Ajker Patrika

শোষণের বদলে কার্বন ছড়াচ্ছে আফ্রিকার বনগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: এএফপি
ছবি: এএফপি

আফ্রিকার বনভূমি এখন আর কার্বন শোষণকারী নয়, বরং কার্বন নিঃসরণের উৎসে পরিণত হয়েছে—নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ তথ্য প্রকাশের পর প্রাকৃতিকভাবে জলবায়ু রক্ষাকারী হিসেবে পরিচিত এসব বন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১০ সালের পর থেকে ঘটে যাওয়া এই নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তিনটি প্রধান রেইনফরেস্ট অঞ্চল—দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা এখন আর জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে না; বরং সংকটকে আরও তীব্র করছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মানুষই এই অবস্থার জন্য দায়ী। খাদ্য উৎপাদনের জন্য বেশি বেশি জমির ব্যবহার, খনিজ উত্তোলন, অবকাঠামো নির্মাণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ছে। সব মিলিয়ে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আফ্রিকার বনভূমিগুলো প্রতিবছর প্রায় ১০৬ বিলিয়ন কেজি জৈবভর (বায়োমাস) হারিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলো হলো—ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর আর্দ্র-ক্রান্তীয় বন, মাদাগাস্কার এবং পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ নভেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্যের লেস্টার, শেফিল্ড ও এডিনবরার বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর আর্থ অবজারভেশনের গবেষকেরা। উপগ্রহচিত্র ও মেশিন লার্নিংয়ের সাহায্যে তাঁরা গাছপালা ও কাঠজাত উদ্ভিদে সঞ্চিত কার্বনের ১০ বছরের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেন।

তাঁরা দেখেছেন, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার বনগুলো কার্বন শোষণ করছিল। ২০১০-এর পর ব্যাপক বন ধ্বংসের ফলে মহাদেশটি এখন কার্বন নির্গমন করছে। গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বন উজাড় রোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্বন বাফারগুলোর একটি হারিয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রাজিল ‘ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফ্যাসিলিটি’ (টিএফএফএফ) নামের একটি উদ্যোগ চালু করেছে, যার লক্ষ্য—সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অর্থ দিয়ে বন অক্ষত রাখতে উৎসাহিত করা। এ জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে কয়েকটি দেশ।

গবেষণার লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল ফিউচারসের পরিচালক হাইকো বালৎসার বলেন, এই ফলাফল দেখায় যে—টিএফএফএফকে দ্রুত বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া দরকার। তাঁর ভাষায়, নীতিনির্ধারকদের উচিত বিশ্বের ক্রান্তীয় বন রক্ষায় আরও কঠোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

হাইকো মনে করিয়ে দেন, চার বছর আগে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ২৬-এ বিশ্বনেতারা ২০৩০ সালের মধ্যে বন ধ্বংস বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের এমন অঙ্গীকারেও খুব একটা কাজ হয়নি।

প্রসঙ্গত, টিএফএফএফের লক্ষ্য হলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাদের বন অক্ষত রাখার জন্য অর্থ দেওয়া—যাতে খনিজ উত্তোলন, ধাতু সংগ্রহ কিংবা কৃষিজমি বাড়ানোর চাপ কমানো যায়। কিন্তু সবগুলো দেশ এতে অংশ না নিলে এই উদ্যোগ কার্যকর হবে না বলে জানান গবেষকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...