Ajker Patrika

বিটিআরসির গণশুনানিতে দেড় হাজার অভিযোগ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিটিআরসির গণশুনানিতে দেড় হাজার অভিযোগ

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) গণশুনানি উপলক্ষে এই খাতের অংশীজনদের প্রায় দেড় হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে দেশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’-তে এই গণশুনানি হয়। শুনানি চলাকালে এবং তার আগে অনলাইন–অফলাইনে বিভিন্ন অভিযোগ জানান গ্রাহকেরা।

অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিটিআরসি। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটরদের অডিট (নিরীক্ষা) ও অসম প্রতিযোগিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ শুরু হয় গণশুনানি। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলে এই শুনানি। এ সময় গ্রাহকেরা নেটওয়ার্ক দুর্বলতা, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস) চালু করে টাকা কেটে নেওয়া, কলরেট ও ডেটা প্যাকের মূল্য, সিম রিপ্লেস ফিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।

এ ছাড়া ৪৫০ দিন সিম বন্ধ থাকলে মালিকানা বদলে যাওয়ার ভোগান্তি ও এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) সংক্রান্ত সম্ভাব্য জটিলতার কথা জানান গ্রাহকেরা।

শুনানিতে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক। পরিচালনা করেন লাইসেন্সিং ও স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক।

এ সময় এক গ্রাহক বলেন, সময়ে-অসময়ে অপ্রয়োজনীয় সার্ভিসের নামে বিরক্তিকর ফোনকল আসে। অজান্তেই কেটে নেওয়া হয় টাকা।

ডেটা প্যাকের (ইন্টারেট সেবা) মূল্য নিয়ে আপত্তি তোলেন একাধিক গ্রাহক। নেটওয়ার্ক দুর্বলতার কারণে কলড্রপ ও ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তির অভিযোগ জানান অনেকে।

বিটিআরসির তরঙ্গ বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, ‘টাকা কাটা যাবে, এমন কোনো সার্ভিস যদি অপারেটর চালু করে, তবে সেটার অনুমতি নেওয়া হয়। যদি অনুমতি ছাড়া এটা চালু করে, সে ক্ষেত্রে অভিযোগ জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আমিনুল হক জানান, মোবাইল সিম ও ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহকের দুর্ভোগ দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

শুনানিতে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোনের সচল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৮০ লাখ। ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে চারটি অপারেটর। শুনানিতে গ্রাহক, সাংবাদিকসহ প্রায় ১০০ অংশীজন যুক্ত ছিলেন বলে বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে এই শুনানিকে ‘স্বৈরাচারী গণশুনানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

শুনানি শেষে এক বার্তায় সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট অনলাইনে অপেক্ষার পর আমার নাম ঘোষণা করার পরেও তারা ফ্লোর (কথা বলার সুযোগ) দেয়নি। এমনকি তাদের নিজস্ব কিছু লোক দিয়ে অল্প কিছু প্রশ্ন নিয়ে গণশুনানির দায় সেরেছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...