নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে ছয় মামলার মধ্যে তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ। এই তিন মামলা হচ্ছে শেখ হাসিনার নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া, জয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া এবং ও পুতুলের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা।
এই তিন মামলায় মোট ২১ আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। তিন মামলাতেই খালাস পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিন মামলার প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর এবং আরেক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোতে আরও যাঁরা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন—
শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফিউল হক, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারকে ছয় বছর;
সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীকে (অব.) তিন বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফকে এক বছর এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জয়ের প্লট বরাদ্দে মামলা—
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়া আরও ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায়ে শরীফ আহমেদ, মো. শহীদউল্লাহ খন্দকার, কাজী ওয়াসি উদ্দিন ও মো. সালাহউদ্দিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর; সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), তন্ময় দাস ও মো. নুরুল ইসলামকে তিন বছর; সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এক বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ এক বছর এবং পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. কামরুল ইসলামকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুতুলের প্লট বরাদ্দে মামলা—
এই মামলায় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া আরও ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও কাজী ওয়াসি উদ্দিনকে ছয় বছর; আনিছুর রহমান মিয়াকে পাঁচ বছর; মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মেজর শামসুদ্দিন, তন্ময় দাস, কবির আল আসাদ, শেখ শাহিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পূরবী গোলদার, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ড
এই তিন মামলায় দণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে ১৮ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুতুল ও জয়কে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও তিন মামলায় অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি ১০ কাঠার প্লট নিজ নামে এবং অন্য দুটি প্লট তাঁর ছেলে ও মেয়ের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন তাঁরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের ও ছেলে-মেয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে ছয় মামলার মধ্যে তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ। এই তিন মামলা হচ্ছে শেখ হাসিনার নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া, জয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া এবং ও পুতুলের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা।
এই তিন মামলায় মোট ২১ আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। তিন মামলাতেই খালাস পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিন মামলার প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর এবং আরেক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোতে আরও যাঁরা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন—
শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফিউল হক, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারকে ছয় বছর;
সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীকে (অব.) তিন বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফকে এক বছর এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জয়ের প্লট বরাদ্দে মামলা—
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়া আরও ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায়ে শরীফ আহমেদ, মো. শহীদউল্লাহ খন্দকার, কাজী ওয়াসি উদ্দিন ও মো. সালাহউদ্দিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর; সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), তন্ময় দাস ও মো. নুরুল ইসলামকে তিন বছর; সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এক বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ এক বছর এবং পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. কামরুল ইসলামকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুতুলের প্লট বরাদ্দে মামলা—
এই মামলায় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া আরও ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও কাজী ওয়াসি উদ্দিনকে ছয় বছর; আনিছুর রহমান মিয়াকে পাঁচ বছর; মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মেজর শামসুদ্দিন, তন্ময় দাস, কবির আল আসাদ, শেখ শাহিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পূরবী গোলদার, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ড
এই তিন মামলায় দণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে ১৮ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুতুল ও জয়কে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও তিন মামলায় অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি ১০ কাঠার প্লট নিজ নামে এবং অন্য দুটি প্লট তাঁর ছেলে ও মেয়ের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন তাঁরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের ও ছেলে-মেয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে ছয় মামলার মধ্যে তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ। এই তিন মামলা হচ্ছে শেখ হাসিনার নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া, জয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া এবং ও পুতুলের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা।
এই তিন মামলায় মোট ২১ আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। তিন মামলাতেই খালাস পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিন মামলার প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর এবং আরেক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোতে আরও যাঁরা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন—
শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফিউল হক, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারকে ছয় বছর;
সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীকে (অব.) তিন বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফকে এক বছর এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জয়ের প্লট বরাদ্দে মামলা—
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়া আরও ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায়ে শরীফ আহমেদ, মো. শহীদউল্লাহ খন্দকার, কাজী ওয়াসি উদ্দিন ও মো. সালাহউদ্দিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর; সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), তন্ময় দাস ও মো. নুরুল ইসলামকে তিন বছর; সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এক বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ এক বছর এবং পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. কামরুল ইসলামকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুতুলের প্লট বরাদ্দে মামলা—
এই মামলায় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া আরও ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও কাজী ওয়াসি উদ্দিনকে ছয় বছর; আনিছুর রহমান মিয়াকে পাঁচ বছর; মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মেজর শামসুদ্দিন, তন্ময় দাস, কবির আল আসাদ, শেখ শাহিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পূরবী গোলদার, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ড
এই তিন মামলায় দণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে ১৮ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুতুল ও জয়কে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও তিন মামলায় অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি ১০ কাঠার প্লট নিজ নামে এবং অন্য দুটি প্লট তাঁর ছেলে ও মেয়ের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন তাঁরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের ও ছেলে-মেয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তাঁদের সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে ছয় মামলার মধ্যে তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ। এই তিন মামলা হচ্ছে শেখ হাসিনার নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া, জয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়া এবং ও পুতুলের নামে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলা।
