Ajker Patrika

ভাতা বন্ধ, দুশ্চিন্তায় ২৫০০ উপকারভোগী

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মনিরামপুরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
মনিরামপুরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুই ছেলের অভাবের সংসারে বয়স্ক ভাতার টাকা বড় ভরসার বিষয় মনিরামপুরের মামুদকাটি গ্রামের বৃদ্ধ আকবর আলীর (৭৫) জীবনে। পকেট খরচ, চিকিৎসা খরচসহ ছোটখাটো প্রয়োজন তিনি মেটান এই ভাতার টাকায়। কিন্তু গত পাঁচ মাস ভাতার টাকা পাচ্ছেন না তিনি। আকবর আলীর মতো ভাতার টাকা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রঘুনাথপুর গ্রামের বৃদ্ধ সামছুননাহার ও তন্ময় মণ্ডল। শুধু এই তিন জনেরই নয়, গত পাঁচ মাস ভাতার টাকা বন্ধ আছে উপজেলার ২ হাজার ৫০০ উপকারভোগীর। সমস্যা সমাধানের আশায় সমাজসেবা দপ্তরে ধরনা দিয়েও হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা।

আকবর আলী বলেন, মাসে ৬৫০ টাকা করে তিন মাস পরপর ১ হাজার ৮৫০ টাকা ভাতা আসে। গত জুনে ভাতা তুলেছি। গত মাসে আশপাশের সবাই ভাতা তুলেছে। আমি দুবার ব্যাংকে গিয়ে ফিরে এসেছি। ব্যাংকের লোকজন বলেছে, আমার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা। কোনো টাকা আসেনি।’

এই বৃদ্ধ বলেন, ‘ভাতার টাকার আশায় ওষুধ ও পানের দোকানে বাকি করি। ভাতা পেয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করি। গত কিস্তির ভাতা না পেয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। ভাতা না আসায় কয়েকবার সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করেছি। তারা সমাধান দিতে পারেনি।’

উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, মনিরামপুরে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ সাত ক্যাটাগরিতে ৫৫ হাজার ৬৮৭ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার ৫০০ জন উপকারভোগীর এক কিস্তির ভাতা আটকে আছে। তাঁদের কারও ব্যক্তিগত হিসাব নম্বরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ভাতার টাকা আসেনি। দপ্তর থেকে চেক করা হয়েছে। এসব উপকারভোগীর অ্যাকাউন্টেও কোনো সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে না।

মনিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, সমস্যাটি সারা দেশে হয়েছে। মূলত নতুন সফটওয়্যারে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এবার প্রথম ভাতা দেওয়া হয়েছে। তারপর এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, ‘এক কিস্তির ভাতা না পাওয়াদের সঠিক সংখ্যা জানা নেই। তবে ৫৫ হাজার ভাতাভোগীর মধ্যে দুই থেকে আড়াই হাজার ভাতাভোগীর এমন সমস্যা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।’

আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সমস্যা কেন হয়েছে, সেটা জানার চেষ্টা করছি। সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যাঁদের ভাতা ঢোকেনি, নতুন সফটওয়্যারে তাঁদের কিছু সমস্যা ধরা পড়েছে। আগামী কিস্তির ভাতা ছাড়ার আগে তাঁদের সমস্যা মেসেজ করে আমাদের জানানো হবে। তখন সমস্যা ধরে সমাধানের চেষ্টা করব। আশা করছি, সামনের কিস্তির সঙ্গে তাঁরা বকেয়া ভাতা পেয়ে যাবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...