Ajker Patrika

নারায়ণগঞ্জের চার আসন: বিএনপির বিরোধের জেরে সম্ভাবনা দেখছে জামায়াত

সাবিত আল হাসান, নারায়ণগঞ্জ 
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩১
(ওপরে বা থেকে) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আজহারুল ইসলাম মান্নান, মাসুদুজ্জামান মাসুদ (নিচে বা থেকে) আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, ইলিয়াস মোল্লা, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ও আবদুল জব্বার।
(ওপরে বা থেকে) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, নজরুল ইসলাম আজাদ, আজহারুল ইসলাম মান্নান, মাসুদুজ্জামান মাসুদ (নিচে বা থেকে) আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, ইলিয়াস মোল্লা, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ও আবদুল জব্বার।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর অন্তঃকোন্দল সামনে এসেছে। ঘোষিত চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই প্রার্থী বদলের জন্য একজোট হয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিতরা। সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করছেন তাঁরা। এদিকে আগে থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকা জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আছে প্রচারে। মাঠে আছে নতুন দল এনসিপিও।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এই আসন শিল্প ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে দেওয়া হতে পারে এই আসনে জোটগত মনোনয়ন। তিনি মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করতে হবে দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ নিয়ে। বিপরীতে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও মহানগরের আমির আব্দুল জব্বার। এনসিপি থেকে নির্বাচন করবেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল আমিন। বিএনপি নিজের প্রার্থী না দিলে এই দুই দলের সঙ্গে বেশ ভালো লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এই আসনের প্রার্থী নিয়ে এখনো বিরোধ দেখা যায়নি বিএনপির মধ্যে। মনোনয়ন পাওয়ার পর এই নেতার গণমিছিলে নারায়ণগঞ্জের অন্য নেতাদেরও দেখা গেছে। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার হোসাইন মোল্লা। আর এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন কয়েকজন। নির্বাচনী প্রচারের মাঠে আছেন তাঁরাও।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তবে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের কোন্দল ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। তাঁর বিপক্ষে একজোট হয়ে সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল ও মশাল মিছিল করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীদের একাংশ। এই কর্মীরা সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, কেন্দ্রীয় সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তারের অনুসারী।

এই বিভাজনের কারণে শক্তিশালী হয়ে উঠছে জামায়াত। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দুপ্তারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস মোল্লা। পাশাপাশি এনসিপির পক্ষ থেকে এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন মাজহারুল হক কায়জার। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের আত্মীয়। বিএনপির বিভক্তির সুযোগ নিতে পারেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিপক্ষে একজোট হয়েছেন বিএনপির সাত প্রার্থী। বিক্ষোভ, মশাল মিছিলের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে চিঠিও দিয়েছেন একসঙ্গে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে আছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ অনেকে। চিঠিতে বিএনপি নেতারাই উল্লেখ করেন, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জনপ্রিয়, বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী বিতর্কিত।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর উপজেলা) আসনে বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদকে মনোনয়ন দিতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন একাধিক প্রার্থী। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সাবেক এমপি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব ইউসুফ খান টিপু ও বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল একজোট হয়ে বিরোধিতা করছেন। এই চারজনই মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

অন্যদিকে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাঈনউদ্দিন আহমেদ। পাশাপাশি এনসিপি থেকে নির্বাচনে আগ্রহী ডাকসুর সাবেক জিএস ও ঢাবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা। আলোচনায় আছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু।

মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হাফেজ মোমিন বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই শক্ত লড়াই দিতে প্রস্তুত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকলে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ আসনে আমরা জয়ী হব।’

বিএনপির বিরোধের বিষয়ে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা বা বিষোদ্‌গার করলে দিন শেষে দলের ক্ষতি হয়। আমরা প্রত্যাশা করব, বৃহৎ স্বার্থের কথা চিন্তা করে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। অন্যথায় দল কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...