Ajker Patrika

বয়স বাড়লে মানুষ কেন আপনজন থেকে দূরে থাকতে চায়

ফিচার ডেস্ক
ছবি: ফ্রিপিক
ছবি: ফ্রিপিক

বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন স্বাস্থ্য বা মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই অথবা বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অসুবিধা—এসব কারণে বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্ব দেখা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে এই একাকিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, মানুষ নিজেকে অজান্তেই বন্ধু ও সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে যারা হঠাৎ বন্ধু ও পরিবারকে উপেক্ষা করে, এগুলোর সাধারণত অনেক কারণ থাকে।

অতিরিক্ত চাপের মুখোমুখি

যাঁরা ক্রমাগত অতিরিক্ত চাপ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাঁরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়তে পারেন। নিজেদের মানসিক বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে অন্যদের খুশি রাখার চেষ্টা করেন, এমনকি এর জন্য একাকিত্বও সহ্য করতে হয়।

অনুভূতি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন

‘অতিরিক্ত বোঝা’ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে কেউ নিজের অনুভূতিগুলো চাপা দিয়ে রাখে। এতে সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব বাড়লেও তারা সাহায্য চায় না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সাহায্য চাইতে ভয়

যাঁরা জীবনের বেশির ভাগ সময় পরিবার ও বন্ধুদের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা নিজের সমস্যা সামলাতে সাহায্য চাইতে জানেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে তাঁরা আরও চাপ ও একাকিত্ব অনুভব করেন, কিন্তু সাহায্য চাইতে ভয় পান।

ছবি: ফ্রিপিক
ছবি: ফ্রিপিক

বোঝাপড়ায় ঘাটতি

চারপাশের মানুষ, বন্ধু, পরিবার বা সমাজ তার অনুভূতি, মতামত বা অবস্থাকে ঠিকমত বোঝে না, তখন সেই সম্পর্ক বা সমাজ থেকে মানুষ একটু দূরে সরে যায়। কারণ, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে মানুষ নিরাপদ বোধ করে। বোঝাপড়া না থাকলে তারা নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করতে পারে, যা তাদের আলাদা করে দেয় বা একা করে ফেলে।

সমাজে নিজেকে অদৃশ্য বোধ করা

যুবক থাকার সময় সমাজে একজনের যেমন গুরুত্ব থাকে, বয়স হলে অনেকের তা কমতে শুরু করে। এ কারণে অনেকের মনে একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে অনেকের পক্ষে পুরোনো বন্ধু ও কমিউনিটি থেকে দূরে সরে যাওয়া স্বাভাবিক।

শোক কাটানোর সময়

কোনো কারণে শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের একাকিত্ব বেড়ে যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যরা যেমন আগের মতো এগোচ্ছে, শোকগ্রস্তদের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে হয়ে ওঠে না।

নিজের শান্তি রক্ষা করা

আমাদের আশপাশে অনেক সময় এমন মানুষ থাকে, যারা সব সময় নেতিবাচক প্রভাব ছড়ায়। বয়স হয়ে গেলে এমন মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায় বেশির ভাগ মানুষ। এতে মানসিকভাবে শান্ত থাকা যায়। এ ছাড়া অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের ব্যবহার থেকে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এতেও বয়স্করা চুপ হয়ে যান। বয়স বাড়ার সঙ্গে আত্মসম্মান ও মূল্যবোধ বাড়ে। তাই তখন শান্তি রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিরোধ এড়াতে চান

অনেক সময় পরিবার বা আশপাশের মানুষ যেকোনো বিষয়ে ভুল স্বীকার বা শান্তভাবে কথা না বলে বিরোধ তৈরি করেন। বয়স্ক অবস্থায় এমন পরিবেশ সবাই এড়িয়ে চলতে চান। তাই এ ধরনের বিরোধ এড়াতে অনেকে কাছের মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন। বয়সের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ বিশ্রামের বয়সে এসে নেতিবাচক কোনো তর্কে না জড়িয়ে শান্ত হয়ে যান।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু, পরিবার বা সমাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া সব সময় নেতিবাচক নয়। অনেক সময় এটি নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা, সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ বা নিজের ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অগ্রাধিকার, মানসিক স্থিতি এবং সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। তাই যাঁরা হঠাৎ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কম মেলামেশা করছেন, তাঁরা প্রায়ই নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যই করছেন—স্বাভাবিকভাবে এমনটা ধরে নেওয়া যায়।

সূত্র: ইউর ট্যাঙ্গো

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...