Ajker Patrika

ভূমিকম্পে সিদ্ধিরগঞ্জে স্কুলসহ ১৪ ভবনে ফাটল

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
ভূমিকম্পে সিদ্ধিরগঞ্জে ১৪টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ভূমিকম্পে সিদ্ধিরগঞ্জে ১৪টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভূমিকম্পে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি স্কুলসহ ১৪টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনগুলোর দেয়াল, সিঁড়ি ও কলামে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি ভবন দৃশ্যমানভাবে হেলে পড়েছে বলে জানান বাসিন্দারা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। নরসিংদীর মাধবদীতে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।

স্থানীয়দের সূত্রমতে, উপজেলার পাইনাদি নতুন মহল্লায় দুটি, মুক্তিনগর টায়ার মার্কেট গলিতে একটি, নিমাইকাশারি এলাকায় একটি, হিরাঝিল আবাসিক এলাকায় তিনটি, রনি সিটিতে দুটি, কলসি বিল্ডিং এলাকায় একটি, ভূমিপল্লিতে একটি, আটি হাউজিং এলাকার ৫ নম্বর রোডে দুটি এবং ২ নম্বর রোডে একটি ভবনে ফাটল দেখা গেছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হতেই ভবনগুলো তীব্রভাবে দুলতে থাকে। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দারা দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কিছু ভবন সামান্য হেলে গেছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিল আবাসিক এলাকার সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের নিচতলায় বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। ঘটনার পর ফাটল দেখতে সাধারণ মানুষ ভিড় করেন।

স্কুলের ইংলিশ মিডিয়াম শাখার ইনচার্জ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আজ বৃত্তি পরীক্ষা চলাকালে ভূমিকম্পে ভবন কেঁপে ওঠে। এ সময় স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনি। কেউ আহত হয়নি। তবে ভবনের সামনে একটি দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।’

অভিভাবক রাজু আহমেদ বলেন, ‘সকালে আমার ছেলে এখানে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে আসে। ভূমিকম্প শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুলের শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের বের করে দেন। তবে বাচ্চারা একটু ভয় পেয়েছে, আর স্কুল ভবনে একটি বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।’

পাইনাদি নতুন মহল্লার ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের এলাকার মসজিদের সামনে একটি ভবনে বেশ বড় ফাটল ধরেছে এবং নিচতলায় একটি থাইয়ের দোকানে কিছু গ্লাস ভেঙে গেছে।’

টায়ার মার্কেট এলাকার সুমন বলেন, ভূমিকম্পের পর টায়ার মার্কেটের পেছনের বাড়িতে বড় ফাটল ধরেছে এবং এই বাড়ির ভেতরে কিছু টাইলস উঠে গেছে।

ভূমিপল্লি এলাকার তামান্না বলেন, ‘আমাদের এই আবাসিক এলাকায় একটি ভবনে ফাটল ধরেছে, তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।’

সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকার সোলেমান বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি ভবন আরেকটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে। এতে এখন দুটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের উচিত ঝুঁকির মাত্রা যাচাই করে এলাকাবাসীকে সচেতন করা।’

জানতে চাইলে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মিরন মিয়া বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাইনি। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় স্কুলসহ বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দুটি ভবন হেলে পড়ার খবর পেয়েছি। আদমজী ও শিমরাইল ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে। এখন তদন্ত করে বাকি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বেশ কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং দুটি ভবন হেলে পড়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। মূলত এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাজ হলো ফায়ার সার্ভিসের, তবুও ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ কাজ করছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাতক্ষীরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কলেজশিক্ষক নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরায় সীমান্ত আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক গোলাম আজম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি বাজারে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোলাম আজম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল গফফারের ছেলে।

আশাশুনি থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, প্রভাষক গোলাম আযম কলেজ হতে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাদাকাটি বাজারে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁকে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

আরডিএ কমপ্লেক্সকে ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৫৩
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজশাহীর আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়ে অবস্থিত আরডিএ কমপ্লেক্স ভবনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১১টায় নাগরিক সমাজ, রাজশাহীর ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রাজশাহী।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনটি নির্মাণ করে। আওয়ামী শাসনামলে শুরু হওয়া প্রকল্পের নাম ছিল ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এর নাম পরিবর্তন করে সম্প্রতি মাসিক ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় এটি ১০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এখন সেখানে একটি বেসরকারি স্কুল হয়েছে।

এর প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পিত এই ভবনটি হঠাৎ করে ১০ বছরের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যা ভবনটির মূল উদ্দেশ্য ও আদর্শের পরিপন্থী।’

