Ajker Patrika

এশিয়ার ৭ দেশ, যেখানে হেঁটে ভ্রমণ কষ্টকর

ফিচার ডেস্ক
ঢাকায় হাঁটা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ছবি: পেক্সেলস
ঢাকায় হাঁটা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। ছবি: পেক্সেলস

শহর ঘুরে দেখার উত্তম উপায় কী হতে পারে? এ ক্ষেত্রে যে কেউ বলবেন, হেঁটে দেখাই সবচেয়ে ভালো। হাঁটতে হাঁটতে একজন ভ্রমণকারী ধীরে ধীরে একটি নতুন গন্তব্যের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেন। মিশে যেতে পারেন ভিড়ের মধ্যে, মানুষের সঙ্গে। তবে এই ধারণা তখনই প্রযোজ্য, যখন একটি শহর হাঁটার উপযোগী এবং পদচারীবান্ধব হয়। কিন্তু বাস্তবতা যে কখনো কখনো এই সুন্দর উপায়টির বিপরীত হতে পারে, তা হয়তো আমরা অনেকে জানি না। বিভিন্ন কারণে বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় স্থানই হেঁটে ঘোরার জন্য অনুকূল নয়। কোনো শহরের উচ্চতা বেশি হলে বাতাসের ঘনত্ব কম থাকে, যা সামান্য হাঁটাকেও ক্লান্তিকর করে তোলে। জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, দূষণ, যানজটের মাত্রা এবং প্রধান পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে দূরত্ব; এই সবকিছুই একজন পর্যটককে রাস্তায় নামতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। নিচে বিশ্বের এমন কিছু শহর তুলে ধরা হলো, যা হেঁটে ঘুরে দেখার উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

বাংলাদেশের ঢাকা : ঢাকায় হাঁটা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। প্রায় ২৩ মিলিয়নের বেশি মানুষে ঠাসা এই মেগাসিটি যানজট ও বিশৃঙ্খলায় পূর্ণ। এখানে বাতাসের মান খুব খারাপ এবং স্যানিটেশন বা পরিচ্ছন্নতার মাত্রাও সন্তোষজনক নয়।

ভারতের মুম্বাই ও আহমেদাবাদ : ভারতে হেঁটে ঘোরার ক্ষেত্রে মুম্বাই এবং আহমেদাবাদ শহর তীব্র প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। মুম্বাইয়ে হাঁটার অর্থ হলো চলমান ট্র্যাফিক এবং দু-একটি গরুকে এড়িয়ে চলা, বিশ্বের অন্যতম দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়া এবং নিজের কথা শোনাতে হলে চিৎকার করা। এই অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হলেও কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টিকারী হতে পারে। গুজরাট রাজ্যের সবচেয়ে জনবহুল শহর আহমেদাবাদ হেঁটে ঘুরে দেখা খুবই কষ্টকর। এখানে আনুমানিক ৮.৬ মিলিয়ন মানুষ বাস করে। মনে হয় যেন তারা সবাই একই রাস্তা ব্যবহার করছে। অনেক স্থানীয় বাসিন্দার মতো এখানেও টুকটুক ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নেপালের কাঠমান্ডু নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু নিঃসন্দেহে আপনার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে জাগ্রত করবে। কিন্তু দেশের সবচেয়ে জনবহুল শহর হওয়ায়, হেঁটে ঘুরে দেখার সময় এখানকার রাস্তা বেশ জটিল বলে মনে হতে পারে। এখানকার রাস্তাগুলো সংকীর্ণ এবং ফুটপাত প্রায় নেই। আর এর যানজট এখানে কাউকে সামান্য ছাড়ও দেয় না। পথচারীদের জন্য এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ভারতে হেঁটে ঘোরার ক্ষেত্রে মুম্বাই ও আহমেদাবাদ শহর তীব্র প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। ছবি: পেক্সেলস
ভারতে হেঁটে ঘোরার ক্ষেত্রে মুম্বাই ও আহমেদাবাদ শহর তীব্র প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। ছবি: পেক্সেলস

চীনের কুইলিন: চীনের প্রতিটি শহরই ব্যস্ত। তবে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য কুইলিন যেন জনসমুদ্রে উপচে পড়ে। যদিও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য হাঁটাই সেরা উপায়। তবে কুইলিনের দূষণ সমস্যা পর্যটককে পথ চলতে বাধা দিতে পারে। এখানকার বাতাসের মান মাঝারিভাবে দূষিত। তবে বড় উদ্বেগের কারণ হলো এখানকার অপরিচ্ছন্ন লি নদী।

জর্ডানের আম্মান : এই শহর হেঁটে দেখতে হলে আপনার এক জোড়া শক্তিশালী পায়ের প্রয়োজন হবে। জর্ডানের রাজধানী সাতটি পাহাড় নিয়ে গঠিত। তা হলো কুসুর, জুফা, তাজ, নজহা, নাসের, নাথিফ ও আল-আখদার। প্রতিটি পাহাড়ই বিশেষ করে উষ্ণ আবহাওয়ায়, কম সক্ষম শরীর নিয়ে হাঁটার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

হেঁটে ঘুরে দেখার সময় কাঠমান্ডুর রাস্তা বেশ জটিল বলে মন হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস
হেঁটে ঘুরে দেখার সময় কাঠমান্ডুর রাস্তা বেশ জটিল বলে মন হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

ফিলিপাইনের ম্যানিলা : ম্যানিলা শহর কখনোই পদচারীদের জন্য তৈরি করা হয়নি। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম এবং ফিলিপাইনের রাজধানীতে হাতে গোনা কয়েকটি নির্দিষ্ট হাঁটার পথ রয়েছে। উচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণেও এখানে অনেক পর্যটক হেঁটে বের হতে নিরুৎসাহিত হন। তা ছাড়া এখানকার গণপরিবহন ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায়, ম্যানিলা ঘুরে দেখার জন্য গাড়িই একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়।

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক : যদিও ব্যাংককের সুখুমভিট ও ফ্রে নাখোন নামক দুটি এলাকা বেশ হাঁটার উপযোগী, তবে এই বিশাল ও আকর্ষণীয় শহরটি ফুটপাতহীন রাস্তার জন্য কুখ্যাত। কোনো জায়গা সামান্য ফুটপাতের মতো হলেও তা সাধারণত অত্যন্ত সরু এবং অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা থাকে।

সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...