Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

‘এক বছরে ক্রীড়াঙ্গনে খুব বেশি পরিবর্তন চোখে পড়েনি’

বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত

আমিনুল হক সাবেক অধিনায়ক, দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। খেলোয়াড়ি পরিচয় ছাপিয়ে আমিনুল হকের রাজনৈতিক পরিচয়টাই এখন বেশি সামনে আসছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এরই মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী। পরশু সকালে মিরপুরে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমিনুল হক ফিরে দেখলেন ৫ আগস্ট-পরবর্তী ক্রীড়াঙ্গন, তুলে ধরলেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার হেড অব স্পোর্টস রানা আব্বাস

রানা আব্বাস, ঢাকা 
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ৫১

প্রশ্ন: গত বছরের ৫ আগস্টের পর ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

আমিনুল হক: ৫ আগস্টের পর আশা করেছিলাম, নতুন ধারার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শতভাগ রাজনীতিকরণ, দলীয়করণ থেকে মুক্ত করে একটি সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে যাঁরা মাঠের ক্রীড়া সংগঠক, যাঁরা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন, সেই মানুষগুলো ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্ব নিয়ে নতুনভাবে ঢেলে সাজাবেন। স্বৈরাচার সরকার ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি সেক্টরে দলীয়করণ করেছে, রাজনীতিকরণ করেছে। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, ক্রীড়াঙ্গনটা নতুনভাবে ঢেলে সাজাব। আমার সঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টার কথাও হয়েছিল। আপনারা জানেন, তিনি সার্চ কমিটি করেছেন। যে অ্যাডহক কমিটিগুলো করা হয়েছে, ক্রীড়া পরিষদে নিজস্ব একটা সেটআপ তৈরি করে সারা দেশের যে জেলা, বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটিগুলো করা হয়েছে, সেখানে তিনি শতভাগ তাঁর নিজের মতো করার চেষ্টা করেছেন। তিনি যদি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতেন, তাহলে মাঠের যাঁরা ক্রীড়া সংগঠক, যাঁরা যোগ্য ছিলেন, তাঁরা উঠে আসতেন। কিন্তু তিনি যখন পক্ষপাতের দিকে চলে গেছেন, তখন আসলে ক্রীড়াঙ্গনের সেই নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। গত এক বছরের মূল্যায়ন যদি বলেন, খুব বেশি পরিবর্তন আমাদের চোখে পড়েনি; বরং ক্রিকেট বোর্ডের যে নির্বাচনটা আমরা দেখলাম, একেবারে নিজের মতো করে করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি এখানে কাউকে কোনো সুযোগ দেননি। তিনি একদম অগণতান্ত্রিকভাবে ক্রিকেট বোর্ডটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এটা আসলে আমরা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে বাংলাদেশের যাঁরা ক্রীড়া সংগঠক রয়েছেন, ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ক্রীড়া সংগঠক যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা কখনোই এটাকে ভালোভাবে নেননি।

প্রশ্ন: বিএনপি ক্ষমতায় এলে তামিম ইকবালকে কীভাবে কাজে লাগাতে চান?

আমিনুল: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে শতভাগ দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত রাখতে চাই। এটা আজ বলছি। ভবিষ্যতেও বলব একই কথা। সে ক্ষেত্রে তামিম ইকবাল যে আমাদের বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে, বিষয়টি এ রকম নয়। এখানে তামিম ইকবালসহ যাঁরা কাজ করেছেন বা ভবিষ্যতে ক্রিকেট বোর্ডে আসতে চান, আমরা চেয়েছি যাতে বিষয়টা অবাধ, সুষ্ঠু হয়। যাতে একেবারে নিরপেক্ষভাবে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনটা হয়। সেই চিন্তা থেকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে যেহেতু তামিম ইকবাল একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের বুলবুল ভাই থেকে শুরু করে যাঁরাই ছিলেন, আমরা চেয়েছি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডটা গঠিত হোক। কিন্তু এটাকে একটি মহল রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেটা আমরা আসলে কখনোই আশা করিনি। ভবিষ্যতে ক্রিকেট বোর্ড কীভাবে গঠিত হবে বা বর্তমানে যেহেতু ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয়েছে, সেটা আসলে আমরা ভবিষ্যতের ওপরই ছেড়ে দেব। ক্রিকেট বোর্ড যেহেতু চার বছরের জন্য। কিন্তু এখানে অনেক প্রশ্ন আছে। ক্রিকেট বোর্ডের এই নির্বাচন ঘিরে মামলাও রয়েছে কিছু। এগুলো চলবে আইন অনুযায়ী। আমরা সেটার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে চাই।

প্রশ্ন: বিএনপি যদি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, ক্রীড়াঙ্গনের কোথায় দ্রুত পরিবর্তন আনতে চাইবেন?

