Ajker Patrika

নানা অভিযোগে বরখাস্ত হলেন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
বরখাস্ত হওয়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালি খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
বরখাস্ত হওয়া সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালি খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রুপালি খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ১০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবমিনা শারমিন।

সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পদে থেকে রুপালি খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নামে মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দেওয়া, ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশকে মারধর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নামে-বেনামে মিথ্যা অভিযোগ দাখিলসহ বিভিন্ন অসদাচরণে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ভিডব্লিউবির চাল বিতরণে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব কার্যকলাপ জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ইউএনও সাবমিনা শারমিন বলেন, ‘গতকাল প্রজ্ঞাপন হাতে পেয়ে আমরা ইউনিয়ন পরিষদকে বিষয়টি অবহিত করেছি। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।’

গত এপ্রিলে রুপালি খাতুন দাউকান্দি গ্রামে প্রায় সাত লাখ টাকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছিলেন। সেখানে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূর-এ-শেফা তাঁকে সব ইট তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে নতুন ভালো মানের ইট দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে।

তখন জয়নগর ইউপির প্রশাসক ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ ন ম রাকিবুল ইউসুফ। ইউপি সদস্য রুপালি খাতুন পরিষদের সংরক্ষিত প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ছিলেন। প্রশাসক বাদ দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানদের মধ্যে থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিতে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দিলে গত ১০ জুলাই পরিষদের সভা বসে।

সেখানে রুপালির ভয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। তখন কয়েকজন সদস্য প্যানেলের ওপরই অনাস্থা আনেন। এ নিয়ে গত ১৬ জুলাই ইউএনওর কার্যালয়ে অনাস্থার ওপর গোপন ভোট হয়। সেখানে প্যানেলের পক্ষে সাতজন ও বিপক্ষে পাঁচজন ভোট দেন। ফলে প্যানেল টিকে যায় এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন রুপালি খাতুন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আরও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

এ অবস্থায় প্রশাসক অপসারণের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে লিভ টু আপিল করেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন। আদালত পরে সেখানে আবারও প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশনা দেন। ওই সময় রুপালি নিজের নামে ও বেনামে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক লিখিত অভিযোগ করতে থাকেন। এসব কারণে তিনি বরখাস্ত হলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...