মানবতাবিরোধী অপরাধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশে এই প্রথম কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের ফাঁসির সাজা হলো। শেখ হাসিনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এই মামলায় পতিত শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচ অভিযোগের দুটিতে এ দুজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই দুজনের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার অপর আসামি এবং পরে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল দুজনেই পলাতক।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটিই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
অন্তর্বর্তী সরকার এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছে। রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রায় ঘোষণা শুরুর আগেই ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে জড়ো হন জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা চৌধুরী মামুনকে এজলাসে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা শুরু হয় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ে শোনানো হয়। রায় ঘোষণা শেষ হয় বেলা ২টা ৫০ মিনিটে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হতেই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেকে হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শহীদ পরিবারের অনেককেও কাঁদতেও দেখা যায়। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটা আদালত। উচ্ছ্বাস বা যেকোনো প্রতিক্রিয়া ট্রাইব্যুনালের বাইরে দেখাতে হবে।’ পরে সবাই শান্ত হন। পুরোটা সময় নিশ্চুপ ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
অভিযোগ গঠনের চার মাস পর এই মামলার রায়
রায়ের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটররা, তিন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী, শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল এবং এর আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় সেনাসদস্য, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশি করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনলাইনে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও কাউকে মাঠে দেখা যায়নি।
রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান প্রসিকিউশন টিম, তদন্ত সংস্থা, ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। স্মরণ করেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের। পরে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের আইন, রোম স্ট্যাটিউট ও অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। এরপর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপস, হাসানুল হক ইনু ও ঢাবির তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালের টেলিফোন কথোপকথন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য, দুই পক্ষের উপস্থাপন করা যুক্তি তুলে ধরেন। বিদেশে অবস্থানরত লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, ড. কনক সরওয়ার এবং মুশফিকুল ফজল আনসারীর অবদান উল্লেখ করা হয়।
সব শেষে সাজার অংশ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে যেসব কল রেকর্ড শোনানো হয়েছে, তা সঠিক। বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলন দমনে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় তিন আসামি যৌথভাবে দায়ী; যা চৌধুরী মামুন স্বীকার করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পাঁচটি অভিযোগকে দুই ভাগে ভাগ করেন। এর মধ্যে গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি মাকসুদ কামালকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে তাদের ফাঁসি দেওয়ার কথা বলে উসকানি, আদেশ এবং অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের বাধা না দেওয়া এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনা তাপস এবং পরবর্তী সময়ে হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি এবং লেথাল উইপন ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ, অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের বাধা না দেওয়া; ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী মামুনের পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণে সহায়তা করায় তাঁর শাস্তির মাত্রা কম বলে জানান ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রসিকিউটররা জানান, পলাতক থাকায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড একটি ঐতিহাসিক রায় বলে অভিহিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রায়ের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রায়-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজনাপ্রসূত আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জনগণের, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই রায় ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ সৃষ্টি হতে পারে। সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন কেউ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়—সরকার এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সবাইকে সতর্ক করেছে। সরকার আরও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, যেকোনো ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলাভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আজকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আরেকটি বিজয়ের দিন।’ তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের যে তাজা, অকাট্য, জোরালো, বিস্তৃত প্রমাণ রয়েছে, তাতে পৃথিবীর যেকোনো আদালতে বিচার হলেই সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার কথা।
আসিফ নজরুল বলেন, তাঁরা যত দিন আছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকার্য পূর্ণ বেগে চলবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই দুই মামলায় সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডসহ আরও কয়েকটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৪ বছরে ৫৫টি রায় দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনাল থেকে। ২০২৩ সালের ১৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার অবসরে যাওয়ার পর বিচারকাজ বন্ধ ছিল ট্রাইব্যুনালের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্টের প্রায় দেড় হাজার নিহত এবং ৩০ হাজার আহত হওয়ার ঘটনার বিচার করতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে তিনজনকে নিয়োগ দেয় সরকার। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে শুরু হয় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। পরে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরেকটি বাড়ানো হয়।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলায় চলতি বছরের ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানি জারি করা হয়। তবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপরও হাজির না হলে ২৪ জুন তাঁদের দুজনের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর সাবেক বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী আমির হোসেনকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনালে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন চৌধুরী মামুন।
৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। এই মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অডিও, ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, জব্দ করা গুলি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। ২৩ অক্টোবর এই মামলার শুনানি শেষ হয়। ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ তারিখ দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দেশে এই প্রথম কোনো সাবেক সরকারপ্রধানের ফাঁসির সাজা হলো। শেখ হাসিনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এই মামলায় পতিত শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচ অভিযোগের দুটিতে এ দুজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এই দুজনের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার অপর আসামি এবং পরে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল দুজনেই পলাতক।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গত বছরের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটিই ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