আমিনুল: প্রথম পরিবর্তনটা করতে চাই স্কুল পর্যায়ে। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে চাই। সেটা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করব। খেলাধুলা একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে সারা দেশে আমরা মাঠগুলো সংরক্ষণ করতে চাই। আমাদের ‘নতুন কুঁড়ি’ নামের কর্মসূচি শুরু করব। সেই নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে আমাদের প্রত্যেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় যারা রয়েছে, তাদের ভবিষ্যতে সরকারিভাবে খেলাধুলা, পড়াশোনা—সব দায়দায়িত্ব নেব। খেলাকে কেউ কিন্তু এখন পর্যন্ত পেশা হিসেবে বেছে নেয়নি। আমরা সেই জায়গা নিয়েও কাজ করতে চাই; যাতে ভবিষ্যতে একজন ফুটবলার নিজেকে ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। একেবারে তৃণমূল থেকে ভবিষ্যতে যেন খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে, সেই পেশার নিশ্চয়তা আমরা দিতে চাই।

প্রশ্ন: বিএনপি ক্ষমতায় এলে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে? তাঁকে কি দেশে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে?

আমিনুল: একজন সাবেক জাতীয় ফুটবলার, সাবেক জাতীয় অধিনায়ক হিসেবে যেটা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছি, আমাকে প্রতি মুহূর্তে মামলা-হামলায় জর্জরিত করেছে। শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমাকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। রক্তাক্ত হয়েছি। এই ধরনের পরিস্থিতি যেন কোনোভাবে খেলোয়াড়ের সঙ্গে না হয়, এটা আমি কখনোই চাই না এবং সমর্থনও করি না। একজন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে, ভিন্নমত থাকতে পারে। আমি আমার মতামত দিয়ে আমার কাজ যদি সফলভাবে শেষ করতে পারি, এটা আমার যোগ্যতা অনুযায়ী করব। কিন্তু ভিন্নমতের কারণে যে আমার ওপরে বা অন্য কারও ওপরে জুলুম-নির্যাতন হবে, সেটাকে কখনোই সমর্থন করি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো জুলুম নির্যাতন হবে না। আপনি যে বিষয়টি বলছেন, তা হচ্ছে, যেহেতু সাকিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলা হয়েছে, সেটা কিন্তু অবৈধ সরকারের ৩০০ জনের একজন এমপি হওয়ায় সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে গিয়ে যখন ওই স্বৈরাচার সরকার মানুষকে যেভাবে হত্যা করেছে, যেভাবে গুম করেছে, এটার দায়ভার ৩০০ জনের একজনকে নিতে হবে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এটার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র নেবে।

প্রশ্ন: অনেক জটিল বিষয়ে কথা হলো, এবার ফুটবলে আসি। বাংলাদেশের ফুটবলে হামজা আসার পর যে আশা তৈরি হয়েছে, সেটা শুধুই জাতীয় দলকেন্দ্রিক। ক্লাব ফুটবল আঁধারেই আছে।

