Ajker Patrika

ধর্মীয় মত বা ব্যাখ্যার বিতর্কের সমাধান সহিংসতা দিয়ে হতে পারে না: এনসিপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধর্ম ও সম্প্রীতি সেল। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই নিন্দা জানানো হয়।

ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের সম্পাদক তারেক রেজা স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর সমর্থকদের ওপর সংঘটিত হামলা, ধাওয়া ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ধর্ম ও সম্প্রীতি সেল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছে। এনসিপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘যে মতবিরোধ বা অভিযোগই থাকুক—সহিংসতা, হয়রানি বা আইনহীনতার কোনো বৈধতা নেই।’

এনসিপি মনে করে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে বাউল, ফকির, সুফি ও তাসাওফপন্থীসহ বিভিন্ন ধারার সমৃদ্ধ অবদান রয়েছে। এই বৈচিত্র্য রক্ষা করা মানে দেশের মানবিক রাষ্ট্রচিন্তা ও ঐতিহাসিক সম্প্রীতির ধারাবাহিকতাকে রক্ষা করা। বার্তায় জোর দেওয়া হয় যে, ‘বাংলাদেশটা সবার—এখানে ভিন্নমতকে দমন নয়, বরং শোনা ও বোঝার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

বার্তায় আরও বলা হয়, ধর্মীয় মত বা ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নতা বা বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধানের পথ কখনোই সহিংসতা বা প্রতিশোধ হতে পারে না। এনসিপি উল্লেখ করেছে, দেশের দায়িত্বশীল আলেমসমাজ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ দাওয়াত, ধৈর্য ও সদাচরণের মাধ্যমে দ্বীনের শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, যা দেশের জাতীয় ঐতিহ্য। সমাজে উত্তেজনা বা ভুল ব্যাখ্যা দেখা দিলে এই শান্তিপ্রিয় আলেমসমাজই মানুষকে সংযম ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার পথে রাখার দায়িত্ব পালন করেন।

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এনসিপি। এসিপি দাবি জানিয়েছে—মানিকগঞ্জের ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে; অভিযোগ বা মতভিন্নতার সমাধান হবে আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে, কোনোভাবেই জনতা বা গোষ্ঠীর হাতে নয়; বাউল–ফকির–তাসাওফপন্থীসহ সব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। উসকানি, বিভাজন ও সহিংসতার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্প্রীতি, সংযম ও পারস্পরিক সম্মানের পথ আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এনসিপির অঙ্গীকার তুলে ধরে বার্তায় বলা হয়, অন্যায়ের প্রতিকার কখনোই অন্যায় দিয়ে হয় না; সহিংসতা প্রতিস্থাপিত হয় ন্যায়, ধৈর্য ও মানবিক আচরণে। এনসিপি সব সময় শান্তি, সংহতি ও আইনের শাসনের পক্ষে থাকবে। একটি নিরাপদ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...