Ajker Patrika

অনিয়মে জড়িত রাজউক কর্মকর্তাদের অপসারণ করে সব বরাদ্দের অডিট করার নির্দেশ আদালতের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দুর্নীতি বন্ধ করতে অবিলম্বে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করে সব বরাদ্দের অডিট করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫।

আজ বৃহস্পতিবার প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিন মামলার রায় দেওয়ার সময় এ নির্দেশ দেন বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

যাঁরা আইন মেনে কাজ করেন না, তাঁদের কোনো দপ্তরের দায়িত্বে রাখা ঠিক না বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা আইন না মেনে কাজ করেছেন। যাঁরা আইন না মেনে কাজ করেন, তাঁদের দায়িত্বে রাখা ঠিক না।’

রাজউক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পর্যবেক্ষণ জারি করে আদালত বলেন, তারা ধারাবাহিকভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারসহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সুবিধা দিয়েছে, যা ‘এলিট ক্যাপচার’ বা অভিজাতদের দ্বারা ক্ষমতা দখলের প্রমাণ।

আদালত বলেছেন, এই কমিটিতে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞদের রাখা প্রয়োজন। রাজউকের প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া (সিস্টেম) তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি কমাতে ‘ডিজিটাল লটারি সিস্টেম’ চালু এবং ‘হুইসেল ব্লোয়িং সিস্টেম’ জোরদার করার কথাও বলেছেন আদালত। এসব কাজ মনিটরিং করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি ও গঠন করা উচিত বলে আদালত মন্তব্য করেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে আজ তিন মামলায় রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছর কারাদণ্ড এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়। যাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন অংকের জরিমানাও করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...