আমিনুল: হামজা চৌধুরী, শমিত শোম বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যে খেলোয়াড়েরা রয়েছে, তাদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ফুটবলে একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে। সেই জাগরণকে অবশ্যই আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি এবং এই হাইপটা ধরে রাখতে পারলে আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল অনেক এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়। তৃণমূল পর্যায় মানে আমাদের তেমন কোনো খেলা কিন্তু গত এক বছরে দৃশ্যমান দেখিনি। আমাদের ঘরোয়া ফুটবলের সেই জৌলুশ কিন্তু আমরা এখনো দেখিনি। শুধু দু-চারটি ক্লাবের ওপর বাংলাদেশের ফুটবল নির্ভর করে না। আমাদের উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের যে ফুটবল খেলা দরকার কিংবা যে ধরনের লিগ দরকার, আমরা যখন খেলেছি শেরেবাংলা কাপ, সোহরাওয়ার্দী কাপের মাধ্যমে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অনেক ভালো ভালো ফুটবলার বের হয়ে আসত। এই পাইপলাইনটা কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ। এখন হামজা চৌধুরীকে কেন্দ্র করে বা বাংলাদেশের ফুটবল জাতীয় পর্যায়ে হয়তো এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের যে বিকল্প দরকার, তৃণমূল পর্যায় থেকে যে শুরু করা দরকার বা যে স্কুল ফুটবল শুরু করা দরকার, এই জায়গাগুলোতে আমরা অনেকাংশে পিছিয়ে আছি। এটা কখনোই রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। সময় দিতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে। পেশাদারি মনোভাব আনতে হবে সব পর্যায়ে। শুধু খেলোয়াড়েরা পেশাদারি আচরণ করবে আর কর্মকর্তারা করবেন না, তা হলে তো হবে না। মাঠের সংকট নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে। সেটা অবশ্যই সরকারি পর্যায় থেকে হওয়া উচিত এবং পাশাপাশি আমাদের ক্লাব পর্যায়গুলো ক্লাবের যে সুযোগ-সুবিধা দরকার, আসলে তা অপ্রতুল। সব মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়, হামজা চৌধুরীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ফুটবলে নবজাগরণ তৈরি হয়েছে। এটা ধরে রেখে আমরা যদি তৃণমূল পর্যায়ে এগিয়ে আসতে পারি এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা যায়, তাহলে হয়তো ভালো কিছু করতে পারব।

প্রশ্ন: কদিন পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ, বাংলাদেশ কি পারবে হারাতে?

আমিনুল: ভারতের ফুটবল আর বাংলাদেশের ফুটবলে কিন্তু খুব বেশি পার্থক্য নেই। হামজা চৌধুরীর আসার কারণে বাংলাদেশের ফুটবলে এবং খেলোয়াড়দের ভেতরে একটি নতুন উন্মাদনা বা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে বলি, যেহেতু আমাদের ঘরের মাঠে খেলা, আমরা যদি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারি, তাহলে আমরা ভালো কিছু করতে পারব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘প্রমাণ ছাড়া শাস্তি মেনে নেব না, আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৫৫
বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুদ্ধ এনামুল হক বিজয়। ফাইল ছবি
বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুদ্ধ এনামুল হক বিজয়। ফাইল ছবি

বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।

বাদ বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় থেকে বাদ পক্ষে চটেছেন এনামুল। তাঁর দাবি, বিসিবি প্রমাণ না দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করছে তাঁদের। আজকের পত্রিকাকে এনামুল বললেন, ‘এ নিয়ে আমি বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। মিঠু ভাই, ফাহিম ভাই, লিপু ভাই, সিইও কিংবা বুলবুল ভাই, সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কারও সাড়া পাইনি। তাঁরা রেসপন্স করলে জানতে চাইতাম আমার অপরাধটা কী? কী প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে বাইরে রাখা হলো সেটা জানতে চাইতাম।’ কোনো কিছু প্রমাণ না করেই তাকে চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় না রেখে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলেও দাবি তোলেন এনামুল, ‘এভাবে আমাকে সমাজের মধ্যে অপমান, অসম্মান করা হচ্ছে। আমার যদি কোনো দোষ থাকে, ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটা প্রমাণ করে শাস্তি দিক। কিন্তু সেটা প্রমাণ না করে এক বছর ধরে আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে, এটা আমি মেনে নেব না।’

ফিক্সিং সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল বলেন, ‘হ্যাঁ’, জানিয়ে এনামুল বলেন,‘ শুধু আমাকে কেন, তাদের মনে হলে পৃথিবী যে কাউকেই ডাকতে পারে। তারা যা যা জানতে চেয়েছি আমি তার উত্তর দিয়েছি। কিন্তু (শাস্তি হিসেবে যদি) আমাকে যদি খেলোয়াড় তালিকার বাইরে রাখা হয়, তাহলে বিসিবি প্রমাণ দিক, আমার অপরাধটা কী। কোনো প্রমাণ ছাড়া আমি শাস্তি মেনে নেব না।’

শুধু এনামুল হক বিজয়ই নন, চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবুও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বিপিএলের নিলাম থেকে বিজয়–মোসাদ্দেকসহ বাদ পড়লেন যাঁরা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ১৪
এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছবি: সংগৃহীত
এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।

ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে সে তালিকা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে। বাদ পড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম এনামুল হক বিজয়। জাতীয় দলে যাওয়া আসার মধ্যে আছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত তিনি।

