Ajker Patrika

নির্বাচনের আগেই সাড়ে ৮ হাজার বন্দীকে মুক্তি দিচ্ছে জান্তা সরকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ০৬
ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের একটি ফটকের বাইরের ছবি। ছবি: মিয়ানমার নাউ–এর সৌজন্যে
ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের একটি ফটকের বাইরের ছবি। ছবি: মিয়ানমার নাউ–এর সৌজন্যে

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা আগামী মাসের নির্বাচনের আগে সেনাশাসনের বিরোধিতার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৮ হাজার ৬৬৫ জনকে ক্ষমা বা মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে মুক্তি দিচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণায় বলা হয়, মুক্তি পাচ্ছেন এমন বন্দীরা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ভোটকে আগেই ‘প্রহসন’ বলে সমালোচনা করেছে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানে জান্তা বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই জান্তা ডিসেম্বর থেকে ভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশে ‘স্বাভাবিক অবস্থা’ ফিরছে। আদেশে বলা হয়েছে, ‘ভয় সৃষ্টি বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ৩ হাজার ৮৫ জনের শাস্তি কমানো হচ্ছে। পলাতক আরও ৫ হাজার ৫৮০ জনের বিরুদ্ধে থাকা মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন রাজনৈতিক বন্দী কিংবা কবে তাঁদের মুক্তি কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়।

ক্ষমার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগে গতকাল বুধবার জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন বলেন, ভোটের দিন ২৮ ডিসেম্বর যাতে সব যোগ্য ভোটার ‘স্বাধীনভাবে ও ন্যায়সংগতভাবে’ ভোট দিতে পারেন, সে জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বন্দী মুক্তির কাজ অবিলম্বে শুরু হবে। তবে কাদের মুক্তি দেওয়া হবে, সেই তালিকা তিনি দেননি। অতীতে এমন ক্ষমা ঘোষণায় মুক্তির প্রক্রিয়া কয়েক দিন ধরে চলেছে।

আজ সকালে ইনসেইন কারাগারের সামনে কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা বন্ধু-পরিজনদের নিতে এসেছেন—যাঁরা এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পাচ্ছেন। বহু দশক ধরে এই কারাগার রাজনৈতিক বন্দীদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

তবে ৮০ বছর বয়সী গণতন্ত্রনেত্রী অং সান সু চি মুক্তি পাচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট হয়নি। সামরিক অভ্যুত্থানের পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। সমালোচকেরা বলছেন, দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকা ও অং সান সু চির বিলুপ্ত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি দলের অধিকাংশ নেতাকে গ্রেপ্তার করার কারণে এই নির্বাচন নিঃসন্দেহে ‘মুক্ত ও সুষ্ঠু’ হবে না।

মানবাধিকার সংগঠন বার্মা ক্যাম্পেইন ইউকের পরিচালক মার্ক ফার্মানার এক্সে লিখেছেন, ‘বন্দীদের জন্য অবশ্যই এটা দারুণ খবর।’ তবে তাঁর ভাষায়, ‘প্রত্যাশিতভাবেই জান্তা রাজনৈতিক বন্দীদের জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে—নির্বাচনের আগে ভুয়া সংস্কারের গল্প বানানোর জন্য।’

স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স বলছে, গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে রাজনৈতিক বন্দীর সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৭০৮ জন। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন অং সান সু চি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...