Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

ঘরোয়া লিগও ভালো জায়গায় নেওয়া উচিত: রাকিব হোসেন

ভারতকে হারানোর ম্যাচে একমাত্র গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন রাকিব। ছবি। বাফুফে

একটি কাউন্টার অ্যাটাক, একটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট; আর একটি গোল। তাতে ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর অনাবিল আনন্দে ভেসেছে বাংলাদেশ। গোল করে নায়ক শেখ মোরসালিন, তাঁকে নায়ক হওয়ার উপলক্ষ এনে দেন রাকিব হোসেন। আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাকিব শোনালেন মাঠের গল্প, অনুভূতি ও দলের পরবর্তী পথচলার কথা। গতকাল ফোনে এই উইঙ্গারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা

প্রশ্ন: গোল নিয়ে তো বটেই, আপনার অ্যাসিস্ট নিয়েও কম আলোচনা হচ্ছে না। কেমন লাগছে?

রাকিব: হ্যাঁ, ভালো লাগছে। কারণ উপভোগ করে খেলতে পেরেছি। বল নিয়ে এগোতেই প্রথমে গোলের ভাবনা আসে। কিন্তু যে পজিশনে ছিলাম, ওখান থেকে আর শুট করা যায় না। আমি মোরসালিনকে ফলো করি। সে দৌড়ে আসছিল। আর তখন আমি ওকে পাসটা দিয়ে দিই। এরপর তো...। পাল্টা আক্রমণ নিয়ে একটা বিশেষ পরিকল্পনা তো ছিলই। এটি অবশ্যই আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় জয়।

প্রশ্ন: ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর পেছনে অবদান রাখতে পেরে কতটুকু খুশি?

রাকিব: এই জয় পুরো বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই আনন্দের। ২২ বছর পর আমরা ওদের বিপক্ষে জিতেছি। ভালো লাগছে যে সবাই খুশি, কারণ বাংলাদেশের মানুষ সব সময় ভারতের বিপক্ষে জিততে চায়। আমরা জিততে পেরেছি, এ জন্য বেশি ভালো লাগতেছে। তাও ঘরের মাঠে। আসলে সবাই কিন্তু অনেক দূর থেকে আসে। সবাই কত কষ্ট করে। তো তারপর তারা খেলা দেখে। যদি খেলা দেখার মধ্যে আমরা ভালো রেজাল্ট না দিতে পারি, তখন আমাদের কাছেও খারাপ লাগে, তাদেরও খারাপ লাগে। শেষ দুটি ম্যাচে খুব কাছাকাছি গিয়েও আমরা তাদের খুশি করতে পারিনি। কিন্তু তারা মাঠে ৯০ মিনিট যেভাবে গলা ফাটিয়েছে, তা আসলে অবিশ্বাস্য।

প্রশ্ন: ম্যাচের আগে কী কথা হয়েছিল?

রাকিব: হামজা ভাই, শমিত ভাই সব খেলোয়াড়কে বলেছে, আমাদের যেকোনোভাবেই জিততে হবে। আমরা পরিশ্রম করব। আল্লাহ আমাদের দেবে। ঠিক আমরা মাঠে সবাই খেলেছি কিন্তু দলের জন্য। সবাই পারফর্ম করার কারণে আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি। আমারও তাড়না ছিল, যেকোনোভাবে হোক দলের জন্য অবদান রাখব।

প্রশ্ন: ড্রেসিংরুমে অন্যরকম এক পরিবেশ দেখা গেল...

রাকিব: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসছে, আমাদের প্রেসিডেন্ট আসছে। আমাদের বলা হয়েছে, সামনে আরও খেলা আছে। আমরা ভালো করতে চাই। এখন যে জায়গায় আছি, সে জায়গা থেকে আরও সামনে এগোচ্ছি এবং সাফে ভালো একটা রেজাল্ট করতে চাই। এরপর রাতে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম আসেনি, যেহেতু এত বড় একটা ম্যাচ ছিল।

প্রশ্ন: ম্যাচের শেষ দিকে কেমন লাগছিল?

