Ajker Patrika

৫টি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব বিআইডব্লিউটিএর

  • নতুন এই ৫ দপ্তরে জনবল প্রস্তাব করা হয়েছে ৮৫ জন
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আলোচনার পর যাচাই চলছে
  • কাজ সহজ ও গতিশীল হবে বলে দাবি করা হচ্ছে
তৌফিকুল ইসলাম, ঢাকা 
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩২
৫টি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব বিআইডব্লিউটিএর

অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাজ। নদীবহুল এ দেশে সরকারি সংস্থাটি তাদের কার্যক্রম ‘আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে’ এবার পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করতে চায়।

ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। তবে পরিবহন খাত নিয়ে কাজ করা নাগরিক প্রতিনিধিরা প্রশাসনকে আরও ভারী করা হবে বলে এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, পাবনা, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল এবং চট্টগ্রামে নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিটি দপ্তরে ১৭ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। সে হিসাবে মোট ৮৫ জন নতুন জনবলকাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাথমিকভাবে আলোচিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ে আবার একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর আরেকটি সভায় বিষয়টি আরেক দফা পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাবটি যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের সভায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যাবে। বর্তমানে সব কার্যক্রম ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে। আঞ্চলিক দপ্তর হলে উদ্ধার, নৌপথ সংরক্ষণসহ যেকোনো বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।’

বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে ৫৫টি নদীবন্দর রয়েছে। এসব বন্দর থেকেই অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন পাঁচটি আঞ্চলিক দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে নদীবন্দরগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক দপ্তরের অধীনে ভাগ হয়ে পরিচালিত হবে।

বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, নতুন আঞ্চলিক দপ্তর স্থাপন করলে নদী খনন, নাব্য রক্ষা, ড্রেজিং, ঘাট পরিচালনা, দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। স্থানীয় প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও আরও শক্তিশালী হবে। এতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের চাপও হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএর আঞ্চলিক দপ্তরের প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন নাগরিক সংগঠন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ আঞ্চলিক দপ্তর বাড়িয়ে প্রশাসনকে আরও ভারী করতে চাইছে। কিন্তু জনসেবা বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় দপ্তরের মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা উচিত। আঞ্চলিক দপ্তর বাড়ালে পরিচালন ব্যয় বাড়বে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। আধুনিক বিশ্বে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয়ভাবেই দক্ষভাবে সব তদারকি করা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।’

গত কয়েক দশকে সড়কপথের ব্যাপক সম্প্রসারণের পরও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতে দেশের মোট মালবাহী পরিবহনের ৫০ শতাংশের বেশি এবং যাত্রীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবহন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৩২টি, আর কর্মরত ছিলেন ৪ হাজার ৫৭৭ জন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...