Ajker Patrika

বাড়তি ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে চীনকে ঠেকাতে চায় তাইওয়ান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে প্রতিরক্ষা ব্যয় সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে প্রতিরক্ষা ব্যয় সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলারের একটি প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেছে তাইওয়ান। আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এই ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে বলেন, ‘ইতিহাসে প্রমাণ আছে, আগ্রাসনের মুখে আপস করার চেষ্টা কেবল ‘‘দাসত্ব’’ নিয়ে আসে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল মূল্যবোধই আমাদের জাতির ভিত্তি।’

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে লাই চিংতে প্রথম এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তাইওয়ান নিজেদের আত্মরক্ষায় এই পরিকল্পনা করছে।

লাই চিংতে স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের এই সংগ্রাম নিছক আদর্শগত বিতর্ক বা ‘‘একত্রীকরণ বনাম স্বাধীনতা’’ নিয়ে বিরোধ নয়, বরং এটি চীনের হাত থেকে ‘‘গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে রক্ষা করার লড়াই’’।

প্রসঙ্গত, চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড মনে করে। গত পাঁচ বছর ধরে তাদের এই দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য দেশটি তাইওয়ানের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। অন্যদিকে তাইওয়ান বলছে, তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র তাইওয়ানের জনগণের।

বেইজিংয়ে চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের মুখপাত্র পেং কিংজেন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাইওয়ান ‘বহিরাগত শক্তি’ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পেং কিংজেন সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনীতির বিকাশে ব্যবহার করা যেতে পারে—এমন তহবিল তারা অস্ত্র কেনার জন্য ও বাহ্যিক শক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে নষ্ট করছে। এটি কেবল তাইওয়ানকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিংতে গত আগস্টে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য তাইওয়ান সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয় ৯৪৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (৩০.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করেছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ হবে। ২০০৯ সালের পর এই প্রথম দেশটিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ শতাংশের মাত্রা অতিক্রম করতে চলেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি মাসে তাইওয়ানের জন্য ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য বিমানের যন্ত্রাংশ রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামে লাই চিংতে আরও লিখেছিলেন, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি অর্জনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের কারণে আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও নিরাপদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...