তাঁরা বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নই, তবে যে উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি থেকে সরে আসা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ বক্তারা বলেন, ‘১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসকে ধারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র হিসেবে ভবনটি গড়ে তোলা জরুরি।’

এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। কর্মসূচিতে লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ জামাল কাদেরী, সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ওয়ালিউর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

বেরোবি সংবাদদাতা
‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও সক্রিয়ভাবেই চলছে রাজনৈতিক দলগুলো। সম্প্রতি (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেরোবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে বেরোবি শাখার ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক জরুরি সদস্য সমাবেশে বেরোবি শাখা শিবিরের ২০২৫ সেশনের বাকি সময়ের জন্য ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদান করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং ছাত্র সংসদ চালু করা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরই ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কমিটি গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটেও কাম্য নয়।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়ে পরিচালিত হয়ে আসার কথা ছিল কিন্তু কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে দলীয় কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমি মনে করি, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলীয় কমিটি গঠন শিক্ষার পরিবেশকে বিভক্ত, অস্থির এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিগত বছরগুলোতে আমরা সেগুলো পরিলক্ষিত করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতারও প্রতিফলন। আমরা চাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শিক্ষাঙ্গন হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অফিশিয়ালি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে শিক্ষার্থীরা কোন সাহসে, কার প্ররোচনায় কমিটি দেয়—সেটা আমার বোধগম্য হয় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি এই অবমাননাকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন প্রশাসনের ওপরে পুরো বিষয়টা। তারা যদি আবু সাঈদের ত্যাগকে মনে রাখে, তাহলে এই অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করবে। লিস্ট আছে, নাম আছে, পরিচয় আছে। প্রশাসন যদি এবার শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি কখনোই শেষ করা সম্ভব হবে না।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত সরকার পলক বলেন, ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কমিটি গঠন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের স্থান, কোনো দলের আধিপত্যের নয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুধু বিভাজন ও অশান্তি বাড়ায়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ক্যাম্পাসকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ আর-রহমান স্বপ্নীল বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক কমিটি ঘোষণাগুলো আমাকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে উদ্বিগ্ন করেছে। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি সাধারণত শিক্ষার পরিবেশকে অস্থির করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় এমন জায়গা হওয়া উচিত যেখানে পড়াশোনা, নিরাপত্তা আর নিরপেক্ষ পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়া আমাদের জন্য ভালো কোনো সংকেত নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘ছাত্রশিবির যখন কমিটি প্রকাশ করেছিল, আমরা তাদের ডেকেছিলাম। তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মর্মে অঙ্গীকার করে বলেছে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনীতি করবে না, যা করবে ক্যাম্পাসের বাইরে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘দেখলাম ছাত্রদল তাদের কমিটি করেছে, কমিটিগুলো তো এখান থেকে করা হয় না; ঢাকা থেকে করা হয়। যেহেতু কমিটি করা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তকে সম্মান রেখে সেভাবেই কার্যক্রম চালাবে বলে আশা করি। তারপরও কেউ যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে শৃঙ্খলা কমিটি এবং সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

টনসিল-পলিপস অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকার ইএনটি হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ওই রোগীর নাম রিংকি আক্তার (২০)। হাসপাতালটিতে পলিপস ও টনসিলের অস্ত্রোপচারে (অপারেশন) রিংকির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। এ ঘটনার পর হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রিংকি জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। আজ শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রিংকির গলায় সমস্যা দেখা দিলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখান থেকে জানানো হয়, তার টনসিল ও পলিপসের সমস্যা আছে। তবে এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পরবর্তী সময়ে মাইজদীতে নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইএনটি হাসপাতালে চেম্বার করা ডা. মো. মজিবুল হকের কাছে নিয়ে আসি। তাঁকে দেখানোর পর তিনি জানান দুটি সমস্যার জন্য ছোট অপারেশন করতে হবে। মজিবুল হকের কথামতো ২৫ নভেম্বর দুপুরে রিংকিকে হাসপাতালে আনা হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টনসিল ও পলিপসের অপারেশন করা হয়। এর পরদিন তাড়াহুড়ো করে তাঁকে রিলিজ করে দেন ডাক্তার। বাড়ি নেওয়ার পর থেকে রিংকির শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজ শনিবার সকালে রিংকির গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে আমরা দ্রুত তাকে ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে আসি। এখানে আনার পর তাঁরা জানান, সে মারা গেছে। এরপর দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান ডা. মজিবুল হক ও অন্যরা।’

তবে এ বিষয়ে জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের ব্যবহৃত মোবাইলে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রাথমিক তথ্যাদি নেওয়া হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত