Ajker Patrika

থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১৬২, ব্যর্থতা স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভয়াবহ এই বন্যায় থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি প্রদেশের ১৪ লাখের বেশি পরিবার এবং প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
ভয়াবহ এই বন্যায় থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি প্রদেশের ১৪ লাখের বেশি পরিবার এবং প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ জন। এই পরিস্থিতিতে সরকার বন্যা ব্যবস্থাপনায় নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছে। এরপর আজ শনিবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য নতুন করে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এপি থাইল্যান্ডের দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণের ১২টি প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যায় ১৪ লাখের বেশি পরিবার এবং ৩৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

থাই সরকারের মুখপাত্র সিরিপং অঙ্গাসাকুলকিয়াত ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন, আটটি প্রদেশে মোট ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সংখলা প্রদেশেই অন্তত ১২৬ জন মারা গেছে।

সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আরও জানান, রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাত ইয়াই হাসপাতালের জন্য ১০০ মিলিয়ন বাত (প্রায় ৩.১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুদান দেবেন। এ ছাড়া বন্যায় নিহত সব ক্ষতিগ্রস্তের শেষকৃত্যের জন্য রাজা রাজকীয় সহায়তা দেবেন।

এদিকে, ভয়াবহ বন্যা ও প্রাণহানির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বন্যা ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘সরকার তাদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সরকার আগামী সপ্তাহ থেকে বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু করবে। তিনি অন্যান্য ত্রাণ ব্যবস্থারও রূপরেখা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর মেরামতের জন্য স্বল্পমেয়াদি সুদবিহীন ঋণ দেওয়া হবে।

থাই দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সব প্রদেশে পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে ফিরে আসছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখছে। আসবাব ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই বন্যায় হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছিল। রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল এবং নিচু ভবন ও যানবাহন পানিতে ডুবে গিয়েছিল। উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, তত মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ইন্দোনেশিয়ায় এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়-তাড়িত প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩০৩ জনে পৌঁছেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, উদ্ধারকারীরা এখনো ডুবে যাওয়া ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেনি।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) শনিবার জানিয়েছে, এই সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় উদ্ধারকর্মীরা আরও কিছু মৃতদেহ উদ্ধার করার পর এই সংখ্যা বেড়েছে।

ভিয়েতনামেও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এশিয়ার আরও এক দেশ শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহর প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৩২ জনে পৌঁছেছে। এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এখনো ১৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

ডিএমসি শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানিয়েছে, চরম আবহাওয়ার কারণে সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ সরকারি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বিয়ে করে ইতিহাস গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এ সঙ্গী জোডি হেইডনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এ সঙ্গী জোডি হেইডনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

বিয়ে করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। দায়িত্বে থাকা প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে দেশটির ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন তিনি।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানী ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এ সঙ্গী জোডি হেইডনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যান্থনি আলবানিজ। আলবানিজের ছেলে নাথান এবং হেইডনের বাবা-মাসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুর উপস্থিতিতে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

এক যৌথ বিবৃতিতে আলবানিজ ও হেইডন বলেন, ‘পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সামনে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ জীবন একসঙ্গে কাটানোর অঙ্গীকার করতে এবং ভালোবাসা ভাগ করে নিতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত।’

বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। হেইডনকে বিয়ের কক্ষে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা-মা। এ সময় বাজতে থাকে মার্কিন গায়ক বেন ফোল্ডসের গান ‘দ্য লাকিয়েস্ট’।

হেইডন পরেছিলেন সিডনি ডিজাইনার রোমান্স ওয়াজ বর্ন-এর তৈরি ড্রেস। আর আলবানিজ পরেছিলেন এমজে বেল-এর তৈরি স্যুট। বিয়ের আংটি নেওয়া হয়েছিল সিডনির লেইচার্ডের সের্রোন জুয়েলার্স থেকে।

হেইডনের পাঁচ বছরের ভাগ্নি এল্লা ‘ফ্লাওয়ার গার্ল’-এর দায়িত্ব পালন করে এবং আংটি বহনের দায়িত্ব পালন করে আলবানিজের কুকুর টোটো। অনুষ্ঠানে সাক্ষী ছিলেন হেইডনের ভাই প্যাট্রিক এবং আলবানিজের বোন (কাজিন) হেলেন গোল্ডেন।

অনুষ্ঠানের পর দম্পতি বিয়ের কক্ষ থেকে বের হন মার্কিন গায়ক স্টিভি ওয়ান্ডারের গান ‘সাইনড, সিলড, ডেলিভারড (আই’ম ইয়োরস)’-এর তালে তালে। তাঁদের প্রথম নৃত্য ছিল ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার গান ‘দ্য ওয়ে ইউ লুক টুনাইট’-এর সুরে।

বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

এই দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায়।

২০২৫ সালের অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশনের পর এবং আলবানিজের বিপুল সংখ্যক ভোটে পুনর্নির্বাচনের ছয় মাস পর এই বিয়ের আয়োজন হলো। এ বিয়ে নিয়ে তেমন কোনো তথ্য লেবার পার্টি প্রধানের অফিস থেকে প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, বিয়ের খরচ এই দম্পতি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ট্রেজারার জিম চ্যালমার্স ও তাঁর স্ত্রী লরা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং, অর্থমন্ত্রী কেটি গ্যালাঘার এবং এএলপি ন্যাশনাল সেক্রেটারি পল এরিকসন। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ টিম গারট্রেলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ বছর আগে মেলবোর্নে এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়েছিল হেইডন ও আলবানিজের। সেখানে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা আলবানিজ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে আলবানিজের সঙ্গে পরিচয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত হন হেইডন।

এক সাক্ষাৎকারে হেইডন বলেন, “তাঁর একটি পাবলিক প্রোফাইল ছিল। তাই আমি জানতাম আমরা দুজনই একই ফুটবল দলের অনুসারী, আমরা দুজনেই ইনার ওয়েস্টকে ভালোবাসি। মনে পড়ে আমি সেই ডাইরেক্ট মেসেজে বলেছিলাম, ‘হেই, আমরা দুজনেই সিঙ্গেল!’ ”

আলবানিজ-হেইডন দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
আলবানিজ-হেইডন দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

গত বছর ভালোবাসা দিবস ‘দ্য লজ’-এর বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেইডনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন আলবানিজ। এনগেজমেন্ট রিংও তৈরি করে এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আলবানিজের সহানুভূতি এবং সদয়তার স্বভাবের প্রশংসা করেন হেইডন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার স্বাধীনতাকে সম্মান করেন। তিনি দয়ালু ও চিন্তাশীল।’

সিডনির ব্যাংকস্টাউনের শিক্ষক দম্পতির সন্তান হেইডন বড় হয়েছেন সেন্ট্রাল কোস্টে। বর্তমানে নিউ সাউথ ওয়েলস পাবলিক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করছেন। এর আগে সুপারঅ্যানুয়েশন খাতে বিভিন্ন পদে ছিলেন।

হেইডনকে আলবানিজের সঙ্গে প্রকাশ্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিদেশ সফরে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেখা গেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গীদের তুলনায় তিনি তুলনামূলকভাবে গণমাধ্যমের সামনে কম আসেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে প্রথানুযায়ী হেইডন কিছু দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ক্যানবেরার ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির প্রধান প্যাট্রনের দায়িত্ব।

প্রায় দুই দশকের বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ২০১৯ সালে প্রাক্তন স্ত্রী নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার কারমেল টেবাটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় আলবানিজের।

আলবানিজের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়ে হুমকির কারণে ক্যানবেরায় এই বিয়ে আয়োজনকে সামনে রেখে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আলবানিজ সংসদে জানান, এই সপ্তাহে ক্যানবেরার প্রেস গ্যালারিতে আয়োজিত ক্রিসমাস অনুষ্ঠানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। সম্প্রতি বেশ কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি আমার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়-সম্পর্কিত সব সিদ্ধান্ত স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলির ঘটনার পর আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত সব ধরনের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস দপ্তরের (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো এ ঘোষণা দেন। এডলো বলেন, ‘যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হচ্ছি যে প্রতিটি বিদেশির সর্বোচ্চ মাত্রায় নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করা যাচ্ছে, ততক্ষণ এই বিরতি থাকবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলির ঘটনার পর এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই হামলায় আহত একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মারা গেছেন এবং আরেকজন এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।

একজন আফগান নাগরিককে এ হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে। প্রথমে এ ঘটনায় শুধু আফগানদের ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো কার্যত সব দেশের অভিবাসীদের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

সিবিএস নিউজ জানায়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির শাখা ইউএসসিআইএসের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন আপাতত কোনো আশ্রয় আবেদন অনুমোদন, প্রত্যাখ্যান বা বন্ধ না করেন। তাঁরা আশ্রয় আবেদন নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন, তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার ধাপে পৌঁছালে তা স্থগিত রাখতে হবে। এ নির্দেশনার বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে (ইএসটি) ফাররাগাট স্কয়ার মেট্রোস্টেশনের কাছে হামলার ঘটনা ঘটে। আই স্ট্রিটের কোণের এই জায়গাটিতে অনেকেই দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য আসেন।

প্রথমে হামলাকারীর পরিচয় পাওয়া না গেলেও পরে জানা যায়, হামলাকারী আফগান বংশোদ্ভূত। নাম রহমানুল্লাহ লাকানওয়াল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ‘অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম’ কর্মসূচির আওতায় আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন লাকানওয়াল।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই কর্মসূচির আওতায় হাজার হাজার আফগান নাগরিককে বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব আফগান শরণার্থীকে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসে না, তাদের আমরা চাই না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাংবাদিকের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল সরকার, প্রতিবাদে জমি দিলেন সমাজকর্মী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ৩৪
সাংবাদিক আরফাজকে জমি লিখে দিয়েছে সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিক আরফাজকে জমি লিখে দিয়েছে সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক সমাজকর্মী। কুলদীপ শর্মা নামে ওই সমাজকর্মী সম্প্রতি এক সাংবাদিককে তাঁর নিজের জমি দান করেছেন। ওই সাংবাদিকের বাড়ি সরকারি নির্দেশে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা জম্মুতে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই এলাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্তিশালী ঘাঁটি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্র।

জম্মুর জিউয়েল এলাকার বাসিন্দা সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর হাতে জমির নথি তুলে দেওয়ার সময় কেঁদে ফেলেন। তিনি জম্মুতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখার শপথ নেন।

আরফাজের উদ্দেশে কুলদীপ বলেন, ‘যদি আমাকে ভিক্ষাও করতে হয়, তবুও আমি তোমার জন্য একটি বাড়ি তৈরি করব। হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির এই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না। আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব চিরকাল থাকবে। তুমি একজন ভালো মানুষ। তোমার সন্তানেরা সুখে থাকুক।’

সাংবাদিক আরফাজ আহমদ দাইং-এর বাড়িটি প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রের যোগসূত্র নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন। আরফাজের তাঁর প্রতিবেদনে উপ-পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাদক পাচারকারীদের সম্পর্কের সূত্রে আবিষ্কার করেছিলে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসের শুরুতে একটি বড় আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁসের পর সামনে আসে।

যদিও জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রশাসনের দাবি, আরফাজের বাড়িটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, আরফাজের মাদক সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সত্যতা নেই।

সাংবাদিকের ভেঙে ফেলা বাড়ির ধ্বংসাবশেষের কাছে তাঁবুর অস্থায়ী বাসস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কুলদীপ শর্মা সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তার বাচ্চারা খোলা আকাশের নিচে বসে আছে। সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত। এই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মানুষকে গৃহহীন করা হচ্ছে।’

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা ও তাঁর মেয়ে তন্বী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত
সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মা ও তাঁর মেয়ে তন্বী শর্মা। ছবি: সংগৃহীত

