Ajker Patrika

পশ্চিম তীর দখলে মরিয়া ইসরায়েল, ১০ মাসে বাস্তুচ্যুত ৩২ হাজার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০: ১২
পশ্চিমতীরকে জেরুসালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে ই–১ নামে একটি অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে ইসরায়েল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
পশ্চিমতীরকে জেরুসালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে ই–১ নামে একটি অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে ইসরায়েল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

দখলকৃত গাজা উপত্যকার মতো পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি নীতি হাজারো ফিলিস্তিনিকে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করছে। আন্তর্জাতিক আইনকে প্রকাশ্য অবজ্ঞা করেই এই কর্মকাণ্ড চলছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে বিভিন্ন শরণার্থীশিবির থেকে উৎখাত করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত, অর্থাৎ ১০ মাসের বেশি সময়ে মাত্র তিনটি শরণার্থীশিবির থেকে ৩২ হাজার ফিলিস্তিনিকে উৎখাত করা হয়েছে। জানুয়ারিতে শুরু হওয়া জেনিন, নুর শামস ও তুলকারেম শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি অভিযান ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বড় গণবসতিচ্যুতির ঘটনা বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সহিংসতা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলিদের হাতে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বেআইনি বসতিতে থাকা ইসরায়েলিরাও হামলা বাড়িয়ে তুলছে।

পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত এলাকায় ফিলিস্তিনি প্রশাসনের প্রতীকী নিয়ন্ত্রণও নেই, সেখানে জাতিসংঘের হিসাবে নভেম্বরের আগেই ইসরায়েলি ধ্বংসে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমেও আরও ৫০০ জন গৃহহীন হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব বাড়ি অনুমতি ছাড়া নির্মিত, কিন্তু এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণের অনুমতি পাওয়া কার্যত অসম্ভব।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার তদন্তের আহ্বান জানালেও পশ্চিম তীরে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েল খুব কমই জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছে। শরণার্থীশিবিরে অভিযানে ইসরায়েলি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেত্সেলেমের নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের জীবন এখন সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত। গাজায় যা হচ্ছে, তা দেখেই বোঝা যায় ইসরায়েল আরও ভয়াবহ সহিংসতার সক্ষমতা রাখে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েলকে থামানোর অভ্যন্তরীণ কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’

পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলের লক্ষ্য কী

ইসরায়েল সরকারের বহু শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, লক্ষ্য হলো পশ্চিম তীরকে দখল করে নেওয়া। গত অক্টোবরে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট একটি প্রাথমিক খসড়া বিল পাস করে, যাতে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে এটিকে গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয়।

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ, যিনি নিজেও একটি অবৈধ বসতিতে থাকেন, বহুবার বলেছেন, পশ্চিম তীরকে তিনি ‘ইসরায়েলের অংশ’ করতে চান। ধর্মীয় জায়োনিস্ট পার্টির এক বৈঠকে স্মতরিচ বলেন, ‘জুডিয়া ও সামারিয়াকে (পশ্চিম তীর) রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা মাটিতে বাস্তবতা তৈরি করছি।’ ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানায়, তিনি আরও বলেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্যই হলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানো।’

বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে বসবাস করছে। চলতি বছরের আগস্টে স্মতরিচ নতুন ‘ই–১’ বসতি প্রকল্প ঘোষণা করেন, যাতে ৩ হাজার নতুন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পূর্ব জেরুজালেমকে পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। স্মোত্রিচের ভাষায়, এটি ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকেই কবর দেবে।’

ইসরায়েল কেন এত ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করছে

ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম তীরের এলাকাগুলোতে কর্তৃপক্ষ সাধারণত পরিকল্পনা আইন ভঙ্গের অভিযোগ তোলে, অথবা দাবি করে যে—ফিলিস্তিনিরা ‘সামরিক এলাকা’য় বাড়ি নির্মাণ করেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানায়, এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণের অনুমতি পাওয়া ‘প্রায় অসম্ভব।’

জেনিন, নুর শামস ও তুলকারেম শিবিরে ইসরায়েল বলছে যে ‘অপারেশন আয়রন ওয়াল’ নামে অভিযান চালিয়ে তারা প্রতিরোধ শক্তি দমন করছে। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও বহু বাসিন্দা এখনো ঘরে ফিরতে পারছে না। বুলডোজার দিয়ে ব্যাপক ধ্বংস চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব ধ্বংস ছিল ‘কার্যগত প্রয়োজনীয়তা।’ বাসিন্দাদের আপিলের সুযোগ দেওয়া হলেও সব আবেদনই ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও।

এদিকে, ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতিতে থাকা ইসরায়েলি বাসিন্দাদের হামলা বাড়ছে দ্রুত। অনেকের ধারণা, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে বসতি স্থাপনকারীদের প্রভাব থাকায় তারা আরও উৎসাহিত। গত অক্টোবরে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ওসিএইচএ রেকর্ড করে, এক মাসে ২৬০ টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে আটটি। ২০০৬ সালে সংস্থা তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর এটিই সর্বোচ্চ।

জলপাই তোলার মৌসুমে এসব হামলা আরও বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও কিছু করে না। প্যালেস্টাইন ফার্মার্স ইউনিয়ন জানায়, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ‘বিচ্ছিন্ন নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের গ্রামীণ জীবন ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।’ ফিলিস্তিনিদের দাবি, এ সহিংসতা তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে এবং শেষ পর্যন্ত ভূমি থেকে বিতাড়িত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাংবাদিকের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল সরকার, প্রতিবাদে জমি দিলেন সমাজকর্মী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সাংবাদিক আরফাজকে জমি লিখে দিয়েছে সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক আরফাজকে জমি লিখে দিয়েছে সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তিশালী ঘাঁটি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্র।

জম্মুর জিউয়েল এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর হাতে জমির নথি তুলে দেওয়ার সময় কেঁদে ফেলেন। তিনি জম্মুতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখার শপথ নেন।

আরফাজের উদ্দেশে কুলদীপ বলেন, ‘যদি আমাকে ভিক্ষাও করতে হয়, তবুও আমি তোমার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করব। হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির এই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব চিরকাল থাকবে। তুমি একজন ভালো মানুষ। তোমার সন্তানেরা সুখে থাকুক।’

সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর বাড়িটি প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রের যোগসূত্র নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। আরফাজের তাঁর প্রতিবেদনে উপ-পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্পর্কের সূত্রে আবিষ্কার করেছিলে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুতে একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁসের পর সামনে আসে।

যদিও জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবি, আরফাজের বাড়িটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, আরফাজের মাদক সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নেই।

সাংবাদিকের ভেঙে ফেলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষের কাছে তাঁবুর অস্থায়ী বাসস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কুলদীপ শর্মা সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তার বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে বসে আছে। সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে গৃহহীন করা হচ্ছে।’

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা ও তাঁর মেয়ে তন্বী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা ও তাঁর মেয়ে তন্বী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মার মেয়ে তন্বী শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বাবার এই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত। রাতারাতি কাউকে কীভাবে গৃহহীন করা যায়? তিনি (আরফাজ) আমার ভাইয়ের মতো। শুধু আমি নই, আমার পরিবার এবং এলাকার সবাই তাঁর পাশে আছে।’ তন্বী শর্মা আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরি করার রাজনৈতিক প্রচার সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।’

এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরফাজের বাবা গোলাম কাদিরও। কুলদীপ শর্মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাঁদের পরিবারকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমার কাছে মূল্যবান। আর কী চাইতে পারি! এই কাজগুলোতেই বোঝা যায়, জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখনো আছে।’