অন্তর্বর্তী সরকার এই রায়কে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছে। রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রায় ঘোষণা শুরুর আগেই ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আসন না পেয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে জড়ো হন জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা চৌধুরী মামুনকে এজলাসে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা শুরু হয় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ে শোনানো হয়। রায় ঘোষণা শেষ হয় বেলা ২টা ৫০ মিনিটে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা হতেই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত আহত জুলাই যোদ্ধাদের অনেকে হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শহীদ পরিবারের অনেককেও কাঁদতেও দেখা যায়। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘এটা আদালত। উচ্ছ্বাস বা যেকোনো প্রতিক্রিয়া ট্রাইব্যুনালের বাইরে দেখাতে হবে।’ পরে সবাই শান্ত হন। পুরোটা সময় নিশ্চুপ ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
অভিযোগ গঠনের চার মাস পর এই মামলার রায়
রায়ের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটররা, তিন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী, শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল এবং এর আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় সেনাসদস্য, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যদের। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশি করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেও কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অনলাইনে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও কাউকে মাঠে দেখা যায়নি।
রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান প্রসিকিউশন টিম, তদন্ত সংস্থা, ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। স্মরণ করেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের। পরে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ট্রাইব্যুনালের আইন, রোম স্ট্যাটিউট ও অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। এরপর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপস, হাসানুল হক ইনু ও ঢাবির তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালের টেলিফোন কথোপকথন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য, দুই পক্ষের উপস্থাপন করা যুক্তি তুলে ধরেন। বিদেশে অবস্থানরত লেখক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, ড. কনক সরওয়ার এবং মুশফিকুল ফজল আনসারীর অবদান উল্লেখ করা হয়।
সব শেষে সাজার অংশ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে যেসব কল রেকর্ড শোনানো হয়েছে, তা সঠিক। বিষয়টি ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। আন্দোলন দমনে হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় তিন আসামি যৌথভাবে দায়ী; যা চৌধুরী মামুন স্বীকার করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পাঁচটি অভিযোগকে দুই ভাগে ভাগ করেন। এর মধ্যে গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য, ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি মাকসুদ কামালকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে তাদের ফাঁসি দেওয়ার কথা বলে উসকানি, আদেশ এবং অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের বাধা না দেওয়া এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনা তাপস এবং পরবর্তী সময়ে হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি এবং লেথাল উইপন ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ, অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের বাধা না দেওয়া; ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে গুলি করে হত্যা এবং ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এই মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী মামুনের পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণে সহায়তা করায় তাঁর শাস্তির মাত্রা কম বলে জানান ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ফেরত দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রসিকিউটররা জানান, পলাতক থাকায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড একটি ঐতিহাসিক রায় বলে অভিহিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রায়ের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রায়-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজনাপ্রসূত আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। জনগণের, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই রায় ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ সৃষ্টি হতে পারে। সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন কেউ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়—সরকার এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সবাইকে সতর্ক করেছে। সরকার আরও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, যেকোনো ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলাভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আজকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আরেকটি বিজয়ের দিন।’ তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই রায়ে সন্তুষ্ট। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের যে তাজা, অকাট্য, জোরালো, বিস্তৃত প্রমাণ রয়েছে, তাতে পৃথিবীর যেকোনো আদালতে বিচার হলেই সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার কথা।
আসিফ নজরুল বলেন, তাঁরা যত দিন আছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকার্য পূর্ণ বেগে চলবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই দুই মামলায় সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডসহ আরও কয়েকটি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগের আমলে গত ১৪ বছরে ৫৫টি রায় দেওয়া হয় ট্রাইব্যুনাল থেকে। ২০২৩ সালের ১৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার অবসরে যাওয়ার পর বিচারকাজ বন্ধ ছিল ট্রাইব্যুনালের। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্টের প্রায় দেড় হাজার নিহত এবং ৩০ হাজার আহত হওয়ার ঘটনার বিচার করতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে তিনজনকে নিয়োগ দেয় সরকার। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে শুরু হয় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। পরে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরেকটি বাড়ানো হয়।
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলায় চলতি বছরের ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানি জারি করা হয়। তবে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এরপরও হাজির না হলে ২৪ জুন তাঁদের দুজনের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮-এর সাবেক বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী আমির হোসেনকে নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনালে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন চৌধুরী মামুন।
৩ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ও চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। এই মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অডিও, ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, জব্দ করা গুলি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। ২৩ অক্টোবর এই মামলার শুনানি শেষ হয়। ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ১৭ তারিখ দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেবাসস, ঢাকা

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’
এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’
এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার।
১২ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার।
১২ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার।
১২ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতার দম্ভ চূর্ণ হয়েছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে চলে গেছেন ভারতে। সেই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সারা দেশে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হলো আজ সোমবার।
১২ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে