Ajker Patrika

বিদেশি বিনিয়োগ আনায় তাড়াহুড়ো অনর্থক: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

  • নীতিগত অস্বচ্ছতা ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এখনো অব্যাহত।
  • রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতি প্রভাবিত।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রয়োজনীয় কোনো সংস্কার ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আনার ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়। এটা স্বপ্নের মতো, যা দেশের অর্থনীতিতে স্থায়ী উন্নতি আনতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক।

দেবপ্রিয় বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বন্দর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জরুরি। তাড়াহুড়ো করে কোনো সংস্কার ছাড়াই মাত্র ১৩ দিনে বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ আনার ঘোষণা দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের আড়ালে এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার অভাব তৈরি করে। অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত টিকে থাকে না। আগের সরকারের বৈষম্যমূলক চুক্তির স্বচ্ছতার অভাবে মানুষের মধ্যে সন্দেহ জন্মেছে।

দেবপ্রিয় আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের গোপন খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও পুঁজি সংকট বহুদিন চাপা ছিল। এখন সবকিছু একে একে সামনে আসছে। বিনিয়োগ স্থবির, নীতিগত স্বচ্ছতা কম, আর সংস্কার না থাকায় অর্থনীতি চাপে। একযোগে এতগুলো দুর্বলতা ধরা পড়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে।

সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন। পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণ, প্রশাসক নিয়োগ বা কিছু বিধান আগের অবস্থার বাইরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কী ভূমিকা রাখছে?

নীতিনির্ধারণে অস্থিরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন দেবপ্রিয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও জ্বালানি, গ্যাস, ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা—সব বড় ধরনের সংস্কার এখনো পিছিয়ে।

দেবপ্রিয় উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতিগত অস্বচ্ছতা এবং দীর্ঘদিনের গোপন সংকট মিলিয়ে দেশের অর্থনীতির পথ এখনো রুদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, তিন দশক আগে ইআরএফ প্রতিষ্ঠার পর অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা পেশাগত রূপ পায়। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজার ৫০ শতাংশ কমেছে। ইসলামি ধারার পাঁচটি ব্যাংক একীভূতকরণকে তিনি বেইলআউট আখ্যা দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের মাত্র তিনটিতে অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা পড়ানো হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও অন্যান্য বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন শক্তিশালী নীতি, কাঠামোগত সংস্কার এবং স্বচ্ছ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। অন্যথায়, বিদেশি বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...