Ajker Patrika

জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ­­
জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

জাতীয় নির্বাচনের সময় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজেদের অধীনে পরিচালনা করার দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায়।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়োগ দেওয়া হয়। জাতীয় নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইউএনওরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকেন। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত হওয়া ইকোনমিক ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তাকে এবার ডিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা থাকার কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সব সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমাদের কাজ রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন করা, আইনানুগ দায়িত্ব পালন করা এবং যে কোনো নির্বাচনে সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ বা গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন-এটি আমাদের পরিচয়ের মূল ভিত্তি এবং পেশাগত নৈতিকতার মূল উপাদান।

‘কিন্তু সম্প্রতি দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক প্রচারণায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের টকশো বা আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যমূলক বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত মন্তব্য করছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক রাজনৈতিক জনসভায় শাহজাহান চৌধুরী সরকারি প্রশাসনযন্ত্রকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবহারের মানসে এক অনভিপ্রেত বক্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমরা এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং ভবিষ্যতে সবাইকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনগণের সার্বিক আস্থা অর্জন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪ নভেম্বর পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী গত ২২ নভেম্বর চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’

মাঠ প্রশাসন নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে গত ২৫ নভেম্বর শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সাত দিনের মধ্যে তাঁকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এরপরেও গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে যারা চিনে না, তারা এখনো মাটির নিচে বসবাস করে...। আমার জন্য আল্লাহ আছে। আল্লাহর মেহেরবানি, সূর্য আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা আমাকে এ রকম মর্যাদা দিয়েছেন। আপনারা দোয়া করবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...