বিপিএলের আগের সবকটি আসরেই দেখা গেছে বিজয়কে। সবশেষ আসরে খেলেছেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে। পদ্মাপাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়কত্বের ভার সামলেছেন তিনি। এবার বাদ পড়লেন নিলাম থেকেই। বিজয় ছাড়াও বাদ পড়া অন্য বড় নামটি হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারও জাতীয় দলের আশেপাশেই ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। বিজয়ের মতো মোসাদ্দেকও ছিলেন ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। এই ঘোষণার পরও অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা খসড়া তালিকায় থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এবার নিলামের আগের দিন চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বিজয়, সৈকতরা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া বাকি পাঁচজন হলেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবু।

নিলামের খসড়া তালিকায় ছিল না আলিস ইসলামের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়েছে এই স্পিনারের। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন তিনি। নিলামের গ্রেডিং ভালো না হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সমালোচনার মুখে বেশকিছু ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি বাড়িয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উঠে এসেছেন শাহাদাত হোসেন দিপু, ইরফান শুক্কুর, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহরব, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে রাব্বি ও মুশফিক হাসানের। ‘সি’ থেকে ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছেন মুকিদুল ইসলাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ কি সিরিজে সমতা ফেরাতে পারবে

ক্রীড়া ডেস্ক    
সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড। ছবি: বিসিবি
সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড। ছবি: বিসিবি

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিরিজ হাতছাড়া করবে বাংলাদেশ। বাইশ গজে আজ আরও একটি জমজমাট ম্যাচ আছে। ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে মাঠে নামবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি, টেটনহাম হটস্পার, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো দল। একনজরে আজকের টিভি সূচি।

ক্রিকেট

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড

সন্ধ্যা ৬ টা, সরাসরি

টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভি

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি

ফাইনাল

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা

সন্ধ্যা ৭ টা, সরাসরি

এ স্পোর্টস

ফুটবল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

ম্যানসিটি-লিডস

রাত ৯ টা, সরাসরি

এভারটন-নিউক্যাসল

রাত ১১টা ৩০ মি. , সরাসরি

টটেনহাম-ফুলহাম

রাত ২ টা, সরাসরি

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বিশ্বকাপে আজ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, সেরাটা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিকেলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি: হকি ফেডারেশন
বিকেলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি: হকি ফেডারেশন

চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত। গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড ও চিলিকে প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছে মেহরাব হোসেন সামিনের দল। আর ওমান গতকাল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৪-০ গোলে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া।

আফসোস হোক বা রসিকতা, সেসব একপাশে রেখে জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচ। হকির ইতিহাসে বিশ্বমঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আগে কখনো ছিল না। এবার যেহেতু দলের সংখ্যা (২৪) বেড়েছে, মিলেছে বাংলাদেশের খেলার সুযোগও। সেই জায়গাটা নিতে গত বছর জুনিয়র এশিয়া কাপে থাকতে হয়েছে সেরা ছয়ে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে চার মাসের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আইকম্যানকে; যাঁর অধীনে ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল জাপান। বড় কোনো স্বপ্ন না দেখালেও বিশ্বকাপ থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে চান ৬৬ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ।

ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ যুব দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জয়। মঙ্গলবার তারা চিলিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় ৫-২ গোলে। সেই আত্মবিশ্বাস কতটুকু কাজে দেবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে? উত্তরে আজকের পত্রিকাকে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। অনুশীলন ও ম্যাচে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে তৈরি। সেরাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা উজ্জীবিত হয়ে আছি। নিজেদের সবটুকু দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’

একবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে আছে। গত মাসে মালয়েশিয়ায় ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত সুলতান জহর কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশও চায় নিজেদের ছাপ রাখতে। সে জন্য পাল্টা আক্রমণই ভরসা আইকম্যানের ছকে, ‘অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত খেলে সুলতান জহর কাপ জিতেছে। আমার মনে হয়, তারা অনেক গোল করার চেষ্টা করবে। সেটাই পাল্টা আক্রমণে ওঠার ভালো সুযোগ এনে দেবে আমাদের জন্য।’

শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না অস্ট্রেলিয়া। দলটির কোচ জে স্টেসি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। তাদের খুব বেশি দেখিনি, তাই কিছুটা “অপেক্ষা করে দেখা”র বিষয় থাকবে। বাংলাদেশের কিছু ভিডিও ফুটেজ আছে এবং সব দলের মতোই তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত