Ajker Patrika

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: এনসিপির নেতৃত্বে চার দলের জোটের আলাপ

  • বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিপরীতে তৃতীয় বলয় তৈরির চিন্তা।
  • জোটে থাকতে পারে এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশ।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০: ২৮
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বে চারটি দলের জোটবদ্ধ হওয়ার প্রাথমিক আলোচনা চলছে। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এই জোটের অংশ হতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিপরীতে ছোট দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে শিগগির এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস এই দলগুলোর নেতাদের মধ্যে জোট গড়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা চলছে। ফ্যাসিবাদ-বিরোধী অবস্থান এবং জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তবে দলগুলোর নির্বাচনী আসন ছাড়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিপির একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বলয়ের বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তিকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। আমরা এনসিপির নেতৃত্বে তৃতীয় শক্তি গড়ার কথা ভাবছি। এখন পর্যন্ত এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও আপ বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপ চলছে। পরবর্তীকালে আরও দু-একটি দল যুক্ত হতে পারে।’

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা তরুণদের নিয়ে তৃতীয় একটা বলয় তৈরি করতে চাই, যাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শগত মিল রয়েছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনে আসন ছাড়ের বিষয়েও কোনো কথা হয়নি।’

জুলাই সনদসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এই দূরত্ব ঘোচাবার চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। তাই বিএনপি, জামায়াতের বাইরে এসে ছোট দলের দিকেই মনোনিবেশ করতে চায় তরুণদের নতুন দলটি।

বিষয়টি নিয়ে এনসিপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াতের কথা আমরা একসময় ভেবেছি। কিন্তু তাদের নিজস্ব কিছু সংকীর্ণতা এবং অতীতের কৃতকর্ম আছে। যতটা মূল্যায়ন আমাদের পাওয়ার কথা, সেটাও তারা দিতে রাজি নয়। মাত্র এক বছর আগের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিও তারা ভুলে যাচ্ছে। তাই আমরা তাদের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নেতৃত্বে নতুন জোট গড়তে জোর দিচ্ছি।’

জোটের আলাপ চললেও এনসিপির বেশির ভাগ নেতা-কর্মী চান দলটি এককভাবে নির্বাচন করুক। বিভিন্ন ফোরামেও দলের বড় একটি অংশ একক নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছে।

সর্বশেষ গত রোববার দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও জানিয়েছেন, এনসিপি ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গতকাল সোমবার রাতে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন একটা জোট দেখতে পাবেন। এই জোট হবে নারীদের পক্ষে, আলেম-ওলামার পক্ষে, বাংলাদেশের আপামর মানুষের পক্ষে।

অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু গত রোববার ফেনীতে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন জোট গঠন করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দল হিসেবে যারা সামনে থেকে ভূমিকা রেখেছে, তাদের নিয়ে এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জোটে এবি পার্টির সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল থাকবে।

জোটের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, ‘আমরা মধ্যমপন্থী দলগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে চাই, যাদের সঙ্গে আদর্শগত জায়গায় এক থাকতে পারব। এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি বা যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের ফোরামে আলোচনার পরে নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...