আগারগাঁও, পূর্বাচল কিংবা অন্যান্য এলাকায় সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণের জন্য জমি প্রদান করা হয়। এর অংশ হিসেবে: হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আগারগাঁওয়ের একটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই প্লটে সফটওয়্যার পার্ক এবং হাই-টেক পার্কের প্রধান অফিসসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে গণপূর্ত বিভাগ সায় দিয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে বনানী কর্নারের যে অংশে কোনো বস্তি নেই, তার ছোট অংশে একটি সফটওয়্যার পার্ক ভবন নির্মাণের কথা উঠলেও মানবাধিকার কর্মীদের পরামর্শক্রমে সেই পরিকল্পনা থেকেও আইসিটি বিভাগ বিরত থাকে।
ফয়েজ আহমদ বলেছেন, ‘সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে আদৌ সংশ্লিষ্ট নয়, এমন বক্তব্য প্রদানে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’
হাজার হাজার মানুষ যখন আগুনে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিস্থিতিতে রয়েছে, তখন হাই-টেক পার্ক স্থাপনের ‘আজগুবি’ বিষয় সামনে এনে ‘সরকারকে বিব্রত করার এমন অপচেষ্টার নিন্দা’ জানিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর যখন হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন ও অসহায়, ঠিক তখনই একটি মহলের পক্ষ থেকে বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের কথা তোলা হয়েছে। সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
আজ বুধবার বিকেলের দিকে ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তা আলমাস কবির মৌখিক ও লিখিতভাবে কড়াইল বস্তির জায়গায় হাই-টেক পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তবে সরকার এই প্রস্তাব আমলে নেয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বর্তমানে কড়াইল বস্তির জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
ফয়েজ আহমদ জানান, কড়াইল বস্তির প্রায় ৪৩ একর জায়গা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের হলেও এটি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। অতীতে এই জায়গাটির মালিকানা ছিল টিঅ্যান্ডটির (বর্তমান বিটিসিএল)। আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কখনোই এই জায়গা বুঝে পায়নি এবং দখলের চেষ্টাও করেনি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, কড়াইল বস্তিতে অবকাঠামো নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও সফটওয়্যার শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে যে সফটওয়্যার পার্কটি ছিল, সেটির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেরামতের কাজ শুরু করতে হয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে অস্থায়ীভাবে সরানো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার গণপূর্ত এবং রাজউককে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে, যাতে ঢাকার আগারগাঁও, পূর্বাচল কিংবা অন্যান্য এলাকায় সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণের জন্য জমি প্রদান করা হয়। এর অংশ হিসেবে: হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আগারগাঁওয়ের একটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এই প্লটে সফটওয়্যার পার্ক এবং হাই-টেক পার্কের প্রধান অফিসসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে গণপূর্ত বিভাগ সায় দিয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে বনানী কর্নারের যে অংশে কোনো বস্তি নেই, তার ছোট অংশে একটি সফটওয়্যার পার্ক ভবন নির্মাণের কথা উঠলেও মানবাধিকার কর্মীদের পরামর্শক্রমে সেই পরিকল্পনা থেকেও আইসিটি বিভাগ বিরত থাকে।
ফয়েজ আহমদ বলেছেন, ‘সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে আদৌ সংশ্লিষ্ট নয়, এমন বক্তব্য প্রদানে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’
হাজার হাজার মানুষ যখন আগুনে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিস্থিতিতে রয়েছে, তখন হাই-টেক পার্ক স্থাপনের ‘আজগুবি’ বিষয় সামনে এনে ‘সরকারকে বিব্রত করার এমন অপচেষ্টার নিন্দা’ জানিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

দ্রুত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রযুক্তির হাত ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবন যেন এক নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছে। যেসব ধারণা একসময় কল্পনার জগতে ছিল—ঘরে বসে অফিস, বই না খুলেই পড়াশোনা, দোকানে না গিয়েও পণ্য ঘুরে দেখা, দূরে থেকেও মানুষের সঙ্গে একই জায়গায় থাকার অনুভূতি, সেগুলো এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।
৪ দিন আগে
গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে করা কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সরকারের ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে—
৭ ঘণ্টা আগে
যেখানে একটি আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বরের বিপরীতে একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট থাকার কথা সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ৫টি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। অর্থাৎ একটি আইএমইআই-এর বিপরীতে ১০ লাখ করে মোবাইল হ্যান্ডসেট।
২ দিন আগে
৭০০ মেগাহার্জের তরঙ্গ বরাদ্দের নিলামের বিষয়টিকে ‘সুখবর’ অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
২ দিন আগে