Ajker Patrika

জাতিসংঘে বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট ২০২৫

এলডিসির পথনকশায় সরকারের মধ্যবর্তী অবস্থানের বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা ­­
এলডিসির পথনকশায় সরকারের মধ্যবর্তী অবস্থানের বার্তা

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উন্নয়শীল দেশে উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলের আবদার জাতিসংঘে প্রদত্ত ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট ২০২৫’-এ গুরুত্ব পায়নি। অর্থাৎ উত্তরণ প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার কোনো সুপারিশ করা হয়নি। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সংস্থাটির কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসিকে (ইউএনসিডিপি) পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকার এই প্রক্রিয়ায় একধরনের মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে টেকসই উত্তরণের পথে দৃঢ়ভাবে এগোচ্ছে। দেশের তিনটি মূল মানদণ্ড—মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা—ইতিমধ্যেই পূর্ণ হয়েছে। এসব মানদণ্ড দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রস্তুতির শক্তিশালী অবস্থাকেই প্রতিফলিত করে; যা নিশ্চিত করে, বাংলাদেশ সময়মতো উত্তরণের পথে স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জনের সক্ষমতা রাখে।

তবে প্রতিবেদনে সতর্কবার্তাও তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা— এসব চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতি-সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অ্যানহ্যান্সড মনিটরিং মেকানিজমের নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরণে থাকা সব দেশকে প্রতিবছর এ ধরনের অগ্রগতি প্রতিবেদন জাতিসংঘে পাঠানো বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট ২০২৫ তারই ধারাবাহিকতা। আজ মঙ্গলবার ইউএনসিডিপি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এই প্রতিবেদন নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবে। এ ছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ইউএনসিডিপির বার্ষিক প্লেনারি সভায় বাংলাদেশের অবস্থার পর্যালোচনা হবে।

ইউএনসিডিপি প্রতি তিন বছর পর এলডিসিগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্য হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত স্বীকৃতি আসে ২০২১ সালে। এখন সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষার চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময়, যার তথ্য-উপাত্ত জানান দিচ্ছে, সব কটি সূচকের মানদণ্ডেই উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা রাখে।

তবে দেশে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ অমূলক নয়। সরকারের অনুরোধে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের (ইউএন-ওএইচআরএলএলএস) একটি প্রতিনিধিদল ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সফর করে স্বাধীন পর্যালোচনা করে। তবে কোনো রিপোর্টেই উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উঠে আসেনি।

ব্যবসায়ী মহলের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও কান্ট্রি প্রতিবেদনে উত্তরণ পেছানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বরং দাবি করা হয়েছে, সঠিক প্রস্তুতি ও কার্যকর নীতি প্রয়োগ নিশ্চিত করলে টেকসই অগ্রগতি এবং উন্নয়শীল দেশে উত্তরণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়, উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি যেমন সরকারের হাতে নেই, তেমনি এলডিসি থেকে উত্তরণে সব সময় চ্যালেঞ্জ থাকবে, যদিও সেগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব। কারণ, বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডে এখনো যোগ্যতার অনেক ওপরে রয়েছে।

প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে বলা হয়, উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা সীমিত হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা তিন বছরের জন্য সুবিধা বাড়ালেও দীর্ঘ মেয়াদে শর্ত কঠোর হবে। ট্রিপসের আওতায় ওষুধশিল্পের জন্য সুবিধা শেষ হলে বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং গবেষণা-উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, রপ্তানি ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তাপ—সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রশাসনিক পুনর্গঠন, রাজস্ব ঘাটতি এবং বিনিয়োগের ধীরগতি সাময়িক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি এলিট গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি পাচার ব্যাংক খাত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। তবে সহিংস পটপরিবর্তনের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে।

উত্তরণের সিদ্ধান্ত সরকার একতরফাভাবে নিতে পারে না

ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক

চেয়ারম্যান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের সিদ্ধান্ত সরকার একতরফাভাবে নিতে পারে না; এটি জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বরেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হবে।

জাতিসংঘ বর্তমানে বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রস্তুতি ও সক্ষমতা পর্যালোচনা করছে। উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি, সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করে আগামী জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সরকার প্রয়োজন হলে উত্তরণ-প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবে। সরকারের ভূমিকা মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তি উপস্থাপন, কূটনৈতিক তদবির এবং প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।

তবে অস্বীকারের উপায় নেই, উত্তরণের পর বাংলাদেশ কিছু সুবিধা হারাবে, বিশেষ করে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার-সুবিধা। তাই রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে এবং বাজার বাড়াতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ কাজে লাগানোও জরুরি।

ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) ছাড়া বিকল্প নেই। এসব চুক্তি বাংলাদেশের পণ্য নতুন শুল্ক বাস্তবতায়ও বাজার ধরে রাখবে।

এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা দূরীকরণে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমানো প্রয়োজন, কারণ এগুলো উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। লজিস্টিক খাতের দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি, কারণ বন্দরের অকার্যকরতা ও সড়কে জট রপ্তানির খরচ বাড়াচ্ছে। সার্বিকভাবে, এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের অগ্রগতির স্বীকৃতি হলেও নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। তাই নীতিগত প্রস্তুতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বাণিজ্য ও কূটনীতি জোরদার করা এখনই অপরিহার্য।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ই-রিটার্ন দাখিল ২০ লাখ ছাড়াল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩৭
ই-রিটার্ন দাখিল ২০ লাখ ছাড়াল

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।

আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।

২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।

অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ বছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।

এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।

কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতা ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিদেরকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ওই কল সেন্টারের ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন।

এ ছাড়া www.etaxnbr.gov.bd-এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন।

অধিকন্তু সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।

এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

অ্যামাজন–ফ্লিপকার্টের নতুন ঋণসেবা, ভারতের ব্যাংকগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অ্যামাজন ভারতে ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট নজর দিচ্ছে ‘বাই নাউ, পে লেটার (বিএনপিএল)’ সেবার দিকে। আর্থিক পণ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ই-কমার্স জায়ান্ট ভারতের ব্যাংকগুলোর বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে।

চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন–ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিএল ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিগগির তারা আবারও ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া শুরু করবে এবং নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমাধানও চালু করবে।

অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সেক বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’

মহেন্দ্র নেরুরকার আরও বলেন, কোম্পানি ব্যবসায়ীদের নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও মূলধন উন্মুক্ত করতে ‘প্রয়োজনভিত্তিক ঋণ প্যাকেজ’ তৈরি করবে।

অ্যামাজনের পরিকল্পনার বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে ওয়ালমার্টের প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট গত মার্চে তাদের নন–ব্যাংক ঋণদাতা শাখা ‘ফ্লিপকার্ট ফাইন্যান্স’ নিবন্ধন করেছে এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

কোম্পানির নথিতে পরিকল্পিত দুটি ‘পে লেটার’ পণ্যের কথা উল্লেখ আছে—অনলাইন ক্রেতাদের জন্য ৩ থেকে ২৪ মাস মেয়াদি নো-কস্ট মাসিক কিস্তি ঋণ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য বার্ষিক ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে ঋণ।

ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য প্রচলিত ঋণদাতারা সাধারণত বছরে ১২ থেকে ২২ শতাংশ হারে সুদ নেন।

ফ্লিপকার্ট আগামী বছর থেকে এসব আর্থিক পণ্য চালু করতে চায় বলে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। ফ্লিপকার্ট ও আরবিআই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

মুখ ফিরিয়েছে বাংলাদেশ, পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০: ১৫
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে ঢাকা প্রায় কিছুই নেয়নি, অথচ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।

রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতে উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই বীজেই ভারতের প্রাচীন বাজারগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে এখন প্রায় আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।

ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা মানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতাম। কিন্তু আমরা এত দিন বাজারে না থাকায় সবাই বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন আর মানের তুলনা হয় না, দামই সব।’

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর আগে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে যেসব দেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করত, সেসব বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বারবার নীতিমালা পাল্টানোর বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছিল।

এখন বাংলাদেশের সরকার স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, ঢাকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় পেঁয়াজ নেওয়ার অনীহায় ভূমিকা রাখছে।

কিন্তু রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের ঘরোয়া দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নীতি বদল করায় পুরোনো বাজারগুলো নতুন উৎস খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় দেখেনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা শুধু বাজার হারাইনি, তারা এখন ভারতীয় বীজ দিয়ে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে তুলছে।’

রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। সরকার যখন কারণ জানতে চাইছে, তখন বলা হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও যথেষ্ট।

এইচপিইএ সরকারের কাছে জানিয়েছে, ‘সৌদি বাজারে এখন সস্তায় পেঁয়াজ মিলছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। নিজেদের উৎপাদনও বাড়ছে।’ ট্রেডাররা বলছেন, ফিলিপাইনও ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে তখনই, যখন চীনা সরবরাহ পাওয়া যায় না। ২০২০-২১ সালে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। এরপর প্রতিবছর কমতে কমতে ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২৩ টনে।

আরেকটি বিষয় হলো—প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় বীজ ব্যবহার করেই এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর উদ্দেশে পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের দেশগুলো ভারতীয় বীজ দিয়ে চাষ করছে। এতে ভারতীয় কৃষকেরা বিপদে পড়ছে। চীন, পাকিস্তানেও ভারতীয় বীজের চাহিদা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।’

তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

নাফিস সরাফতের ছেলের নামে বিদেশে ৭৬টি ব্যাংক হিসাব, পাচার ১৬১৩ কোটি, সিআইডির মামলা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত
চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর ও নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রাহীব সরাফতের নামেই বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।

নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসান নাফিস সরাফত।

অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন বলে জানায় সিআইডি। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের’ মাধ্যমে মোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নাফিস সরাফতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাটি করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত