Ajker Patrika

এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ মোতায়েন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
শুক্রবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
শুক্রবার রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সংক্রমণজনিত সমস্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় হাসপাতালের সামনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা–কর্মীরা।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে এক বার্তায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক স্বার্থে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের বসুন্ধরা এভার কেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার পরই হাসপাতাল এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিএমপির অন্তত ৫০ সদস্যের একটি ফোর্স এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশ মোতায়েনের কারণ বা বিস্তারিত বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

বেরোবি সংবাদদাতা
‘রাজনীতি নিষিদ্ধ’ বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের কমিটি, শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ক্যাম্পাস বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও সক্রিয়ভাবেই চলছে রাজনৈতিক দলগুলো। সম্প্রতি (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বেরোবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিনকে সভাপতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জহির রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে বেরোবি শাখার ৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক জরুরি সদস্য সমাবেশে বেরোবি শাখা শিবিরের ২০২৫ সেশনের বাকি সময়ের জন্য ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারির দায়িত্ব প্রদান করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং ছাত্র সংসদ চালু করা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরই ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

কাগজে-কলমে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একের পর এক কমিটি গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান মূলত প্রশাসনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটেও কাম্য নয়।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শেখ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক, শিক্ষাবান্ধব ও গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রত্যয়ে পরিচালিত হয়ে আসার কথা ছিল কিন্তু কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে দলীয় কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমি মনে করি, ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলীয় কমিটি গঠন শিক্ষার পরিবেশকে বিভক্ত, অস্থির এবং ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিগত বছরগুলোতে আমরা সেগুলো পরিলক্ষিত করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতারও প্রতিফলন। আমরা চাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি শিক্ষাঙ্গন হোক, যেখানে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং শিক্ষা, গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।’

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিশাদ নুর বলেন, ‘একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে অফিশিয়ালি ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে শিক্ষার্থীরা কোন সাহসে, কার প্ররোচনায় কমিটি দেয়—সেটা আমার বোধগম্য হয় না। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রতি এই অবমাননাকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন প্রশাসনের ওপরে পুরো বিষয়টা। তারা যদি আবু সাঈদের ত্যাগকে মনে রাখে, তাহলে এই অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করবে। লিস্ট আছে, নাম আছে, পরিচয় আছে। প্রশাসন যদি এবার শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে ছেড়ে দেয়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি কখনোই শেষ করা সম্ভব হবে না।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রান্ত সরকার পলক বলেন, ‘রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কমিটি গঠন আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের স্থান, কোনো দলের আধিপত্যের নয়। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুধু বিভাজন ও অশান্তি বাড়ায়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ক্যাম্পাসকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ আর-রহমান স্বপ্নীল বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক কমিটি ঘোষণাগুলো আমাকে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে উদ্বিগ্ন করেছে। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি সাধারণত শিক্ষার পরিবেশকে অস্থির করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় এমন জায়গা হওয়া উচিত যেখানে পড়াশোনা, নিরাপত্তা আর নিরপেক্ষ পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়া আমাদের জন্য ভালো কোনো সংকেত নয়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘ছাত্রশিবির যখন কমিটি প্রকাশ করেছিল, আমরা তাদের ডেকেছিলাম। তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মর্মে অঙ্গীকার করে বলেছে ক্যাম্পাসে কোনো রাজনীতি করবে না, যা করবে ক্যাম্পাসের বাইরে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘দেখলাম ছাত্রদল তাদের কমিটি করেছে, কমিটিগুলো তো এখান থেকে করা হয় না; ঢাকা থেকে করা হয়। যেহেতু কমিটি করা হয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তকে সম্মান রেখে সেভাবেই কার্যক্রম চালাবে বলে আশা করি। তারপরও কেউ যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে শৃঙ্খলা কমিটি এবং সিন্ডিকেট তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

টনসিল-পলিপস অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
হাসপাতালে স্বজনদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হাউজিং এলাকার ইএনটি হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ওই রোগীর নাম রিংকি আক্তার (২০)। হাসপাতালটিতে পলিপস ও টনসিলের অস্ত্রোপচারে (অপারেশন) রিংকির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। এ ঘটনার পর হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন চিকিৎসকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রিংকি জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। আজ শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।

রিংকির বড় ভাই মো. শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে রিংকির গলায় সমস্যা দেখা দিলে আমরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাই। সেখান থেকে জানানো হয়, তার টনসিল ও পলিপসের সমস্যা আছে। তবে এটি বড় ধরনের কোনো সমস্যা নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পরবর্তী সময়ে মাইজদীতে নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ইএনটি হাসপাতালে চেম্বার করা ডা. মো. মজিবুল হকের কাছে নিয়ে আসি। তাঁকে দেখানোর পর তিনি জানান দুটি সমস্যার জন্য ছোট অপারেশন করতে হবে। মজিবুল হকের কথামতো ২৫ নভেম্বর দুপুরে রিংকিকে হাসপাতালে আনা হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টনসিল ও পলিপসের অপারেশন করা হয়। এর পরদিন তাড়াহুড়ো করে তাঁকে রিলিজ করে দেন ডাক্তার। বাড়ি নেওয়ার পর থেকে রিংকির শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজ শনিবার সকালে রিংকির গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকলে আমরা দ্রুত তাকে ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে আসি। এখানে আনার পর তাঁরা জানান, সে মারা গেছে। এরপর দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান ডা. মজিবুল হক ও অন্যরা।’

তবে এ বিষয়ে জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত চিকিৎসক মজিবুল হকের ব্যবহৃত মোবাইলে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সুধারাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লন্ডন চৌধুরী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। প্রাথমিক তথ্যাদি নেওয়া হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

কুষ্টিয়া সীমান্তে যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যা

কুষ্টিয়া (দৌলতপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ২৯
ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়। ছবি : আজকের পত্রিকা
ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়। ছবি : আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকায় জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি গোরস্তানের পাশ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘বেলা দেড়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন জনি ইসলামকে হত্যা করেছে।’ তিনি আরও জানান, জনি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার গোরস্তানের পাশে জনি ইসলামকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তিনি বর্তমানে কুষ্টিয়া সদরে একটি মিটিংয়ে থাকায় তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুই জেলায় অপারেশন ফার্স্ট লাইট, গ্রেপ্তার ৭২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ২২
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের পর বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী, নাটোরের নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলায় এ অভিযান চালানো হয়। এতে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান। শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলের অপরাধীদের ধরতে ৯ নভেম্বর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’। প্রথম দিন রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার চরাঞ্চলের বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২১ নভেম্বর নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অপরাধীদের ধরতে এ অভিযান চালানো হয়।

ডিআইজি জানিয়েছেন, তৃতীয় ধাপে নাটোর ও পাবনায় অভিযান চালিয়ে ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিআইজি জানান, অভিযানে দুজন সর্বহারা সদস্য, ডাকাত দলের একজন সদস্য, অস্ত্রধারীর সহযোগী ও নিয়মিত মামলার আসামি হিসেবে ২০ জন, মাদক মামলার চারজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৩ জন এবং ফ্যাসিস্ট বা সন্দেহভাজন হিসেবে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে একটি বিদেশি অস্ত্র, তিনটি দেশীয় অস্ত্র, এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা ও সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে আটটি বিচারাধীন মামলার আসামি ডাকাত দলের সদস্য শহিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিঙ্গইন ভাটোপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। তাঁকে অনেক দিন ধরেই পুলিশ খুঁজছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে পিস্তল হাতে প্রকাশ্যে এক ব্যক্তিকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, এই ব্যক্তিকে ধরতে তাঁর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দুটি দলের কেউই নিজেদের লোক বলে স্বীকার করছে না।

ডিআইজি বলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের অনেক মানুষ থাকে যারা ভাড়ায় খাটে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে এ ধরনের লোকদের আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এ অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করেছেন। রাজশাহী রেঞ্জের দুজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি), নাটোর ও পাবনার এসপি, সার্কেল অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) মাঠপর্যায়ে অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে জেলা পুলিশের সদস্যরা ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যরা অংশ নেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত