Ajker Patrika

বাড়িতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান—জেলেনস্কির শীর্ষ সহকারী ইয়ারমাকের পদত্যাগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আন্দ্রি ইয়ারমাক। ছবি: সিএনএন
আন্দ্রি ইয়ারমাক। ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহকারী ও প্রধান শান্তি আলোচক আন্দ্রি ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। বাড়িতে ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইয়ারমাককে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো। সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের শীর্ষ প্রতিনিধি হিসেবেও ছিলেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি জানান, অফিস পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইয়ারমাক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। এই পদত্যাগ এমন সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন করে চাপ দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার নতুন ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

বিবিসি বলেছে, ইয়ারমাক টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাসায় ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো ও স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস তল্লাশি চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সংস্থাগুলো এই তল্লাশির কারণ প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, দুই সপ্তাহ আগে জারি করা জ্বালানি খাতের বড় ধরনের কিকব্যাক তদন্তের সূত্রেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই কেলেঙ্কারিতে ইতিমধ্যে জেলেনস্কির দুই মন্ত্রীও পদ হারিয়েছেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের বিনোদন জগতের সাবেক সহকর্মীসহ আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও তদন্তের আওতায় রয়েছেন। তবে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা ইয়ারমাকের পদত্যাগ জেলেনস্কির জন্য বিশেষ অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সামনের দিনগুলোতে শান্তি আলোচনায় কে ইউক্রেনের নেতৃত্ব দেবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত নতুন প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করবেন। পরবর্তী বৈঠকে দেশটির সামরিক প্রধান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা মার্কিন দলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন।

এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ২৮ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাবে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রধান দাবি—যেমন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড ত্যাগ, সেনাবাহিনীর আকার কমানো ও ন্যাটোর সদস্য না হওয়ার শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির পর যুক্তরাষ্ট্র পরে পরিকল্পনাটি সংশোধন করে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনকে ইউরোপের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধ চলা অবস্থায়ও জেলেনস্কি একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দুর্নীতির কারণে বরখাস্ত করেছেন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনও বলেছে, সাম্প্রতিক তদন্ত প্রমাণ করে ইউক্রেনের দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবেই কাজ করছে।

কিন্তু ইয়ারমাকসহ ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জেলেনস্কির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে এবং এটি এমন এক সংকটময় সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...