এই তিন মামলায় মোট ২১ আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে। তিন মামলাতেই খালাস পেয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার।
তিন মামলার প্রত্যেকটিতে শেখ হাসিনাকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক মামলায় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর এবং আরেক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলাগুলোতে আরও যাঁরা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন—
শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফিউল হক, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকারকে ছয় বছর;
সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীকে (অব.) তিন বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফকে এক বছর এবং সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জয়ের প্লট বরাদ্দে মামলা—
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও জয় ছাড়া আরও ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার রায়ে শরীফ আহমেদ, মো. শহীদউল্লাহ খন্দকার, কাজী ওয়াসি উদ্দিন ও মো. সালাহউদ্দিনকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদারকে এক বছর; রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞাকে পাঁচ বছর; সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছর; সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), তন্ময় দাস ও মো. নুরুল ইসলামকে তিন বছর; সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এক বছর; সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ এক বছর এবং পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. কামরুল ইসলামকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুতুলের প্লট বরাদ্দে মামলা—
এই মামলায় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়া আরও ১৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও কাজী ওয়াসি উদ্দিনকে ছয় বছর; আনিছুর রহমান মিয়াকে পাঁচ বছর; মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মেজর শামসুদ্দিন, তন্ময় দাস, কবির আল আসাদ, শেখ শাহিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পূরবী গোলদার, মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ড
এই তিন মামলায় দণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে এক লাখ টাকা করে তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে ১৮ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুতুল ও জয়কে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও তিন মামলায় অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা দায়ের করে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি ১০ কাঠার প্লট নিজ নামে এবং অন্য দুটি প্লট তাঁর ছেলে ও মেয়ের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন তাঁরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের ও ছেলে-মেয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা নিজেরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগে
অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
১৪ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগে
অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
১৪ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগে
অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
১৪ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
১৪ ঘণ্টা আগেতৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা

অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা নাগরিক প্রতিনিধিরা প্রশাসনকে আরও ভারী করা হবে বলে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল এবং চট্টগ্রামে নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি দপ্তরে ১৭ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সে হিসাবে মোট ৮৫ জন নতুন জনবলকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিকভাবে আলোচিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ে আবার একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর আরেকটি সভায় বিষয়টি আরেক দফা পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাবটি যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের সভায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। বর্তমানে সব কার্যক্রম ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। আঞ্চলিক দপ্তর হলে উদ্ধার, নৌপথ সংরক্ষণসহ যেকোনো বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।’
বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে ৫৫টি নদীবন্দর রয়েছে। এসব বন্দর থেকেই অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে নদীবন্দরগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক দপ্তরের অধীনে ভাগ হয়ে পরিচালিত হবে।
বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, নতুন আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করলে নদী খনন, নাব্য রক্ষা, ড্রেজিং, ঘাট পরিচালনা, দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও আরও শক্তিশালী হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের চাপও হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর আঞ্চলিক দপ্তরের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন নাগরিক সংগঠন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ আঞ্চলিক দপ্তর বাড়িয়ে প্রশাসনকে আরও ভারী করতে চাইছে। কিন্তু জনসেবা বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় দপ্তরের মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা উচিত। আঞ্চলিক দপ্তর বাড়ালে পরিচালন ব্যয় বাড়বে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। আধুনিক বিশ্বে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবেই দক্ষভাবে সব তদারকি করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।’
গত কয়েক দশকে সড়কপথের ব্যাপক সম্প্রসারণের পরও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে দেশের মোট মালবাহী পরিবহনের ৫০ শতাংশের বেশি এবং যাত্রীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৩২টি, আর কর্মরত ছিলেন ৪ হাজার ৫৭৭ জন।

অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।
ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা নাগরিক প্রতিনিধিরা প্রশাসনকে আরও ভারী করা হবে বলে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল এবং চট্টগ্রামে নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি দপ্তরে ১৭ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সে হিসাবে মোট ৮৫ জন নতুন জনবলকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিকভাবে আলোচিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ে আবার একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর আরেকটি সভায় বিষয়টি আরেক দফা পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাবটি যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের সভায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। বর্তমানে সব কার্যক্রম ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। আঞ্চলিক দপ্তর হলে উদ্ধার, নৌপথ সংরক্ষণসহ যেকোনো বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।’
বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে ৫৫টি নদীবন্দর রয়েছে। এসব বন্দর থেকেই অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে নদীবন্দরগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক দপ্তরের অধীনে ভাগ হয়ে পরিচালিত হবে।
বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, নতুন আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করলে নদী খনন, নাব্য রক্ষা, ড্রেজিং, ঘাট পরিচালনা, দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও আরও শক্তিশালী হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের চাপও হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর আঞ্চলিক দপ্তরের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন নাগরিক সংগঠন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ আঞ্চলিক দপ্তর বাড়িয়ে প্রশাসনকে আরও ভারী করতে চাইছে। কিন্তু জনসেবা বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় দপ্তরের মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা উচিত। আঞ্চলিক দপ্তর বাড়ালে পরিচালন ব্যয় বাড়বে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। আধুনিক বিশ্বে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবেই দক্ষভাবে সব তদারকি করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।’
গত কয়েক দশকে সড়কপথের ব্যাপক সম্প্রসারণের পরও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে দেশের মোট মালবাহী পরিবহনের ৫০ শতাংশের বেশি এবং যাত্রীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৩২টি, আর কর্মরত ছিলেন ৪ হাজার ৫৭৭ জন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন পৃথক পৃথকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
২ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগে