আজকের পত্রিকা ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধুসুলভ আচরণ নয়।’
কিন্তু গত সোমবার রায় ঘোষণার পর ভারত যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি ছিল বেশ কৌশলী এবং সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো কথা নেই। সেই বিবৃতির ভাষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে আটকে দিয়ে ভারত প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক মনোভঙ্গি প্রকাশ করেছে। দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়, রায় ভারতের নজরে আছে এবং দেশটি ‘বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে’ সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
এদিকে রায়ের পর ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে গত দুই দিনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা যা বলছেন, তাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে দেখা দেবে—ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের হাতে কী আছে?
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে পলাতক আসামি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করা।
কোন অপরাধে প্রত্যর্পণ করা যায়
চুক্তি অনুযায়ী, যে অপরাধে ভারতে ও বাংলাদেশে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, তা প্রত্যর্পণের যোগ্য। এর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, সহিংস অপরাধ ছাড়াও আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রের অপরাধও অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, সহায়তা করা, উসকানি দেওয়া বা সহযোগী হিসেবে অংশ নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত, অভিযুক্ত হয়ে পলাতক বা দণ্ডিত হয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে—দুই রাষ্ট্রই তাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বিচার সম্পন্ন করা বা পালিয়ে যাওয়া দণ্ড কার্যকর করা।
কখন প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে
চুক্তিতে এমন কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ আছে, যেখানে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। চুক্তির ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অপরাধটি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে।
তবে ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ, হত্যায় প্ররোচনা, সহিংসতা বা অস্ত্র-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক ধরা হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতনসহ গুরুতর অভিযোগ থাকায় এই ধারা প্রযোজ্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত প্রমাণ করতে পারে, অভিযোগ এত ছোট যে তা প্রত্যর্পণের মতো কঠোর পদক্ষেপ যৌক্তিক নয়, অভিযোগের পর অনেক বেশি সময় পেরিয়ে যায় এবং ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা খারাপ বিশ্বাসে অভিযোগ আনা হয়, তাহলেও প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এ ছাড়া শুধুই সামরিক প্রকৃতির অপরাধ হলে এবং সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ না হলেও প্রত্যর্পণ নাকচ করা সম্ভব।
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন কী বলে
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও ১৯৬২ সালের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করে ভারত। আইনটি পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ-সম্পর্কিত বিধি সংশোধনের পাশাপাশি দেশের আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রত্যর্পণ চুক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরা এই আইনের ২৯ ও ৩১ ধারায় কিছু শর্ত নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর অধীনে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করা যেতে পারে। প্রধান শর্তগুলো হলো—
ভারতের আদালতের কী নজির
ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, এই অধিকার ভারতের মাটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আদালত একাধিক রায়ে বলেছেন, আইনগত সব সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া কাউকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে ব্যক্তি মৃত্যু, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের মুখে পড়ে।
কাতিয়ার আব্বাস হাবিব আল-কুতাইফি বনাম ভারত সরকার (১৯৯৮) মামলায় ইরাকের দুই আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়। গুজরাট হাইকোর্ট বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নন-রিফাউলমেন্ট নীতি এবং ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ কারও জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে।
ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও এই নীতিকে আন্তর্জাতিক প্রচলিত আইন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে (আইসিসিপিআর) প্রতিফলিত, যেটির সদস্য ভারত।
বাংলাদেশ কী করতে পারে
বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ভারত পর্যালোচনা করলেও, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত ভারত যদি না পাঠায়, বাংলাদেশ কী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পথগুলো হতে পারে—
আনুষ্ঠানিক নোট, বৈঠক, যৌথ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদির মাধ্যমে দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে ভারত-বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্য, ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কিংবা আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ—বিশেষত মৃত্যুদণ্ড—বাংলাদেশের বক্তব্যকে দুর্বল করতে পারে।
বাংলাদেশ চাইলে বিচার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বা নতুন বিচারকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ বিরোধ সাধারণত আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা যায়। কিন্তু ভারত যেহেতু শক্তিশালী আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে, তাই এটি বাস্তবে অসম্ভব বা অকার্যকর।
মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের ফেরত না পাওয়ার নজির
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড নেই, সেসব দেশ কখনোই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ফেরত দেয় না। এই বাস্তবতা শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারতের সিদ্ধান্ত অনুমান করতে সাহায্য করে।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আশরাফুজ্জামান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের ১২ বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাঁদের ফেরত দেয়নি। চৌধুরী মুঈনুদ্দীন লন্ডনে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের। আর আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নাগরিকত্বসহ বসবাস করছেন।
তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ বলে এসব দেশ তাঁদের ফেরত দেয়নি।
এই তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম নূর চৌধুরী—বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডিত। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি কানাডায় আত্মগোপনে আছেন এবং কানাডা মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী নীতি অনুসরণ করে বলে তাঁকে এখনো ফেরত দেয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার খুনিদের মতোই বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামিদেরও ফিরিয়ে আনা যায়নি। কারণ, ওই দেশগুলো মৃত্যুদণ্ডবিরোধী।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধুসুলভ আচরণ নয়।’
কিন্তু গত সোমবার রায় ঘোষণার পর ভারত যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি ছিল বেশ কৌশলী এবং সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো কথা নেই। সেই বিবৃতির ভাষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে আটকে দিয়ে ভারত প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক মনোভঙ্গি প্রকাশ করেছে। দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়, রায় ভারতের নজরে আছে এবং দেশটি ‘বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে’ সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
এদিকে রায়ের পর ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে গত দুই দিনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা যা বলছেন, তাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে দেখা দেবে—ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের হাতে কী আছে?
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে পলাতক আসামি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করা।
কোন অপরাধে প্রত্যর্পণ করা যায়
চুক্তি অনুযায়ী, যে অপরাধে ভারতে ও বাংলাদেশে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, তা প্রত্যর্পণের যোগ্য। এর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, সহিংস অপরাধ ছাড়াও আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রের অপরাধও অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, সহায়তা করা, উসকানি দেওয়া বা সহযোগী হিসেবে অংশ নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত, অভিযুক্ত হয়ে পলাতক বা দণ্ডিত হয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে—দুই রাষ্ট্রই তাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বিচার সম্পন্ন করা বা পালিয়ে যাওয়া দণ্ড কার্যকর করা।
কখন প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে
চুক্তিতে এমন কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ আছে, যেখানে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। চুক্তির ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অপরাধটি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে।
তবে ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ, হত্যায় প্ররোচনা, সহিংসতা বা অস্ত্র-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক ধরা হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতনসহ গুরুতর অভিযোগ থাকায় এই ধারা প্রযোজ্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত প্রমাণ করতে পারে, অভিযোগ এত ছোট যে তা প্রত্যর্পণের মতো কঠোর পদক্ষেপ যৌক্তিক নয়, অভিযোগের পর অনেক বেশি সময় পেরিয়ে যায় এবং ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা খারাপ বিশ্বাসে অভিযোগ আনা হয়, তাহলেও প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এ ছাড়া শুধুই সামরিক প্রকৃতির অপরাধ হলে এবং সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ না হলেও প্রত্যর্পণ নাকচ করা সম্ভব।
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন কী বলে
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও ১৯৬২ সালের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করে ভারত। আইনটি পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ-সম্পর্কিত বিধি সংশোধনের পাশাপাশি দেশের আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রত্যর্পণ চুক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরা এই আইনের ২৯ ও ৩১ ধারায় কিছু শর্ত নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর অধীনে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করা যেতে পারে। প্রধান শর্তগুলো হলো—
ভারতের আদালতের কী নজির
ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, এই অধিকার ভারতের মাটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আদালত একাধিক রায়ে বলেছেন, আইনগত সব সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া কাউকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে ব্যক্তি মৃত্যু, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের মুখে পড়ে।
কাতিয়ার আব্বাস হাবিব আল-কুতাইফি বনাম ভারত সরকার (১৯৯৮) মামলায় ইরাকের দুই আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়। গুজরাট হাইকোর্ট বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নন-রিফাউলমেন্ট নীতি এবং ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ কারও জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে।
ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও এই নীতিকে আন্তর্জাতিক প্রচলিত আইন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে (আইসিসিপিআর) প্রতিফলিত, যেটির সদস্য ভারত।
বাংলাদেশ কী করতে পারে
বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ভারত পর্যালোচনা করলেও, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত ভারত যদি না পাঠায়, বাংলাদেশ কী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পথগুলো হতে পারে—
আনুষ্ঠানিক নোট, বৈঠক, যৌথ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদির মাধ্যমে দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে ভারত-বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্য, ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কিংবা আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ—বিশেষত মৃত্যুদণ্ড—বাংলাদেশের বক্তব্যকে দুর্বল করতে পারে।
বাংলাদেশ চাইলে বিচার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বা নতুন বিচারকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ বিরোধ সাধারণত আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা যায়। কিন্তু ভারত যেহেতু শক্তিশালী আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে, তাই এটি বাস্তবে অসম্ভব বা অকার্যকর।
মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের ফেরত না পাওয়ার নজির
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড নেই, সেসব দেশ কখনোই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ফেরত দেয় না। এই বাস্তবতা শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারতের সিদ্ধান্ত অনুমান করতে সাহায্য করে।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আশরাফুজ্জামান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের ১২ বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাঁদের ফেরত দেয়নি। চৌধুরী মুঈনুদ্দীন লন্ডনে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের। আর আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নাগরিকত্বসহ বসবাস করছেন।
তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ বলে এসব দেশ তাঁদের ফেরত দেয়নি।
এই তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম নূর চৌধুরী—বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডিত। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি কানাডায় আত্মগোপনে আছেন এবং কানাডা মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী নীতি অনুসরণ করে বলে তাঁকে এখনো ফেরত দেয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার খুনিদের মতোই বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামিদেরও ফিরিয়ে আনা যায়নি। কারণ, ওই দেশগুলো মৃত্যুদণ্ডবিরোধী।’
আজকের পত্রিকা ডেস্ক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধুসুলভ আচরণ নয়।’
কিন্তু গত সোমবার রায় ঘোষণার পর ভারত যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি ছিল বেশ কৌশলী এবং সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো কথা নেই। সেই বিবৃতির ভাষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে আটকে দিয়ে ভারত প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক মনোভঙ্গি প্রকাশ করেছে। দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়, রায় ভারতের নজরে আছে এবং দেশটি ‘বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে’ সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
এদিকে রায়ের পর ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে গত দুই দিনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা যা বলছেন, তাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে দেখা দেবে—ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের হাতে কী আছে?
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে পলাতক আসামি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করা।
কোন অপরাধে প্রত্যর্পণ করা যায়
চুক্তি অনুযায়ী, যে অপরাধে ভারতে ও বাংলাদেশে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, তা প্রত্যর্পণের যোগ্য। এর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, সহিংস অপরাধ ছাড়াও আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রের অপরাধও অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, সহায়তা করা, উসকানি দেওয়া বা সহযোগী হিসেবে অংশ নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত, অভিযুক্ত হয়ে পলাতক বা দণ্ডিত হয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে—দুই রাষ্ট্রই তাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বিচার সম্পন্ন করা বা পালিয়ে যাওয়া দণ্ড কার্যকর করা।
কখন প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে
চুক্তিতে এমন কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ আছে, যেখানে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। চুক্তির ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অপরাধটি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে।
তবে ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ, হত্যায় প্ররোচনা, সহিংসতা বা অস্ত্র-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক ধরা হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতনসহ গুরুতর অভিযোগ থাকায় এই ধারা প্রযোজ্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত প্রমাণ করতে পারে, অভিযোগ এত ছোট যে তা প্রত্যর্পণের মতো কঠোর পদক্ষেপ যৌক্তিক নয়, অভিযোগের পর অনেক বেশি সময় পেরিয়ে যায় এবং ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা খারাপ বিশ্বাসে অভিযোগ আনা হয়, তাহলেও প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এ ছাড়া শুধুই সামরিক প্রকৃতির অপরাধ হলে এবং সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ না হলেও প্রত্যর্পণ নাকচ করা সম্ভব।
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন কী বলে
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও ১৯৬২ সালের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করে ভারত। আইনটি পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ-সম্পর্কিত বিধি সংশোধনের পাশাপাশি দেশের আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রত্যর্পণ চুক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরা এই আইনের ২৯ ও ৩১ ধারায় কিছু শর্ত নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর অধীনে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করা যেতে পারে। প্রধান শর্তগুলো হলো—
ভারতের আদালতের কী নজির
ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, এই অধিকার ভারতের মাটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আদালত একাধিক রায়ে বলেছেন, আইনগত সব সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া কাউকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে ব্যক্তি মৃত্যু, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের মুখে পড়ে।
কাতিয়ার আব্বাস হাবিব আল-কুতাইফি বনাম ভারত সরকার (১৯৯৮) মামলায় ইরাকের দুই আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়। গুজরাট হাইকোর্ট বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নন-রিফাউলমেন্ট নীতি এবং ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ কারও জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে।
ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও এই নীতিকে আন্তর্জাতিক প্রচলিত আইন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে (আইসিসিপিআর) প্রতিফলিত, যেটির সদস্য ভারত।
বাংলাদেশ কী করতে পারে
বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ভারত পর্যালোচনা করলেও, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত ভারত যদি না পাঠায়, বাংলাদেশ কী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পথগুলো হতে পারে—
আনুষ্ঠানিক নোট, বৈঠক, যৌথ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদির মাধ্যমে দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে ভারত-বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্য, ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কিংবা আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ—বিশেষত মৃত্যুদণ্ড—বাংলাদেশের বক্তব্যকে দুর্বল করতে পারে।
বাংলাদেশ চাইলে বিচার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বা নতুন বিচারকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ বিরোধ সাধারণত আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা যায়। কিন্তু ভারত যেহেতু শক্তিশালী আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে, তাই এটি বাস্তবে অসম্ভব বা অকার্যকর।
মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের ফেরত না পাওয়ার নজির
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড নেই, সেসব দেশ কখনোই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ফেরত দেয় না। এই বাস্তবতা শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারতের সিদ্ধান্ত অনুমান করতে সাহায্য করে।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আশরাফুজ্জামান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের ১২ বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাঁদের ফেরত দেয়নি। চৌধুরী মুঈনুদ্দীন লন্ডনে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের। আর আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নাগরিকত্বসহ বসবাস করছেন।
তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ বলে এসব দেশ তাঁদের ফেরত দেয়নি।
এই তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম নূর চৌধুরী—বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডিত। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি কানাডায় আত্মগোপনে আছেন এবং কানাডা মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী নীতি অনুসরণ করে বলে তাঁকে এখনো ফেরত দেয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার খুনিদের মতোই বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামিদেরও ফিরিয়ে আনা যায়নি। কারণ, ওই দেশগুলো মৃত্যুদণ্ডবিরোধী।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধুসুলভ আচরণ নয়।’
কিন্তু গত সোমবার রায় ঘোষণার পর ভারত যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সেটি ছিল বেশ কৌশলী এবং সেখানে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো কথা নেই। সেই বিবৃতির ভাষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে আটকে দিয়ে ভারত প্রচ্ছন্ন নেতিবাচক মনোভঙ্গি প্রকাশ করেছে। দিল্লির বিবৃতিতে বলা হয়, রায় ভারতের নজরে আছে এবং দেশটি ‘বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে’ সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে।
এদিকে রায়ের পর ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে গত দুই দিনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা যা বলছেন, তাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়ে দেখা দেবে—ভারত যদি শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেয়, তাহলে বাংলাদেশের হাতে কী আছে?
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে পলাতক আসামি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করা।
কোন অপরাধে প্রত্যর্পণ করা যায়
চুক্তি অনুযায়ী, যে অপরাধে ভারতে ও বাংলাদেশে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, তা প্রত্যর্পণের যোগ্য। এর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, সহিংস অপরাধ ছাড়াও আর্থিক ও রাজস্ব ক্ষেত্রের অপরাধও অন্তর্ভুক্ত। তদুপরি, সহায়তা করা, উসকানি দেওয়া বা সহযোগী হিসেবে অংশ নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত, অভিযুক্ত হয়ে পলাতক বা দণ্ডিত হয়ে অন্য দেশে পালিয়ে গেলে—দুই রাষ্ট্রই তাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন করতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো বিচার সম্পন্ন করা বা পালিয়ে যাওয়া দণ্ড কার্যকর করা।
কখন প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে
চুক্তিতে এমন কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ আছে, যেখানে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। চুক্তির ৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অপরাধটি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয়, তবে প্রত্যর্পণ নাকচ করা যেতে পারে।
তবে ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হত্যা, সন্ত্রাস, অপহরণ, হত্যায় প্ররোচনা, সহিংসতা বা অস্ত্র-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক ধরা হবে না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতনসহ গুরুতর অভিযোগ থাকায় এই ধারা প্রযোজ্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত প্রমাণ করতে পারে, অভিযোগ এত ছোট যে তা প্রত্যর্পণের মতো কঠোর পদক্ষেপ যৌক্তিক নয়, অভিযোগের পর অনেক বেশি সময় পেরিয়ে যায় এবং ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে বা খারাপ বিশ্বাসে অভিযোগ আনা হয়, তাহলেও প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এ ছাড়া শুধুই সামরিক প্রকৃতির অপরাধ হলে এবং সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ না হলেও প্রত্যর্পণ নাকচ করা সম্ভব।
ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন কী বলে
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ছাড়াও ১৯৬২ সালের এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রত্যর্পণ করে ভারত। আইনটি পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণ-সম্পর্কিত বিধি সংশোধনের পাশাপাশি দেশের আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রত্যর্পণ চুক্তির সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তুলে ধরা এই আইনের ২৯ ও ৩১ ধারায় কিছু শর্ত নির্ধারণ করা আছে, যেগুলোর অধীনে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করা যেতে পারে। প্রধান শর্তগুলো হলো—
ভারতের আদালতের কী নজির
ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন, এই অধিকার ভারতের মাটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আদালত একাধিক রায়ে বলেছেন, আইনগত সব সুরক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া কাউকে এমন কোনো দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে ব্যক্তি মৃত্যু, নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের মুখে পড়ে।
কাতিয়ার আব্বাস হাবিব আল-কুতাইফি বনাম ভারত সরকার (১৯৯৮) মামলায় ইরাকের দুই আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা হয়। গুজরাট হাইকোর্ট বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত নন-রিফাউলমেন্ট নীতি এবং ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ কারও জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন দেশে ফেরত পাঠানো নিষিদ্ধ করে।
ভারত ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও এই নীতিকে আন্তর্জাতিক প্রচলিত আইন হিসেবে বিবেচনা করে এবং তা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদে (আইসিসিপিআর) প্রতিফলিত, যেটির সদস্য ভারত।
বাংলাদেশ কী করতে পারে
বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ভারত পর্যালোচনা করলেও, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকার মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত ভারত যদি না পাঠায়, বাংলাদেশ কী করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য পথগুলো হতে পারে—
আনুষ্ঠানিক নোট, বৈঠক, যৌথ কর্মপরিকল্পনা ইত্যাদির মাধ্যমে দিল্লির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে ভারত-বাংলাদেশের ক্ষমতার ভারসাম্য, ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কিংবা আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিষয়টি উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। কিন্তু যেভাবে বিচার হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ—বিশেষত মৃত্যুদণ্ড—বাংলাদেশের বক্তব্যকে দুর্বল করতে পারে।
বাংলাদেশ চাইলে বিচার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বা নতুন বিচারকাঠামোর প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যর্পণ বিরোধ সাধারণত আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা যায়। কিন্তু ভারত যেহেতু শক্তিশালী আঞ্চলিক ক্ষমতা এবং বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা রয়েছে, তাই এটি বাস্তবে অসম্ভব বা অকার্যকর।
মৃত্যুদণ্ডের আসামিদের ফেরত না পাওয়ার নজির
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ড নেই, সেসব দেশ কখনোই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ফেরত দেয় না। এই বাস্তবতা শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারতের সিদ্ধান্ত অনুমান করতে সাহায্য করে।
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আশরাফুজ্জামান ওরফে নায়েব আলী খান ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের ১২ বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাঁদের ফেরত দেয়নি। চৌধুরী মুঈনুদ্দীন লন্ডনে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের। আর আশরাফুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় নাগরিকত্বসহ বসবাস করছেন।
তৎকালীন রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ হায়দার আলী বলেছিলেন, মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ বলে এসব দেশ তাঁদের ফেরত দেয়নি।
এই তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম নূর চৌধুরী—বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডিত। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি কানাডায় আত্মগোপনে আছেন এবং কানাডা মৃত্যুদণ্ড-বিরোধী নীতি অনুসরণ করে বলে তাঁকে এখনো ফেরত দেয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার খুনিদের মতোই বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামিদেরও ফিরিয়ে আনা যায়নি। কারণ, ওই দেশগুলো মৃত্যুদণ্ডবিরোধী।’

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেবাসস, ঢাকা

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’
এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’
এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে...
৯ দিন আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
সভায় ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এই সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আরও পড়ুন-
মায়ের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন তারেক রহমান
হাসিনার ফাঁসি দেখা পর্যন্ত আল্লাহ যেন খালেদা জিয়াকে বাঁচিয়ে রাখেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দু-তিন দিনের মধ্যেই তাঁরা দেশে ফিরবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে...
৯ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশা আল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি; তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে, তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’
তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে-কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’
মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’
নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইমপ্রুভও করেছে।’
সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে...
৯ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
১৩ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অভিযুক্ত অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত থেকে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতেই দেশটি আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। আর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া চিঠি ভারত পরীক্ষা করছে বলে গত বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনুরোধটি (চিঠি) পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আমরা শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা অব্যাহতভাবে সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকব।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের এমন বক্তব্যের অর্থ হলো, আলোচনার রাস্তা খোলা রাখা আছে। তারা হয়তো বিষয়টিকে কার্ড হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলে হয়তো আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের ফেরত দিতে পারে দেশটি। সমঝোতা ইতিবাচক না হলে ভারত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে।
সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তিনি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠক হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি বলছে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা ও দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরাতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরত চাওয়া হয়। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বৈঠকের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা আছে সরকারের। সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের পাশাপাশি সরকারের অগ্রাধিকারে থাকা অন্য দুটি বিষয় হলো সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার। অর্পিত এসব দায়িত্ব সুচারুভাবে শেষ করতে চায় সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বেলা ১১টায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের অবশ্যই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জুলাই হত্যা মামলায় হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আমাদের অনুরোধ তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’
প্রেস সচিব আরও লেখেন, ‘আমরা জানি, হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীলরা শক্তিশালী। তারপরও আমি ক্রমশ আরও বেশি নিশ্চিত হচ্ছি যে, ঢাকার কসাই হিসেবে পরিচিত আসাদুজ্জামান খান কামাল খুব শিগগির বাংলাদেশে প্রত্যর্পিত হবেন এবং বিচারের মুখোমুখি হবেন।’ ‘এটা শুরু হবে কামালকে দিয়ে, তারপর...’ পোস্টের শেষ লাইনে লেখেন প্রেস সচিব।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাসহ ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের ফেরত পাঠানো শুরু করলে নিশ্চয়ই শুরুতেই শেখ হাসিনাকে পাঠাবে না ভারত। তারা হয়তো আসাদুজ্জামান কামালের মতো কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো শুরু করবে। সে ক্ষেত্রে প্রেস সচিব হয়তো চাপ তৈরি করতেই এ বক্তব্য দিয়েছেন।
সরকারের একাধিক সূত্রে শেখ হাসিনা ছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ভারতে অবস্থান নিশ্চিত হলে তাঁকে ফেরাতেও সরকার চিঠি দেবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর কারাদণ্ড হয়েছে, তিনি যদি ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তো অবশ্যই ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে। তাঁর ফেরত চাওয়াটাই যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে যদি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রায় হয়, তাঁকেও ফেরত চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে।
জানা গেছে, ভারতের আইনে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার কোনো বিধান নেই। মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আশ্রয় দিয়ে থাকে দেশটি। মানবিক কারণে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। ১৯৫৯ সাল থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকলেও চীনের সঙ্গে সেটি নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ভারতে আশ্রিত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লিকে...
৯ দিন আগে
খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন । আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ মিনিট আগে
উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই সভা হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
আজ শনিবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে