Ajker Patrika

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১১ জন

রাসেল মাহমুদ, ঢাকা
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯: ৩৩
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: প্রতিদিন খুন হচ্ছে ১১ জন
প্রতীকী ছবি

দেশে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুন হয়েছে ৩ হাজার ২৩০ জন। সেই হিসাবে প্রতিদিন খুন হচ্ছে প্রায় ১১ জন। সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় এবং কম বরিশাল বিভাগে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের খুনোখুনির এই সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি; যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত করে। পুলিশ বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিছু এলাকায় যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, অপরাধের বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রকাশ্যে হত্যাসহ নানাভাবে নৃশংস খুনের ঘটনা বেড়ে চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অসহযোগিতা, অভিযুক্ত বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বা অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ বা গ্রহণে বিলম্ব অপরাধীদের নানাভাবে সহিংস করছে।

ঢাকার কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাত রয়েছে। আর এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোন্দল, অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণ রয়েছে।

১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারির দোকানে বসে ছিলেন পল্লবী থানা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া (৫০)। কয়েকজন অস্ত্রধারী দোকানে ঢুকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।

এর আগে ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে তারিক সাইফ মামুন নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। একসময় ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী মামুন। অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মামুনকে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ১৬ নম্বর সড়কের মাথায় সাঁকোর পাড় এলাকায় দুই দফায় চার তরুণকে পেটানো হয়। এ সময় মারধরের শিকার হয়ে মো. সুজন ওরফে বাবুল ও মো. হানিফ নিহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর—এই ১০ মাসে খুন হয়েছে ৩ হাজার ২৩০ জন মানুষ। ২০২৪ সালের একই সময়ে খুন হয়েছিল ৩ হাজার ১৭ জন, আর ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৬৩ জন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুন বেড়েছে ৭ শতাংশ, আর দুই বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক অপরাধ তথ্যে এমন উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে, ৩৬২টি। বিপরীতে সবচেয়ে কম খুন হয়েছে জানুয়ারিতে, ২৯৪টি। পুরো ১০ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন খুন হয়েছে।

বিভাগওয়ারি খুনের হিসাবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি রাজধানীকেন্দ্রিক ঢাকা বিভাগে, ১ হাজার ১৮৬টি। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০৩টি, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ৩২৫টি করে, রংপুরে ২২৩টি, ময়মনসিংহে ২০২টি, সিলেটে ১৯৩টি এবং বরিশালে ১৬২টি খুনের ঘটনা ঘটে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার এবং পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় খুনের সংখ্যা হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, মুন্সিগঞ্জ, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক সমাবেশে সংঘর্ষ ও পাল্টা হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

৫ নভেম্বর বিকেলে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও চালিতাতলী খন্দকারপাড়ায় নির্বাচনী জনসংযোগ করছিলেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। জনসংযোগে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) গুলিবিদ্ধ হন। পরে সন্ধ্যায় নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাঁকে গুলি করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক(এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খুনের ঘটনা আগের মতোই রয়েছে। তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ বা দ্বন্দ্বের কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া দেশে নির্বাচনী বছরে সহিংসতা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। এবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তবে আমরা এরই মধ্যে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি নিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা  
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’

এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ১৬
ছবি: ফোকাস বাংলা
ছবি: ফোকাস বাংলা

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।

সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

আরও পড়ুন-

মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান

হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ

সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

তফসিল ঘোষণা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে, আশা সিইসির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪: ০৫
শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের রাজধানীর ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। ছবি: আজকের পত্রিকা
শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের রাজধানীর ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’

তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’

মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’

সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ভারতে পলাতক আ.লীগ নেতৃত্ব: কামালকে দিয়ে প্রত্যর্পণ শুরুর আশা বাংলাদেশের

  • সম্প্রতি বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও অজিত দোভাল
  • দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০: ০৩
আসাদুজ্জামান খান কামাল
আসাদুজ্জামান খান কামাল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।

সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’

প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।

সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত