সাব্বির হোসেন

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে। তবে নরওয়েতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এবং সুসংগঠিত ভিসা প্রক্রিয়া জানা অপরিহার্য। বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নোটারি, অনলাইন আবেদনসহ পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনদের জন্য জটিল মনে হতে পারে। নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া থাকছে আজকের আলোচনায়।
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার যাত্রা শুরু হয় বৈধ অফার লেটার বা অ্যাডমিশন কনফারমেশন পাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা পিটিই সনদ প্রয়োজন হয়। যদি কোনো কোর্সে টিউশন ফি থাকে, তবে সেই ফি প্রদানের প্রমাণ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি সুসংগঠিত হয়, তবে ভিসা আবেদনও সহজ হয়।
শিক্ষার্থীর ভিসার নথি তালিকা
ভিসা আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত, একাডেমিক, আবেদনসংক্রান্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি একসঙ্গে প্রস্তুত রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত নথির মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে), জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি; একাডেমিক নথির মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট রয়েছে, অনুবাদ ও নোটারি করতে হয়। আবেদনসংক্রান্ত নথি হলো ইউডিআই ফরম, কভার লেটার, রেসিডেন্স পারমিট ফরম, ডিক্লারেশন ফরম, ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং ফি রসিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথির মধ্যে রয়েছে অফার লেটার, অ্যাডমিশন কনফারমেশন ও কোর্স ডিটেইলস এবং আবাসনের জন্য স্টুডেন্ট হাউজিং বা ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হয়, তবে এয়ারবিএনবি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফান্ড/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/আর্থিক প্রমাণ
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে বছরে কমপক্ষে এনওকে ১৬৬,৮৫০ লিভিং কস্ট হিসেবে দেখাতে হয়। এই টাকা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নরওয়েজিয়ান ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে। প্রয়োজন হয় ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পনসরশিপ লেটার, আয়ের প্রমাণ, চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্র এবং ট্যাক্স ডকুমেন্ট। স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকা উচিত এবং হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
নোটারি/লিগ্যালাইজেশন
ডকুমেন্ট নোটারি করলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়; বিশেষ করে স্পনসরশিপ লেটার, অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট, আয়ের সনদ, অনুবাদের কাগজপত্র এবং আত্মীয়তার প্রমাণ নোটারি করলে ভিসা অফিস তথ্য যাচাই করতে সুবিধা পায়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
যদিও নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি জমা দিলে আবেদন আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পিসিসি পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন
নরওয়ের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হয়। প্রথমে ইউডিআই ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ফি পরিশোধের পর ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সঠিক স্ক্যান কপি এবং তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা জমা ও প্রক্রিয়াকরণ
বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাস না থাকার কারণে ভিসা আবেদন ঢাকার ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে জমা দিতে হয়। এখানে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ, পাসপোর্ট জমা এবং ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হয়। আবেদনটি এখান থেকেই নরওয়ের ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়।
প্রসেসিং সময়
সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি বা বাড়তি ডকুমেন্ট চাইলে সময় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
নরওয়েতে পৌঁছে করণীয়
ভিসা অনুমোদনের পর নরওয়েতে পৌঁছে প্রথম কাজ হলো সাত দিনের মধ্যে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন। এরপর রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের বায়োমেট্রিক; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা; প্রয়োজনীয় টাকা ট্রান্সফার; সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা।
পার্টটাইম কাজ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্টটাইম এবং ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করতে পারে। ট্যাক্স কার্ড ছাড়া কাজ করা যায় না এবং ক্যাশ জব আইনত নিষিদ্ধ।
নরওয়েতে মাসিক খরচ
নরওয়েতে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ গড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার এনওকে হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ফোন-ইন্টারনেট ও অন্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। তাই ইউডিআই বছরে নির্দিষ্ট লিভিং কস্ট দেখাতে বলে।
ভিসা রিনিউ/এক্সটেনশন
প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হয়। এ জন্য নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আবাসন চুক্তি, একাডেমিক অগ্রগতির রিপোর্ট এবং সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ জমা দিতে হয়।
ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সাধারণ কারণ
ভিসা রিজেকশনের কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় টাকা জমা, স্পনসরের আয় প্রমাণ না থাকা, ভুয়া আবাসনের কাগজ, অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট বা ভুল অনুবাদ। আয় ও টাকার উৎস অস্পষ্ট থাকলে আবেদন সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
কিছু পরামর্শ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২০ থেকে ৩০ দিনের পুরোনো হওয়া উচিত। সব ডকুমেন্ট পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা জরুরি। অফার লেটার পাওয়ামাত্র ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ভালো। আবাসন আগে নিশ্চিত করা প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এ ছাড়া স্পনসরের আয় ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের পরিমাণ যেন অর্থপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: নরওয়েজিয়ান ইমিগ্রেশন ডিরেক্টরেট

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে। তবে নরওয়েতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এবং সুসংগঠিত ভিসা প্রক্রিয়া জানা অপরিহার্য। বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নোটারি, অনলাইন আবেদনসহ পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনদের জন্য জটিল মনে হতে পারে। নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া থাকছে আজকের আলোচনায়।
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার যাত্রা শুরু হয় বৈধ অফার লেটার বা অ্যাডমিশন কনফারমেশন পাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা পিটিই সনদ প্রয়োজন হয়। যদি কোনো কোর্সে টিউশন ফি থাকে, তবে সেই ফি প্রদানের প্রমাণ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি সুসংগঠিত হয়, তবে ভিসা আবেদনও সহজ হয়।
শিক্ষার্থীর ভিসার নথি তালিকা
ভিসা আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত, একাডেমিক, আবেদনসংক্রান্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি একসঙ্গে প্রস্তুত রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত নথির মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে), জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি; একাডেমিক নথির মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট রয়েছে, অনুবাদ ও নোটারি করতে হয়। আবেদনসংক্রান্ত নথি হলো ইউডিআই ফরম, কভার লেটার, রেসিডেন্স পারমিট ফরম, ডিক্লারেশন ফরম, ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং ফি রসিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথির মধ্যে রয়েছে অফার লেটার, অ্যাডমিশন কনফারমেশন ও কোর্স ডিটেইলস এবং আবাসনের জন্য স্টুডেন্ট হাউজিং বা ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হয়, তবে এয়ারবিএনবি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফান্ড/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/আর্থিক প্রমাণ
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে বছরে কমপক্ষে এনওকে ১৬৬,৮৫০ লিভিং কস্ট হিসেবে দেখাতে হয়। এই টাকা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নরওয়েজিয়ান ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে। প্রয়োজন হয় ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পনসরশিপ লেটার, আয়ের প্রমাণ, চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্র এবং ট্যাক্স ডকুমেন্ট। স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকা উচিত এবং হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
নোটারি/লিগ্যালাইজেশন
ডকুমেন্ট নোটারি করলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়; বিশেষ করে স্পনসরশিপ লেটার, অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট, আয়ের সনদ, অনুবাদের কাগজপত্র এবং আত্মীয়তার প্রমাণ নোটারি করলে ভিসা অফিস তথ্য যাচাই করতে সুবিধা পায়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
যদিও নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি জমা দিলে আবেদন আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পিসিসি পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন
নরওয়ের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হয়। প্রথমে ইউডিআই ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ফি পরিশোধের পর ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সঠিক স্ক্যান কপি এবং তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা জমা ও প্রক্রিয়াকরণ
বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাস না থাকার কারণে ভিসা আবেদন ঢাকার ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে জমা দিতে হয়। এখানে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ, পাসপোর্ট জমা এবং ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হয়। আবেদনটি এখান থেকেই নরওয়ের ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়।
প্রসেসিং সময়
সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি বা বাড়তি ডকুমেন্ট চাইলে সময় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
নরওয়েতে পৌঁছে করণীয়
ভিসা অনুমোদনের পর নরওয়েতে পৌঁছে প্রথম কাজ হলো সাত দিনের মধ্যে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন। এরপর রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের বায়োমেট্রিক; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা; প্রয়োজনীয় টাকা ট্রান্সফার; সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা।
পার্টটাইম কাজ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্টটাইম এবং ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করতে পারে। ট্যাক্স কার্ড ছাড়া কাজ করা যায় না এবং ক্যাশ জব আইনত নিষিদ্ধ।
নরওয়েতে মাসিক খরচ
নরওয়েতে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ গড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার এনওকে হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ফোন-ইন্টারনেট ও অন্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। তাই ইউডিআই বছরে নির্দিষ্ট লিভিং কস্ট দেখাতে বলে।
ভিসা রিনিউ/এক্সটেনশন
প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হয়। এ জন্য নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আবাসন চুক্তি, একাডেমিক অগ্রগতির রিপোর্ট এবং সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ জমা দিতে হয়।
ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সাধারণ কারণ
ভিসা রিজেকশনের কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় টাকা জমা, স্পনসরের আয় প্রমাণ না থাকা, ভুয়া আবাসনের কাগজ, অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট বা ভুল অনুবাদ। আয় ও টাকার উৎস অস্পষ্ট থাকলে আবেদন সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
কিছু পরামর্শ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২০ থেকে ৩০ দিনের পুরোনো হওয়া উচিত। সব ডকুমেন্ট পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা জরুরি। অফার লেটার পাওয়ামাত্র ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ভালো। আবাসন আগে নিশ্চিত করা প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এ ছাড়া স্পনসরের আয় ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের পরিমাণ যেন অর্থপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: নরওয়েজিয়ান ইমিগ্রেশন ডিরেক্টরেট
সাব্বির হোসেন

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে। তবে নরওয়েতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এবং সুসংগঠিত ভিসা প্রক্রিয়া জানা অপরিহার্য। বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নোটারি, অনলাইন আবেদনসহ পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনদের জন্য জটিল মনে হতে পারে। নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া থাকছে আজকের আলোচনায়।
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার যাত্রা শুরু হয় বৈধ অফার লেটার বা অ্যাডমিশন কনফারমেশন পাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা পিটিই সনদ প্রয়োজন হয়। যদি কোনো কোর্সে টিউশন ফি থাকে, তবে সেই ফি প্রদানের প্রমাণ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি সুসংগঠিত হয়, তবে ভিসা আবেদনও সহজ হয়।
শিক্ষার্থীর ভিসার নথি তালিকা
ভিসা আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত, একাডেমিক, আবেদনসংক্রান্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি একসঙ্গে প্রস্তুত রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত নথির মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে), জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি; একাডেমিক নথির মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট রয়েছে, অনুবাদ ও নোটারি করতে হয়। আবেদনসংক্রান্ত নথি হলো ইউডিআই ফরম, কভার লেটার, রেসিডেন্স পারমিট ফরম, ডিক্লারেশন ফরম, ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং ফি রসিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথির মধ্যে রয়েছে অফার লেটার, অ্যাডমিশন কনফারমেশন ও কোর্স ডিটেইলস এবং আবাসনের জন্য স্টুডেন্ট হাউজিং বা ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হয়, তবে এয়ারবিএনবি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফান্ড/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/আর্থিক প্রমাণ
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে বছরে কমপক্ষে এনওকে ১৬৬,৮৫০ লিভিং কস্ট হিসেবে দেখাতে হয়। এই টাকা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নরওয়েজিয়ান ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে। প্রয়োজন হয় ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পনসরশিপ লেটার, আয়ের প্রমাণ, চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্র এবং ট্যাক্স ডকুমেন্ট। স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকা উচিত এবং হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
নোটারি/লিগ্যালাইজেশন
ডকুমেন্ট নোটারি করলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়; বিশেষ করে স্পনসরশিপ লেটার, অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট, আয়ের সনদ, অনুবাদের কাগজপত্র এবং আত্মীয়তার প্রমাণ নোটারি করলে ভিসা অফিস তথ্য যাচাই করতে সুবিধা পায়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
যদিও নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি জমা দিলে আবেদন আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পিসিসি পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন
নরওয়ের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হয়। প্রথমে ইউডিআই ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ফি পরিশোধের পর ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সঠিক স্ক্যান কপি এবং তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা জমা ও প্রক্রিয়াকরণ
বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাস না থাকার কারণে ভিসা আবেদন ঢাকার ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে জমা দিতে হয়। এখানে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ, পাসপোর্ট জমা এবং ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হয়। আবেদনটি এখান থেকেই নরওয়ের ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়।
প্রসেসিং সময়
সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি বা বাড়তি ডকুমেন্ট চাইলে সময় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
নরওয়েতে পৌঁছে করণীয়
ভিসা অনুমোদনের পর নরওয়েতে পৌঁছে প্রথম কাজ হলো সাত দিনের মধ্যে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন। এরপর রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের বায়োমেট্রিক; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা; প্রয়োজনীয় টাকা ট্রান্সফার; সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা।
পার্টটাইম কাজ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্টটাইম এবং ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করতে পারে। ট্যাক্স কার্ড ছাড়া কাজ করা যায় না এবং ক্যাশ জব আইনত নিষিদ্ধ।
নরওয়েতে মাসিক খরচ
নরওয়েতে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ গড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার এনওকে হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ফোন-ইন্টারনেট ও অন্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। তাই ইউডিআই বছরে নির্দিষ্ট লিভিং কস্ট দেখাতে বলে।
ভিসা রিনিউ/এক্সটেনশন
প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হয়। এ জন্য নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আবাসন চুক্তি, একাডেমিক অগ্রগতির রিপোর্ট এবং সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ জমা দিতে হয়।
ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সাধারণ কারণ
ভিসা রিজেকশনের কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় টাকা জমা, স্পনসরের আয় প্রমাণ না থাকা, ভুয়া আবাসনের কাগজ, অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট বা ভুল অনুবাদ। আয় ও টাকার উৎস অস্পষ্ট থাকলে আবেদন সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
কিছু পরামর্শ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২০ থেকে ৩০ দিনের পুরোনো হওয়া উচিত। সব ডকুমেন্ট পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা জরুরি। অফার লেটার পাওয়ামাত্র ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ভালো। আবাসন আগে নিশ্চিত করা প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এ ছাড়া স্পনসরের আয় ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের পরিমাণ যেন অর্থপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: নরওয়েজিয়ান ইমিগ্রেশন ডিরেক্টরেট

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে। তবে নরওয়েতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি এবং সুসংগঠিত ভিসা প্রক্রিয়া জানা অপরিহার্য। বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নোটারি, অনলাইন আবেদনসহ পুরো প্রক্রিয়াটি নতুনদের জন্য জটিল মনে হতে পারে। নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া থাকছে আজকের আলোচনায়।
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার যাত্রা শুরু হয় বৈধ অফার লেটার বা অ্যাডমিশন কনফারমেশন পাওয়ার মাধ্যমে। সাধারণত ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোয়েফল বা পিটিই সনদ প্রয়োজন হয়। যদি কোনো কোর্সে টিউশন ফি থাকে, তবে সেই ফি প্রদানের প্রমাণ আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। ভর্তিপ্রক্রিয়া যদি সুসংগঠিত হয়, তবে ভিসা আবেদনও সহজ হয়।
শিক্ষার্থীর ভিসার নথি তালিকা
ভিসা আবেদনের জন্য ব্যক্তিগত, একাডেমিক, আবেদনসংক্রান্ত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি একসঙ্গে প্রস্তুত রাখা জরুরি। ব্যক্তিগত নথির মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট, পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে), জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ছবি; একাডেমিক নথির মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট রয়েছে, অনুবাদ ও নোটারি করতে হয়। আবেদনসংক্রান্ত নথি হলো ইউডিআই ফরম, কভার লেটার, রেসিডেন্স পারমিট ফরম, ডিক্লারেশন ফরম, ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং ফি রসিদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথির মধ্যে রয়েছে অফার লেটার, অ্যাডমিশন কনফারমেশন ও কোর্স ডিটেইলস এবং আবাসনের জন্য স্টুডেন্ট হাউজিং বা ভাড়ার চুক্তিপত্র জমা দিতে হয়, তবে এয়ারবিএনবি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফান্ড/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/আর্থিক প্রমাণ
নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নরওয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে বছরে কমপক্ষে এনওকে ১৬৬,৮৫০ লিভিং কস্ট হিসেবে দেখাতে হয়। এই টাকা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা নরওয়েজিয়ান ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে। প্রয়োজন হয় ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, স্পনসরশিপ লেটার, আয়ের প্রমাণ, চাকরি বা ব্যবসার কাগজপত্র এবং ট্যাক্স ডকুমেন্ট। স্টেটমেন্টে নিয়মিত লেনদেন থাকা উচিত এবং হঠাৎ বড় অঙ্কের জমা সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
নোটারি/লিগ্যালাইজেশন
ডকুমেন্ট নোটারি করলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়; বিশেষ করে স্পনসরশিপ লেটার, অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট, আয়ের সনদ, অনুবাদের কাগজপত্র এবং আত্মীয়তার প্রমাণ নোটারি করলে ভিসা অফিস তথ্য যাচাই করতে সুবিধা পায়।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
যদিও নরওয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি জমা দিলে আবেদন আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পিসিসি পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন
নরওয়ের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা হয়। প্রথমে ইউডিআই ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড এবং ফি পরিশোধের পর ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সঠিক স্ক্যান কপি এবং তথ্যের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভিসা জমা ও প্রক্রিয়াকরণ
বাংলাদেশে নরওয়ের দূতাবাস না থাকার কারণে ভিসা আবেদন ঢাকার ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে জমা দিতে হয়। এখানে বায়োমেট্রিক সংগ্রহ, পাসপোর্ট জমা এবং ডকুমেন্ট গ্রহণ করা হয়। আবেদনটি এখান থেকেই নরওয়ের ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়।
প্রসেসিং সময়
সাধারণত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি বা বাড়তি ডকুমেন্ট চাইলে সময় ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত।
নরওয়েতে পৌঁছে করণীয়
ভিসা অনুমোদনের পর নরওয়েতে পৌঁছে প্রথম কাজ হলো সাত দিনের মধ্যে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন। এরপর রেসিডেন্স পারমিট কার্ডের বায়োমেট্রিক; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা; প্রয়োজনীয় টাকা ট্রান্সফার; সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা।
পার্টটাইম কাজ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্টটাইম এবং ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করতে পারে। ট্যাক্স কার্ড ছাড়া কাজ করা যায় না এবং ক্যাশ জব আইনত নিষিদ্ধ।
নরওয়েতে মাসিক খরচ
নরওয়েতে জীবনযাত্রা ব্যয়বহুল। শিক্ষার্থীদের মাসিক খরচ গড়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার এনওকে হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ফোন-ইন্টারনেট ও অন্য খরচ অন্তর্ভুক্ত। তাই ইউডিআই বছরে নির্দিষ্ট লিভিং কস্ট দেখাতে বলে।
ভিসা রিনিউ/এক্সটেনশন
প্রতিবছর ভিসা নবায়ন করতে হয়। এ জন্য নতুন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আবাসন চুক্তি, একাডেমিক অগ্রগতির রিপোর্ট এবং সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণ জমা দিতে হয়।
ভিসা রিজেক্ট হওয়ার সাধারণ কারণ
ভিসা রিজেকশনের কারণ হিসেবে দেখা যায় ব্যাংক স্টেটমেন্টে হঠাৎ বড় টাকা জমা, স্পনসরের আয় প্রমাণ না থাকা, ভুয়া আবাসনের কাগজ, অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট বা ভুল অনুবাদ। আয় ও টাকার উৎস অস্পষ্ট থাকলে আবেদন সন্দেহজনক মনে হতে পারে।
কিছু পরামর্শ: ব্যাংক স্টেটমেন্ট ২০ থেকে ৩০ দিনের পুরোনো হওয়া উচিত। সব ডকুমেন্ট পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা জরুরি। অফার লেটার পাওয়ামাত্র ভিএফএস অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা ভালো। আবাসন আগে নিশ্চিত করা প্রক্রিয়াকে সহজ করে। এ ছাড়া স্পনসরের আয় ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের পরিমাণ যেন অর্থপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সূত্র: নরওয়েজিয়ান ইমিগ্রেশন ডিরেক্টরেট

প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হলো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক করার মতো নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এসবের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান।
৯ ঘণ্টা আগে
চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
৯ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়।
৯ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকল পর্যায়ে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউট পরিচালকেরা সংশ্লিষ্ট ডিনদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন ক্লাস শুরু করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ধারাবাহিক আফটারশকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের জন্য প্রকৌশলীদের বিশেষ পরিদর্শন টিম কাজ করছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে শীতকালীন ছুটি ও ভবন সংস্কারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
এর আগে ২১ নভেম্বর কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় কয়েক শ মানুষ। ভূমিকম্পের সময় ঢাবির হলে আতঙ্কে লাফ দিয়ে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরদিন আরও তিন দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমে এক দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরে ১৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অনলাইন ক্লাসই আপাতত সর্বোত্তম বিকল্প। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৭ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকল পর্যায়ে শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ইনস্টিটিউট পরিচালকেরা সংশ্লিষ্ট ডিনদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন ক্লাস শুরু করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ধারাবাহিক আফটারশকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের জন্য প্রকৌশলীদের বিশেষ পরিদর্শন টিম কাজ করছে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে শীতকালীন ছুটি ও ভবন সংস্কারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
এর আগে ২১ নভেম্বর কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় কয়েক শ মানুষ। ভূমিকম্পের সময় ঢাবির হলে আতঙ্কে লাফ দিয়ে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরদিন আরও তিন দফা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমে এক দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পরে ১৫ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষাকার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অনলাইন ক্লাসই আপাতত সর্বোত্তম বিকল্প। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৭ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
৯ দিন আগে
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হলো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক করার মতো নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এসবের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান।
৯ ঘণ্টা আগে
চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
৯ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়।
৯ ঘণ্টা আগেবিশ্ববিদ্যালয়জীবন হলো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক করার মতো নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এসবের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৪৭তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী সামেত ইবনে এনাম, সায়হান বিন সাজ্জাদ, মোছা. সাদিয়া ইসলাম ও সাদিয়া সাবাহ্ শরমিলী—তেমনই অনুপ্রেরণার এক উদাহরণ। পড়াশোনার চাপ, সময় ব্যবস্থাপনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম—সব সামলে তাঁরা সিজিপিএর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অনুজদের জন্য খুলে দিতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। চার শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে সে গল্প লিখেছেন মো. তাওকীর তাজাম্মুল।
মো. তাওকীর তাজাম্মুল

আগ্রহের বিষয়েও সময় দিতে হবে
বুটেক্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ক্লাসে মনোযোগী হওয়া এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নে ভালো করার চেষ্টা করেছি। এতে পরীক্ষার আগে পড়ার চাপ কমে যায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। লেভেল-১ টার্ম-১-এর ফল দেখে নিয়মিত ক্লাস করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি। পরবর্তী টার্মগুলোতে সেই উপলব্ধি থেকেই আরও পরিশ্রম করেছি।
আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান, আমাদের বিভাগের শিক্ষকেরা এবং অন্যান্য কোর্সের শিক্ষকেরা অত্যন্ত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাঁদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা আমার একাডেমিক ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমার বড় ভাই মো. শরিফুল ইসলামের আত্মত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পাশাপাশি সহপাঠী, বন্ধু, সিনিয়র ও জুনিয়র—সবাই নানা সময়ে সহযোগিতা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিজেকে শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোতেও সময় দেওয়া উচিত। এতে সফট স্কিল বিকাশের সুযোগ পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইডিয়া বিকাশের প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বিশেষভাবে সহায়ক ছিল।
অনুজদের বলব, ভালো ফলের জন্য নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, ধারাবাহিক মূল্যায়নে ভালো করা ও আগের বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে অনেকেরই সময় লাগে। তাই প্রথম দিকের ফল প্রত্যাশিত না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত চেষ্টা আর ইতিবাচক মানসিকতাই শুরুর দিকের ঘাটতিকে সাফল্যের গল্পে রূপ দিতে পারে।
মোছা. সাদিয়া ইসলাম, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯০

প্রথমেই নিজের সক্ষমতা বুঝতে হবে
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথমেই নিজের সক্ষমতা কত দূর, তা বোঝা দরকার। কারণ দেখা যায় একজন পুরো সেমিস্টার পড়ে যে ফল করল, অন্য একজন শুধু সিটি আর এক্সামের আগে পড়ে পূর্বের জনের চেয়ে ভালো ফল করছে। এ ক্ষেত্রে বলব, আরেকজন যেটা করছে হুবহু তা অনুসরণ করতে গেলেই সমস্যা। কিন্তু কিছু সাধারণ জিনিস যেমন নিয়মিত ক্লাস, সিটি, ভাইভার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া, এগুলো আমি সব সময়ই ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি।
জুনিয়রদের উদ্দেশে বলব, নিয়মিত ক্লাসগুলো কর, ক্লাসের উপস্থিতির মার্কস অবশ্যই ভালো রাখতে হবে। ল্যাবগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা কর, কারণ ল্যাবে একটু চেষ্টা করলেই ৪ গ্রেড পাওয়া সম্ভব। সিটির আগে কষ্ট করে হলেও ভালোমতো প্রস্তুতি নাও, তাহলে দেখবে টার্মে ভালো সিজিপিএ তোলা অনেক সহজ হয়ে গেছে। পুরো সেমিস্টারে যা-ই কর, টার্ম ফাইনালের মধ্যে একটু গুরুত্বের সঙ্গে পড়াশোনা কর।
সব শিক্ষক হয়তো ভালো পড়ান না, ভার্সিটির কার্যপদ্ধতি হয়তো ভালো নয়, অনেক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় যত তাড়াতাড়ি মেনে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, ততই তোমার জন্য ভালো। অভিযোগ করা কমিয়ে, নিজের কাজকর্ম উন্নত কর, দেখবে অভিযোগ করার ইস্যুই কমে গেছে।
সামেত ইবনে এনাম, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯১

ধাপে ধাপে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছি
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনজুড়ে আমি একাডেমিক ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকতা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ অগ্রগতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। শুরুর দিকে কীভাবে কার্যকরভাবে পড়াশোনা করতে হয় বা প্রস্তুতি সুসংগঠিত করতে হয়, তা স্পষ্টভাবে বুঝতাম না। তবে সৌভাগ্যবশত, খুব দ্রুতই বুঝে গিয়েছিলাম, আমার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন পথে এগোতে হবে।
আমি নিয়মিত রুটিন মেনে চলতাম। ক্লাস এবং ল্যাবে মনোযোগের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতাম। সেই সঙ্গে নোট নিতাম। এ নোটগুলো আমাকে ল্যাব ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং তত্ত্বীয় বিষয়গুলো বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে। আমি ক্লাস টেস্টেও আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেছি, যা আমাকে টার্ম ফাইনালের ক্ষেত্রে সব সময় এগিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। ধাপে ধাপে আমি প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছি।
আমি জুনিয়রদের প্রতি কিছু কথা বলতে চাই, শুরুর দিক থেকেই নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাবে উপস্থিত থাকতে হবে এবং মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষক ও সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখ, কারণ সঠিক দিকনির্দেশনা তোমার পথ পরিবর্তন করতে পারে। নিজেকে এমন বন্ধুদের সঙ্গে রাখ, যারা তোমাকে সমর্থন করে। আমার ক্ষেত্রে, আমার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুধু সিজিপিএ নয়, শেখা ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দাও। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক নয়, এটি ব্যক্তিগত বিকাশেরও যাত্রা। তাই এ সময়টিকে উপভোগ কর, তবে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থেকো।
সাদিয়া সাবাহ্ শরমিলী, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৭৯

সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেওয়া পর্যন্ত থেমে থাকিনি
কলেজজীবনে আমি অন্যদের মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথম স্থান অর্জন করতেই হবে। কিন্তু হ্যাঁ, আমি কখনোই সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেওয়ার আগপর্যন্ত থেমে থাকিনি। আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি তার সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেয় তাহলে মহান আল্লাহর রহমতে সে ভালো কিছু করবেই। আমার ভেতরে সব সময় একটিই অনুভূতি কাজ করে সেটা হলো, আমি সর্বোচ্চ পরিশ্রম করব এবং আল্লাহকে ডাকব। তারপর আল্লাহ আমার ফল যা ভালো মনে করেন, তা-ই দেবেন।
সিজিপিএ ধরে রাখতে আমি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলাম সেগুলো হলো: নিয়মিত ক্লাসে যাওয়া এবং খুব মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকদের লেকচার শোনা; নিয়মিত ক্লাস নোট করা। শিক্ষক কোন কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন, সেগুলো মার্ক করে রাখা; ল্যাবে নিজের আগ্রহ নিয়ে মেশিনগুলো বোঝা, ক্লাস গ্যাপ থাকলে ল্যাবে সময় দেওয়া, আরও বেশি মেশিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া; প্রতিদিন না পড়তে পারলেও সিটি শুরু হওয়ার আগে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়া। কারণ সিটি মার্কস ভালো থাকলে টার্ম পরীক্ষায় চাপ অনেকটাই কমে আসে; পিএল তথা টার্ম পরীক্ষার আগে দেওয়া বন্ধের সময়টা নিজের সাধ্য অনুযায়ী সেরাভাবে কাজে লাগানো।
সত্য কথা বলতে, এগুলোই ছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নেওয়া কিছু পদক্ষেপ। আমি দিনশেষে কোনো অপ্রাপ্তি নিয়ে যেতে চাই না। তাই আমি আমার লেভেলের সেরা শ্রমটা দিই, নামাজ আদায় করি, বাকিটা আল্লাহ আমার জন্য যা ভালো মনে করেন।
সায়হান বিন সাজ্জাদ, ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯০

আগ্রহের বিষয়েও সময় দিতে হবে
বুটেক্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ক্লাসে মনোযোগী হওয়া এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নে ভালো করার চেষ্টা করেছি। এতে পরীক্ষার আগে পড়ার চাপ কমে যায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। লেভেল-১ টার্ম-১-এর ফল দেখে নিয়মিত ক্লাস করার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছি। পরবর্তী টার্মগুলোতে সেই উপলব্ধি থেকেই আরও পরিশ্রম করেছি।
আমি সত্যিই সৌভাগ্যবান, আমাদের বিভাগের শিক্ষকেরা এবং অন্যান্য কোর্সের শিক্ষকেরা অত্যন্ত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাঁদের সহায়তা ও দিকনির্দেশনা আমার একাডেমিক ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমার বড় ভাই মো. শরিফুল ইসলামের আত্মত্যাগ ও অক্লান্ত পরিশ্রম আমাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পাশাপাশি সহপাঠী, বন্ধু, সিনিয়র ও জুনিয়র—সবাই নানা সময়ে সহযোগিতা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নিজেকে শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোতেও সময় দেওয়া উচিত। এতে সফট স্কিল বিকাশের সুযোগ পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইডিয়া বিকাশের প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বিশেষভাবে সহায়ক ছিল।
অনুজদের বলব, ভালো ফলের জন্য নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা, ধারাবাহিক মূল্যায়নে ভালো করা ও আগের বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে অনেকেরই সময় লাগে। তাই প্রথম দিকের ফল প্রত্যাশিত না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিয়মিত চেষ্টা আর ইতিবাচক মানসিকতাই শুরুর দিকের ঘাটতিকে সাফল্যের গল্পে রূপ দিতে পারে।
মোছা. সাদিয়া ইসলাম, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯০

প্রথমেই নিজের সক্ষমতা বুঝতে হবে
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথমেই নিজের সক্ষমতা কত দূর, তা বোঝা দরকার। কারণ দেখা যায় একজন পুরো সেমিস্টার পড়ে যে ফল করল, অন্য একজন শুধু সিটি আর এক্সামের আগে পড়ে পূর্বের জনের চেয়ে ভালো ফল করছে। এ ক্ষেত্রে বলব, আরেকজন যেটা করছে হুবহু তা অনুসরণ করতে গেলেই সমস্যা। কিন্তু কিছু সাধারণ জিনিস যেমন নিয়মিত ক্লাস, সিটি, ভাইভার আগে যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া, এগুলো আমি সব সময়ই ঠিক রাখার চেষ্টা করেছি।
জুনিয়রদের উদ্দেশে বলব, নিয়মিত ক্লাসগুলো কর, ক্লাসের উপস্থিতির মার্কস অবশ্যই ভালো রাখতে হবে। ল্যাবগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা কর, কারণ ল্যাবে একটু চেষ্টা করলেই ৪ গ্রেড পাওয়া সম্ভব। সিটির আগে কষ্ট করে হলেও ভালোমতো প্রস্তুতি নাও, তাহলে দেখবে টার্মে ভালো সিজিপিএ তোলা অনেক সহজ হয়ে গেছে। পুরো সেমিস্টারে যা-ই কর, টার্ম ফাইনালের মধ্যে একটু গুরুত্বের সঙ্গে পড়াশোনা কর।
সব শিক্ষক হয়তো ভালো পড়ান না, ভার্সিটির কার্যপদ্ধতি হয়তো ভালো নয়, অনেক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এসব বিষয় যত তাড়াতাড়ি মেনে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, ততই তোমার জন্য ভালো। অভিযোগ করা কমিয়ে, নিজের কাজকর্ম উন্নত কর, দেখবে অভিযোগ করার ইস্যুই কমে গেছে।
সামেত ইবনে এনাম, ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯১

ধাপে ধাপে নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছি
আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনজুড়ে আমি একাডেমিক ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকতা এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ অগ্রগতির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। শুরুর দিকে কীভাবে কার্যকরভাবে পড়াশোনা করতে হয় বা প্রস্তুতি সুসংগঠিত করতে হয়, তা স্পষ্টভাবে বুঝতাম না। তবে সৌভাগ্যবশত, খুব দ্রুতই বুঝে গিয়েছিলাম, আমার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোন পথে এগোতে হবে।
আমি নিয়মিত রুটিন মেনে চলতাম। ক্লাস এবং ল্যাবে মনোযোগের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতাম। সেই সঙ্গে নোট নিতাম। এ নোটগুলো আমাকে ল্যাব ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিতে এবং তত্ত্বীয় বিষয়গুলো বুঝতে অনেক সাহায্য করেছে। আমি ক্লাস টেস্টেও আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেছি, যা আমাকে টার্ম ফাইনালের ক্ষেত্রে সব সময় এগিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে। ধাপে ধাপে আমি প্রতিদিন নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করেছি।
আমি জুনিয়রদের প্রতি কিছু কথা বলতে চাই, শুরুর দিক থেকেই নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাবে উপস্থিত থাকতে হবে এবং মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষক ও সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখ, কারণ সঠিক দিকনির্দেশনা তোমার পথ পরিবর্তন করতে পারে। নিজেকে এমন বন্ধুদের সঙ্গে রাখ, যারা তোমাকে সমর্থন করে। আমার ক্ষেত্রে, আমার বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
শুধু সিজিপিএ নয়, শেখা ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দাও। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে দক্ষতাই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু একাডেমিক নয়, এটি ব্যক্তিগত বিকাশেরও যাত্রা। তাই এ সময়টিকে উপভোগ কর, তবে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন থেকো।
সাদিয়া সাবাহ্ শরমিলী, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৭৯

সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেওয়া পর্যন্ত থেমে থাকিনি
কলেজজীবনে আমি অন্যদের মতো একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিলাম। তখন আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথম স্থান অর্জন করতেই হবে। কিন্তু হ্যাঁ, আমি কখনোই সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেওয়ার আগপর্যন্ত থেমে থাকিনি। আমি বিশ্বাস করি, কেউ যদি তার সর্বোচ্চ পরিশ্রম দেয় তাহলে মহান আল্লাহর রহমতে সে ভালো কিছু করবেই। আমার ভেতরে সব সময় একটিই অনুভূতি কাজ করে সেটা হলো, আমি সর্বোচ্চ পরিশ্রম করব এবং আল্লাহকে ডাকব। তারপর আল্লাহ আমার ফল যা ভালো মনে করেন, তা-ই দেবেন।
সিজিপিএ ধরে রাখতে আমি যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিলাম সেগুলো হলো: নিয়মিত ক্লাসে যাওয়া এবং খুব মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকদের লেকচার শোনা; নিয়মিত ক্লাস নোট করা। শিক্ষক কোন কোন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন, সেগুলো মার্ক করে রাখা; ল্যাবে নিজের আগ্রহ নিয়ে মেশিনগুলো বোঝা, ক্লাস গ্যাপ থাকলে ল্যাবে সময় দেওয়া, আরও বেশি মেশিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়া; প্রতিদিন না পড়তে পারলেও সিটি শুরু হওয়ার আগে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়া। কারণ সিটি মার্কস ভালো থাকলে টার্ম পরীক্ষায় চাপ অনেকটাই কমে আসে; পিএল তথা টার্ম পরীক্ষার আগে দেওয়া বন্ধের সময়টা নিজের সাধ্য অনুযায়ী সেরাভাবে কাজে লাগানো।
সত্য কথা বলতে, এগুলোই ছিল আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নেওয়া কিছু পদক্ষেপ। আমি দিনশেষে কোনো অপ্রাপ্তি নিয়ে যেতে চাই না। তাই আমি আমার লেভেলের সেরা শ্রমটা দিই, নামাজ আদায় করি, বাকিটা আল্লাহ আমার জন্য যা ভালো মনে করেন।
সায়হান বিন সাজ্জাদ, ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সিজিপিএ-৩.৯০

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
৯ দিন আগে
প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
৯ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়।
৯ ঘণ্টা আগেশিক্ষা ডেস্ক

চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য। আগ্রহী প্রার্থীরা চীনের এই সরকারি বৃত্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ও প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একাডেমিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। আধুনিক গবেষণাগার, বিশ্বমানের ফ্যাকাল্টি এবং আন্তবিষয়ক শিক্ষার পরিবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বেশ প্রসিদ্ধ।
সুযোগ-সুবিধা
ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় চায়নিজ সরকার বৃত্তিতে অর্থায়ন করবে। বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। থাকছে সম্পূর্ণ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স সুবিধা। পাশাপাশি মাসিক ভাতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাবেন আর্থিক সাপোর্ট। মাস্টার্সে শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ৩ হাজার চায়নিজ ইউয়ান এবং পিএইচডির জন্য থাকছে সাড়ে ৩ হাজার চায়নিজ ইউয়ান।
আবেদনের যোগ্যতা
বৃত্তির জন্য আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। প্রার্থীর অবশ্যই চীনা নাগরিকত্ব থাকা যাবে না। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রার্থীকে সুস্থ থাকতে হবে। মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ৩৫ বছরের নিচে। আর পিএইচডিতে আবেদনকারীদের অবশ্যই মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ৪০ বছরের নিচে। পাশাপাশি থাকতে হবে ভালো একাডেমিক রেজাল্ট এবং গবেষণা দক্ষতা। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতাও থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য
চীনা সরকারি স্কলারশিপের আবেদন ফরম। শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষার ফরমের কপি। ফরমে সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফরমের ছবিতে ডাক্তার বা হাসপাতালের সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষার ফল ৬ মাস পর্যন্ত বৈধ বলে বিবেচিত হবে। স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রির নোটারাইজড সনদপত্র জমা দিতে হবে। চীনা বা ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার সনদ থাকলে অনুবাদের সঙ্গে নোটারাইজড কপি জমা দিতে হবে। দুজন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের সুপারিশপত্র। ন্যূনতম ৮০০ শব্দে অধ্যয়ন বা গবেষণার পরিকল্পনা লিখে জমা দিতে হবে। ভাষাগত দক্ষতার সনদ জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্রগুলো
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সমাজবিজ্ঞান, মানবিকবিদ্যা থেকে শুরু করে কৃষি ও প্রকৌশল—সব ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা জিওকেমিস্ট্রি, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, পার্টিক্যাল ফিজিকস, রেডিওকেমিস্ট্রি, রিসোর্স অ্যান্ড পাওয়ার, কেমিস্ট্রি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিউরোলজি, ইন্টারনাল মেডিসিন, সার্জারি, জার্নালিজম, আইন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সোসিওলজি, পাবলিক হেলথ, এপিডেমিওলজি, মিউজিক, আর্ট ডিজাইনসহ অসংখ্য বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।
আবেদনের পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা এই লিংকে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য। আগ্রহী প্রার্থীরা চীনের এই সরকারি বৃত্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ ও প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একাডেমিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। আধুনিক গবেষণাগার, বিশ্বমানের ফ্যাকাল্টি এবং আন্তবিষয়ক শিক্ষার পরিবেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বেশ প্রসিদ্ধ।
সুযোগ-সুবিধা
ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসসি বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় চায়নিজ সরকার বৃত্তিতে অর্থায়ন করবে। বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। থাকছে সম্পূর্ণ মেডিকেল ইনস্যুরেন্স সুবিধা। পাশাপাশি মাসিক ভাতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাবেন আর্থিক সাপোর্ট। মাস্টার্সে শিক্ষার্থীদের জন্য মাসে ৩ হাজার চায়নিজ ইউয়ান এবং পিএইচডির জন্য থাকছে সাড়ে ৩ হাজার চায়নিজ ইউয়ান।
আবেদনের যোগ্যতা
বৃত্তির জন্য আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। প্রার্থীর অবশ্যই চীনা নাগরিকত্ব থাকা যাবে না। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রার্থীকে সুস্থ থাকতে হবে। মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ৩৫ বছরের নিচে। আর পিএইচডিতে আবেদনকারীদের অবশ্যই মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ৪০ বছরের নিচে। পাশাপাশি থাকতে হবে ভালো একাডেমিক রেজাল্ট এবং গবেষণা দক্ষতা। একই সঙ্গে সব প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতাও থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য
চীনা সরকারি স্কলারশিপের আবেদন ফরম। শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষার ফরমের কপি। ফরমে সব তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ফরমের ছবিতে ডাক্তার বা হাসপাতালের সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষার ফল ৬ মাস পর্যন্ত বৈধ বলে বিবেচিত হবে। স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রির নোটারাইজড সনদপত্র জমা দিতে হবে। চীনা বা ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষার সনদ থাকলে অনুবাদের সঙ্গে নোটারাইজড কপি জমা দিতে হবে। দুজন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের সুপারিশপত্র। ন্যূনতম ৮০০ শব্দে অধ্যয়ন বা গবেষণার পরিকল্পনা লিখে জমা দিতে হবে। ভাষাগত দক্ষতার সনদ জমা দিতে হবে। এ ছাড়া অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্রগুলো
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সমাজবিজ্ঞান, মানবিকবিদ্যা থেকে শুরু করে কৃষি ও প্রকৌশল—সব ক্ষেত্রকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা জিওকেমিস্ট্রি, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, পার্টিক্যাল ফিজিকস, রেডিওকেমিস্ট্রি, রিসোর্স অ্যান্ড পাওয়ার, কেমিস্ট্রি, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, নিউরোলজি, ইন্টারনাল মেডিসিন, সার্জারি, জার্নালিজম, আইন, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সোসিওলজি, পাবলিক হেলথ, এপিডেমিওলজি, মিউজিক, আর্ট ডিজাইনসহ অসংখ্য বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।
আবেদনের পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা এই লিংকে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
৯ দিন আগে
প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হলো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক করার মতো নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এসবের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান।
৯ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়।
৯ ঘণ্টা আগেসাব্বির হোসেন

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়। তবে সময় বদলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন গবেষণার ধীরগতির চাকায় নতুন গতি যোগ করছে। চ্যাটবটের সীমা পেরিয়ে এটি হয়ে উঠেছে গবেষকদের দক্ষ ‘রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট’। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে এআই ব্যবহার করে গবেষণাপত্র প্রকাশের দীর্ঘ পথকে সংক্ষিপ্ত এবং মসৃণ করা যায়।
১. লিটারেচার রিভিউ
গবেষণার প্রথম এবং সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ধাপ হলো ‘লিটারেচার রিভিউ’। খড়ের গাদায় সুই খোঁজার দিন শেষ, এখন হাজার হাজার পেপার পড়ে নিজের কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করা বেশ কঠিন। এখানে এআই জাদুর মতো কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত পেপার খুঁজে পেতে গুগল স্কলারের পাশাপাশি Connected Papers বা ResearchRabbit ব্যবহার করতে পারেন। এ টুলগুলো ভিজ্যুয়াল গ্রাফের মাধ্যমে দেখায়, একটি পেপার অন্য কোন কোন পেপারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে খুব দ্রুত প্রাসঙ্গিক পেপারগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
সারসংক্ষেপ বা সামারি তৈরি: Elicit, Scite. ai কিংবা Humata-এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করে আপনি বড় পিডিএফ ফাইল আপলোড করতে পারেন। এআই মুহূর্তের মধ্যে পুরো পেপারটি পড়ে আপনাকে মূল ফলাফল, মেথডলজি এবং সীমাবদ্ধতাগুলো বুলেট পয়েন্ট আকারে জানিয়ে দেবে।
পরামর্শ: এআইকে জিজ্ঞেস করুন, ‘এই পেপারের মূল রিসার্চ গ্যাপ (Research Gap) কী?’ এটি আপনাকে নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে সাহায্য করবে।
২. ড্রাফটিং এবং স্ট্রাকচারিং: রাইটার্স ব্লক কাটান
অনেক সময় গবেষকেরা তথ্য সব জোগাড় করলেও লেখা শুরু করতে পারেন না, যাকে বলা হয় ‘রাইটার্স ব্লক’। ChatGPT (GPT-4) বা Claude 3 এখানে দুর্দান্ত সহায়ক।
আউটলাইন তৈরি: আপনার গবেষণার বিষয়বস্তু চ্যাটবটকে দিন এবং একটি স্ট্যান্ডার্ড জার্নাল পেপারের আউটলাইন তৈরি করে দিতে বলুন।
প্যারাগ্রাফ লেখা: পুরো পেপার এআই দিয়ে না লিখিয়ে, একেকটি সেকশন ধরে ধরে ড্রাফট তৈরি করুন। যেমন: ‘Introduction-এর জন্য একটি খসড়া লিখে দাও, যেখানে এই ৩টি পয়েন্ট ফোকাস থাকবে।’
৩. একাডেমিক রাইটিং এবং প্রুফরিডিং
আমরা যারা নন-নেটিভ ইংলিশ স্পিকার (যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়), তাদের জন্য গ্রামার এবং বাক্যের গঠন ঠিক রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
ভাষার মান উন্নয়ন: Quillbot বা Wordtune ব্যবহার করে সাধারণ ইংরেজি বাক্যকে একাডেমিক এবং ফরমাল বাক্যে রূপান্তর করা যায়। এটি আপনার লেখার ফ্লো বা প্রবাহ সুন্দর করে।
গ্রামার চেক: Grammarly বা Trinka AI (বিশেষভাবে একাডেমিক রাইটিংয়ের জন্য তৈরি) ব্যবহার করে পাংচুয়েশন, গ্রামার এবং টোন ঠিক করে নেওয়া যায়।
৪. ডেটা অ্যানালাইসিস ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন
গবেষণার ডেটা বিশ্লেষণ করতে এখন আর প্রোগ্রামিংয়ে খুব দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ডেটা প্রসেসিং: ChatGPT’s Advanced Data Analysis ফিচার ব্যবহার করে আপনি এক্সেল ফাইল আপলোড করতে পারেন। এটি মুহূর্তের মধ্যে ডেটা ক্লিন করে, স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস করে এবং চার্ট বা গ্রাফ তৈরি করে দিতে পারে।
কোডিং সহায়তা: আপনি যদি Python বা R ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেন, তবে কোডে কোথাও ভুল থাকলে বা নতুন কোড দরকার হলে এআইকে নির্দেশ দিলেই সে কোড লিখে দেবে।
৫. সঠিক জার্নাল নির্বাচন
পেপার তো লেখা হলো; কিন্তু কোন জার্নালে পাঠাবেন? ভুল জার্নালে সাবমিট করলে রিজেকশন রেট বাড়ে এবং সময় নষ্ট হয়।
জার্নাল ফাইন্ডার: Elsevier Journal Finder বা Springer Journal Suggester-এ আপনার পেপারের অ্যাবস্ট্রাক্ট বা শিরোনাম পেস্ট করলেই এআই আপনাকে সবচেয়ে উপযুক্ত জার্নালের তালিকা, তাদের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর এবং এক্সেপটেন্স রেটসহ দেখিয়ে দেবে।
সতর্কতা: এআই ব্যবহার করে কাজ সহজ করা মানে এই নয়, পুরো কাজটি এআইয়ের হাতে ছেড়ে দেবেন। কিছু নৈতিক এবং কারিগরি সতর্কতা অবশ্যই মানতে হবে। সেগুলো হলো:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরম বন্ধু। যে পেপার তৈরি করতে আগে ৬ মাস লাগত, এআইয়ের সঠিক ব্যবহারে তা এখন ২-৩ মাসে মানসম্মতভাবে শেষ করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এআই আপনাকে তথ্য দেবে, ড্রাফট দেবে; কিন্তু গবেষণার ‘নতুনত্ব’ বা ‘মৌলিকতা’ আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির এ শক্তিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগালেই গবেষণাজগতে আপনি এগিয়ে থাকবেন সবার চেয়ে।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে বহুল প্রচলিত কথা—‘Publish or perish’, অর্থাৎ প্রকাশ করো, নতুবা হারিয়ে যাও। একটি ভালো গবেষণাপত্র প্রকাশ করা গবেষক বা পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য দীর্ঘ ও জটিল পথ। সেখানে টপিক নির্বাচন, লিটারেচার রিভিউ, ডেটা বিশ্লেষণ, লেখা ও এডিটিং—সব মিলিয়ে কখনো কখনো বছর পার হয়ে যায়। তবে সময় বদলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন গবেষণার ধীরগতির চাকায় নতুন গতি যোগ করছে। চ্যাটবটের সীমা পেরিয়ে এটি হয়ে উঠেছে গবেষকদের দক্ষ ‘রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট’। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে এআই ব্যবহার করে গবেষণাপত্র প্রকাশের দীর্ঘ পথকে সংক্ষিপ্ত এবং মসৃণ করা যায়।
১. লিটারেচার রিভিউ
গবেষণার প্রথম এবং সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ধাপ হলো ‘লিটারেচার রিভিউ’। খড়ের গাদায় সুই খোঁজার দিন শেষ, এখন হাজার হাজার পেপার পড়ে নিজের কাজের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক তথ্য বের করা বেশ কঠিন। এখানে এআই জাদুর মতো কাজ করে। কাঙ্ক্ষিত পেপার খুঁজে পেতে গুগল স্কলারের পাশাপাশি Connected Papers বা ResearchRabbit ব্যবহার করতে পারেন। এ টুলগুলো ভিজ্যুয়াল গ্রাফের মাধ্যমে দেখায়, একটি পেপার অন্য কোন কোন পেপারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে খুব দ্রুত প্রাসঙ্গিক পেপারগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।
সারসংক্ষেপ বা সামারি তৈরি: Elicit, Scite. ai কিংবা Humata-এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করে আপনি বড় পিডিএফ ফাইল আপলোড করতে পারেন। এআই মুহূর্তের মধ্যে পুরো পেপারটি পড়ে আপনাকে মূল ফলাফল, মেথডলজি এবং সীমাবদ্ধতাগুলো বুলেট পয়েন্ট আকারে জানিয়ে দেবে।
পরামর্শ: এআইকে জিজ্ঞেস করুন, ‘এই পেপারের মূল রিসার্চ গ্যাপ (Research Gap) কী?’ এটি আপনাকে নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে সাহায্য করবে।
২. ড্রাফটিং এবং স্ট্রাকচারিং: রাইটার্স ব্লক কাটান
অনেক সময় গবেষকেরা তথ্য সব জোগাড় করলেও লেখা শুরু করতে পারেন না, যাকে বলা হয় ‘রাইটার্স ব্লক’। ChatGPT (GPT-4) বা Claude 3 এখানে দুর্দান্ত সহায়ক।
আউটলাইন তৈরি: আপনার গবেষণার বিষয়বস্তু চ্যাটবটকে দিন এবং একটি স্ট্যান্ডার্ড জার্নাল পেপারের আউটলাইন তৈরি করে দিতে বলুন।
প্যারাগ্রাফ লেখা: পুরো পেপার এআই দিয়ে না লিখিয়ে, একেকটি সেকশন ধরে ধরে ড্রাফট তৈরি করুন। যেমন: ‘Introduction-এর জন্য একটি খসড়া লিখে দাও, যেখানে এই ৩টি পয়েন্ট ফোকাস থাকবে।’
৩. একাডেমিক রাইটিং এবং প্রুফরিডিং
আমরা যারা নন-নেটিভ ইংলিশ স্পিকার (যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়), তাদের জন্য গ্রামার এবং বাক্যের গঠন ঠিক রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
ভাষার মান উন্নয়ন: Quillbot বা Wordtune ব্যবহার করে সাধারণ ইংরেজি বাক্যকে একাডেমিক এবং ফরমাল বাক্যে রূপান্তর করা যায়। এটি আপনার লেখার ফ্লো বা প্রবাহ সুন্দর করে।
গ্রামার চেক: Grammarly বা Trinka AI (বিশেষভাবে একাডেমিক রাইটিংয়ের জন্য তৈরি) ব্যবহার করে পাংচুয়েশন, গ্রামার এবং টোন ঠিক করে নেওয়া যায়।
৪. ডেটা অ্যানালাইসিস ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন
গবেষণার ডেটা বিশ্লেষণ করতে এখন আর প্রোগ্রামিংয়ে খুব দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ডেটা প্রসেসিং: ChatGPT’s Advanced Data Analysis ফিচার ব্যবহার করে আপনি এক্সেল ফাইল আপলোড করতে পারেন। এটি মুহূর্তের মধ্যে ডেটা ক্লিন করে, স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস করে এবং চার্ট বা গ্রাফ তৈরি করে দিতে পারে।
কোডিং সহায়তা: আপনি যদি Python বা R ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেন, তবে কোডে কোথাও ভুল থাকলে বা নতুন কোড দরকার হলে এআইকে নির্দেশ দিলেই সে কোড লিখে দেবে।
৫. সঠিক জার্নাল নির্বাচন
পেপার তো লেখা হলো; কিন্তু কোন জার্নালে পাঠাবেন? ভুল জার্নালে সাবমিট করলে রিজেকশন রেট বাড়ে এবং সময় নষ্ট হয়।
জার্নাল ফাইন্ডার: Elsevier Journal Finder বা Springer Journal Suggester-এ আপনার পেপারের অ্যাবস্ট্রাক্ট বা শিরোনাম পেস্ট করলেই এআই আপনাকে সবচেয়ে উপযুক্ত জার্নালের তালিকা, তাদের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর এবং এক্সেপটেন্স রেটসহ দেখিয়ে দেবে।
সতর্কতা: এআই ব্যবহার করে কাজ সহজ করা মানে এই নয়, পুরো কাজটি এআইয়ের হাতে ছেড়ে দেবেন। কিছু নৈতিক এবং কারিগরি সতর্কতা অবশ্যই মানতে হবে। সেগুলো হলো:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরম বন্ধু। যে পেপার তৈরি করতে আগে ৬ মাস লাগত, এআইয়ের সঠিক ব্যবহারে তা এখন ২-৩ মাসে মানসম্মতভাবে শেষ করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, এআই আপনাকে তথ্য দেবে, ড্রাফট দেবে; কিন্তু গবেষণার ‘নতুনত্ব’ বা ‘মৌলিকতা’ আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির এ শক্তিকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগালেই গবেষণাজগতে আপনি এগিয়ে থাকবেন সবার চেয়ে।

উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে নরওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি নাম হয়ে উঠেছে। মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক গবেষণা সুবিধা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা —সব মিলিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ তৈরি করে।
৯ দিন আগে
প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর ঘোষিত ১৫ দিনের ছুটি শেষ না হতেই অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) থেকে সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববিদ্যালয়জীবন হলো নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক করার মতো নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। এসবের মধ্যে শিক্ষার্থীরা অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যান।
৯ ঘণ্টা আগে
চীনে ল্যানঝো বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসসি বৃত্তির জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন। বৃত্তিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
৯ ঘণ্টা আগে