রাকিব: আসলে ৮০ মিনিট পার হওয়ার পর অনেক কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু চেষ্টা করছিলাম যে বাকি ১০ মিনিট যেভাবেই হোক খেলব। মাঠের ভেতরে কয়েকবারই আমিন বলছিলাম, আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম আরকি। শেষ দুই-তিনটি ম্যাচে কিন্তু আমরা শেষের দিকে গোল হজম করছি। এটার জন্য ভয় লাগছিল। মাঠে নামলে কেউই গোল হজম করতে চায় না।

প্রশ্ন: মোরসালিনের সঙ্গে আপনার রসায়নটা কেমন?

রাকিব: আসলে এখন ভিন্ন ক্লাবে খেলি। আগে তো আমরা একসঙ্গে ছিলাম, তখন আমাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া ছিল। আর জাতীয় দলে তো একসঙ্গে খেলি। ও আমার মুভমেন্ট বোঝে, আমি ওর মুভমেন্ট বুঝি। মোরসালিনও অনেক গতিময় খেলোয়াড়। কারণ, যখন আমি বল ধরে রান করছি, সে কিন্তু আমার সঙ্গে সঙ্গে এসেছে।

প্রশ্ন: ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জামাল ভূঁইয়া বলছিলেন আপনি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গতিময় খেলোয়াড়...

রাকিব: আসলে অধিনায়ক আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। তিনি সব সময় এই কথাগুলো বলেন; তুমি খেলতে পারবা, তুমি পারফর্ম করবা। আমি তাঁর আস্থা রাখতে পেরেছি।

প্রশ্ন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে সমালোচনাটা বেশি হয়...

রাকিব: খারাপ খেললে সমালোচনা হবে, এটা স্বাভাবিক। ভালো খেললে তখন তো অন্তত বাহবা পাওয়া উচিত। তখনো যদি মানুষ সমালোচনা করে, অথবা খারাপ কিছু বলে, এই জিনিসটা খারাপ লাগে। আসলে সবাই কিন্তু একটা পতাকা অথবা একটা দেশের জন্যই খেলে। প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা বিভাজন তৈরি করি না, কিন্তু বাইরের মানুষ যদি চায় তৈরি করতে, এটা তো খারাপ।

প্রশ্ন: আসলে কি বিভাজন আছে?

রাকিব: আমাদের মধ্যে এ রকম কোনো কিছুই নেই। কিউবা, শমিত, হামজা ভাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে আমি মনে করি না কারোর সঙ্গে কিছু আছে। এমন না যে আমরা বাংলাদেশের জন্য খেলি, তারা ইতালি অথবা ইংল্যান্ডের জন্য খেলে। সবাই তো একটা দেশের জন্যই খেলে।

প্রশ্ন: জাতীয় দল নিয়ে সমর্থকদের যে আমেজ, তা ক্লাব ফুটবলে চোখে পড়ে না...

রাকিব: এখন ফেডারেশন যেভাবে জাতীয় দলকে উন্নত করেছে, আমি মনে করি এখন আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল লিগকেও ভালো একটা শেপে নেওয়া উচিত। কারণ, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের রুটি-রুজি কিন্তু ফুটবল লিগ। তাই আগের দুই মৌসুমে যেভাবে লিগ হয়েছে, এবার যেন আরও ভালোভাবে হয়।

প্রশ্ন: ভারতের বিপক্ষে জয়টা তো এলো, কিন্তু দিন শেষে এই দল নিয়েও এশিয়ান কাপে খেলতে না পারার আক্ষেপ নিশ্চয় আছে?

রাকিব: আক্ষেপ তো আছেই। আমাদের দল শক্তিশালী। প্রতিপক্ষগুলো কিন্তু আমাদের থেকেও শক্তিশালী ছিল, তাই না? ধীরে ধীরে কিন্তু আমরা অনেক উন্নতি করছি। একটু সময় লাগবে। একটু সময় দিলে এই দল অনেক ভালো কিছু করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমরা কিন্তু ভালো ফুটবলই খেলছি প্রতি ম্যাচে। ফুটবলে এমন নিশ্চয়তা নেই যে ভালো দল হলেই আপনি কোয়ালিফাই করবেন। ইতালি কিন্তু এবারও বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি সরাসরি। মাঝেমধ্যে ভাগ্যের দরকার হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...