Ajker Patrika

৫ আগস্টের পর মাজার ভাঙার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু: ফরহাদ মজহার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরহাদ মজহার। ছবি: আজকের পত্রিকা
বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরহাদ মজহার। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে ধর্মীয় জাতিবাদ বা ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের আগে দেশে একধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। আর ৫ আগস্টের পর থেকে মাজার ভাঙার মধ্য দিয়ে নতুন ধরনের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবি জানিয়ে সুফি, সাধক, বাউল ও দরবেশদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সভাটি সাধু, গুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ আয়োজন করে।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে ব্যক্তিমর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্রমাগতভাবে হরণ করা হয়েছে। এর আগে আমরা একধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠতে দেখেছি। সেটা ছিল সেক্যুলার এবং তারা নিজেদের সেক্যুলার বলে দাবি করত। জাতিবাদী বলে দাবি করত।’

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমরা আরেক ধরনের ধর্মীয় জাতিবাদ দেখছি। এটা কিন্তু ধর্মীয় ফ্যাসিজম। এই ধর্মীয় ফ্যাসিজম প্রথম দিন থেকে, ৫ আগস্টের পর থেকে মাজার ভাঙার মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। আমরা বারবার এর প্রতিবাদ জানিয়েছি। সরকারকে জানিয়েছি। আমাদের কতল করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে নানান ধরনের প্রচার তারা চালিয়েছে।’

এই রাষ্ট্রচিন্তক বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আমাদের বন্ধু মানুষ। আমি নিঃসন্দেহে মনে করি, তিনি আমার কথা শুনবেন। আবুল সরকারকে যখন এসবি বা গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে যায়, তখন তিনি (স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা) আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি তৎক্ষণাৎ বলেছি—‘‘নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যদি আপনাদের কোনো উদ্বিগ্ন থাকে, তাহলে আবুল সরকারকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিতে পারেন।’’ কিন্তু আপনারা আমাকে কথা দিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না। কিন্তু আপনারা বাংলাদেশের লুটেরা মাফিয়া শ্রেণি, যারা প্রশাসনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দম্ভভরে বক্তব্য দেয়, তাদের নির্দেশে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন।’

ফরহাদ মজহার আরও বলেন, ‘যাঁরা মনে করেন যে, প্রশাসনকে নির্বাচনের সময় তাঁদের অধীনে থাকতে হবে, এটাকে যাঁরা গণতন্ত্র বলেন এবং সেই গণতন্ত্রের নমুনা দেখানোর জন্য প্রশাসনকে দিয়ে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন, আমরা আপনাদের চিনে ফেলেছি।’

দেশের যত দরবার আছে, যত সুফি, দরবেশ ও সাধু আছে, সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমাদের অবিলম্বে একটি মহাসম্মেলন ডাকতে হবে। আপনাদের থাকতে হবে। যদি আপনারা মনে করেন, প্রত্যেকে বিভক্ত থেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে নিরাপদ থাকবেন, এটা হবে না। ফলে আমাদের সকলকে মিলে এই অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে হবে। এর পরে আমরা সারা দিন কিংবা ২-৩ দিনব্যাপী শহীদ মিনারে অবস্থান নেব। মানিকগঞ্জে যেহেতু আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা পরবর্তী মহাসম্মেলন মানিকগঞ্জে করতে যাব।’

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘যে ঘটনা আবুল সরকারকে নিয়ে হয়েছে, এটা আমাদের কাছে আর গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সরকারকে বলতে চাই—আপনাদের আমরা যথেষ্ট সময় দিয়েছি। যখন আপনারা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন, ফকির লালন শাহকে যখন জাতীয়ভাবে মর্যাদা দিয়েছেন, আমরা আপনাদের পেছনে থেকেছি এবং আপনাদের অভিনন্দন জানিয়েছি। আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে এই কৃতিত্ব আপনারা কলঙ্কিত করলেন।’

ফরহাদ আরও বলেন, ‘আবুল সরকার প্রতিটা আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম থেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আপনারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া মানে আমাকে আপনারা গ্রেপ্তার করেছেন। আমি এটা মেনে নেব না।’

প্রতিবাদ সমাবেশের পর সাধু গুরুভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদের পাঁচজন প্রতিনিধি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...