Ajker Patrika

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
শিক্ষক রাজু আহমেদ।  ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষক রাজু আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।

আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই শিক্ষার্থী বাদী হয়ে মামলাটি করে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন তাঁর অফিসে ডেকে নানা রকম প্রলোভনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেন। বাধা দিতে গেলে মুখ চেপে ধরে খুন করে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এভাবে চলতি বছরের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত দিনের পর দিন স্কুলের অফিস রুমসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ করেন।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ফোন করে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যৌন হয়রানি করতে থাকেন। এভাবে আসামি তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে কুষ্টিয়া শহরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে স্ত্রীর পরিচয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন। শেষ ঘটনার তারিখ বিয়ের কথা বলে তাঁর অফিসে স্কুল ছুটির পরে ডেকে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

নিরুপায় হয়ে ধর্ষক রাজু মাস্টারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে ওই শিক্ষার্থী। মামলায় সে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে।

মামলার আইনজীবী শাহরিয়ার মাহমুদ শাওন বলেন, বিজ্ঞ মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করতে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় ও এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্বারকলিপি দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রাজু মাস্টারের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল বলেন, আদালতের নির্দেশনার কাগজপত্র এখনো থানায় আসেনি। এলে মামলা রেকর্ড করে তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলানো হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...