Ajker Patrika

বাঁচার দৌড়ে শেষরক্ষা হলো না বাবা-ছেলের

হারুনুর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী) 
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮: ১১
একটি অনুষ্ঠানে বাবার পাশে শিশু ওমর। ছবি: সংগৃহীত
একটি অনুষ্ঠানে বাবার পাশে শিশু ওমর। ছবি: সংগৃহীত

বাঁচার জন্য দৌড়েও শেষ রক্ষা হলো না বাবা-ছেলের। জেলার গাবতলী এলাকায় গতকাল শুক্রবারের ভূমিকম্পে আহত হয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই মেয়ে শিশু।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় বাস করতেন। নিহত সন্তান ওমর স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তারা কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড ভূমিকম্প শুরু হলে তিন সন্তানকে নিয়ে দরজার দিকে দৌড় দিয়েছিলেন দেলোয়ার। ঘর থেকে বের হতেই ভেঙে পড়ে বাড়ির সানশেডের ইট-সুরকি। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে বাবা ও ছেলে ওমরকে দুপুরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, ১০ বছরের ওমর আর বেঁচে নেই।

বাবা দেলোয়ারকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মৃত্যু হয় তাঁরও।

ওমর মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে বড় হয়ে কোরআনে হাফেজ হবে। ভূমিকম্প বাবার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়ে দুজনের প্রাণই কেড়ে নিল। ওমরের দুটি ছোট বোন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

নিহত দেলোয়ারের ভাই জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভাইটা তিন বাচ্চাকে নিয়ে বের হয়ে বাঁচতে চেয়েছিল; কিন্তু সানশেডের নিচেই সব শেষ হয়ে গেল।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, সদর, পলাশ ও শিবপুরে পিতা-পুত্রসহ মোট ৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। মাঠপর্যায়ের টিমগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে খোঁজখবর নিচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সহায়তা দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...