Ajker Patrika

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র: উদ্বোধনের ৪ বছরেও চালু হয়নি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮: ৪৫
অব্যবহৃত পড়ে আছে চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: আজকের পত্রিকা
অব্যবহৃত পড়ে আছে চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। ছবি: আজকের পত্রিকা

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর কেটে গেল প্রায় চার বছর। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর জনবল বরাদ্দ না দেওয়ায় এটি আজও চালু হয়নি। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজারো বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়ন ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের জুন মাসে তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী এই কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। আধুনিক অবকাঠামো, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রটি বন্ধ। ব্যবহারের অভাবে যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হতে বসেছে। এ ছাড়া এক বছরের বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় যেকোনো সময় সংযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নশরতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য সরকার কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতালটি নির্মাণ করল অথচ ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাহলে এই হাসপাতাল নির্মাণের কী দরকার ছিল? হাসপাতালটিতে ডাক্তার থাকলে আশপাশের হাজারো মানুষের কত উপকার হতো। আমরা স্থানীয়রা চাই দ্রুত হাসপাতালটিতে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হোক।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে আশপাশের তিনটি ইউনিয়ন—নশরতপুর, তেঁতুলিয়া ও আলোকডিহির—হাজারো মানুষ উপকৃত হতেন। তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘হাসপাতালে আধুনিক ভবন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ডাক্তারদের থাকার আবাসিক ভবন সবই রয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে এখানে ১৬ জনের একজনও লোকবল নিয়োগ দেয়নি সরকার। কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে গর্ভবতী মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য রানীরবন্দরের বেসরকারি ক্লিনিক বা ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে হয়।’

মশিউর রহমান আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সপ্তাহে দুই দিন একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাখা হয়েছে, যিনি জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ প্রদান করেন।

রানীরবন্দর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালটি উদ্বোধনের পর থেকে আমি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে ১৬ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। আমার বাসা থেকে হাসপাতালে যাওয়া-আসার দৈনিক খরচ ১৫০ টাকা। যেহেতু আমি কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না, তাই সপ্তাহে একদিন করে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে চলে আসি। এভাবে আর কত দিন কাজ করব?’

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরমান জনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘১৬ জনের বিপরীতে কোনো জনবল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।’ তিনি আরও জানান, এমন অবস্থায় তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদায়ন করেছেন, যিনি সপ্তাহে দুই দিন সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

নড়াইল প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে হান্নান খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

হান্নান খান উপজেলার বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের বিরোধপূর্ণ একটি জমির মালিকানা নিয়ে ওই গ্রামের আয়ুব মোল্যা ও মিন্টু খানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ালে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। স্বজনেরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে হান্নান খান মারা যান।

পরিদর্শক জামিল কবির জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে মহিবুল্লাহ খোকন নিজেই বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. হারুন দৌলতখান উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এজাহারনামীয় অন্য আসামি লাভু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে তিনি যুবদলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগপত্রে মহিবুল্লাহ খোকন জানান, তিনি ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। গত ২৯ জুন দৌলতখান থানায় হারুনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি করার জেরে গতকাল শুক্রবার রাতে দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ মাথায় সেলিম চত্বরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আসামিরা তার প্রাইভেটকার আটকিয়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করেন। এই সময় আসামিরা প্রাইভেট কারের পেছনের গ্লাস ভেঙে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

দৌলতখান থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় দৌলতখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা ছাত্রদল নেতা হারুনের বিরুদ্ধে থানায় জিডিসহ আরও মামলা রয়েছে।

মামলার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হারুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি। সুতরাং, প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ করতেই পারে। আইন সবার জন্য সমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত চূড়ান্ত তালিকা হওয়ার আগপর্যন্ত অনেকেই নামে-বেনামে প্রার্থী ছিল। আমরা যারা দল করি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী বা তাদের প্রতিহত করাই আমাদের কাজ। যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারে তারা থানায় যায়, অভিযোগ দেয় এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ঠাকুরগাঁও চিনিকলে চার দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের শ্রমিকদের চার দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের শ্রমিকদের চার দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঠাকুরগাঁও চিনিকলের শ্রমিকদের চার দফা দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে মিল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন ও ঠাকুরগাঁও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মৌসুমি শ্রমিকদের স্থায়ী পদে সমন্বয়, দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ, বিশেষ সুবিধা ১৫ শতাংশ বাস্তবায়ন এবং মিল পরিচালনায় জনবলসংকট নিরসনসহ চার দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এসব যৌক্তিক দাবি না মানায় শ্রমিকদের ন্যায়সংগত আন্দোলনে যেতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, ঠাকুরগাঁও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খান রতন, যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন, শ্রমিক নেতা শাহজাহান আলী, লুৎফুল কবির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় ঘোষিত আন্দোলন সূচি অনুযায়ী মিল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবিনামা দেওয়া হবে। দাবি মানা না হলে পর্যায়ক্রমে কর্মবিরতি, মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাতক্ষীরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কলেজশিক্ষক নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরায় সীমান্ত আদর্শ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের প্রভাষক গোলাম আজম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি বাজারে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গোলাম আজম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল গফফারের ছেলে।

আশাশুনি থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, প্রভাষক গোলাম আযম কলেজ হতে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাদাকাটি বাজারে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাঁকে সাতক্ষীরা ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত