Ajker Patrika

প্লট দুর্নীতির পৃথক মামলায় জয়-পুতুলের ৫ বছর করে কারাদণ্ড

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৪: ১৯
সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ফাইল ছবি
সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ফাইল ছবি

পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রায়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১৩ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য যাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. কামরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

গত ২৫ মার্চ এই মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত ৩১ জুলাই আদালত শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি ও স্থাপনা) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি দায়ের করে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার একটি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন সজীব। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গণকর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের ছেলের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।

অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে ছয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১৪ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্য যাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজ, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

মামলায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেন।

গত ২৫ মার্চ এই মামলায় ১৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। গত ৩১ জুলাই আদালত শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি ও স্থাপনা) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি দায়ের করে।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার একটি ১০ কাঠার প্লট সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে বরাদ্দ নেন। ঢাকায় বাড়ি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে এই প্লট বরাদ্দ নেন পুতুল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ও সরকারি কর্মচারী (পাবলিক সার্ভেন্ট) হিসেবে বহাল থেকে তাঁর ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রকল্পের বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গণকর্মচারীদের বা রাজউক কর্মচারীদের প্রভাবিত করে নিজের মেয়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। বরাদ্দবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রীও প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটান। অন্যদিকে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বরাদ্দবিষয়ক কর্মচারীরা লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...