Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলার মাদুরো ও তাঁর সরকারকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর মিত্রদের একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘোষণার ফলে আজ সোমবার থেকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা আরও বাড়ল।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরো ও তাঁর সরকারি মিত্রদের একটি গ্রুপ ‘কার্টেল দে লস সোলস’ নামে পরিচিত। এটিকেই বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (Foreign Terrorist Organization) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্টেল দে লস সোলস হলো সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর চেয়েও বেশি কিছু—যা মূলত মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত সামরিক বাহিনীর ভেতরের একটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক।

তবে মাদুরো বরাবরই মাদক পাচারে তাঁর ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, এই ঘোষণার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরোর সম্পদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুমোদন পাবেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রসাশনের এই পদক্ষেপ সরাসরি প্রাণঘাতী সামরিক শক্তি ব্যবহারের স্পষ্ট অনুমোদন দেয় না। তবে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ক্ষমতা বাড়বে।

এই ঘোষণার আগে থেকেই মার্কিন সামরিক বাহিনী অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার নামের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতিমধ্যে এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ ও ১৫ হাজারের বেশি সেনা জড়ো করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই মাদকবিরোধী অভিযানে ডজনখানেক লোক নিহতও হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছয়টি মার্কিন যুদ্ধবিমান (যার মধ্যে সুপারসনিক এফ/এ-১৮ই ফাইটার জেট ও বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান রয়েছে) প্রদর্শন করে, যা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া।

হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার ভেতরে সম্ভাব্য বিভিন্ন সামরিক হামলার বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার বা সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা, বিশেষ বাহিনীর অভিযান অথবা কিছু না করাও একটি বিকল্প হিসেবে থাকছে।

তবে মার্কিন জনগণের বিরাট অংশ এই সামরিক হস্তক্ষেপের বিপক্ষে। গতকাল রোববার প্রকাশিত সিবিএস নিউজ ও ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন, সমর্থন করছে মাত্র ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি ৭৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তারা অবৈধ অভিবাসী ও অবৈধ মাদকের প্রবেশ কমানোর জন্য কাজ করছে। তবে সরকার পরিবর্তন (regime change) এসব প্রচেষ্টার একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ট্রাম্প আশা করছেন যে এই চাপ মাদুরোকে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ ছাড়াই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করার জন্য যথেষ্ট হবে।

ট্রাম্প অবশ্য কূটনৈতিক সমাধানের প্রতিও কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, মাদুরো ‘কথা বলতে চান’। পরে তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে মাদুরোর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

সিএনএনের পক্ষ থেকে মাদুরোর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার অবস্থা জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।

এদিকে, উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ভেনেজুয়েলার আকাশপথকে ‘সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে সতর্ক করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...