Ajker Patrika

রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২৩: ০৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ, ২০২৫ চূড়ান্ত অনুমোদন করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংস্কার কেবলই ফাঁকা বুলি কি না—এমন প্রশ্নও করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, দুদকের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার পাশাপাশি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এ সুপারিশ অপরিহার্য ছিল। কিন্তু তা উপেক্ষা করে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রমাণ করে, দুদককে একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠনের সরকারি প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

টিআইবি জানায়, সব রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ ঐকমত্য এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে জুলাই সনদে প্রস্তাবটি অন্তর্ভুক্ত করা হলেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, এটি সরকারের অভ্যন্তরে সংস্কারবিরোধী প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ, যারা রাষ্ট্রসংস্কারের অভীষ্টকে জিম্মি করে রেখেছে। টিআইবি প্রশ্ন তুলেছে, ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধান উপদেষ্টা কি এই বার্তাই দিচ্ছেন যে, রাষ্ট্রসংস্কার শুধুই সরকারের ‘ফাঁকা বুলি’?

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে দুদক সংস্কার কমিশন ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। কারণ জন্মলগ্ন থেকে দুদক জন-আস্থার সংকটে ভুগছে এবং ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা ও প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এই কমিটির মাধ্যমে ছয় মাস পর পর্যালোচনা, গণশুনানি এবং সুপারিশের ভিত্তিতে দুদককে সত্যিকার অর্থে জবাবদিহিমূলক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের সুযোগ ছিল। সরকার এ কৌশলগত প্রস্তাবের গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি পরিতাপজনক এবং রাষ্ট্রসংস্কারবিরোধী এক নজির।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী অন্তত সাতজন উপদেষ্টা মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল এ প্রস্তাবে একমত হয়েছে। তাহলে সরকার কি বুঝতে পারছে না, এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে জুলাই সনদ লঙ্ঘনে উৎসাহিত করছে? তাহলে কেন এত রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ হয়েছে? দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণের পথ রুদ্ধ করে কিসের রাষ্ট্রসংস্কার?

টিআইবি জানায়, খসড়া অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সুযোগে সংস্থাটি দেখেছে—বিদ্যমান আইনের তুলনায় এতে কিছু ইতিবাচক সংশোধন ছিল, যার জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, চূড়ান্ত অধ্যাদেশে আরও বেশ কিছু ঐকমত্যভিত্তিক কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে। ড. জামানের মতে, ‘এটি সরকারের ভেতরের স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতিসহায়ক ও সংস্কারবিরোধী অবস্থান ছাড়া আর কিছুই নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...