সমাজকর্মী কুলদীপ শর্মার মেয়ে তন্বী শর্মা সাংবাদিকদের জানান, বাবার এই সিদ্ধান্তে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘আমি খুব দুঃখিত। রাতারাতি কাউকে কীভাবে গৃহহীন করা যায়? তিনি (আরফাজ) আমার ভাইয়ের মতো। শুধু আমি নই, আমার পরিবার এবং এলাকার সবাই তাঁর পাশে আছে।’ তন্বী শর্মা আরও বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরি করার রাজনৈতিক প্রচার সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত।’

এই সময় উপস্থিত ছিলেন আরফাজের বাবা গোলাম কাদিরও। কুলদীপ শর্মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বর তাঁদের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ তাঁদের পরিবারকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চিন্তিত নই। সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমার কাছে মূল্যবান। আর কী চাইতে পারি! এই কাজগুলোতেই বোঝা যায়, জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এখনো আছে।’

গোলাম কাদির অভিযোগ করেন, জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (জেডিএ) বেছে বেছে তাঁদের একতলা বাড়িটি টার্গেট করেছে। এই বাড়ি প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক ‘মরলা’ জমিতে বানানো হয়েছিল। এটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পত্তি নেই। যদিও জেডিএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাদির কান্নাভেজা চোখে বলেন, ‘আমার ছেলে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে সে আমাদের জন্য একটা ভালো জায়গা তৈরি করতে পারত। কিন্তু আমি সব সময় তাকে পরামর্শ দিয়েছি, বৃহত্তর জনস্বার্থে যদি জীবনও দিতে হয়, তবুও যেন সে দ্বিধা না করে।’

সাংবাদিক রেশমি শর্মা, যিনি প্রথম এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি নিয়ে প্রথম প্রতিবেদনে করেন, তিনি জানান, কুলদীপ শর্মা আরফাজের ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম ‘নিউজ সেতার ইন্ডিয়া’-এর একজন নিয়মিত দর্শক ও ফলোয়ার। তিনি আরফাজের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েই জমি লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

এয়ারবাসে ত্রুটি, বহরের অর্ধেক উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ২৫
এয়ারবাসের এ৩২০ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা গেছে। ছবি: এয়ার ইনসাইট
এয়ারবাসের এ৩২০ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা গেছে। ছবি: এয়ার ইনসাইট

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার বিমানের উড্ডয়ন স্থগিত করেছে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। বিমানের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে সৌর বিকিরণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বিলম্ব হচ্ছে, বাদও দিতে হচ্ছে।

এয়ারবাসের ‘এ ৩২০’ মডেলের প্রায় ৬ হাজার বিমানে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক বহরের অর্ধেক। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বেশির ভাগ বিমানই পুনরায় উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন ও বাতিল হতে পারে। তবে বিমানবন্দরে সামগ্রিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে হচ্ছে।

এয়ারবাস জানায়, গত অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো যাওয়ার পথে জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তের পর তারা এ সমস্যাটি শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওই ফ্লাইটে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পরে বিমানটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করে।

কোম্পানিটির সর্বাধিক বিক্রিত মডেল এ৩২০ ছাড়াও এ৩১৮, এ৩১৯ এবং এ৩২১ মডেলেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

জানা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ১০০ এয়ারবাস বিমানে অপেক্ষাকৃত সহজ একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। এই আপডেটটি হতে সাধারণত তিন ঘণ্টার মতো সময় নেয়।

তবে অবশিষ্ট ৯০০ বিমান অপেক্ষাকৃত পুরোনো সংস্করণের হওয়ায় সেগুলো পুনরায় আকাশে ওড়াতে অনবোর্ড কম্পিউটার বদলাতে হবে। এ কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব বিমান যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। এ কাজ সম্পন্ন করতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে প্রতিস্থাপনযোগ্য কম্পিউটার কত দ্রুত পাওয়া যায় তার ওপর।

