Ajker Patrika

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে: গবেষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
গত ১০ অক্টোবর দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনগুলোর পাশে শিশু কোলে এক নারী অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি
গত ১০ অক্টোবর দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ভবনগুলোর পাশে শিশু কোলে এক নারী অন্যান্য ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত এক লাখ ফিলিস্তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারে। এমনটাই উঠে এসেছে জার্মানির শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি নতুন গবেষণায়। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ (এমপিআইডিআর) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গবেষণা বলছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নিহতের সংখ্যার চেয়ে গাজায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমপিআইডিআর তাদের পরিসংখ্যানে বিভিন্ন উন্মুক্ত সূত্র ব্যবহার করেছে; এর মধ্যে রয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বেত্সেলেম, জাতিসংঘের দুটি সংস্থা এবং ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো।

প্রতিবেদনে হিসাব দেওয়া হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত গাজায় সরাসরি যুদ্ধজনিত সহিংসতায় ৭৮ হাজার ৩১৮ জন নিহত হন। পরবর্তী বিশ্লেষণে গবেষকেরা দেখেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের মধ্যেই এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজার ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে। কিন্তু এমপিআইডিআর-এর গবেষণা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৩ সালে গাজার মানুষের গড় আয়ু ৪৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪৭ শতাংশ কমে যায়। যুদ্ধ না হলে যে গড় আয়ু হওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় ৩৪ দশমিক ৪ এবং ৩৬ দশমিক ৪ বছরের ক্ষতি হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। দুই বছর ধরে অবরুদ্ধ ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই হামলাকে জাতিসংঘ, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, গণহত্যা গবেষক এবং বহু বিশ্বনেতা ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গাজার অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে ‘মানুষের সৃষ্টি করা অতল গহ্বর’ হিসেবে।

তবে এমপিআইডিআর গণহত্যার প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেনি। গবেষকেরা শুধু সংঘাত-সম্পর্কিত মৃত্যুহারের পরিসংখ্যান ও মডেলিং তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, গাজায় নিহতদের বয়স-লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান জাতিসংঘের শিশু মৃত্যুহার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে নথিভুক্ত কয়েকটি গণহত্যার ধরণকেও স্মরণ করিয়ে দেয়।

গবেষণা-দলের সদস্য আনা সি গোমেজ-উগার্তে বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণে কেবল সরাসরি যুদ্ধজনিত মৃত্যুই ধরা হয়েছে। যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী এবং আরও ব্যাপক হয়। আমাদের হিসাব আসল মৃত্যুহারের ন্যূনতম সীমা বোঝায়।’

অন্যদিকে, ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র-জোট মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তাদের হিসেবে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও অন্তত ৩৩৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...