Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনায় ৬টি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল ভেনেজুয়েলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯: ৫৪
এয়ারলাইন নিষিদ্ধের ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ছবি: বিবিসি
এয়ারলাইন নিষিদ্ধের ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার জেরে একযোগে ছয়টি বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের অবতরণ ও উড্ডয়নের অনুমতি বাতিল করেছে ভেনেজুয়েলা। এর আগে মার্কিন সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলার কারাকাসগামী ফ্লাইটগুলো স্থগিত করেছিল এই এয়ারলাইনগুলো। পরে ভেনেজুয়েলা তাদেরকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বুধবার (২৭ নভেম্বর) থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ হওয়া এয়ারলাইনগুলো হলো—আইবেরিয়া, টিএপি পর্তুগাল, গোল, লাতাম, আভিয়াঙ্কা এবং টার্কিশ এয়ারলাইনস। ভেনেজুয়েলার এই সিদ্ধান্তে হাজারো যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। তবে কিছু ছোট ছোট এয়ারলাইন এখনো দেশটিতে যাতায়াত করছে।

সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ঘিরে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ১৫ হাজার সেনা এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড মোতায়েন করেছে। ওয়াশিংটন বলছে, এই অভিযান মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে এত বড় সামরিক উপস্থিতি সাধারণত দেখা যায় না।

অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত অন্তত ২১টি নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে ৮০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। তবে ওই নৌকাগুলোতে মাদক ছিল—এমন কোনো প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করতে পারেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

ভেনেজুয়েলার মতে, এই সামরিক অভিযান আসলে তাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা। গত বছর তাঁর পুনর্নির্বাচনকে বিরোধী দল ও যুক্তরাষ্ট্র সহ বহু বিদেশি সরকার ‘কারচুপির মাধ্যমে জয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতেই গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন আকাশপথে সতর্কতা জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অথোরিটি (এফএএ)। সংস্থাটি জানিয়েছিল, ভেনেজুয়েলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং সামরিক তৎপরতা বেড়ে গেছে। তাই সব উচ্চতায় সতর্কতার সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। এই সতর্কতার পরই ভেনেজুয়েলাগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছিল নিষিদ্ধ হওয়া এয়ারলাইনগুলো।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থা আইএটিএ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও ভেনেজুয়েলা তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। তবে উত্তেজনার মাঝেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কিছুটা কূটনৈতিক সংকেত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘সহজ উপায়ে হোক বা কঠিন উপায়ে’ প্রয়োজনে তিনি মাদুরোর সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অন্যদিকে মাদুরো সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, রাজধানী কারাকাসের জীবন স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...