গোলাম কাদির অভিযোগ করেন, জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (জেডিএ) বেছে বেছে তাঁদের একতলা বাড়িটি টার্গেট করেছে। এই বাড়ি প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক ‘মরলা’ জমিতে বানানো হয়েছিল। এটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। যদিও জেডিএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাদির কান্নাভেজা চোখে বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে সে আমাদের জন্য একটা ভালো জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু আমি সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়েছি, বৃহত্তর জনস্বার্থে যদি জীবনও দিতে হয়, তবুও যেন সে দ্বিধা না করে।’

সাংবাদিক রেশমি শর্মা, যিনি প্রথম এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনে করেন, তিনি জানান, কুলদীপ শর্মা আরফাজের ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘নিউজ সেতার ইন্ডিয়া’-এর একজন নিয়মিত দর্শক ও ফলোয়ার। তিনি আরফাজের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েই জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

এয়ারবাসে ত্রুটি, বহরের অর্ধেক উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।

এয়ারবাসের ‘এ ৩২০’ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বেশির ভাগ বিমানই পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন ও বাতিল হতে পারে। তবে বিমানবন্দরে সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।

এয়ারবাস জানায়, গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো যাওয়ার পথে জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তের পর তারা এ সমস্যাটি শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওই ফ্লাইটে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে বিমানটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করে।

কোম্পানিটির সর্বাধিক বিক্রিত মডেল এ৩২০ ছাড়াও এ৩১৮, এ৩১৯ এবং এ৩২১ মডেলেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ১০০ এয়ারবাস বিমানে অপেক্ষাকৃত সহজ একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। এই আপডেটটি হতে সাধারণত তিন ঘণ্টার মতো সময় নেয়।

তবে অবশিষ্ট ৯০০ বিমান অপেক্ষাকৃত পুরোনো সংস্করণের হওয়ায় সেগুলো পুনরায় আকাশে ওড়াতে অনবোর্ড কম্পিউটার বদলাতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব বিমান যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ কাজ সম্পন্ন করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রতিস্থাপনযোগ্য কম্পিউটার কত দ্রুত পাওয়া যায় তার ওপর।

এ পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।

বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিনকে উদ্ধৃত করে বিবিসি নিউজ জানায়, পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক। যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনের পৃথক পদ্ধতির ওপর।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে বিঘ্ন তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিছুটা বিঘ্ন দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। অন্যদিকে হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনো ফ্লাইট বাতিলের অভিজ্ঞতা পায়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখেনি।

এয়ারলাইন্সভেদেও বিঘ্নের মাত্রাতে পার্থক্য দেখা গেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এ সমস্যায় তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, তারা ইতিমধ্যে আপডেট কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভ্রমণ সাংবাদিক সাইমন ক্যালডার বলেন, অন্য যেকোনো এয়ারলাইনের চেয়ে এয়ার ফ্রান্স বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে তাদের প্যারিস হাব থেকে আসা-যাওয়ার নির্ধারিত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ইজিজেট জানায়, তারা কিছুটা বিঘ্নের আশঙ্কা করছে। তবে সফটওয়্যার আপডেট শুরু করেছে এবং অনেক বিমানেই ইতিমধ্যে আপডেট সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইনটি।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম থ্যাংকসগিভিং–এর সময়টাতে এই সফটওয়্যার সমস্যাটি সামনে আসে।

আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের ৩৪০টি বিমান এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে জানিয়েছে তারা। এয়ারলাইনটি আরও জানায়, আপডেটগুলোর বড় অংশই শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের কার্যক্রমে সমস্যাটির প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন জেটস্টার নিশ্চিত করেছে, তাদের বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ সমস্যার আওতায় পড়েছে। এ সমস্যায় তারা ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অধিকাংশ বিমানে সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হলেও পুরো সপ্তাহান্তজুড়ে ভ্রমণে বিঘ্ন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পলিসি ডিরেক্টর টিম জনসন জানান, এয়ারবাসের নোটিশের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগামী কয়েক দিনে কিছু বিঘ্ন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা থাকার কারণে বিমান পরিবহন এখনো সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থাগুলোর একটি।’

ব্যাপক হারে ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাকে খুবই বিরল একটি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন টিম জনসন।

পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর প্রভাব সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত হয়েছে এবং দ্রুতই সমাধান করা হচ্ছে। এটি আশাব্যঞ্জক। বিষয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চ নিরাপত্তা মানকে তুলে ধরে।’

এ৩২০ বিমানে যে সমস্যাটি শনাক্ত হয়েছে, তা বিমানের উচ্চতা নির্ণয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কম্পিউটিং সফটওয়্যারকে ঘিরে। অনেক উচ্চতায় সূর্য থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ মাঝে মাঝে সফটওয়্যারের তথ্য বিকৃত করে দিতে পারে বলে শনাক্ত করেছে এয়ারবাস।

এ কারণেই গত অক্টোবরের ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যায়। যদিও নির্মাতাপক্ষ দাবি করেছে, এটাই এ ধরনের একমাত্র ঘটনা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এক জরুরি নির্দেশনায় বলেছে, যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি বিমানে সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। বিমানগুলোকে যাত্রীবিহীন অবস্থায়, যাকে ‘ফেরি ফ্লাইট’ বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

এ৩২০ মডেলের বিমানগুলো ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ প্রযুক্তির। অর্থাৎ ককপিটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিমানের যে অংশগুলো উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি যান্ত্রিক সংযোগ নেই। পাইলটের নির্দেশনা কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো কাজ সম্পন্ন করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

তরুণ নেতার চোখধাঁধানো বিয়ে, খরচের কয়েক কোটি রুপি লেনদেন রাইড শেয়ার চালকের অ্যাকাউন্টে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪: ০৭
রাইড শেয়ার চালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি রুপির বেশি লেনদেন। ছবি: সংগৃহীত
রাইড শেয়ার চালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটি রুপির বেশি লেনদেন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গুজরাট রাজ্যের এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গত বছর উদয়পুরের তাজ আরাবল্লি রিসোর্টে হওয়া ওই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গুজরাটের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আদিত্য জুলা। তাঁর দিকেই এখন ভারতের আর্থিক দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি) নজর।

ইডি-এর সাম্প্রতিক তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একটি অবৈধ অনলাইন জুয়ার চক্রের কালো টাকা এক রাইড শেয়ার বাইক চালকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই বিয়েতে খরচ করা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সী ওই বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে অবিশ্বাস্য অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। ইডি-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে এই অ্যাকাউন্টে ৩৩১ দশমিক ৩৬ কোটি রুপির বেশি জমা করা হয়েছিল। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই বিপুল অর্থের মধ্যে থেকে ১ কোটি রুপির বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে ওই বিলাসবহুল বিয়ের পেছনে। অথচ ওই বাইক চালকের সঙ্গে বর বা কনে—কোনো পক্ষেরই কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।

ইডি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অ্যাকাউন্টটি ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ এটিতে বিভিন্ন অজ্ঞাত উৎস থেকে টাকা ডিপোজিট বা জমা করা হতো এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবার অন্যান্য সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই লেনদেনের একটি সূত্র অবৈধ জুয়ার চক্র ‘1 xBet’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইডি এখন এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের উৎস ও গন্তব্যগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, তৃতীয় পক্ষের এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে অর্থের আসল উৎস গোপন করার এবং সরকারি নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। এক বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে কয়েক শ কোটি রুপির লেনদেন দেখে কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত।

ইডির একজন জ্যেষ্ঠ সতর্ক করে বলেছেন, আর্থিক অপরাধে এই ধরনের ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর ব্যবহার ভারতে ক্রমেই বাড়ছে। বহু মানুষ এটিকে নিরীহ ভেবে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস অন্যদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু যখন এই অ্যাকাউন্টগুলো অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই সাধারণ মানুষটিকেও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