এ পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।

বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিনকে উদ্ধৃত করে বিবিসি নিউজ জানায়, পরিস্থিতি খুবই অস্বাভাবিক। যাত্রীদের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে সফটওয়্যার আপডেটের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এয়ারলাইনের পৃথক পদ্ধতির ওপর।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দরে বিঘ্ন তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিছুটা বিঘ্ন দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। অন্যদিকে হিথ্রো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনো ফ্লাইট বাতিলের অভিজ্ঞতা পায়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখেনি।

এয়ারলাইন্সভেদেও বিঘ্নের মাত্রাতে পার্থক্য দেখা গেছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এ সমস্যায় তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, তারা ইতিমধ্যে আপডেট কার্যক্রম শুরু করেছে।

ভ্রমণ সাংবাদিক সাইমন ক্যালডার বলেন, অন্য যেকোনো এয়ারলাইনের চেয়ে এয়ার ফ্রান্স বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আজ শনিবার সকালে তাদের প্যারিস হাব থেকে আসা-যাওয়ার নির্ধারিত ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে ইজিজেট জানায়, তারা কিছুটা বিঘ্নের আশঙ্কা করছে। তবে সফটওয়্যার আপডেট শুরু করেছে এবং অনেক বিমানেই ইতিমধ্যে আপডেট সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইনটি।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম থ্যাংকসগিভিং–এর সময়টাতে এই সফটওয়্যার সমস্যাটি সামনে আসে।

আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের ৩৪০টি বিমান এ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু কার্যক্রমে বিলম্ব হতে পারে জানিয়েছে তারা। এয়ারলাইনটি আরও জানায়, আপডেটগুলোর বড় অংশই শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স জানায়, তাদের কার্যক্রমে সমস্যাটির প্রভাব সীমিত থাকবে বলে আশা করছে তারা।

অস্ট্রেলিয়ায় স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন জেটস্টার নিশ্চিত করেছে, তাদের বহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ সমস্যার আওতায় পড়েছে। এ সমস্যায় তারা ৯০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অধিকাংশ বিমানে সফটওয়্যার আপডেট সম্পন্ন হলেও পুরো সপ্তাহান্তজুড়ে ভ্রমণে বিঘ্ন চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পলিসি ডিরেক্টর টিম জনসন জানান, এয়ারবাসের নোটিশের কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগামী কয়েক দিনে কিছু বিঘ্ন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা থাকার কারণে বিমান পরিবহন এখনো সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থাগুলোর একটি।’

ব্যাপক হারে ফ্লাইট স্থগিতের ঘটনাকে খুবই বিরল একটি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন টিম জনসন।

পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর প্রভাব সীমিত বলেই মনে হচ্ছে। সমস্যাটি দ্রুত শনাক্ত হয়েছে এবং দ্রুতই সমাধান করা হচ্ছে। এটি আশাব্যঞ্জক। বিষয়টি বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চ নিরাপত্তা মানকে তুলে ধরে।’

এ৩২০ বিমানে যে সমস্যাটি শনাক্ত হয়েছে, তা বিমানের উচ্চতা নির্ণয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি কম্পিউটিং সফটওয়্যারকে ঘিরে। অনেক উচ্চতায় সূর্য থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ মাঝে মাঝে সফটওয়্যারের তথ্য বিকৃত করে দিতে পারে বলে শনাক্ত করেছে এয়ারবাস।

এ কারণেই গত অক্টোবরের ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি বিমান হঠাৎ নিচে নেমে যায়। যদিও নির্মাতাপক্ষ দাবি করেছে, এটাই এ ধরনের একমাত্র ঘটনা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এক জরুরি নির্দেশনায় বলেছে, যাত্রী পরিবহনের আগে প্রতিটি বিমানে সমস্যাটি সমাধান করতে হবে। বিমানগুলোকে যাত্রীবিহীন অবস্থায়, যাকে ‘ফেরি ফ্লাইট’ বলা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

এ৩২০ মডেলের বিমানগুলো ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ প্রযুক্তির। অর্থাৎ ককপিটের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিমানের যে অংশগুলো উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মধ্যে কোনো সরাসরি যান্ত্রিক সংযোগ নেই। পাইলটের নির্দেশনা কম্পিউটার প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো কাজ সম্পন্ন করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত