Ajker Patrika

গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে আইটিডি কনফারেন্স ২০২৫: উদ্ভাবন, রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নের বৈশ্বিক মঞ্চ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বৈশ্বিক প্রযুক্তিবিপ্লব, জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনের এই যুগে টেকসই উন্নয়নের ধারণাটি আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন এখন কেবল জিডিপির সংখ্যার ওপর নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যা নির্ভর করে উদ্ভাবন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অংশগ্রহণমূলক সুশাসন ও বিশ্বব্যাপী জ্ঞানবিনিময়ের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন ফর ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৫’।

ইতিমধ্যে এটি গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিল্পোদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

২৭ ও ২৮ নভেম্বর গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘টেকসই ব্যবসা ও আইনের অগ্রগতি: উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিবেশ, সমাজ এবং সুশাসনের সমন্বয়।’ এই থিম বর্তমান বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সাম্যিক উন্নয়ন—এসবই আজকের উন্নয়ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এই জটিল ও আন্তসম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে মোকাবিলার পথ খুঁজে বের করাই হচ্ছে এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

এবারের সম্মেলনে আয়োজকদের কাছে ১৯২টি গবেষণাপত্র জমা পড়েছে, যার মধ্য থেকে রিভিউ প্যানেলের কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে ১১৩টি উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত তিনবারের আয়োজনের পেপারের প্রায় ৩০ শতাংশ স্কোপাস–ইন্ডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা কনফারেন্সের বড় সফলতা। গবেষকেরা তাঁদের প্রবন্ধে টেকসই অর্থনৈতিক মডেল, সবুজ অর্থায়ন, জলবায়ু সহিষ্ণুতা, সাইবার আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিশাস্ত্র, ডিজিটাল রূপান্তর, শ্রম অধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতিসহ নানাবিধ বিষয়ে তাঁদের সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করবেন।

বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক জ্ঞানবিনিময় মঞ্চে পরিণত করেছে।

আইটিডি কনফারেন্স ২০২৫-এর মাধ্যমে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও বিশ্লেষণ ভবিষ্যতের করপোরেট নীতি, পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়িক চর্চা ও সুশাসনের কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। এই সম্মেলন একাডেমিয়া, শিল্প খাত, নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজের মধ্যে একটি সক্রিয় সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আন্তর্জাতিক মানের একটি প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের তরুণ ও উদীয়মান গবেষকদের সামনে নিজেদের কাজ উপস্থাপনের একটি দুর্লভ সুযোগ তৈরি হবে, যা তাঁদের বৈশ্বিক গবেষণা অঙ্গনে প্রবেশের পথ সুগম করবে।

সম্মেলনে আলোচিত গবেষণা ও সুপারিশমালা সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। এ ছাড়া সম্মেলনের সেরা গবেষণাপত্রগুলোর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকছে, যা দেশে গুণগত গবেষণাকে উৎসাহিত করতে এবং গবেষণা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বর্তমান সময়ে একটি দেশের উন্নয়নকে শুধু ভৌত অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে মাপা যায় না, বরং এর মানদণ্ড এখন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন ও পরিবেশবান্ধব নীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইটিডি কনফারেন্স ২০২৫ ঠিক এই কারণেই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি একাডেমিক সম্মেলনই নয়, বরং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে উদ্ভাবন, গবেষণা ও নতুন প্রজন্মের মেধাকে কাজে লাগানোর একটি বলিষ্ঠ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় গবেষণা এবং ভবিষ্যৎমুখী সংলাপের সমন্বয়ে এই কনফারেন্স বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে স্থান পাবে বলে প্রতিষ্ঠানটির দৃঢ় বিশ্বাস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...