Ajker Patrika

টাইডাইয়ের হালকা শীতের পোশাক

সানজিদা সামরিন, ঢাকা 
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ০৬
ছবি সৌজন্য যাদুর বাক্স
ছবি সৌজন্য যাদুর বাক্স

শীতকাল আসতে আর বেশি দেরি নেই। হেমন্তের এই মাঝামাঝি সময়ে দিনে তেমন না হলেও সন্ধ্যার পর শীত ঠিকই অনুভূত হচ্ছে। ফলে রাতে পাতলা চাদর, কটি, শ্রাগ বা ফুলস্লিভ গেঞ্জি পরতে হচ্ছে। অনেকে আবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে ঠান্ডা হাওয়া ঠেকাতে গা ঢাকা দেওয়া যায়, এমন পোশাক ব্যাগে রাখছেন।

কাপড় কেমন হবে

হেমন্ত মানে আবহাওয়া একটু এলোমেলো। দিনে রোদ থাকে বলে গরম লাগে। আবার রাতে ঠান্ডা। সেই ঠান্ডা এবার মোটা পোশাক গায়ে চাপানোর মতোও নয়। ফলে এ সময়কার পোশাকের কাপড় হওয়া চাই আরামদায়ক। হাল ফ্যাশনে এমন নানা ডিজাইন এবং কাপড়ের পোশাক বাজারে এলেও এই ঋতুতে সুতিই যেন একান্ত আপন। তবে গ্রীষ্মের পাতলা সুতি নয়, আবার শীতের মোটা সুতিও নয়, মাঝামাঝি ধরনের কাপড়ের পোশাক আপনাকে বেছে নিতে হবে।

নকশা হবে যেমন

কাপড় তো হলো। এবার পোশাকের নকশা কেমন হবে? খেয়াল করলে দেখবেন, কয়েক বছর ধরে সুতি কাপড়ের টাইডাই পোশাকের কদর বেড়েছে। রোজ অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বাইরে যাওয়ার জন্য সুতির টাইডাই পোশাক বেছে নিচ্ছেন তরুণীরা। ফ্যাশন ডিজাইনাররাও তাঁদের এই পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজও তৈরি করছেন টাইডাই করা সুতি কাপড় দিয়ে। বলা হচ্ছে, এগুলো এখন ট্রেন্ডি পোশাক।

সুতা এবং মোম দিয়ে ফ্রি হ্যান্ড ড্রয়িংয়ে বিভিন্ন

রং দিয়ে করা হয় টাইডাই। এই পোশাকগুলোর বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে নকশার বৈচিত্র্য ও রং। ফুল বাঁধন, ডোরা বাঁধন, কাঠি বাঁধন—এ ধরনের বিভিন্ন বাঁধনের নকশায় টাইডাই পোশাক বাজারে পাওয়া যায়। তবে বরফি, বৃত্ত, সোজা লাইন, চার কোনা, কার্ভ, আঁকাবাঁকা লাইন ইত্যাদি ডিজাইন সাধারণত টাইডাই পোশাকে দেখা যায়।

নিজেই করুন টাইডাই

একসময় আমাদের মা-খালাদের শখের জিনিস ছিল টাইডাই। এক রঙের কাপড়, সুতা ও রং কিনে এনে নিজেই বাসায় করতেন এই নকশা। অনেকে পাড়ায় পাড়ায় শেখাতেনও বটে। কিন্তু এখন টাইডাইয়ের কাপড় প্রায় সব মার্কেটে পাওয়া যায়। তবে অনেকে এখনো শখের বশে ইউটিউবে টিউটরিয়াল দেখে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করে নিজের ডিজাইন দিয়ে তৈরি করেন টাইডাই করা পোশাক। এ জন্য কাপড় পাওয়া যাবে যেকোনো মার্কেটে। আর আনুষঙ্গিক যা যা লাগবে, সেগুলো যেকোনো শহরের নিউমার্কেট বা হকার্স মার্কেটে পাওয়া যাবে। এটাও বলে রাখতে হয়, দেশের যেকোনো ফ্যাশন হাউসে এবং স্থানীয় নিউমার্কেট কিংবা সুপার মার্কেটগুলোতে বিভিন্ন নকশার টাইডাই কাপড়ের পোশাক পাওয়া যায়।

টাইডাই করা পোশাক ঘন ঘন না ধোয়া ভালো। বাইরে থেকে ফিরে ফ্যানের বাতাসে পোশাকটি শুকাতে দিন। ঘামে ভেজা ভাব চলে গেলে ভাঁজ করে রেখে দিন। মাঝে মাঝে আলমারি থেকে বের করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। তবে অবশ্যই উল্টো করে শুকাতে দেবেন।
মেহবুব জাদু
ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী যাদুর বাক্স

ফ্যাশন ডিজাইনার ও যাদুর বাক্সের স্বত্বাধিকারী মেহবুব জাদু নারীদের জন্য সুতি কাপড়ের ওপর টাইডাই ব্লেজার ও স্কার্টের কো-অর্ড সেট, কটি ও স্কার্ট নকশা করেছেন। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য রয়েছে ব্লেজার ও শার্ট। হালকা শীতের এসব পোশাক ছাড়াও টাইডাই কাপড়ে শাড়ি ও পাঞ্জাবিও নকশা করেছেন তিনি। থিমেটিক রং হিসেবে সব পোশাকেই ব্যবহৃত হয়েছে সি-ব্লু রং। এই ধরনের পোশাকগুলোর মধ্য়ে ব্লেজার ও স্কার্টের কো-অর্ড সেটের বহুমাত্রিক ব্যবহার রয়েছে বলে জানান মেহবুব জাদু। তিনি বলেন, আধুনিক ফ্যাশনে কো-অর্ডের ব্লেজার ও স্কার্টকে আলাদাভাবেও পরা যাবে। যেমন টাইডাই করা সি-ব্লু ব্লেজারের সঙ্গে সাদা বা ধূসর রঙের পেনসিল স্কার্ট, এ-লাইন স্কার্ট বা মিডি স্কার্ট পরা যাবে। চাইলে প্যান্টের সঙ্গেও সুন্দরভাবে পরা যাবে। অন্যদিকে পেশাদার পরিবেশ কিংবা অনুষ্ঠানের জন্য টাইডাই করা স্কার্টের সঙ্গে জুতসই টপ বেছে নিতে পারলেই দারুণ লুক বের করা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...