ভারতে এই ধরনের বিলাসবহুল বিয়ের অনুষ্ঠান বা অন্যান্য আয়োজন এখন ঘন ঘনই দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, কীভাবে মিউল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে উচ্চবিত্তের উদ্‌যাপন এবং অন্যান্য ব্যয়বহুল ইভেন্টে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এতে বিপদে পড়ছে সাধারণ মানুষই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

অস্ট্রিয়ায় বিদ্রোহী ৩ নানকে শর্ত দিল চার্চ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সিস্টার বের্নাডেট (বায়ে), রেজিনা (মাঝে) ও রিটা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
সিস্টার বের্নাডেট (বায়ে), রেজিনা (মাঝে) ও রিটা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

অস্ট্রিয়ার সাল্জবুর্গের কাছে এলসবেথেন অঞ্চলের এক পরিত্যক্ত কনভেন্টে ফিরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিন প্রবীণ নান বা খ্রিষ্ট ধর্মীয় সন্ন্যাসিনী। আপাতত তাঁরা সেখানেই থাকতে পারবেন। তবে শর্ত হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির চার্চ কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ৮৮ বছর বয়সী সিস্টার বের্নাডেট, ৮৬ বছর বয়সী রেজিনা ও ৮২ বছর বয়সী রিটা—তিনজনই একসময় গোল্ডেনস্টাইন ক্যাসেলের পাশের স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কয়েক মাস আগেই তাঁরা সীমাবদ্ধতা ভেঙে নিজেদের ক্যাথলিক কেয়ার হোম থেকে বেরিয়ে হঠাৎ করেই পুরোনো কনভেন্টে ফিরে যান। একসময় তাঁরা সেখানেই বসবাস করতেন।

এই ঘটনার পর বিশ্ব গণমাধ্যমে শোরগোল পড়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা ব্যাপক সমর্থনও পান। তাঁদের সাবেক শিক্ষার্থীরা খাবার-দাবার, পোশাক, চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন সহায়তা করেন। এমনকি কনভেন্টের তৃতীয় তলায় ওঠার জন্য একটি চেয়ারলিফটও বসিয়ে দেন।

তবে নানদের ধর্মীয় পর্যবেক্ষক রাইখার্সবার্গ অ্যাবির প্রোভোস্ট মার্কুস গ্রাসল শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন, এই তিন প্রবীণ নারী ওই পুরোনো পাথুরে ভবনে নিরাপদে বাস করতে পারবেন না। তাঁর অভিযোগ—তাঁরা নাকি আনুগত্যের শপথ ভেঙেছেন; যদিও সন্ন্যাসিনীরা তা অস্বীকার করেছেন।

অবশেষে শুক্রবার চার্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রাসলের প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আপাতত সন্ন্যাসিনীরা কনভেন্টে থাকতে পারবেন। তবে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। বাইরের কোনো অতিথিও কনভেন্টে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং চলমান আইনি বিরোধও সমাধান করতে হবে। সন্ন্যাসিনীদের স্বাস্থ্য অবনতি হলে তাঁদের এলসবেথেন নার্সিং হোমে নিবন্ধিত করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হবে।

তবে রাতেই সন্ন্যাসিনীরা বিবৃতি দিয়ে জানান, কোনো আলোচনাই নাকি তাঁদের সঙ্গে করা হয়নি। চার্চের প্রস্তাবকে তাঁরা একতরফা ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে, ‘যত দিন নতুন নির্দেশ না আসে’ ধরনের বাক্যাংশকে তাঁরা ‘আইনগতভাবে মূল্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের অভিযোগ—চার্চের প্রস্তাবটি একপ্রকার বিধিনিষেধমূলক চুক্তি, যা তাঁদের আইনি সহায়তা নেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে চায়।

তাঁরা মত দিয়েছেন—চার্চ কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই সমাধান চায়, তবে সন্ন্যাসিনীদের দাবি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যথাযথ আলোচনায় বসতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত