আজকের পত্রিকা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের খাবার খাওয়ার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাজা, প্রাকৃতিক খাবার থেকে সরে মানুষ ঝুঁকছে সস্তা, অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত তৈরি খাবারের দিকে। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতা ও বিষণ্নতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি।
মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট–এ প্রকাশিত লেখায় গবেষকেরা বলেন, সরকারগুলোকে এখন আরও সক্রিয় হতে হবে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কবার্তা ও উচ্চ কর আরোপ করতে হবে যাতে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়াতে ব্যয় করা যায়।
তবে কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, এই পর্যালোচনা দিয়ে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও ট্রায়াল প্রয়োজন।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (ইউপিএফ) বলতে এমন খাবারকে বোঝায়, যেগুলোতে পাঁচটির বেশি এমন উপাদান থাকে—ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ, অ্যাডিটিভ, রং ও কৃত্রিম মিষ্টি।
সসেজ, চিপস, পেস্ট্রি, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ফিজি ড্রিংকস, আইসক্রিম, পাউরুটি এ ধরনের খাবার।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এসব শিল্পোৎপাদিত খাবারের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এর ফলে খাদ্যতালিকার মান আরও খারাপ হচ্ছে। কারণ এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। আর ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকে।
স্বাস্থ্যের ওপর অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব নিয়ে ১০৪টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ৪৩ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই পর্যালোচনাটি তৈরি করেছেন।
এতে দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, বিষণ্নতা এবং যেকোনো কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি।
খাবার শ্রেণিবিন্যাসের নোভা (NOVA) সিস্টেম তৈরি করেছিলেন ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মন্টেইরো। এই গবেষণা পর্যালোচনার একজন লেখক তিনি। মন্টেইরো বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তাজা ও সামান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারকে সরিয়ে দিচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের খাবারের এই পরিবর্তন চালাচ্ছে শক্তিশালী বহুজাতিক করপোরেশনগুলো। এসব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা বিপুল মুনাফা করে। ব্যাপক বিপণন ও রাজনৈতিক লবিংয়ের জোরে তারা এমন সব কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতিকে ঠেকিয়ে দেয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারত।’
পর্যালোচনার সহ-লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিলিপ বেকার বলেন, ‘এর সমাধান হলো দৃঢ় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া যেমনটা তামাক শিল্পকে চ্যালেঞ্জ করার বেলায় দেখা গেছে।’
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তা ব্যাখ্যা করে এমন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো নেই সেটা পর্যালোচনায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া বিলম্বিত করা উচিত নয়।
কিছু বিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন, মানুষের খাদ্যতালিকায় এ ধরনের খাবারের প্রভাব আলাদা করে দেখা কঠিন। কারণ জীবনযাপন, আচরণ, আর্থিক সামর্থ্যসহ আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
নোভা শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির সমালোচকেরা বলেন, এটি খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত তার ওপর। তাঁরা বলেন, হোলগ্রেইন পাউরুটি, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, লো-ফ্যাট দই, শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং ফিশ ফিঙ্গার সবগুলোই নোভা অনুযায়ী অতি-প্রক্রিয়াজাত, কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক ভালো দিকও রয়েছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্সের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাকনওয়ে বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণা একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারে, কিন্তু কারণ বা ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। এখনো সন্দেহের যথেষ্ট জায়গা আছে এবং আরও গবেষণা থেকে স্পষ্টতা পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অন্তত কিছু অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এতে নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয় না যে সব ধরনের অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’
অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের কোনো উপাদান বা বৈশিষ্ট্য রোগ সৃষ্টি করছে বা রোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের অধ্যাপক জুলস গ্রিফিন বলেছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি আমাদের স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে আরও গবেষণার জরুরি প্রয়োজন আছে।
শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশন (এফডিএফ) বলছে, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার জমাট মটরশুটি বা সম্পূর্ণ দানার রুটি মতো খাবারের মতোই একটি সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
এফডিএফ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেট হ্যালিওয়েল বলেন, ‘আমরা যেসব খাবার ও পানীয় কিনি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে চলেছে।’
পণ্যে থাকা চিনি ও লবণের পরিমাণ ২০১৫ সাল থেকে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলে জানান তিনি।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন (এসএসিএন) জানিয়েছিল, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া এবং নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে যে সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, তা উদ্বেগের।
তবে কমিটি আরও জানায়, এসব খাবার আসলে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার কারণেই অস্বাস্থ্যকর কি না, নাকি অনেক খাবারেই উচ্চমাত্রার ক্যালরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ ও ফ্রি সুগার থাকার কারণেই অস্বাস্থ্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান খাদ্যবিষয়ক পরামর্শ হলো—ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাদ্য বেশি খাওয়া এবং চিনি, ফ্যাট ও লবণ কম খাওয়া।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের খাবার খাওয়ার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাজা, প্রাকৃতিক খাবার থেকে সরে মানুষ ঝুঁকছে সস্তা, অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত তৈরি খাবারের দিকে। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতা ও বিষণ্নতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি।
মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট–এ প্রকাশিত লেখায় গবেষকেরা বলেন, সরকারগুলোকে এখন আরও সক্রিয় হতে হবে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কবার্তা ও উচ্চ কর আরোপ করতে হবে যাতে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়াতে ব্যয় করা যায়।
তবে কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, এই পর্যালোচনা দিয়ে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও ট্রায়াল প্রয়োজন।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (ইউপিএফ) বলতে এমন খাবারকে বোঝায়, যেগুলোতে পাঁচটির বেশি এমন উপাদান থাকে—ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ, অ্যাডিটিভ, রং ও কৃত্রিম মিষ্টি।
সসেজ, চিপস, পেস্ট্রি, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ফিজি ড্রিংকস, আইসক্রিম, পাউরুটি এ ধরনের খাবার।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এসব শিল্পোৎপাদিত খাবারের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এর ফলে খাদ্যতালিকার মান আরও খারাপ হচ্ছে। কারণ এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। আর ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকে।
স্বাস্থ্যের ওপর অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব নিয়ে ১০৪টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ৪৩ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই পর্যালোচনাটি তৈরি করেছেন।
এতে দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, বিষণ্নতা এবং যেকোনো কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি।
খাবার শ্রেণিবিন্যাসের নোভা (NOVA) সিস্টেম তৈরি করেছিলেন ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মন্টেইরো। এই গবেষণা পর্যালোচনার একজন লেখক তিনি। মন্টেইরো বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তাজা ও সামান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারকে সরিয়ে দিচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের খাবারের এই পরিবর্তন চালাচ্ছে শক্তিশালী বহুজাতিক করপোরেশনগুলো। এসব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা বিপুল মুনাফা করে। ব্যাপক বিপণন ও রাজনৈতিক লবিংয়ের জোরে তারা এমন সব কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতিকে ঠেকিয়ে দেয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারত।’
পর্যালোচনার সহ-লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিলিপ বেকার বলেন, ‘এর সমাধান হলো দৃঢ় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া যেমনটা তামাক শিল্পকে চ্যালেঞ্জ করার বেলায় দেখা গেছে।’
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তা ব্যাখ্যা করে এমন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো নেই সেটা পর্যালোচনায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া বিলম্বিত করা উচিত নয়।
কিছু বিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন, মানুষের খাদ্যতালিকায় এ ধরনের খাবারের প্রভাব আলাদা করে দেখা কঠিন। কারণ জীবনযাপন, আচরণ, আর্থিক সামর্থ্যসহ আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
নোভা শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির সমালোচকেরা বলেন, এটি খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত তার ওপর। তাঁরা বলেন, হোলগ্রেইন পাউরুটি, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, লো-ফ্যাট দই, শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং ফিশ ফিঙ্গার সবগুলোই নোভা অনুযায়ী অতি-প্রক্রিয়াজাত, কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক ভালো দিকও রয়েছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্সের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাকনওয়ে বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণা একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারে, কিন্তু কারণ বা ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। এখনো সন্দেহের যথেষ্ট জায়গা আছে এবং আরও গবেষণা থেকে স্পষ্টতা পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অন্তত কিছু অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এতে নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয় না যে সব ধরনের অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’
অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের কোনো উপাদান বা বৈশিষ্ট্য রোগ সৃষ্টি করছে বা রোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের অধ্যাপক জুলস গ্রিফিন বলেছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি আমাদের স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে আরও গবেষণার জরুরি প্রয়োজন আছে।
শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশন (এফডিএফ) বলছে, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার জমাট মটরশুটি বা সম্পূর্ণ দানার রুটি মতো খাবারের মতোই একটি সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
এফডিএফ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেট হ্যালিওয়েল বলেন, ‘আমরা যেসব খাবার ও পানীয় কিনি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে চলেছে।’
পণ্যে থাকা চিনি ও লবণের পরিমাণ ২০১৫ সাল থেকে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলে জানান তিনি।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন (এসএসিএন) জানিয়েছিল, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া এবং নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে যে সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, তা উদ্বেগের।
তবে কমিটি আরও জানায়, এসব খাবার আসলে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার কারণেই অস্বাস্থ্যকর কি না, নাকি অনেক খাবারেই উচ্চমাত্রার ক্যালরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ ও ফ্রি সুগার থাকার কারণেই অস্বাস্থ্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান খাদ্যবিষয়ক পরামর্শ হলো—ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাদ্য বেশি খাওয়া এবং চিনি, ফ্যাট ও লবণ কম খাওয়া।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের খাবার খাওয়ার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাজা, প্রাকৃতিক খাবার থেকে সরে মানুষ ঝুঁকছে সস্তা, অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত তৈরি খাবারের দিকে। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতা ও বিষণ্নতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি।
মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট–এ প্রকাশিত লেখায় গবেষকেরা বলেন, সরকারগুলোকে এখন আরও সক্রিয় হতে হবে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কবার্তা ও উচ্চ কর আরোপ করতে হবে যাতে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়াতে ব্যয় করা যায়।
তবে কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, এই পর্যালোচনা দিয়ে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও ট্রায়াল প্রয়োজন।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (ইউপিএফ) বলতে এমন খাবারকে বোঝায়, যেগুলোতে পাঁচটির বেশি এমন উপাদান থাকে—ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ, অ্যাডিটিভ, রং ও কৃত্রিম মিষ্টি।
সসেজ, চিপস, পেস্ট্রি, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ফিজি ড্রিংকস, আইসক্রিম, পাউরুটি এ ধরনের খাবার।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এসব শিল্পোৎপাদিত খাবারের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এর ফলে খাদ্যতালিকার মান আরও খারাপ হচ্ছে। কারণ এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। আর ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকে।
স্বাস্থ্যের ওপর অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব নিয়ে ১০৪টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ৪৩ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই পর্যালোচনাটি তৈরি করেছেন।
এতে দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, বিষণ্নতা এবং যেকোনো কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি।
খাবার শ্রেণিবিন্যাসের নোভা (NOVA) সিস্টেম তৈরি করেছিলেন ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মন্টেইরো। এই গবেষণা পর্যালোচনার একজন লেখক তিনি। মন্টেইরো বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তাজা ও সামান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারকে সরিয়ে দিচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের খাবারের এই পরিবর্তন চালাচ্ছে শক্তিশালী বহুজাতিক করপোরেশনগুলো। এসব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা বিপুল মুনাফা করে। ব্যাপক বিপণন ও রাজনৈতিক লবিংয়ের জোরে তারা এমন সব কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতিকে ঠেকিয়ে দেয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারত।’
পর্যালোচনার সহ-লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিলিপ বেকার বলেন, ‘এর সমাধান হলো দৃঢ় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া যেমনটা তামাক শিল্পকে চ্যালেঞ্জ করার বেলায় দেখা গেছে।’
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তা ব্যাখ্যা করে এমন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো নেই সেটা পর্যালোচনায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া বিলম্বিত করা উচিত নয়।
কিছু বিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন, মানুষের খাদ্যতালিকায় এ ধরনের খাবারের প্রভাব আলাদা করে দেখা কঠিন। কারণ জীবনযাপন, আচরণ, আর্থিক সামর্থ্যসহ আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
নোভা শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির সমালোচকেরা বলেন, এটি খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত তার ওপর। তাঁরা বলেন, হোলগ্রেইন পাউরুটি, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, লো-ফ্যাট দই, শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং ফিশ ফিঙ্গার সবগুলোই নোভা অনুযায়ী অতি-প্রক্রিয়াজাত, কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক ভালো দিকও রয়েছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্সের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাকনওয়ে বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণা একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারে, কিন্তু কারণ বা ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। এখনো সন্দেহের যথেষ্ট জায়গা আছে এবং আরও গবেষণা থেকে স্পষ্টতা পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অন্তত কিছু অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এতে নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয় না যে সব ধরনের অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’
অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের কোনো উপাদান বা বৈশিষ্ট্য রোগ সৃষ্টি করছে বা রোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের অধ্যাপক জুলস গ্রিফিন বলেছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি আমাদের স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে আরও গবেষণার জরুরি প্রয়োজন আছে।
শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশন (এফডিএফ) বলছে, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার জমাট মটরশুটি বা সম্পূর্ণ দানার রুটি মতো খাবারের মতোই একটি সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
এফডিএফ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেট হ্যালিওয়েল বলেন, ‘আমরা যেসব খাবার ও পানীয় কিনি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে চলেছে।’
পণ্যে থাকা চিনি ও লবণের পরিমাণ ২০১৫ সাল থেকে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলে জানান তিনি।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন (এসএসিএন) জানিয়েছিল, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া এবং নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে যে সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, তা উদ্বেগের।
তবে কমিটি আরও জানায়, এসব খাবার আসলে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার কারণেই অস্বাস্থ্যকর কি না, নাকি অনেক খাবারেই উচ্চমাত্রার ক্যালরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ ও ফ্রি সুগার থাকার কারণেই অস্বাস্থ্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান খাদ্যবিষয়ক পরামর্শ হলো—ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাদ্য বেশি খাওয়া এবং চিনি, ফ্যাট ও লবণ কম খাওয়া।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের খাবার খাওয়ার ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাজা, প্রাকৃতিক খাবার থেকে সরে মানুষ ঝুঁকছে সস্তা, অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত তৈরি খাবারের দিকে। এর ফলে বাড়ছে স্থূলতা ও বিষণ্নতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি।
মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট–এ প্রকাশিত লেখায় গবেষকেরা বলেন, সরকারগুলোকে এখন আরও সক্রিয় হতে হবে। অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে সতর্কবার্তা ও উচ্চ কর আরোপ করতে হবে যাতে সেখান থেকে পাওয়া অর্থ পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়াতে ব্যয় করা যায়।
তবে কিছু বিজ্ঞানী বলছেন, এই পর্যালোচনা দিয়ে সরাসরি প্রমাণ করা যায় না যে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা ও ট্রায়াল প্রয়োজন।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড (ইউপিএফ) বলতে এমন খাবারকে বোঝায়, যেগুলোতে পাঁচটির বেশি এমন উপাদান থাকে—ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ, অ্যাডিটিভ, রং ও কৃত্রিম মিষ্টি।
সসেজ, চিপস, পেস্ট্রি, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ফিজি ড্রিংকস, আইসক্রিম, পাউরুটি এ ধরনের খাবার।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, এসব শিল্পোৎপাদিত খাবারের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এর ফলে খাদ্যতালিকার মান আরও খারাপ হচ্ছে। কারণ এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। আর ফাইবার ও প্রোটিনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকে।
স্বাস্থ্যের ওপর অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব নিয়ে ১০৪টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ৪৩ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই পর্যালোচনাটি তৈরি করেছেন।
এতে দেখা যায়, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কমপক্ষে ১২ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, বিষণ্নতা এবং যেকোনো কারণে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি।
খাবার শ্রেণিবিন্যাসের নোভা (NOVA) সিস্টেম তৈরি করেছিলেন ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্লোস মন্টেইরো। এই গবেষণা পর্যালোচনার একজন লেখক তিনি। মন্টেইরো বলেন, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাস বদলে দিচ্ছে, তাজা ও সামান্য প্রক্রিয়াজাত খাবারকে সরিয়ে দিচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের খাবারের এই পরিবর্তন চালাচ্ছে শক্তিশালী বহুজাতিক করপোরেশনগুলো। এসব অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা বিপুল মুনাফা করে। ব্যাপক বিপণন ও রাজনৈতিক লবিংয়ের জোরে তারা এমন সব কার্যকর জনস্বাস্থ্যনীতিকে ঠেকিয়ে দেয়, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে উৎসাহিত করতে পারত।’
পর্যালোচনার সহ-লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফিলিপ বেকার বলেন, ‘এর সমাধান হলো দৃঢ় বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়া যেমনটা তামাক শিল্পকে চ্যালেঞ্জ করার বেলায় দেখা গেছে।’
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কীভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে তা ব্যাখ্যা করে এমন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো নেই সেটা পর্যালোচনায় স্বীকার করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, মানুষের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৈশ্বিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া বিলম্বিত করা উচিত নয়।
কিছু বিজ্ঞানী মন্তব্য করেছেন, মানুষের খাদ্যতালিকায় এ ধরনের খাবারের প্রভাব আলাদা করে দেখা কঠিন। কারণ জীবনযাপন, আচরণ, আর্থিক সামর্থ্যসহ আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।
নোভা শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির সমালোচকেরা বলেন, এটি খাবারের পুষ্টিগুণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত তার ওপর। তাঁরা বলেন, হোলগ্রেইন পাউরুটি, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল, লো-ফ্যাট দই, শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং ফিশ ফিঙ্গার সবগুলোই নোভা অনুযায়ী অতি-প্রক্রিয়াজাত, কিন্তু এগুলোর মধ্যে অনেক ভালো দিকও রয়েছে।
ওপেন ইউনিভার্সিটির অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্সের এমেরিটাস অধ্যাপক কেভিন ম্যাকনওয়ে বলেন, ‘এ ধরনের গবেষণা একটি সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারে, কিন্তু কারণ বা ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। এখনো সন্দেহের যথেষ্ট জায়গা আছে এবং আরও গবেষণা থেকে স্পষ্টতা পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় অন্তত কিছু অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কিছু দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এতে নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয় না যে সব ধরনের অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।’
অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের কোনো উপাদান বা বৈশিষ্ট্য রোগ সৃষ্টি করছে বা রোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিনের অধ্যাপক জুলস গ্রিফিন বলেছেন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি আমাদের স্বাস্থ্যে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে আরও গবেষণার জরুরি প্রয়োজন আছে।
শিল্পখাতের প্রতিনিধিত্বকারী ফুড অ্যান্ড ড্রিঙ্ক ফেডারেশন (এফডিএফ) বলছে, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার জমাট মটরশুটি বা সম্পূর্ণ দানার রুটি মতো খাবারের মতোই একটি সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
এফডিএফ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেট হ্যালিওয়েল বলেন, ‘আমরা যেসব খাবার ও পানীয় কিনি সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করতে কোম্পানিগুলো বহু বছর ধরে বিভিন্ন পরিবর্তন এনে চলেছে।’
পণ্যে থাকা চিনি ও লবণের পরিমাণ ২০১৫ সাল থেকে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলে জানান তিনি।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি কমিটি অন নিউট্রিশন (এসএসিএন) জানিয়েছিল, অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়া এবং নানান স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে যে সম্পর্ক পাওয়া যাচ্ছে, তা উদ্বেগের।
তবে কমিটি আরও জানায়, এসব খাবার আসলে প্রক্রিয়াজাত হওয়ার কারণেই অস্বাস্থ্যকর কি না, নাকি অনেক খাবারেই উচ্চমাত্রার ক্যালরি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, লবণ ও ফ্রি সুগার থাকার কারণেই অস্বাস্থ্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান খাদ্যবিষয়ক পরামর্শ হলো—ফল, সবজি ও আঁশযুক্ত খাদ্য বেশি খাওয়া এবং চিনি, ফ্যাট ও লবণ কম খাওয়া।

গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত...
৬ ঘণ্টা আগে
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৭ ঘণ্টা আগে
কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড।
৮ ঘণ্টা আগে
ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগেডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত, প্রদাহ বা সিরিয়াস প্যাথলজি না পেলে এসব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিআরইডি) শনাক্ত করি।
১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সচেতনতা সপ্তাহ। এ বছরও ২৩-২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জিআরইডি সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫।
এই বছরের মূল বিষয় হলো, ‘চলুন, জিআরইডি নিয়ে কথা বলি’; যা রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসা ও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার গুরুত্বকে আরও জোরদার করে।
বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জন জিআরইডিতে ভুগছেন। ইউরোপ ও আমেরিকায় এর প্রকোপ বেশি হলেও এশিয়ায়, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিরোধ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক রোগী জটিলতায় পড়েন এবং দীর্ঘদিন ওষুধনির্ভর থাকতে হয়।
গলা ও বুক জ্বালাপোড়া কেন হয়
‘গ্যাস্ট্রো’ বলতে পাকস্থলী আর ‘ইসোফেগাস’ বলতে খাদ্যনালিকে বোঝায়। সাধারণত খাবার খাদ্যনালি দিয়ে নিচের দিকে পাকস্থলীতে নামে। কিন্তু কোনো কারণে এই স্বাভাবিক পথ ব্যাহত হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির ওপরের দিকে উঠে আসে। এই অ্যাসিডই গলা ও বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুরসহ নানা উপসর্গ তৈরি করে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা
বুক জ্বালাপোড়া সব সময় জিআরইডি না-ও হতে পারে। তবে হৃদ্রোগের কারণেও একই উপসর্গ হতে পারে। পার্থক্য বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ জানা খুব জরুরি।
প্রতিরোধে যা করবেন
লেখক: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত, প্রদাহ বা সিরিয়াস প্যাথলজি না পেলে এসব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিআরইডি) শনাক্ত করি।
১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সচেতনতা সপ্তাহ। এ বছরও ২৩-২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জিআরইডি সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫।
এই বছরের মূল বিষয় হলো, ‘চলুন, জিআরইডি নিয়ে কথা বলি’; যা রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসা ও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার গুরুত্বকে আরও জোরদার করে।
বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জন জিআরইডিতে ভুগছেন। ইউরোপ ও আমেরিকায় এর প্রকোপ বেশি হলেও এশিয়ায়, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিরোধ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক রোগী জটিলতায় পড়েন এবং দীর্ঘদিন ওষুধনির্ভর থাকতে হয়।
গলা ও বুক জ্বালাপোড়া কেন হয়
‘গ্যাস্ট্রো’ বলতে পাকস্থলী আর ‘ইসোফেগাস’ বলতে খাদ্যনালিকে বোঝায়। সাধারণত খাবার খাদ্যনালি দিয়ে নিচের দিকে পাকস্থলীতে নামে। কিন্তু কোনো কারণে এই স্বাভাবিক পথ ব্যাহত হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির ওপরের দিকে উঠে আসে। এই অ্যাসিডই গলা ও বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুরসহ নানা উপসর্গ তৈরি করে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা
বুক জ্বালাপোড়া সব সময় জিআরইডি না-ও হতে পারে। তবে হৃদ্রোগের কারণেও একই উপসর্গ হতে পারে। পার্থক্য বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ জানা খুব জরুরি।
প্রতিরোধে যা করবেন
লেখক: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
৯ দিন আগে
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৭ ঘণ্টা আগে
কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড।
৮ ঘণ্টা আগে
ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগেডা. মো. মোশাররফ হোসেন

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শীতকালে সাধারণত ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং কারণ ছাড়াই চুলকানি শুরু হতে পারে। ঠোঁট ও পায়ের চামড়া ফেটে গিয়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ সময় খুশকির সমস্যা বাড়ে। স্ক্যাবিস এবং অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।
পুরোনো উলের পোশাক, বিভিন্ন ক্রিম, লোশন ব্যবহারে ত্বকে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ ও থাইরয়েডের রোগীদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানির তীব্রতা বেশি থাকে।
শীতে ত্বকে যে ধরনের সমস্যা হয়
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে বেশি মাত্রায় ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং চুলকানি হওয়া।
শীতে ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়
সাধারণ কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে শীতে ত্বকের সুরক্ষা সম্ভব। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন অ্যালার্জি এবং ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে ভুগছে; তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকাসহ ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
শীতকালে সাধারণত ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং কারণ ছাড়াই চুলকানি শুরু হতে পারে। ঠোঁট ও পায়ের চামড়া ফেটে গিয়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ সময় খুশকির সমস্যা বাড়ে। স্ক্যাবিস এবং অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।
পুরোনো উলের পোশাক, বিভিন্ন ক্রিম, লোশন ব্যবহারে ত্বকে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ ও থাইরয়েডের রোগীদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানির তীব্রতা বেশি থাকে।
শীতে ত্বকে যে ধরনের সমস্যা হয়
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে বেশি মাত্রায় ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং চুলকানি হওয়া।
শীতে ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়
সাধারণ কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে শীতে ত্বকের সুরক্ষা সম্ভব। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন অ্যালার্জি এবং ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে ভুগছে; তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকাসহ ত্বকের যত্ন নিতে হবে।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
৯ দিন আগে
গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত...
৬ ঘণ্টা আগে
কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড।
৮ ঘণ্টা আগে
ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগেফিচার ডেস্ক

কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড। এটি বিষণ্নতার একটি রূপ, যা মূলত শীতকালে আলোর অভাবের কারণে হয়। এ রহস্যময় ব্যাধিটি প্রায় ২৫ মিলিয়ন আমেরিকানকে প্রভাবিত করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ ধরনের বিষণ্ণতা দেখা যায়।
শীতকালে মন খারাপ কেন হয়
শীতকালীন মন খারাপের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কী করতে হবে, জানেন? তার আগে বলুন, সুখের হরমোন সম্পর্কে জানেন তো? ‘সুখের হরমোন’ বা ‘ফিল গুড কেমিক্যাল’-এর নাম হলো সেরোটোনিন। এটি মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক বা নিউরো ট্রান্সমিটার। এটি মূলত মস্তিষ্কে এবং পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হয় এবং শরীরের বহুবিধ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন মন খারাপের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম বলেন, ‘শীতকালে আলোর অভাবে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের উৎপাদন অনেকটা কমে যায়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভালো থাকার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে বিষণ্নতা, অতিরিক্ত ঘুম, উদ্বেগ, বিরক্তি এবং সামান্য বিষয়ে আচ্ছন্নতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।’ তবে সুখবর হলো, এপ্রিল কিংবা মে মাস নাগাদ দিন দীর্ঘ হলে সাধারণত এ সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসা হিসেবে যদিও লাইটথেরাপি ও ওষুধ রয়েছে, তবে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এনেও আপনি সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
সেরোটোনিন বুস্ট করার ৩ উপায়
সানফ্রান্সিসকোর রিকভারি সিস্টেমস ক্লিনিকের পরিচালক এবং দ্য মুড কিউর ও দ্য ডায়েট কিউরের লেখক জুলিয়া রস সেরোটোনিন বাড়ানোর তিনটি সহজ উপায় উল্লেখ করেছেন।
উজ্জ্বল কৃত্রিম আলোর ব্যবহার
নিজেকে উজ্জ্বল ইনডোর আলোর সংস্পর্শে আনুন। এটি স্যাড চিকিৎসার একটি মূল অংশ। এই আলো ৩ ফুট দূর থেকে দিনে তিনবার ২০ মিনিটের জন্য ব্যবহারে সাময়িকভাবে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত ব্যায়াম
স্যাডের চক্রে আটকে থাকলে ব্যায়াম করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু নিজেকে জোর করে শুরু করতে পারলে এটি খুবই কার্যকর। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দ্রুত হাঁটা বা রেডিওতে নেচে নেওয়া মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং মেজাজ উন্নত করতে পারে।
বিচক্ষণ খাদ্য গ্রহণ
মিষ্টি এবং সাদা চাল বা সাদা রুটির মতো সাধারণ শর্করা এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলো রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়, ইনসুলিনের বন্যা ঘটায় এবং পরক্ষণে মেজাজ খারাপ করে। সেরোটোনিনকে দমন করে এমন ক্যাফিনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। রস পরামর্শ দেন, ‘যদি কফি খেতেই হয়, তাহলে তা খাওয়ার পরে পান করুন।’
মেজাজ ভালো রাখতে কী খাবেন
এনওয়াইইউ মেডিকেল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট সামান্থা হেলার এবং জুলিয়া রস আরও কিছু পুষ্টিগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রোটিন এবং সবজি
রস দিনে তিনবার প্রোটিন খাওয়ার এবং প্রতিদিন চার কাপ উজ্জ্বল রঙের সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন। সবজি হলো এমন শর্করা, যা আপনার সিস্টেমে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।
স্বাস্থ্যকর শর্করা বেছে নিন
হেলার কুকিজ বা চকলেট আইসক্রিমের পরিবর্তে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সাধারণ শর্করা বাদ দিয়ে সবজি, ফল এবং বিনস জাতীয় স্বাস্থ্যকর শর্করা গ্রহণ করলে শক্তির মাত্রা বজায় থাকে।
সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার বাদ দিন
হেলার মানুষকে দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার; যেমন রুটি, ভাত, আলু খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতি জোর দেন। তিনি বলেন, এর ফলে আপনি নিজের শরীরে আশ্চর্যজনক পার্থক্য অনুভব করবেন।
সময় মেনে খাদ্য গ্রহণ
ফ্যাশনেবল হলেও দিনে কয়েকবার অল্প খাবার খাওয়া ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে দুপুরের এবং রাতের খাবারের মধ্যে যদি দীর্ঘ বিরতি থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস নিন। জাঙ্ক ফুড খেলে দুপুরের পরই মিষ্টির জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।
সূত্র: ওয়েব মেড

কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড। এটি বিষণ্নতার একটি রূপ, যা মূলত শীতকালে আলোর অভাবের কারণে হয়। এ রহস্যময় ব্যাধিটি প্রায় ২৫ মিলিয়ন আমেরিকানকে প্রভাবিত করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ ধরনের বিষণ্ণতা দেখা যায়।
শীতকালে মন খারাপ কেন হয়
শীতকালীন মন খারাপের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কী করতে হবে, জানেন? তার আগে বলুন, সুখের হরমোন সম্পর্কে জানেন তো? ‘সুখের হরমোন’ বা ‘ফিল গুড কেমিক্যাল’-এর নাম হলো সেরোটোনিন। এটি মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক বা নিউরো ট্রান্সমিটার। এটি মূলত মস্তিষ্কে এবং পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হয় এবং শরীরের বহুবিধ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন মন খারাপের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম বলেন, ‘শীতকালে আলোর অভাবে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের উৎপাদন অনেকটা কমে যায়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভালো থাকার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে বিষণ্নতা, অতিরিক্ত ঘুম, উদ্বেগ, বিরক্তি এবং সামান্য বিষয়ে আচ্ছন্নতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।’ তবে সুখবর হলো, এপ্রিল কিংবা মে মাস নাগাদ দিন দীর্ঘ হলে সাধারণত এ সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসা হিসেবে যদিও লাইটথেরাপি ও ওষুধ রয়েছে, তবে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এনেও আপনি সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে নিতে পারেন।
সেরোটোনিন বুস্ট করার ৩ উপায়
সানফ্রান্সিসকোর রিকভারি সিস্টেমস ক্লিনিকের পরিচালক এবং দ্য মুড কিউর ও দ্য ডায়েট কিউরের লেখক জুলিয়া রস সেরোটোনিন বাড়ানোর তিনটি সহজ উপায় উল্লেখ করেছেন।
উজ্জ্বল কৃত্রিম আলোর ব্যবহার
নিজেকে উজ্জ্বল ইনডোর আলোর সংস্পর্শে আনুন। এটি স্যাড চিকিৎসার একটি মূল অংশ। এই আলো ৩ ফুট দূর থেকে দিনে তিনবার ২০ মিনিটের জন্য ব্যবহারে সাময়িকভাবে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত ব্যায়াম
স্যাডের চক্রে আটকে থাকলে ব্যায়াম করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু নিজেকে জোর করে শুরু করতে পারলে এটি খুবই কার্যকর। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দ্রুত হাঁটা বা রেডিওতে নেচে নেওয়া মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং মেজাজ উন্নত করতে পারে।
বিচক্ষণ খাদ্য গ্রহণ
মিষ্টি এবং সাদা চাল বা সাদা রুটির মতো সাধারণ শর্করা এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলো রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়, ইনসুলিনের বন্যা ঘটায় এবং পরক্ষণে মেজাজ খারাপ করে। সেরোটোনিনকে দমন করে এমন ক্যাফিনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। রস পরামর্শ দেন, ‘যদি কফি খেতেই হয়, তাহলে তা খাওয়ার পরে পান করুন।’
মেজাজ ভালো রাখতে কী খাবেন
এনওয়াইইউ মেডিকেল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট সামান্থা হেলার এবং জুলিয়া রস আরও কিছু পুষ্টিগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রোটিন এবং সবজি
রস দিনে তিনবার প্রোটিন খাওয়ার এবং প্রতিদিন চার কাপ উজ্জ্বল রঙের সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন। সবজি হলো এমন শর্করা, যা আপনার সিস্টেমে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।
স্বাস্থ্যকর শর্করা বেছে নিন
হেলার কুকিজ বা চকলেট আইসক্রিমের পরিবর্তে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সাধারণ শর্করা বাদ দিয়ে সবজি, ফল এবং বিনস জাতীয় স্বাস্থ্যকর শর্করা গ্রহণ করলে শক্তির মাত্রা বজায় থাকে।
সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার বাদ দিন
হেলার মানুষকে দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার; যেমন রুটি, ভাত, আলু খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতি জোর দেন। তিনি বলেন, এর ফলে আপনি নিজের শরীরে আশ্চর্যজনক পার্থক্য অনুভব করবেন।
সময় মেনে খাদ্য গ্রহণ
ফ্যাশনেবল হলেও দিনে কয়েকবার অল্প খাবার খাওয়া ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে দুপুরের এবং রাতের খাবারের মধ্যে যদি দীর্ঘ বিরতি থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস নিন। জাঙ্ক ফুড খেলে দুপুরের পরই মিষ্টির জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।
সূত্র: ওয়েব মেড

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
৯ দিন আগে
গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত...
৬ ঘণ্টা আগে
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৭ ঘণ্টা আগে
ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগেফিচার ডেস্ক

ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। পুরুষের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। পুরুষ ও নারী নাক ডাকার অনুপাত ২.৩: ১।
নাক ডাকার প্রধান কারণ স্থূলতা হলেও এক-তৃতীয়াংশ হালকা-পাতলা মানুষও নাক ডাকেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গলার শিথিল টিস্যুগুলো কেঁপে ওঠে এবং জোরে শব্দ সৃষ্টি হয়। শিশুবিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাড়তি ওজন নাকের ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ করে দেয়। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস চলাচলের সময় শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই ওজন কমালে এই সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ঘরোয়া প্রতিকার
নাক ডাকার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুমের অভ্যাস এবং জীবনধারা।
১। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমানো উচিত। চিত হয়ে ঘুমালে অনেক সময় জিহ্বা পেছনের দিকে চলে যায় এবং আংশিকভাবে শ্বাস পথ বন্ধ করে দেয়। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমালে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে, যা নাক ডাকা কমাতে বা থামাতে সাহায্য করে।
২। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি হলে গলার পেশি শিথিল হয়ে যায়, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে এবং নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে নাক ডাকা বেড়ে যেতে পারে। তা ছাড়া হঠাৎ যেকোনো সময় শুরুও হতে পারে।
৩। বিছানার মাথার দিকটি কয়েক ইঞ্চি উঁচু করে ঘুমালে শ্বাস পথ খোলা রাখতে সাহায্য করে। এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি পিলো বা বেড রাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪। নাকের ওপর স্টিক-অন নেজাল স্ট্রিপ বা নাসারন্ধ্রের ওপর এক্সটারনাল নেজাল ডাইলেটর ব্যবহার করলে নাসারন্ধ্রের জায়গা বাড়ে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসকে আরও কার্যকর করে তোলে এবং নাক ডাকা কমায়। ইন্টারনাল নেজাল ডাইলেটরও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫। ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে থেকে অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল গলার পেশিগুলো শিথিল করে দেয়, যা নাক ডাকার সৃষ্টি করে।
৬। ঘুমের ওষুধ বা উপশমকারী এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আপনি ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ গ্রহণ করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অ্যালকোহলের মতো এই ওষুধগুলোও গলার পেশিকে শিথিল করে নাক ডাকার সমস্যা বাড়াতে পারে।
৭। ধূমপান অভ্যাস নাক ডাকার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ত্যাগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮। অতিরিক্ত ওজন থাকলে গলার চারপাশে চর্বি জমতে পারে, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, ক্যালরি বা কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে তা নাক ডাকা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এগুলো ছাড়াও ডা. আমিনুল ইসলাম শেখ মেডিটেশনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মেডিটেশন বা ধ্যান শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার অনেক বড় সমাধান। মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনার অজানা অনেক সমস্যার সমাধানও হতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি নাক ডাকা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।
চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান
যদি জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কাজ না হয়, তবে নাক ডাকার অন্তর্নিহিত চিকিৎসা অবস্থার সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
১। দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির অ্যালার্জি নাকে বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে; যা মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য করে এবং নাক ডাকা বাড়িয়ে তোলে। অ্যান্টিহিস্টামিন, নেজাল স্প্রে বা কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২। নাকের কাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন: জন্মগত বা আঘাতের কারণে সৃষ্ট ডেভিয়েটেড সেপ্টাম (নাকের ভেতরের পার্টিশনের মিসঅ্যালাইনমেন্ট) বাতাসের প্রবাহকে বাধা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেপ্টোপ্লাস্টি নামক অস্ত্রোপচার প্রয়োজনীয় হতে পারে।
৩। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন: অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন আদর্শ চিকিৎসা। এটি ঘুমের সময় নাক বা মুখের ওপর চাপযুক্ত বাতাসের মাস্ক ব্যবহার করে শ্বাস পথ খোলা রাখে।
৪। ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার: দন্ত চিকিৎসক কর্তৃক বিশেষভাবে তৈরি ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ঘুমের সময় ওপরের শ্বাস পথের আকার বাড়িয়ে নাক ডাকা কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে উপশম পাননি, তাঁদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।
৫। প্যালাটাল ইমপ্ল্যান্ট: এই অস্ত্রোপচারে নরম তালুতে ছোট ইমপ্লান্ট প্রবেশ করানো হয়, যা টিস্যুর কম্পন কমিয়ে নাক ডাকা হ্রাস করে। এটি হালকা থেকে মাঝারি স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।
৬। ইউভুলোপ্যালাটোফ্যারিঙ্গোপ্লাস্টি: এটি একটি অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া, যেখানে গলা থেকে অতিরিক্ত টিস্যু অপসারণ করে শ্বাস পথ প্রশস্ত করা হয়, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।
৭। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন: এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক চিকিৎসায় কম তীব্রতার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে নরম তালুর টিস্যুকে সংকুচিত করা হয়। একে সোমনোপ্লাস্টিও বলা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি
নাক ডাকা সাধারণ হলেও এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে; যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি আপনার নাক ডাকা খুব জোরালো হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে সাময়িক বিরতি আসে, অথবা আপনি দিনের বেলায় প্রচণ্ড ক্লান্তি বা ঘুম অনুভব করেন, তবে দ্রুত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সঠিক রোগনির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা আপনার ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন, ডেইলি মেইল

ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। পুরুষের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। পুরুষ ও নারী নাক ডাকার অনুপাত ২.৩: ১।
নাক ডাকার প্রধান কারণ স্থূলতা হলেও এক-তৃতীয়াংশ হালকা-পাতলা মানুষও নাক ডাকেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গলার শিথিল টিস্যুগুলো কেঁপে ওঠে এবং জোরে শব্দ সৃষ্টি হয়। শিশুবিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাড়তি ওজন নাকের ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ করে দেয়। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস চলাচলের সময় শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই ওজন কমালে এই সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব।
জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ঘরোয়া প্রতিকার
নাক ডাকার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুমের অভ্যাস এবং জীবনধারা।
১। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমানো উচিত। চিত হয়ে ঘুমালে অনেক সময় জিহ্বা পেছনের দিকে চলে যায় এবং আংশিকভাবে শ্বাস পথ বন্ধ করে দেয়। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমালে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে, যা নাক ডাকা কমাতে বা থামাতে সাহায্য করে।
২। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি হলে গলার পেশি শিথিল হয়ে যায়, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে এবং নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে নাক ডাকা বেড়ে যেতে পারে। তা ছাড়া হঠাৎ যেকোনো সময় শুরুও হতে পারে।
৩। বিছানার মাথার দিকটি কয়েক ইঞ্চি উঁচু করে ঘুমালে শ্বাস পথ খোলা রাখতে সাহায্য করে। এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি পিলো বা বেড রাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪। নাকের ওপর স্টিক-অন নেজাল স্ট্রিপ বা নাসারন্ধ্রের ওপর এক্সটারনাল নেজাল ডাইলেটর ব্যবহার করলে নাসারন্ধ্রের জায়গা বাড়ে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসকে আরও কার্যকর করে তোলে এবং নাক ডাকা কমায়। ইন্টারনাল নেজাল ডাইলেটরও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫। ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে থেকে অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল গলার পেশিগুলো শিথিল করে দেয়, যা নাক ডাকার সৃষ্টি করে।
৬। ঘুমের ওষুধ বা উপশমকারী এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আপনি ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ গ্রহণ করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অ্যালকোহলের মতো এই ওষুধগুলোও গলার পেশিকে শিথিল করে নাক ডাকার সমস্যা বাড়াতে পারে।
৭। ধূমপান অভ্যাস নাক ডাকার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ত্যাগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮। অতিরিক্ত ওজন থাকলে গলার চারপাশে চর্বি জমতে পারে, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, ক্যালরি বা কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে তা নাক ডাকা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এগুলো ছাড়াও ডা. আমিনুল ইসলাম শেখ মেডিটেশনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মেডিটেশন বা ধ্যান শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার অনেক বড় সমাধান। মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনার অজানা অনেক সমস্যার সমাধানও হতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি নাক ডাকা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।
চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান
যদি জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কাজ না হয়, তবে নাক ডাকার অন্তর্নিহিত চিকিৎসা অবস্থার সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
১। দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির অ্যালার্জি নাকে বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে; যা মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য করে এবং নাক ডাকা বাড়িয়ে তোলে। অ্যান্টিহিস্টামিন, নেজাল স্প্রে বা কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২। নাকের কাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন: জন্মগত বা আঘাতের কারণে সৃষ্ট ডেভিয়েটেড সেপ্টাম (নাকের ভেতরের পার্টিশনের মিসঅ্যালাইনমেন্ট) বাতাসের প্রবাহকে বাধা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেপ্টোপ্লাস্টি নামক অস্ত্রোপচার প্রয়োজনীয় হতে পারে।
৩। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন: অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন আদর্শ চিকিৎসা। এটি ঘুমের সময় নাক বা মুখের ওপর চাপযুক্ত বাতাসের মাস্ক ব্যবহার করে শ্বাস পথ খোলা রাখে।
৪। ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার: দন্ত চিকিৎসক কর্তৃক বিশেষভাবে তৈরি ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ঘুমের সময় ওপরের শ্বাস পথের আকার বাড়িয়ে নাক ডাকা কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে উপশম পাননি, তাঁদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।
৫। প্যালাটাল ইমপ্ল্যান্ট: এই অস্ত্রোপচারে নরম তালুতে ছোট ইমপ্লান্ট প্রবেশ করানো হয়, যা টিস্যুর কম্পন কমিয়ে নাক ডাকা হ্রাস করে। এটি হালকা থেকে মাঝারি স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।
৬। ইউভুলোপ্যালাটোফ্যারিঙ্গোপ্লাস্টি: এটি একটি অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া, যেখানে গলা থেকে অতিরিক্ত টিস্যু অপসারণ করে শ্বাস পথ প্রশস্ত করা হয়, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।
৭। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন: এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক চিকিৎসায় কম তীব্রতার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে নরম তালুর টিস্যুকে সংকুচিত করা হয়। একে সোমনোপ্লাস্টিও বলা হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি
নাক ডাকা সাধারণ হলেও এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে; যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি আপনার নাক ডাকা খুব জোরালো হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে সাময়িক বিরতি আসে, অথবা আপনি দিনের বেলায় প্রচণ্ড ক্লান্তি বা ঘুম অনুভব করেন, তবে দ্রুত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সঠিক রোগনির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা আপনার ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
সূত্র: হেলথ লাইন, ডেইলি মেইল

বিশ্বজুড়ে খাদ্যতালিকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
৯ দিন আগে
গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত...
৬ ঘণ্টা আগে
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৭ ঘণ্টা আগে
কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড।
৮ ঘণ্টা আগে